Text Size

20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees

3 Nov 2022|Bengali|Navadvīpa Maṇḍala Parikramā|বেলপুকুর, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী : সাধারণত আমরা গৌর পূর্ণিমার সময় পরিক্রমা করি। কিন্তু শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন যেকার্তিক মাসও পরিক্রমার জন্য ভাল সময়। কিছু সময় আগে, আমার মনে হয় ১০ বছর আগে, নাড়ু গোপাল দাস কার্তিক পরিক্রমায় নিয়ে যাওয়ার সূচনা করেন। এই বছর আমি অন্যান্যবার অপেক্ষা বেশি ভক্তদের দেখতে পারছি। এ বছর কতজন এসেছেন? আমরা আশা করি আপনারা সকলেই এই পবিত্র ধামের প্রতি সুন্দর অনুভূতি প্রাপ্ত হয়েছেন। আমার নরসিংহ পল্লীতে আসার কথা ছিল, কিন্তু আমি অসুস্থ ছিলাম এবং হরিহর ক্ষেত্রে বার্তা পাঠাই। আপনারা কি সেটা পেয়েছেন? আপনারা খুব শীঘ্রই নবদ্বীপ ধামের নয়টি দ্বীপের যাত্রা করছেন এবং বলা হয়েছে যে নবদ্বীপ ধাম শ্রীমতি রাধারানীর দ্বারা নির্মিত। কৃষ্ণ এই নবদ্বীপ ধামের প্রতি এতই সুপ্রসন্ন ছিলেন যে তিনি আশীর্বচন দিয়েছিলেন যে, এটি বৃন্দাবন ধাম থেকে অভিন্ন হবে এবং সমস্ত পবিত্র তীর্থগুলি এখানে প্রকাশিত হবে। কিছু কিছু স্থান আমাদের কাছে প্রকাশিত হয়েছে এবং অন্যান্য স্থানগুলি প্রকাশিত হওয়া বাকি আছে। আমরা সাফারিতে একবার হংস বাহন দর্শন করতে গিয়েছিলাম। আপনারা কি হংস বাহন দর্শন করেছেন? সমস্ত গঙ্গার জল গঙ্গায় বিভক্ত হয়ে গেছে। কেউ হংস বাহনে ভগবান শিবের অভিষেক করতে পারেন। তখন আমরা পুষ্কর তীর্থে যাওয়ার পরিকল্পনা করি এবং হংস বাহন বিগ্রহের অভিষেকের জন্য সেখান থেকে জল আনি। ঠিক তো? তারপর একজন আসে এবং বলে, “ভজন করবে না, ভজন করবে না, কোলাহল করবে না!তারপর ভগবান শিব এসে তাঁর আশীর্বাদ দেন। এবং বলেন, “জপ করো, জপ করো, জপ করো!যেহেতু আমরা জপ করছি, ভগবান শিব আমাদের আশীর্বাদ দিচ্ছেন! আশীর্বাদটি হল আপনি একটি ফুল শিবের মাথায় রাখবেন ও সেই ফুলটি ফুটে যাবে এবং সেটিই হল আশীর্বাদ। যদি সেই ফুলটি না ফোঁটে ও নিচে পড়ে যায়, তাহলে সেটি প্রত্যাখ্যাত। যখন কীর্তন হচ্ছিল তখন তিনি সুপ্রসন্ন হয়েছিলেন এবং তিনি আশীর্বাদ প্রদান করছিলেন।

দেবাদিদেব শিবের আরেক স্থান, এখানে নিম্বাদিত্য, এক মহান ঋষি, তিনি এসেছিলেন এবং ভগবান শিব তাকে বলেছিলেন যে তার উচিত এখানে আসা এবং অদূরে অবস্থিত ৪ কুমারকে খুঁজে বের করা। চারটে বৈষ্ণব সম্প্রদায় আছে — লক্ষী, ব্রহ্মা, শিব এবং কুমার। নিম্বাদিত্য হলেন নিম্বার্কাচার্য, পরবর্তীতে তিনি নিম্বার্ক সম্প্রদায় এর মুখ্য হন। আমাদের মনে পড়ে কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু নিমাই পণ্ডিতরূপে কেশব কাশ্মীরীর বাক্য পুনরাবৃত্ত করেন এবং কেশব কাশ্মীরি সরস্বতী দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন, “কেন আপনি আমাকে নতমস্তক হতে দিলেন? কেন সেই তরুণ পণ্ডিত আমাকে পরাস্ত করল?” উনি বললেন, “আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারব না কারণ তিনি হলেন আমার পতি।যিনি ভগবান বিষ্ণু। এরপর কেশব কাশ্মীরি শচী মাতার গৃহে যান, চৈতন্য মহাপ্রভুকে প্রণতি নিবেদন করেন এবং তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু প্রকাশ করেছিলেন যে তিনি কে। আসলে চৈতন্য মহাপ্রভু কেশব কাশ্মীরিকে বিনয়ী করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু উনি এটি এমনভাবে করতে চেয়েছিলেন যাতে তিনি বিনষ্ট না হন। তিনি তাঁর ভক্তদের সম্পর্কে যত্নশীল। তিনি যদি তাকে সকলের সামনে পরাস্ত করতেন তাহলে লোকেরা তার জিনিসপত্র লুট করে নিত। তাই তিনি চতুরভাবে তাকে পরাস্ত করেন। যাইহোক, পরে, কেশব কাশ্মীরি, তিনি নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের একজন আচার্য হন। কত কৃপা যে কেশব কাশ্মীরি তিনি কেবল এখানকার একজন আচার্য নয়, তিনি নিম্বার্কাচার্য, নিম্বার্ক পরম্পরার একজন আচার্য হলেন।

যাইহোক, শ্রীকৃষ্ণ সত্যভামার কক্ষ থেকে রুক্মিণীর কক্ষে যান। সেখানে ব্রাহ্মণদের, সঙ্গীতের, শিশুদের উপস্থিতি সহ সম্পূর্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন হয়েছিল। তারপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করেন। রুক্মিণী তাঁর পাদ অভিষেক করছিলেন এবং কাঁদছিলেন।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কি জন্য, কেন তুমি কাঁদছো? তোমার তো খুশি হওয়ার কথা! আমি তোমাকে দেখতে এসেছি!

এবং তিনি অনুমান করতে থাকেন, “কোনো পরিচারিকা কি তোমার কথা শোনেনি?” এইভাবে তিনি কিছু কারণ বলছিলেন।

রুক্মিণী তার মাথা নাড়লেন। তিনি বললেন, “আপনি জানেন যে ব্রহ্মা সত্য লোকে কি করছেন! ভগবান শিব কৈলাসে কি করছেন। অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ডে কি ঘটছে তা আপনি জানেন। কিন্তু একটা জিনিস আছে যেটা আপনি জানেন না! আমি জানি, রাধারানী জানেন! কিন্তু আপনি জানেন না। কারণ আপনার কাছে আপনার উর্দ্ধে কেউ নেই। আপনি হলেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান! কিন্তু আপনি এটা জানেন না!

ভগবান কৃষ্ণ বললেন:সেটা কি?!”

এর আগে কখনো কেউ তাঁকে এই কথা বলেনি যে কিছু আছে যা তিনি জানেন না!

রুক্মিণী বললেন, “আপনি জানেন না যে ভক্তরা আপনাকে কত ভালোবাসে এবং কিভাবে আমরা আপনাকে ভালোবাসি!

তারপর ভগবান কৃষ্ণ বললেন:ঠিক আছে, কলিযুগে আমি একজন ভক্ত রূপে আবির্ভূত হব! আমি একজন ভক্ত রূপে আবির্ভূত হব! আমি একজন ভক্ত রূপে আবির্ভূত হব! আমি একজন ভক্ত রূপে আবির্ভূত হব!তিনবার তিনি বললেন।

অতঃপর তিনি হলেন চৈতন্য মহাপ্রভু। তিনি রাধারানীর হৃদয় গ্রহণ করেন এবং রাধারানীর কান্তি গ্রহণ করেন। তিনি একজন ভক্তের মনোভাব গ্রহণ করেন। সেই কারণে তিনি চান না যে মানুষেরা তাঁকে কৃষ্ণ বলে ডাকুন, এই কারণে তিনি তাঁর কর্ণ আচ্ছাদিত করেছিলেন। তিনি একজন ভক্ত রূপে কার্য করছিলেন। এবং তিনি রাধারানীর প্রেমের ভাব অনুভব করছিলেন। কিন্তু আমরা এত মূর্খ যে, আমরা এটি গ্রহণ করি না! তিনি আমাদেরকে সর্বাপেক্ষা অমূল্য বস্তু দান করছেন! যখন চৈতন্য মহাপ্রভু এখানে ছিলেন, তখন অন্যান্যরা কলিযুগে জন্ম লাভের জন্য প্রার্থনা করতেন। এখন, শ্রীল প্রভুপাদের কৃপায়, আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর এই আন্দোলনে থাকার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের জীবন দিয়ে এটির সংরক্ষণ করা উচিত, সর্বাপেক্ষা মূল্যবান রত্ন! শুদ্ধ প্রেমভাবে বিভোর হয়ে কৃষ্ণ সেবা! হরিবোল!

ধন্যবাদ এই নবদ্বীপ পরিক্রমায় অংশগ্রহণ করার জন্য এবং আমি আনন্দিত যে আমি এখানে উপস্থিত হতে পেরেছি। আজকে আমায় বলা হয়েছিল যে একটি মাস্টার প্ল্যান মিটিং আছে। তাই, আমি পরিকল্পনা করেছিলাম যে আমার গাড়িতে বসে সেটিতে অংশগ্রহণ করে, বেরিয়ে আসার, ও একটি প্রবচন দিয়ে তারপর ফিরে যাওয়ার। কিন্তু আমি এখানে এসেছি এবং সেই মিটিং-এ ফিরে যেতে পারিনি! নাড়ু গোপালের প্রার্থনায়! তারপর আমার সচিব বললেন, “তিনি তোমাকে বারবার কল করছিলেন, আমাদের সেই অনুষ্ঠানে যেতে হবে। যাই হোক, কোন প্রশ্ন আছে কি?

প্রশ্ন: চৈতন্য মহাপ্রভু একজন ভক্তরূপে লীলা করছেন, কিন্তু কোন কোন সময় তিনি তাঁর নরসিংহদেবের রূপ বা অন্যান্য অবতারের রূপ প্রকাশ করেন, আপনি কি এটা ব্যাখ্যা করতে পারেন?

জয়পতাকা স্বামী: তিনি হলেন কৃষ্ণ, তিনি একজন ভক্তরূপে লীলা করছেন। একসময় মুরারি গুপ্ত বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করছিলেন। যখন তিনি নরসিংহদেবের নাম বলেন, তখন চৈতন্য মহাপ্রভু নরসিংহদেবের ভাবে আসেন এবং রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে যান — নরসিংহদেবের ভাবে বলতে থাকেন অসুরেরা কোথায়? অসুরেরা কোথায়? এবং মানুষেরা পালিয়ে যান, কি অভূতপূর্ব! এবং তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু দুঃখ অনুভব করেন। আমি সকলকে ভয়ে ভীত করেছি! কিন্তু শ্রীবাস ঠাকুর বলেন, “আপনি সকলকে মুক্তি প্রদান করেছেন! কেবল আপনাকে দর্শন করে তারা সকলে মুক্তি লাভ করেছে।এছাড়াও, বিষ্ণু সহস্রনামে তিনি বরাহদেবের নাম পাঠ করেছিলেন। এরপর চৈতন্য মহাপ্রভু রূপ ধারণ করেন, চারটি ক্ষুর বিশিষ্ট্য। এখানে তাৎপর্যে বলা হয়েছে যে, যদি কেউ বলে যে তিনি হলেন ভগবান, তাহলে তাদেরকে তার ক্ষুর দেখাতে বলতে। সুতরাং, ক্ষুর প্রকট করা কোনো সরল ব্যাপার নয়যদি না আপনি পরমেশ্বর ভগবান হন। হ্যাঁকখনো কখনো চৈতন্য মহাপ্রভু মহাপ্রভু বিভিন্ন বিষয়গুলি প্রকাশ করেছেন। এগুলি অতি গুপ্ত ব্যাপার, অতীব গুহ্য, কেবল কয়েকজন দর্শন পেয়েছিলেন। একবার, তিনি অদ্বৈত গোঁসাইকে প্রকাশ করেন, ২১ ঘণ্টা ধরে তারা আরতি করেছিলেন এবং তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া, সাধারনত তিনি নিজেকে যতদূর সম্ভব গুপ্ত রেখেছিলেন। যাইহোক, তিনি হলেন কৃষ্ণ! যেমন জগন্নাথ পুরীতে সর্বভৌম ভট্টাচার্যের গৃহে, তিনি চৈতন্য মহাপ্রভু, ভগবান কৃষ্ণ, ভগবান রামের মিলিতরূপ নিয়ে নিজের ষড়ভূজ প্রকাশ করেছিলেন। কয়েকজন ভক্তদের, রামানন্দ রায় এবং অন্যান্য ভক্তদের কাছে তিনি তার দিব্য স্বরূপ প্রকাশ করেছিলেন। এই সবকিছু ইতিহাস গ্রন্থে নথিভূক্ত করা আছে। কিন্তু সাধারনত, তিনি কিছুই বলতেন না।

চাঁদ কাজীর কাছে কীর্তন করে যাওয়ার সময়, জনগণের বিশাল আন্দোলনে, তিনি নিত্যানন্দ প্রভু এবং গদাধর পণ্ডিত সহ চতুর্থ দলে ছিলেন। তাঁর কীর্তন ছিল জোরালো, অত্যন্ত দিব্য, এটি সমগ্র বিশ্বে, এমনকি আধ্যাত্মিক জগতে ছড়িয়ে যায়। দেবরাজ ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতাগণ এসেছিলেন ও এর সাথে যুক্ত হয়েছিলেন [শব্দ বিচ্ছেদ]।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions