আমি শ্রীল প্রভুপাদকে আমার সাষ্টাঙ্গ প্রণাম অর্পণ করছি। শুনছি এখানে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং কলকাতা থেকে ভক্তরা এসেছে।
শ্রীল প্রভুপাদ যখন শুনেছেন যে যাদের হিন্দু জন্ম হয়নি, তারা চৈতন্য ভক্ত হয়ে গেল, সেটা পুরীর মন্দিরে প্রবেশাধিকার নেই। প্রভুপাদ সেইজন্য পুরীর মন্দির প্রবেশ করে না। এবং আমাকে আদেশ দিয়েছে পুরীর মন্দিরে যাতে বিদেশী ইত্যাদি প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু আমরা ৫০ বছরের বেশি চেষ্টা করছি, কিন্তু এই শংকরাচার্য পুরীর বলছেন—না বিদেশি ঢুকবে না। এবং গজপতি মহারাজ, এমন কেউ বলছিল যে তাদের শাস্ত্রে আছে যে বিদেশি ভক্ত আসলে জগন্নাথ চলে যাবে। জগন্নাথ তাঁদের সঙ্গে যাবেন। এখন আমি চেষ্টা করছি কিন্তু আমি পারছি না। তারপরে মুখ্যমন্ত্রী তিনি পুরীর মন্দিরের সদৃশ্য একটা মন্দির দীঘাতে বানিয়েছে। সেই স্থপতি বলছিলেন যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় দেখল যে দীঘায় যে মন্দির আছে আর পুরীতে যা আছে, এরমধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ মিলিমিটার তফাৎ। ১৫ মিলিমিটার মানে ১.৫ সেন্টিমিটার। মানে ১ ইঞ্চির কম। সেখানে তিনটে বিগ্রহ হয়েছে। একটা বড় জগন্নাথ, একটা ছোট জগন্নাথ, এবং রাধা মদনমোহন। এখন তারা বলছেন এখন যে ছোট যে কাঠের বিগ্রহ এটা নবেকলেবরের অতিরিক্ত কাঠ যে ছিল, সেই থেকে তৈরি। এবং যে পাণ্ডারা এসেছে, তাদের খুশি করার জন্য বলা হয়েছে এই বিগ্রহ তারা প্রাণপ্রতিষ্ঠা করুক। বাকিটা আমি করেছিলাম। (২:১৪:৪৫)
একটা ঈগল, চিল নাকি বলে, সে একটা পতাকা ছিঁড়েছে এবং তিনবার মন্দির পরিক্রমা করেছে এদিকে ওদিকে। গজপতি মহারাজের ছাদে ওই পতাকা রেখেছে। প্রজাপতি মহারাজ এই পতাকা নিয়ে গেছে দীঘা এবং সেটা তোলা হয়েছে জগন্নাথ মন্দিরে। আমি আশা করতে পারিনি, এত দয়া করবেন জগন্নাথ। এই পুরীতে হাজার হাজার পাণ্ডা আছে। কিন্তু আমাদের মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম থেকে মাঝে মাঝে ওখানে যেতে হয় কিছু কীর্তন করার জন্য এবং সেবার জন্য। জয় জগন্নাথ!
এখন কামনা করি যে, বলছিল শাস্ত্র যে জগন্নাথ চলে যাবেন বিদেশি ভক্ত সঙ্গে। এখন ইসকনের সঙ্গে চিরকালীন অপরিবর্তনীয় চুক্তিস্বাক্ষর হয়েছে যে আমরা নিত্যকালে এই মন্দিরে পূজা করব। এটা কেউ বলছেন সরকারের মধ্যে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন, তিনি তৈরি করলেন, কিন্তু দিলেন ইসকনের পূজা করার। সেইজন্য আমি বলছি যে আপনাদের মাঝে মাঝে একটা সাহায্য দরকার। আমি বলছিলাম পদ্মনেত্রর কাছে যে, কমপক্ষে প্রতিদিন দুদিন একটা চক্র, চক্র হচ্ছে ১২ সংঘ, কমপক্ষে একটা সংঘ থেকে যদি দু’লোক নেওয়া হয়, তার বেশি যেতে চাইলে কোন অসুবিধা নেই। এখন এটা করতে গেলে আপনারা কি লাগবে? আমি সেভাবে বলব। সরকার যে আদেশ দেবে আমাদের মানতে হয় না, আমাদের চুক্তি হলো পূজা আমাদের পদ্ধতি অনুসারে। কিন্তু পুরীতে আমার মনে হয় না কীর্তন হয়, কিন্তু দীঘা কীর্তন দরকার, এটা চৈতন্য মঠ অনুসারে হবে। দীঘা পরছে গৌড়-মন্ডল-ভূমির মধ্যে। আর পুরী হচ্ছে শ্রীক্ষেত্র ধাম।
যাইহোক, আমরা চাই যে সবাই মন্দিরে আসুক, পূজা করুক। যে যাবে কীর্তনের জন্য, তাদের প্রসাদ, থাকার জায়গা হবে। যাইহোক, এখানে একটা দায়িত্ব নিলাম। এখন দীক্ষা নিলে মানে কৃষ্ণের কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য। এবং আমাদের শরীর কৃষ্ণের সম্পত্তি হয়ে গেল। এটা মানেন? কে মানেন?
এখন সনাতন গোস্বামীর ঝাড়খণ্ডের বনে গিয়ে একটা চর্মরোগ হয়ে গেল। সে ভেবেছে রথযাত্রার সময় জগন্নাথের রথচক্রের মধ্যে আত্মহত্যা করবেন। যেহেতু চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁকে আলিঙ্গন করতেন এবং তাঁর গায়ে পুঁজ ঠেকে যায়। তিনি ভেবেছেন আমি অপরাধ করছি, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু বলছেন—এখন তাঁর কোন সম্পত্তি নষ্ট করতে চাচ্ছে, যেহেতু তাঁর শরীর দিয়ে দেওয়া হলো গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর কাছে, সেটা নষ্ট করলে মানে গৌরাঙ্গের সম্পত্তি নষ্ট করা। যাইহোক, সেইভাবে সনাতন গোস্বামীকে আত্মহত্যা করতে দিলেন না। মাঝে মাঝে লোক অনেক দুঃখ হয় এই জড়জগতে এবং সেইজন্য আত্মহত্যা করতে চায়। কিন্তু ভক্ত হলে এটা করা নিষেধ আছে। এবং এটা এমনি খারাপ কর্ম। কিন্তু আমাদের সুক্ষ শরীর আছে আর স্থূল শরীর আছে। আত্মহত্যা মানে স্থূল শরীর নষ্ট করা কিন্তু সূক্ষ্ম শরীর নষ্ট হয় না। আত্মা নষ্ট হয় না। এই জন্য একটা ভূত মতো হয়ে যায়। প্রভুপাদ আমাকে অনেক আদেশ দিয়েছেন, কিন্তু আমি পারছি না। একটা আদেশ হয়েছে—“প্রচার অপরিমিতভাবে করো।” কিন্তু আমি পারছি না তা, আপনাদের সাহায্য দরকার। যেমন চৈতন্য মহাপ্রভু বলছেন—যারে দেখো তারে কহ কৃষ্ণ উপদেশ। এখন আপনাদের মধ্যে কে আমাকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক? আমি এখন বেশি বলা উচিত নয়, আমি এখন হরে কৃষ্ণ করব।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন