Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ

3 Mar 2022|Bengali|Question and Answer Session|Madras (Chennai)

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আজ আমরা প্রশ্নোত্তর করব। আমি চেন্নাই থেকে মায়াপুর পৌঁছেছি, কিন্তু গতকাল ১২ঘন্টা ভ্রমণ করে, আমি এখনও কিছুটা দুর্বল আছি, আর আজ সকালে আমাদের শ্রীশ্রীরাধা-মাধবের ৫০বছর পূর্তি অনুষ্ঠান ছিল এবং আজ বিকেলে তারা যথার্থ প্রশ্ন ও যথার্থ উত্তরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আমাদের সাথে ছিলেন শ্রীপাদ ব্রহ্ম-তীর্থ প্রভু, যিনি জুমে উপস্থিত ছিলেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি শ্রীল প্রভুপাদের কাছ থেকে প্রশ্ন করেছিলেন। আমাদের এখানে কিছু প্রশ্ন আছে।

কেয়া রাণী: আমরা যখন প্রচার করার চেষ্টা করি এবং লোকেরা শ্রীল প্রভুপাদের বক্তৃতাগুলির বিতর্কিত শব্দাংশ দেখতে পায় তখন আমাদের কী করা উচিত। কখনও কখনও তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কৃপাপূর্বক আমাদের আলোকপাত করুন।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আমি জানি না আপনি কোন বিতর্কিত শব্দাংশের কথা বলছেন। কিছু কিছু বিষয়ে জিবিসি প্রকাশিত বেশ কয়েকটি বিবৃতি রয়েছে, তাই যদি এখনও কোনও উত্তর না পেয়ে থাকেন তা হলে আপনি আমাকে পাঠাতে পারেন।

বালচন্দ্র এবং বিনীতা গন্ধর্বিকা দেবী দাসী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: (অস্নিকা) প্রলয় চলাকালীন বা ব্রহ্মার একদিনের সমাপ্তির সময় আমরা কোথায় যাব?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- ব্রহ্মার প্রতিদিনের শেষে যে কল্প বা ধ্বংস হয়, আমরা তখন গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণুর মধ্যে প্রবেশ করি এবং ব্রহ্মার রাত্রিতে আমরা সেখানে বিশ্রাম করি। ব্রহ্মার রাত্রির শেষে যাঁরা চিন্ময় জগতে ফিরে যান না তাঁরা মহাবিষ্ণুর কাছে যান।

অনুকম্পিতা রাধিকা দেবী দাসী, দুর্গাপুর, ভারতবর্ষ: বৈষ্ণব-সেবা বলতে কী বোঝায়? এটি কি কেবলমাত্র শুদ্ধ ও উত্তম-অধিকারী ভক্তদের সেবা করার মতো? নাকি এটি এমন একজন ভক্তের সেবা করার মতো যিনি ভক্তিপথে একেবারেই নতুন? আমরা কি উভয়কে সেবা করে একই ফল পেতে পারি? হে পরমারাধ্য গুরুদেব আমার ত্রুটি মার্জনা করবেন।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- বৈষ্ণবের সেবা করা আপনাকে পারমার্থিক উপকার প্রদান করবে। আপনি একজন শুদ্ধ ভক্তের সেবা করলে আপনি আরও বেশি সুবিধা পেতে পারেন, কিন্তু কোনো সাধারন ভক্তের সেবা আপনাকে স্বাভাবিক সুবিধা প্রদান করতে পারে।

ভবতারিণী রাধিকা দেবী দাসী: আমি জানতে চাই যে আমাদের ব্রহ্মা আর যে ব্রহ্মা সরস্বতীর দেবীর প্রতি মায়াগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা কি একই?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আমাদের ব্রহ্মাণ্ডের ব্রহ্মা হলেন সমগ্র বৃহদ-কল্পের ব্রহ্মা। আর সরস্বতীর সাথে বিশেষ লীলায়, আমার মনে হয় না আমাদের ব্রহ্মার কোন সমস্যা ছিল। আরেকটি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার সাথে সরস্বতী দেবীর কোনো সম্পর্ক নেই।

ব্রজ-বিলাস গৌরাঙ্গ দাস: আপনার ব্যাস-পূজার প্রবচনে, আপনি বলেছিলেন যে আপনার ইচ্ছা আমাদের প্রত্যেকের আচার্য হওয়া উচিত। এটিই শ্রীল প্রভুপাদের ইচ্ছা। সবাই কি আচার্য হতে পারে? আমার কাছে এটি অকল্পনীয় কিছু যে আমি একজন আচার্য হতে পারি। কিন্তু এটি আপনার ইচ্ছা। তাই কৃপাপূর্বক কিভাবে এটি সম্ভব হবে আমাকে জানাবেন।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- বহুবিধ বিষয় রয়েছে। একটি বিষয় হলো শ্রীল প্রভুপাদের সমস্ত গ্রন্থ যেমন – শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ, শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত ও কিছু ছোট গ্রন্থ অধ্যয়ন করা এবং ভক্তিবেদান্ত, ভক্তি-বৈভবের মতো উপাধি অর্জন করা। অন্য জিনিসটি হলো খুব সাবধানে সাধন-ভক্তি অনুশীলন করা। আপনার ১৬ মালা জপ করুন এবং সমস্ত পারমার্থিক নির্দেশ গ্রহণ করুন। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন আচার্য হওয়া কঠিন কিছু নয়। আমাদের কেবল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুদ্ধ ভক্তদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। আর তাহলেই কেউ আচার্য হতে পারে।

ডাক্তার সোনাল অরোরা: কৃপাপূর্বক আমার প্রতি আলোকপাত করুন যে ভক্তি কি কেবল তাঁদেরই হয় যাঁদের সুকৃতি আছে এবং ভক্তি রাণী কি তাদের আশীর্বাদ করেন না যারা মায়া দ্বারা মোহাচ্ছন্ন রয়েছে। তাহলে কিভাবে তাদের প্রচার করতে হয়?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- শ্রীল প্রভুপাদ একবার অর্ধ-কুম্ভ-মেলায় ব্যাখ্যা করছিলেন যে কীভাবে কোন ব্যক্তি যিনি ভক্তিযোগ অনুশীলন করেছেন তিনি ইতিমধ্যেই অন্যান্য সমস্ত প্রকার সংস্কার ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছেন। তাই কোন এক ভক্ত হাত তুলে শ্রীল প্রভুপাদকে একটি প্রশ্ন করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আমি আমার জীবনের পিছনের দিকে ফিরে যদি ফিরে দেখি, তাহলে আমি আমার পূর্বের জীবনে কোন পবিত্র কিছু পাই না। তাহলে আমি কিভাবে ভক্তি অর্জন করলাম যা খুবই বিরল?” আর শ্রীল প্রভুপাদ তার উত্তর দিলেন, “আমি তোমার জন্য সৌভাগ্য সৃষ্টি করেছি।” শ্রীল প্রভুপাদের কৃপায়, গুরুর কৃপায়, আমরা অনায়াসেই উপকার লাভ করি।

ললিতাঙ্গী রাধা দেবী দাসী, কানাডা: শ্রীবলরামজী দুর্যোধনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বলে মনে হচ্ছে, যে কিনা পাণ্ডবদেরকে অসম্মান করেছিল। আর তিনি ব্যাসাসন নিয়ে গর্ব করার কারণে রোমহর্ষণকে শাস্তি দিয়েছিলেন। আমি দৃশ্যত এই স্ববিরোধী কার্যকলাপ বুঝে উঠতে পারছি না। তাই আপনাকে কৃপাপূর্বক এটি ব্যাখ্যা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- বলরামজী এবং শ্রীকৃষ্ণ একই পরিবারের সদস্য, এবং তাঁরা প্রকৃত ভাই। দুর্যোধন ভগবান শ্রীবলরামজীর কাছে গদা দিয়ে যুদ্ধ করা শিখতে এসেছিল। তাই সে কলাকুশলে নিপুন ছিল তবে ভীম আরও শক্তিশালী ছিলেন। তাই, কখনো কখনো বলরাম পক্ষপাতিত্ব করতে হাজির হন, কিন্তু তিনি কেবল ভদ্র ছিলেন। আর এটি ছিল তাঁর ও শ্রীকৃষ্ণের সাথে ভিন্ন লীলা এবং তাঁর অকল্পনীয় লীলার কিছু অংশ। কিন্তু যেহেতু তিনি যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে চাননি, তাই যখন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ চলছিল তখন তিনি তীর্থযাত্রায় গমন করেছিলেন।

আমি এই সুন্দর সুন্দর প্রশ্নগুলির জন্য সমস্ত ভক্তদের ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং তোমরা আমার শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ গ্রহণ করো। কৃষ্ণ মতির অস্তু! আমি দরদালান (গ্যালারি) দর্শনে সমস্ত ভক্তদের দেখব।

অনুগ্রহ করে ইউক্রেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে ভক্তদের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করুন।

আমি আগামীকাল আপনাদের সাথে দেখা করব! হরিবোল!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by জয় রাসেশ্বরী দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions