মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- আজকে আমরা রাধাষ্টমি মহোৎসব পালন করছি। আজকের দিনে রাধারানী যমুনাতে একটি সুবর্ণ পদ্মে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং বৃষভানু মহারাজ সেই সুবর্ণ পদ্মটিকে দেখেছিলেন এবং এটির কাছে গেলেন আর তিনি দেখলেন এক অপরূপ কন্যা এবং ব্রহ্মা এসেছিলেন ও তাকে বললেন যে আপনি আপনার পূর্ব জীবনে তপস্যা করেছিলেন এবং আপনি ও আপনার স্ত্রী পরম পুরুষোত্তম ভগবানের সঙ্গিনীকে নিজের কন্যা রূপে পেতে চেয়েছিলেন। এই কারণে এই কন্যাটি আপনার কাছে এসেছেন। তাঁর অত্যন্ত ভালোভাবে যত্ন নিন এবং সুখী হন। এর পর বৃষভানু মহারাজ সেই সুবর্ণ পদ্ম থেকে কন্যাকে তুলে নিয়ে গৃহে যান ও তিনি এবং তার স্ত্রী তাঁকে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। কীর্তিদা সর্বাপেক্ষা আনন্দে ছিলেন। আজকে আমাদের বিভিন্ন যজ্ঞ হয়েছে এবং শ্রীমতি রাধারানীর বিভিন্ন লীলা শ্রবণ করেছি। আমি বর্ণনা করেছি যে কিভাবে শ্রীমতি রাধারানী হচ্ছেন শ্রী কৃষ্ণের নিত্য সঙ্গী। এবং তিনি আবির্ভূত হন যখন কৃষ্ণ আসেন। তাই, যেহেতু এটি হলো অত্যন্ত পবিত্র দিন, তাই আমরা আপনাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সুযোগ দিতে চাই। বিশেষত যে সমস্ত বিষয় আজকের দিনের সাথে সম্পর্কিত।
বিভিন্ন সংস্করণে – কখনো কখনো রাধারানী একটি সুবর্ণ পদ্মে আবির্ভূত হয়েছেন, কখনো তিনি কীর্তিদার গর্ভে আবির্ভূত হয়েছেন। কৃষ্ণ ব্রহ্মার একটি কল্পে একবার আবির্ভূত হন এবং রাধারানীও বিভিন্নভাবে আবির্ভূত হন।
প্রশ্ন:- শ্রীমতি রাধারানী হলেন কৃষ্ণের সর্বোত্তম ভক্ত এবং কৃষ্ণ তাঁর হৃদয়, মনোভাব এবং বর্ণ নিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভু রূপে আসেন। এটা কি এমন যে যদি আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুসারী হই, তার মানে আমরা রাধারানীর অনুসারী? এছাড়াও, নবদ্বীপ ধামে, প্রত্যেকটি দ্বীপ কী অষ্টসখীর সাথে সম্পর্কযুক্ত?
জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তরা ভগবান কৃষ্ণেরও ভক্ত। এর মানে রাধা কৃষ্ণ। অষ্টসখীর আটটি ভক্তিমূলক সেবার সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত হওয়ার বিষয়টির কথা, আমি কখনো শুনিনি। এটা মনে হয় না যে সকল সখীরা সব ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করেছিলেন।
প্রশ্ন:- শ্রীমতি রাধারানীর কৃপা কিভাবে প্রাপ্ত হওয়া যায়? যখন ভক্তিতে আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুদেবের থেকে যথাযথ সহায়তা না পাই তখন আমাদের পারমার্থিক পথে ভক্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া উচিত?
জয়পতাকা স্বামী:- আমি শ্রীল প্রভুপাদের থেকে শুনেছি যে রাধারানী হলেন সর্বাপেক্ষা করুণাময় এবং যদি কেউ অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে কৃষ্ণকে সেবা করার চেষ্টা করেন তাহলে রাধারানী তাকে তাঁর কৃপা প্রদান করেন। আমি জানিনা আপনি আপনার গুরুর থেকে কি সহায়তা চান এবং আপনার গুরু কে। তবে আমরা আমাদের শিষ্যদের সমস্ত সহায়তা প্রদান করার চেষ্টা করছি। কখনো কখনো যেমন একজন আমাকে বলেছিলেন যে তিনি আমায় একটি চিঠি লিখেছেন এবং তিনি তার উত্তর পাননি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম সে কোন ইমেইলে পাঠিয়েছে। সে একটা ভুল ইমেইলে চিঠিটি পাঠিয়েছিল! আমার কার্যনির্বাহকরা আছেন এবং তাদের সাথে কথা বলা যেতে পারে ও খুঁজে বের করা যাবে যদি তাদের কাছে ইমেইলটি থাকে, তাহলে তারা তা আমার কাছে পড়তে পারবে। রাধারমন সেবক দাস ব্রহ্মচারী এবং হরিদাস চৈতন্য দাস ব্রহ্মচারী, হলেন দুজন সচিব। অবশ্য, শ্রীবৎস শ্যামসুন্দর দাস ব্রহ্মচারীও আছেন।
প্রশ্ন:- কলিযুগে শ্রীমতি রাধারানী গদাধর পণ্ডিত রূপে আবির্ভূত হয়েছেন এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মধ্যেও আছেন। কেন তিনি দুটি ভিন্নভাবে আবির্ভূত হয়েছেন?
জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু হলেন কৃষ্ণ শ্রীমতি রাধারাণীর কিছু গুণ নিয়ে প্রকাশিত। এবং গদাধর পণ্ডিত হলেন রাধারানী।
প্রশ্ন:- শ্রীমতি রাধারানীর শ্রীপাদপদ্মে যাতে কোন অপরাধ না করি এই বিষয়ে আমাদের কি কি সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত? রাধারানীর প্রতি আমাদের ভাব কিরকম হওয়া উচিত?
জয়পতাকা স্বামী:- আমাদের রাধারানীর প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাপূর্ণ এবং শরণাগত হওয়া উচিত। এবং তাঁর কৃপায় আমরা ভগবান কৃষ্ণের সেবা পাই। এবং আমাদের তাঁকে একজন সাধারন নারী হিসেবে ভাবা উচিত নয়। তিনি হলেন শক্তি তত্ত্ব। তিনি হলেন আমাদের, জীব তত্ব থেকে অনেক উন্নত।
প্রশ্ন:- যখন রাধারানী কৃষ্ণের জন্য রন্ধন করেন তখন রাধারানী কৃষ্ণকে কি কি নিবেদন করেন? তা কী তুলসী দিয়ে?
জয়পতাকা স্বামী:- তিনি অনেক সাত্ত্বিক পদ নিবেদন করেন এবং স্বাভাবিকভাবে এটার ওপর তুলসী থাকতে হবে।
প্রশ্ন:- সাধারণত আমরা দেখি যে যখন আমরা রাধা এবং কৃষ্ণের কাছে যেতে চাই তখন সহজিয়া হিসেবে পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে আমরা এটি কিভাবে এড়াতে পারব?
জয়পতাকা স্বামী:- বলা হয়েছে যে আমরা যতক্ষণ না মুক্ত স্তরে স্থিত হই ততক্ষণ আমরা লক্ষ্মীনারায়ণের মত রাধা এবং কৃষ্ণের পূজা করি। এর মানে অত্যন্ত সন্মানের সাথে এবং সহজিয়ারা অত্যন্ত অন্তরঙ্গ। আমরা মনে করিনা আমরা এখনও সেই স্তরে। তাই আমরা অনেক সন্মান প্রদান করি, যা লক্ষী নারায়ণের অনুভবে আধিক।
প্রশ্ন:- মা, মাতাজি হিসেবে আমাদের শ্রীমতি রাধারানীর কাছে কি প্রার্থনা করা উচিত?
জয়পতাকা স্বামী:- আমি জানিনা কোন পার্থক্য আছে নাকি! রাধারানী ভগবান কৃষ্ণের সর্বোত্তম ভক্ত। এবং তিনি জানেন কিভাবে কৃষ্ণকে বশীভূত করা যায়। তাই তাঁর কৃপা লাভের জন্য আমরা তাকে আমাদের প্রণতি নিবেদন করতে চাই যাতে আমরাও কৃষ্ণের সেবা করতে পারি।
প্রশ্ন:- [ব্যাঘাত] বলা হয়েছে যে ভগবান কৃষ্ণের অন্তরঙ্গা, বহিরঙ্গা, এবং তটস্থ শক্তি আছে। সকল সখীরা [ব্যাঘাত] রাধারানীর থেকে অভিন্ন। আমি এটা বুঝতে পারছি না। গুরুমহারাজ দয়া করে এটি বিশ্লেষণ করুন।
জয়পতাকা স্বামী:- অন্তরঙ্গা শক্তি হলো শক্তি তত্ত্ব। তটস্থ শক্তি হলো হল জীব তত্ত্ব এবং বহিরঙ্গা শক্তি হলো মায়া শক্তি। শ্রীল প্রভুপাদ এই উদাহরণটি দিয়েছিলেন যে সরকারের বিভিন্ন বিভাগগুলি একই রকম। আমি বলতে চাইছি, পুলিশ বিভাগ হল আইন এবং শৃঙ্খলা দেখার জন্য, এবং সামাজিক কল্যাণ বিভাগ আমাদের সামাজিক কল্যাণ করে। তাই, সরকারি দুটি বিভাগই ভালো। অপরাধীরা তারা পুলিশ পছন্দ করেনা এবং তাদের জন্য সামাজিক কল্যাণ বিভাগটি ঠিক আছে। এইভাবে আসলে যেহেতু জড়জগত হল কৃষ্ণের একটি শক্তি, তাই এক অর্থে তিনি রাধারানীর থেকে অভিন্ন এবং এই উপলব্ধিটি তাঁকে সীমন্ত দ্বীপে প্রদান করা হয়েছিল। আমাদের জন্য একটি বড় ভিন্নতা আছে। মায়া আমাদেরকে কৃষ্ণের থেকে দূরে রাখে এবং রাধারানী আমাদেরকে কৃষ্ণের কাছে প্রত্যাবর্তন করার সুযোগ প্রদান করেন। কিন্তু আসলে, যদি আমরা কৃষ্ণকে ফিরে পেতে সক্ষম হই, তাহলে মায়া দেবী তিনি আমাদের প্রণাম করেন।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ