Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ

21 Feb 2022|Duration: 00:28:55|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

প্রশ্ন:- ইসকনের মধ্যে যাঁরা ভজনানন্দী জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন তাঁদের সাথে আমরা কীভাবে আদান-প্রদান করব?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আমরা স্বাভাবিকভাবেই গোষ্ঠ্যানন্দীদের সাথে মেলামেশা করতে চাই। আমরা ভক্তদের সাথে মেলামেশা করতে চাই যাঁরা আরও ভক্ত তৈরি করবেন। ভজনন্দীরা নিজেরাই জপ করতে পছন্দ করেন, তাই প্রতিদান দেওয়ার মতো খুব বেশি কিছু নেই।

অখিলবন্ধু গোপাল দাস, ইন্দোর, ভারত: জড়জগতে পক্ষপাতিত্বের সাথে আমাদের কীভাবে ব্যবহার করা উচিত। যদি এটি আমাদের পারমার্থিক জীবনকেও প্রভাবিত করে থাকে তবে তা ভক্তদের মধ্যেও তো ঘটে থাকে। গুরুমহারাজ আপনি এটিকে কিভাবে দেখবেন?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আমি আসলে বুঝতে পারি না যে পক্ষপাতিত্ব কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে কেউ যদি পক্ষপাতিত্ব করে, তবুও কৃষ্ণ আমাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের বিশ্লেষণ করবেন, এবং তাই, আমাদের চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু কৃষ্ণের সেবায় আপনারা যা কিছু করছেন তা তিনি সবই দেখছেন আর তাই কেউ যদি পক্ষপাতিত্ব করে তাহলে তা ভালো বা মন্দও হতে পারে। যদি কেউ ভগবদ্ভক্তিমূলক সেবা করার কিছু সুবিধা পায় তবে এক অর্থে ভাল হতে পারে। এটি সেই অর্থে খারাপ হতে পারে যে কেউ হয়তো বিনা চেষ্টা ছাড়াই সুবিধা পেয়ে গেল। সুতরাং, এইভাবে সে শ্রীশ্রীনিতাই-গৌরের নির্দিষ্ট করুণা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই আমি এটি নিয়ে চিন্তা করব না। আপনি কেবল নিতাই-গৌরকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করুন, শ্রীবিগ্রহগণকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করুন আর স্বাভাবিকভাবেই কেউ হয়তো আপনাকে সেই সুবিধা দিতে পারে। আপনি আরও পরিষেবা চান বলে হয়তো নেতাদের কাছে যেতে পারেন। সাধারণত, যারা এই মতো যোগাযোগ করেন, তারা বেশি পরিষেবা পান। শ্রীল প্রভুপাদ উদাহরণ দিয়েছিলেন যে একটি নীড়ে, যে কচি পাখিটি সবচেয়ে জোরে কিচিরমিচির করে সেই কীট খেতে পায়।

রসসিন্ধু সচীসূত দাস:- আমাদের শ্রীল গুরুদেবের কাছ থেকে সরাসরি বা ভিডিওর মাধ্যমে দিব্য দীক্ষা গ্রহণের মধ্যে কি সত্যিই কোনো পার্থক্য আছে? আপনার প্রতি আমার অনুপযুক্ত যেকোন সেবার জন্য কৃপাপূর্বক মার্জনা করবেন।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- সরাসরি বা ভিডিওর মাধ্যমে দীক্ষা গ্রহণের যতদূর সুবিধা, তাতে আপনি যদি নিজেকে দীক্ষিত অনুভব করেন তবে আপনি গুরুর সাথে সংযুক্ত বোধ করেন, এটিই গণ্য হয়ে থাকে। শ্রীল প্রভুপাদ চিঠির মাধ্যমে অনেক ভক্তকে দীক্ষা প্রদান করেছিলেন। আর এখন মহামারীর কারণে মাঝে মধ্যে আমরা কার্যত ভিডিওর মাধ্যমে দীক্ষা অনুষ্ঠান করেছি। সুতরাং, পারমার্থিক গুরুদেব যদি আপনাকে গ্রহণ করেন আর আপনিো তাঁকে গ্রহণ করেন, তবে পার্থক্য কী? শেষ প্রশ্ন।

সুমিত্রা কৃষ্ণ দাস: শ্রীল প্রভুপাদকে যখন শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে পাশ্চাত্য জগতে প্রচার করার জন্য নির্দেশ করেছিলেন তখন কেন শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের আদেশ পালন করতে এত বছর সময় নিলেন?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আকর্ষণীয় প্রশ্ন। আমরা জানি শ্রীল প্রভুপাদ একজন গৃহস্থ ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এলাহাবাদে তাঁর একটি বাড়ি ছিল এবং সেখানে পরিদর্শক প্রচারকদের জন্য একটি বিশেষ ঘর ছিল। তাই, তিনি অনেক গৌড়ীয় মঠ প্রচারকদের সাহায্য করেছিলেন। এবং তিনি বলেছিলেন যে তিনি একটি বিশেষ সুন্দরী মেয়েকে বিবাহ করতে চান। কিন্তু তাঁর বাবা তাঁকে অন্য একটি মেয়েকে বিবাহ করতে বলেছিলেন যে তাঁর অনুমানে সুন্দরী ছিল না। এক অর্থে তিনি বলেছিলেন, আমার পিতার দয়ায় আমার পক্ষে সন্ন্যাস গ্রহণ করা সহজ হয়েছিল। যাইহোক, তিনি গৃহস্থ ছিলেন এবং তাঁর অনেক সন্তান ছিল, তাঁর দায়িত্ব ছিল। তারপর, তিনি বাণপ্রস্থ গ্রহণ করেন এবং পরিশেষে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। সুতরাং, ঐভাবে, তিনি পাশ্চাত্যে গিয়ে প্রচার করতে পেরেছিলেন। প্রত্যেকেই আলাদা এবং আজ আমাদের অনেক ভক্ত আছেন যাঁরা গৃহস্থ কিন্তু তাঁরা পূর্ণ ভগদ্ভক্তিমূলক সেবা করছেন। কিন্তু হয়তো সেই সময়ে, বিশ্বজুড়ে অবাধে পরিভ্রমণ করতে সক্ষম হওয়ার জন্য কাউকে সন্ন্যাসী হতে হতো। দ্বিতীয়ত, শ্রীল প্রভুপাদ ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে যে নির্দেশ পেয়েছিলেন তা তিনি কখনই ভুলে যাননি, এবং তারপরেই তিনি পাশ্চাত্যে গিয়েছিলেন, তিনি ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকাতে এসেছিলেন।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!

প্রতিলিখন সমাপ্ত

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by জয় রাসেশ্বরী দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions