মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎ-কৃপা তমহং বন্দে শ্রী-গুরুং দীন-তারণম্
হরিঃ ওঁ তৎ সৎ
শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- […] তিনি শ্রীকৃষ্ণের জন্য কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ করেছিলেন। কিছু জনগণ আছেন যারা হয়তো বৈশ্য, আর তারা শ্রীকৃষ্ণের জন্য তাদের সেবা করতে চান। তবে শ্রীল প্রভুপাদ উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোন বৈশ্য শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিবিধানানুসারে কোন সেবা করতে চায়, তা হলে সেই সেবাকে নববিধা ভক্তির সেবা যথা:- শ্রবণম্, কীর্তনম্, বন্দনম্, ইত্যাদিতে গণ্য করা হয়, অতএব এই পদ্ধতিতে তারা তাদের বাসনা পূর্ণ করতে পারে, একই সাথে তারা কৃষ্ণভাবনাময় হতে পারে। অতএব, তোমরা যদি সেটি করো তা হলে কোন বাধা নেই। কিন্তু তোমরা যদি তা না করো আর তোমরা যদি কেবল জড় জাগতিক বিষয় পেতে চাও, তা হলে সেটি বাধা হয়ে দাড়াতে পারে এবং তোমাদের পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হবে।
বেদবিৎ কৃষ্ণ দাস, লেগুনা বিচ, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র:- কিভাবে আমরা সম্পূর্ণ আস্থা পেতে পারি যে শরণগতির অংশ হিসেবে শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন একমাত্র রক্ষাকর্তা এবং পালনকর্তা। একজন গৃহস্থ হয়ে একটি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার জন্য দিনে ৮ঘন্টা করে, সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা কাজ করা?
শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- দেখুন, কেউ হয়তো শ্রীকৃষ্ণের কোন এক অংশ-অবতারের কাছে আশ্রিত হয়ে থাকবেন এবং তিনি হয়তো মনে করছেন, “ওঃ, খুব ভালো হয়েছে!” তবে বিষয়টি হলো আমরা একই সাথে আশ্রয় নিতে চাই, তার সাথে সাথে শ্রীকৃষ্ণের সাথে আমাদের সম্পর্কও গড়ে তুলতে চাই। তিনি হয়তো আমাদের শিব বা অন্যান্য দেবতার আশ্রয় নেওয়ার জন্য বিকল্প কিছু দিতে পারেন কিন্তু ফলস্বরূপ আমাদের বারংবার জন্ম নিতে হতে পারে। কারণ এই সমস্ত দেবতা মুক্তি প্রদান করতে পারেন না। অতএব শ্রীকৃষ্ণ, তিনি আদর্শ সুরক্ষা প্রদান করেন আর এছাড়াও, তিনি আমাদের স্বগৃহে অর্থাৎ ভগবদ্ধামে ফিরিয়ে নিয়ে যান। আপনি যদি শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করেন তা হলে আপনি এমন বহু লীলা পেয়ে যাবেন এবং দেখতে পাবেন যে কিভাবে ভগবান তাঁর ভক্তদের রক্ষা করেন। যেভাবে তিনি তাঁর ভক্ত প্রহ্লাদ মহারাজকে এবং অন্যান্য ভক্তকে রক্ষা করেছেন, তাই তিনি ভক্তবৎসল ভগবান নামে পরিচিত। অতএব শাস্ত্রগ্রন্থ পাঠের দ্বারা আমাদের আস্থা বিকশিত করা উচিত।
প্রশ্ন:- শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধের প্রথম অধ্যায়ে শ্রীল বেদ-ব্যাস উল্লেখ করেছেন যে যখন ভূমি ও শিব ঠাকুর এবং ব্রহ্মা শ্বেতদ্বীপে গিয়েছিলেন এবং ব্রহ্মা ধ্যানে বসেছিলেন তখন ক্ষিরোদকশায়ী বিষ্ণু তাঁর হৃদয়ে এক বার্তা প্রকাশ করেন যে তিনি শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হবেন। কিন্তু গর্গ-সংহিতা গ্রন্থে, আরও বিশদ উল্লেখ করা হয়েছে যে দেবতারা আসলে গোলোকে গিয়েছিলেন এবং ভগবান কৃষ্ণের মুখোমুখি হয়েছিলেন যেখানে তিনি বর্ণনা করেছিলেন যে কীভাবে তিনি রাধারাণীর সাথে আগমন করতে চলেছেন এবং দেবতারা জন্মগ্রহণ করবেন এবং কৃষ্ণ-লীলাতে অংশগ্রহণ করবেন। তাহলে এটি কি অসঙ্গত নাকি অন্য কোনো কল্পে তা ইতিমধ্যেই ঘটেছে?
শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- দেখুন আমরা শ্রীমদ্ভাগবতকে কর্তৃপক্ষ রূপে গ্রহণ করি। তবে আপনি যেমনটি বললেন, এমন অন্যান্য কিছু শাস্ত্রগ্রন্থ রয়েছে যেখানে ভিন্ন কিছু বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা মূলতঃ সেই সকল গ্রন্থের উপর মনোনিবেশ করি যেগুলি শ্রীল প্রভুপাদ অনুবাদ করেছেন কারণ আমরা দেখতে পাই যে, এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর আপনার প্রশ্ন হচ্ছে যে এটি অন্য কল্প কিনা, তা বলা কঠিন! ব্রহ্মার প্রতি কল্পে, ২৭তম কলিযুগ, ২৭তম দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আসেন। তবে সাধারণত ব্যবস্থাপনাটি হলো এই যে দেবতাগণ শ্বেতদ্বীপে যান আর ব্রহ্মা ধ্যান করেন এবং ক্ষিরোদকশায়ী বিষ্ণু প্রকাশিত হন। গোলোক বৃন্দাবনে সরাসরি অন্য কোনো লীলা থাকলে, সেটি এই কল্প নাকি অন্য কল্প, তা বলা মুশকিল। তবে সে যাইহোক, যদি আমি যদি এটি সঠিকভাবে শুনে থাকি তা হলে বিষয়টি এই যে,তিনি বলেছিলেন যে তিনি রাধারাণীর সাথে আসবেন, আর সেটিই ঘটেছে। তবে সাধারণত, বিশেষ কোন গুপ্ত দেবতা ব্যতীত দেবগণ গোলোকে যান না এবং তাঁরা শ্বেতদ্বীপে ক্ষিরোদকশায়ী বিষ্ণুর কাছে যান যেখানে ব্রহ্মা ধ্যান করেন। তাঁরা কখন গোলোক ধামে গমন করেন আমি জানিনা।
মহালক্ষী দেবী দাসী:- প্রকৃত সহানুভূতি কি? কি আপনাকে সর্বাধিক সন্তুষ্টি প্রদান করে?
শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- প্রকৃত সহানুভূতি কি? দেখুন, সহানুভূতি করার অর্থ হলো আসলে কৃষ্ণের সাথে সম্পর্কের পুনরুজ্জীবিকরণ, সেটিই হচ্ছে প্রকৃত সর্বোৎকৃষ্ট সহানুভূতি। যেহেতু আমরা বিভিন্ন পুরাণ পাঠ করি, তাতে দেখি যে কোন একজন নির্দিষ্ট কিছু উৎসর্গ করেছেন (আগামীকাল তো একাদশী তিথি, তাই নয় কি?) পাপমোচন একাদশী। অতএব, একাদশী ব্রত পালনের দ্বারা, কিছু তপস্যা করে, কেউ তার কৃত সমস্ত প্রকারের পাপপূর্ণ ফল থেকে নিস্তার পেতে পারে। কেউ যদি কোন দেবতার পূজা করে, তা হলে সে স্বর্গে যায়, তবে একজন ভক্তের কাছে স্বর্গ মানে হচ্ছে এক ঘোড়ার ডিমের মতো। ঘোড়া তো ডিম দেয় না!! এটি এক প্রকারের আকাশ পুস্প, একটি ফুল যেটি কোন একটি ঊর্দ্ধলোকে কয়েক বছর থাকে আর তারপর আবার তা নিচে চলে আসে। সুতরাং এটি কোন নিত্য আশীর্বাদ নয়। তাই শ্রীমদ্ভাগবত আমাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে নিত্য সম্পর্কের কথা বলেন। আর তা আমাদের এক নিত্য জীবন-যাপনের অনুমোদন করে।
আর একটি প্রশ্ন হলো যে কি আমাকে সবচেয়ে বেশী সন্তুষ্টি প্রদান করে? আমি সবচেয়ে সন্তুষ্ট হই যখন ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি বিশুদ্ধ প্রেম গড়ে তোলেন। হরিবোল!
ঠিক আছে! আমরা আশীর্বাদ করি? যখন তেমন বেশী একটা লোকজন থাকে না, মহাবরাহ বলেছেন তখন আমি আশীর্বাদ দিতে পারি। ধন্যবাদ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20230104 পঞ্চ-ক্রোস পরিক্রমা
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।