Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ

24 Feb 2022|Bengali|Question and Answer Session|Madras (Chennai)

ফণেশ্বরী লক্ষ্মী দেবী দাসী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: কখনও কখনও ভক্তরা খুব কঠোরভাবে প্রচার করেন এবং অন্যান্যদের বিশেষ করে ভারতীয়দের নিন্দা করেন যারা ভগবানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিত্ব হিসাবে কৃষ্ণের অবস্থান সম্পূর্ণরূপে বোঝেন না। তাঁরা আমার কাছে আসেন এবং জিজ্ঞাসা করেন কিভাবে তাঁরা এত কটূক্তি এবং কঠোরভাবে কথা বলেন। এটি তাঁদের দূরে সরিয়ে দেয়। যে ভক্ত কঠোরভাবে কথা বলেছেন তাঁর নিন্দা না করে আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব, এবং একই সাথে সেই ব্যক্তিকে কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করতে উৎসাহিত করব যে তিনি যেন এই ধরনের কড়া কথায় আঘাত বোধ না করেন এবং এই কারণে কৃষ্ণের কাছ থেকে দূরে সরে না যান?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- অবশ্য যদি আমরা এই শ্লোকগুলিতে শ্রীল প্রভুপাদের উপদেশ অনুসরণ করি, তিনি বলেছিলেন যে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যেমন খুব মিষ্টিভাবে কথা বলেছেন, আমাদেরও খুব মিষ্টি কথা বলা উচিত। যিনি কঠোরভাবে কথা বলেছেন আপনি হয়তো সেই ভক্তের সাথে কথা বলতে পারেন এবং তাকে তাৎপর্য দেখাতে পারেন আর যাকে প্রচার করা হয়েছে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এটি দেখাতে পারেন। কীভাবে কোন ব্যক্তিকে শান্ত করতে পারেন তা নির্ভর করবে এক একজন ব্যক্তির উপর। আমি নিশ্চিত যে আপনি এটি করতে পারেন।

শ্রেয়া (আশ্রিত শিষ্য): কীভাবে কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীলতা আরও বৃদ্ধি করা যায়?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- অবশ্য এটি এমন কিছু যা আপনাকে শিখতে হবে। ঠিক যেমন একটি ছোট শিশু তার পিতামাতার উপর নির্ভর করে, তেমনি করেই আমাদেরও কৃষ্ণের উপর নির্ভর করতে হবে। একজন ব্যক্তি যার সাথে কঠোরভাবে কথা বলা হয়েছিল তাকে বলা যেতে পারে যে তিনি দর্শনকে সম্বোধন করছেন, আপনাকে নয়। এবং আপনি যদি কারও সাথে কথা বলেন তাহলে আপনাকেও সচেতনভাবে চিন্তা করতে হবে যে কিভাবে কৃষ্ণ আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। আর কখনও কখনও আমরা কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করি যিনি পরমাত্মা রূপে অন্তরে বিরাজ করছেন, সেই ব্যক্তির প্রতি কৃপা করার জন্য।

অমিত বিশ্বাস, ভুপাল: আমি যখন গ্রন্থ বিতরণ করতে যাই তখন আমি ভগবদ্গীতা নেওয়ার জন্য নতুন লোকের কাছে যেতে ভয় পাই। কিভাবে এই ভয় আমি কাটিয়ে উঠব গুরুমহারাজ? আর কৃপাপূর্বক আমাকে পরামর্শ দিন আমার কাছে মানুষ আসার সময় আমার ভাব কেমন হওয়া উচিত এবং কীভাবে এই কথোপকথন শুরু করতে হবে?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- গত রাত্রে জিবিসিগণ গ্রন্থ বিতরণের উপর একটি প্রতিবেদন শুনেছেন, এবং কিছুটা ভয় অনুভব করাটি স্বাভাবিক ব্যাপার। এভাবেই আমরা ভগবান কৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি। এবং গ্রন্থ বিতরণের জন্য বিভিন্ন প্রকার কৌশল রয়েছে এবং যাঁরা এই বিষয়ে অভিজ্ঞ আপনি তেমন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে শিখতে পারেন। কিন্তু নীতিগতভাবে আপনি চান যে লোকেরা ভগবদ্গীতা ধারণ করুক, ভগবদ্গীতা গ্রহণ করুক আর এভাবে ভগবদ্গীতার সাথে কিছু আসক্তি গড়ে তুলুক। লোকেরা কিছু উত্তর খুঁজছে, এবং উত্তরগুলি ভগবদ্গীতায় উপলব্ধ রয়েছে। তাই আমরা চাই মানুষ যেন তাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায়।

গীতেশ্বরী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী দাসী: অনুগ্রহপূর্বক সহজবোধ্য উদাহরণ সহ অচিন্ত্য-ভেদাভেদ-তত্ত্ব অনুভব করান।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:-অচিন্ত্য-ভেদাভেদ-তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার সবচেয়ে সহজ উপায় কি আমি জানি না। অচিন্ত্য অর্থ হলো অকল্পনীয়। আর এই তত্ত্ব সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য নয়। ভেদাভেদ শব্দের অর্থ হলো এটি একই সাথে ভিন্ন এবং অভিন্ন। ধারণাটি হল এই যে কৃষ্ণের শক্তি কৃষ্ণের থেকে আলাদা নয়। আমরা একই মানের কিন্তু পরিমাণটি ভিন্ন। তাই অচিন্ত্য-ভেদাভেদ-তত্ত্ব হলো সত্য।

অভয় চরণ নিমাই দাস, মায়াপুর:- বাংলায় একটি উক্তি আছে যার অর্থ হলো এই যে, আপনি যদি কোনো জড়বাদীর কাছ থেকে খাবার গ্রহণ করেন তাহলে আপনার মন দূষিত হতে পারে যা আপনার কৃষ্ণভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি কি কাউকে কিছু উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:-বিশেষ করে, বিষয়ান্ন হলো জড়বাদী খাদ্য। যেহেতু আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তা আমাদের চেতনাকে প্রভাবিত করতে পারে। উপহার বলতে আমি কি উপহারের কথা বলছেন জানি না, কিন্তু আমার অনুমান এই যে অগত্যা খাদ্যদ্রব্যের মতো একই প্রভাব থাকবে না। তাই নীতিগতভাবে, আমরা বৈষ্ণবদের কাছ থেকে খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করতে পছন্দ করি। অভক্তদের কাছ থেকে নয়।

ঠিক আছে!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by জয় রাসেশ্বরী দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions