Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২

3 Mar 2022|Bengali|Question and Answer Session|Madras (Chennai)

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: আমরা শ্রীশ্রীরাধামাধবের প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছি। এই উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানটি ৫ দিন ব্যাপী, আর আজ হলো তার দ্বিতীয় দিন। তাই আজ ঝুলনে শ্রীবিগ্রহ দোলা দেওয়া যেতে পারে এবং আজকের উৎসবটি শ্রীল প্রভুপাদ উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গতকাল উৎসবটি ভজন-কুঠিরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আপনারা মায়াপুর টিভিতে উৎসবটি দেখতে পারেন। আমাদের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর থাকবে। হাসপাতালে থাকার কারণে আমি এখনও কিছুটা দুর্বল বোধ করছি তাই যতক্ষণ আমার শক্তি থাকবে ততক্ষণ আমি প্রশ্ন গ্রহণ করব।

প্রসন্ন:- আমি বিদেশে অর্থাৎ জাপানে আছি এবং আমার সঠিক ভক্তসঙ্গ নেই। এমন পরিস্থিতিতে আমি কীভাবে সুন্দরভাবে ভক্তি অনুশীলন করতে পারি? আমাকে কৃপাশীর্বাদ করুন আমি যেন যেভাবেই হোক শ্রীল প্রভুপাদের সেবায় নিয়োজিত হতে পারি।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: জাপানে আমাদের কয়েকটি মন্দির আছে, এবং আমি জানি না আপনি মন্দিরে যান কিনা। আমাদের এখানে মায়াপুরে জাপানের একজন ভক্ত (স্ত্রী) আছেন, তিনি সেখানকার ভক্তদের চেনেন। তাঁর নাম কেশবী দাসী। তাই আপনি তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং তিনি আপনাকে পরিচালনা করবেন। আমি ঠিক জানি না আপনি কোথায় আছেন তবে তিনি আপনাকে পরিচালিত করবেন।

জয় রাসেশ্বরী দেবী দাসী:- কখন বৃহৎ শ্রীশ্রীরাধামাধব-অষ্টসখী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন আর আপনি স্বয়ং কি তা করেছিলেন?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: আমরা নতুন মন্দিরে যাওয়ার পর শ্রীশ্রীরাধামাধব-অষ্টসখী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। পূর্বে মন্দিরটি ছিল পদ্ম-ভবনে। এখন এটি চক্র ও পদ্ম ভবনের মধ্যে অবস্থিত। তাই যখন অট্টালিকাটি প্রস্তুত হয়েছিল সমস্ত জিবিসিগণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে নিযুক্ত ছিলেন। আমি জানি না আপনি প্রাণ-প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি জানেন কি না, তবে আমরা পূর্ণ প্রাণ-প্রতিষ্ঠা সম্পাদন করেছিলাম। আর তাই জিবিসিগণের দ্বারাই সেই কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ করা হয়েছিল।

ভবতারিণী রাধিকা দেবী দাসী:- স্নেহ এবং আসক্তির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তার পরম্পরা কি?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: ভক্ত যখন দেবতার প্রতি অনুরাগ অনুভব করেন, যখন তা বৃদ্ধি পায়, তখন তাঁরা আসক্ত হয়। আমাদের যেমন নিষ্ঠার ব্যবস্থা আছে, আমরা আমাদের সেবায় স্থিরতা অনুভব করি, তখন সেটি স্নেহ করতে রুচি বৃদ্ধি করে আর তাকেই রুচি বলে। যখন এটি বৃদ্ধি পায়, তখন আমরা শ্রীবিগ্রহগণের সাথে সংযুক্ত হই এবং একে বলা হয় আসক্তি। যখন স্নেহ বা আসক্তি আরও বৃদ্ধি পায়, তখন আমরা কৃষ্ণের জন্য ভাব অর্জন করি, যেটি হলো কৃষ্ণের প্রতি চিন্ময় প্রেম।

কেয়া রাণী:- কোনও কোনও সময় আমরা একজন ভক্তকে ভুল বোঝাবুঝির কারণে খারাপ ভাবতে পারি আমাদের সম্পর্কেও তাদের কিছু ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। এমনকি আমরা যদি ভুল নাও করি, আমরা কিছু ভুল করার জন্য অভিযুক্ত হয়ে যাই। তারা আমাদের পারমার্থিক ও বৈষয়িক উভয় জীবনেই সকল প্রকার সমস্যা সৃষ্টি করা সত্ত্বেও কিভাবে আমরা তাদের প্রতি কোন খারাপ ভাবনা না করে থাকতে পারি তা কৃপাপূর্বক আলোচনা করে আমাদের আলোরিত করুন।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: আপনি শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে দেখুন, তিনি মাধাই দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তবুও মাধাইয়ের প্রতি তাঁর কোন খারাপ অনুভূতি ছিল না। তিনি মাধাইকে উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন এবং তাকে ক্ষমা করার জন্য ভগবান শ্রীচৈতন্যের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। আপনি যদি শ্রীনিত্যান প্রভুর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা ভক্তদের খারাপ ভাবব না। এমনকি তারা যদি আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলেও।

হরিহর চৈতন্য দাস: কখনো কখনো আমি জপ, শুনতে, পড়তে এবং অন্যান্য পারমার্থিক কার্যকলাপ করতে ইচ্ছা বোধ করি। কখনো বা আমি এই সব বিরক্তিকর মনে করি। কিভাবে এইসব কাটিয়ে ওঠা যায়? আমাদের প্রতি আলোকপাত করুন।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: এটি অনর্থ-নিবৃত্তির পর্যায়। কখনো গরম কখনো ঠান্ডা। কখনো উৎসাহী আবার কখনো তা নই। সুতরাং, ভগবদ্ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা এই অনর্থ-নিবৃত্তিকে অতিক্রম করতে পারি। এবং ভগবদ্ভক্তিমূলক সেবায় স্থির হোন। একে নিষ্ঠা বলে। আর আমাদের ভক্তির বৃদ্ধি ও হ্রাস করাকে এড়ানো উচিত। কৃষ্ণের কৃপা পাওয়ার জন্য আমাদের স্থির হওয়া উচিত।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by জয় রাসেশ্বরী দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions