মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী : হরিহর ক্ষেত্রে সুস্বাগতম। এখানে ভগবান বিষ্ণু এবং শিবের শ্রীবিগ্রহ আছে। ভগবান শিব মোহিনী রূপে মোহিত হয়েছিলেন। এবং সেই কারণে তিনি অনেক অনুতপ্ত হয়েছিলেন। তখন ভগবান বিষ্ণু আসেন এবং বলেন যে যেহেতু মোহিনী মূর্তি হলাম আমি, সেই কারণে এটি তোমার থেকে অভিন্ন, তাই অনুতাপ করার কোনো কারণ নেই। এবং এখানে ভগবান বিষ্ণু সমবেত স্বরূপ হরিহর রূপ প্রকাশ করেন। এই স্থানে, যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে, তাহলে ভগবান শিব তাদের কানে গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! নাম জপ করেন যাতে তারা আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যেতে পারে।
এখানে পশ্চিমভাগে আছে অলকানন্দা নদী। এই নদীর অপর পাশে একটি বন আছে যে স্থানে চৈতন্য মহাপ্রভু গদাধর পণ্ডিত সহ অন্যান্য পার্ষদদের নিয়ে এসেছিলেন। জগদানন্দ পণ্ডিত কর্তৃক বিরচিত প্রেম বৈবর্ত গ্রন্থে এটির উল্লেখ আছে। চৈতন্য মহাপ্রভু এক বালক ছিলেন। এবং পাঠ শেষে তিনি এই স্থানে দৌড়ে এসেছিলেন। তখন তিনি একটি শুক পাখি, এক ধরনের টিয়া পাখি দেখতে পান।
তারপর তিনি সেই টিয়া পাখিকে তাঁর হাতে তুলে নেন এবং বলেন, “তুমি শুকদেব গোস্বামীর থেকে ভিন্ন নও! আমাকে রাধা কৃষ্ণের লীলা বলো।”
কিন্তু তারপর সেই টিয়া বলতে শুরু করে, “গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর!”
এবং চৈতন্য মহাপ্রভু সেই টিয়াকে তাঁর হাত থেকে চলে যেতে দেন ও টিয়া পাখিটি একটি গাছের ডালে বসে। তিনি বললেন, “আমি হলাম রাধাকৃষ্ণের একজন ভক্ত। আমি এটা শুনতে চাই না, আমি রাধা কৃষ্ণের গুণমহিমা শুনতে চাই। দয়া করে রাধা কৃষ্ণের মহিমা কীর্তন করো।”
আবার সেই টিয়া পাখি বলতে শুরু করে, “গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর!” চৈতন্য মহাপ্রভু, তাঁর কান আবৃত করেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কেন তুমি রাধা কৃষ্ণের মহিমা কীর্তন করছ না?”
টিয়া পাখি উত্তর দেয়, “আমি আমার পদ্ধতিতে রাধা কৃষ্ণের নাম জপ করি, আপনি আপনার পদ্ধতিতে করুন। আমার কাছে, রাধা গদাধর রূপে উপস্থিত এবং কৃষ্ণ গৌর রূপে উপস্থিত! তাই অনাদিকাল ধরে আমি এই নাম জপ করি, আমি বলি গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর! গৌর গৌর!”
চৈতন্য মহাপ্রভুর তাঁর কর্ণ আবৃত করে রেখে, সেখান থেকে ছুটে চলে যান। এই লীলাটি অলকানন্দা নদীর অপর পাশে, হরিহর ক্ষেত্রে ঘটেছিল। হরে কৃষ্ণ!
আমি আশা করি আপনারা নবদ্বীপ পরিক্রমা উপভোগ করছেন। এখন আপনারা গোদ্রুম দ্বীপে আছেন যেটি হল কীর্তন ক্ষেত্র। এবং এখানে অনেক লীলা স্থান আছে। আমি অত্যন্ত খুশি যে আপনারা গোদ্রুম দ্বীপে এসেছেন, যেখানে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বসবাস করতেন। এখানে সেই লীলা স্থানটিও আছে যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু দেবকুমারকে মুক্তি প্রদান করেন, যিনি দুর্বাসা মুনির দ্বারা অভিশাপ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এখানে গোদ্রুম দ্বীপে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের বাসভবন আছে। এখানকার বিশেষ স্থান সুরভী কুঞ্জ এবং এই স্থানে জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা দেবীর ইস্কন মন্দির আছে, যেটি আরোগ্য আশ্রম নামে ন্যস্ত আছে। অতএব, এখানে গোদ্রুম দ্বীপে অনেক স্থান আছে। এবং আমার মনে হয় এই স্থান থেকে আপনারা মধ্যদ্বীপে যাবেন। হরিবোল!
Lecture Suggetions
-
20230104 পঞ্চ-ক্রোস পরিক্রমা
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ