Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ

20 Feb 2022|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎ-কৃপা তমহং বন্দে শ্রীগুরুং দীন-তারণম্
হরিঃ ওঁ তৎ সৎ

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আজ শ্রীল প্রভুপাদের বিশাখাপত্তনম্‌ পরিদর্শনের ৫০তম বার্ষিকী। আর এই বছর দক্ষিণ ভারতের অনেক মন্দিরে ৫০বছর বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে। গৌর পূর্ণিমার পরে, শ্রীল প্রভুপাদ কিছু ভক্তকে নিয়ে বিভিন্ন মন্দিরে যেতেন। তারপর তিনি বৃন্দাবনে পৌঁছাতেন। সুতরাং, এটি একটি সাফারির মতো এবং তিনি এক সপ্তাহের জন্য বিভিন্ন মন্দিরে ভ্রমণ করতেন। সুতরাং, আমরা এই সময়ে শ্রীল প্রভুপাদের কৃপা স্মরণ করছি।

এছাড়াও, শ্রীল প্রভুপাদ, পরম পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের কথা বলছিলেন। কিন্তু তিনি বলেছিলেন যে নির্দিষ্ট কিছু ভক্তের কাছে কৃষ্ণের কাছ থেকে প্রাপ্ত ‘মোক্তারনামা’ (পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি) ছিল। যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন প্রহ্লাদ মহারাজের নাম। প্রহ্লাদ মহারাজ, তিনি কিছু আশ্চর্যজনক কাজ করতে পারতেন। শ্রীল প্রভুপাদ এখানে জোর দিয়ে বলেছিলেন কিভাবে এই ভক্তরা অত্যন্ত শক্তিশালী কারণ তাঁদের কাছে কৃষ্ণের কাছ থেকে পাওয়া ‘মোক্তারনামা’ বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি রয়েছে। এবং আমি ভাবছিলাম কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদেরও এই পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ছিল। আর সেই সময় অন্ধ্রপ্রদেশে খরা হয়েছিল। পর পর তিন বছর বৃষ্টি হয়নি। তাই তারা ১০৮টি অগ্নিকুণ্ড সহ একটি বড় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন, আমি মনে হয় এটি তিরুপতিতে হয়েছিল। কিন্তু পুরোহিতগণ সঠিকভাবে মন্ত্রোচ্চারণ না করায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞটি কেবল ধোঁয়ায় পরিণত হয়। তারপর শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে তিনি হরিনাম সংকীর্তন করবেন এবং তারপর তিনি তা হায়দ্রাবাদে করেছিলেন এবং এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হয়েছিল। তাই আমি ভাবি যে, শ্রীল প্রভুপাদের তা হলে কতটা ‘পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’ ছিল। আজকে আমি গতকালের চেয়ে একটু অধিক সুস্থ বোধ করছি এবং কোনো প্রশ্ন থাকলে দেখব।

শান্তিপ্রিয়া জানকী দেবী দাসী:- আমার শাস্ত্রগ্রন্থ অধ্যয়নের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সময় ছিল। এখন আমি চৈতন্যচরিতামৃত অন্ত্য-লীলা পাঠ করছি, যা কয়েক মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে। এইভাবে, আমি আশা করছি এতে আমার শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলীর পাঠের এক ফের সম্পূর্ণ হবে। আপনার সমস্ত গ্রন্থ, শ্রীল প্রভুপাদ লীলামৃত, শ্রীমদভাগবত, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চৈতন্যচরিতামৃতের সমস্ত খণ্ড প্রভৃতি। আপনার চৈতন্য গ্রন্থটি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত, প্রতিদিন পাঠ জন্য জন্য আমার পক্ষে সবচেয়ে ভাল কী হবে?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আপনি দেখুন যদি ডিগ্রী বা উপাধি লাভ করতে পারেন কিনা, যেমন- ‘ভক্তিশাস্ত্রী’, ‘ভক্তিবৈভব’, ‘ভক্তিবেদান্ত’, এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তপন মিশ্র প্রদত্ত বিভিন্ন দ্রুত কার্যক্রম রয়েছে। ভক্তিশাস্ত্রী হলো প্রধানত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং কিছু অন্যান্য গ্রন্থ বিষয়ক পাঠ্যবিষয়। অবশ্যই, পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আমি মনে করি আপনাকে একাধিকবার একটি গ্রন্থে পৌঁছাতে হবে। আপনি শ্রীপাদ অতুল কৃষ্ণ দাসের সাথে কথা বলতে পারেন এবং দেখতে পারেন কিভাবে আপনি প্রতিটি পরীক্ষা দিতে পারেন। আমি মনে করি বিদ্যান গৌরাঙ্গ দাসও তামিলে একটি কোর্স করছেন, তিনি কিছু পারিশ্রমিক ধার্য্য করেন না। ভক্তরা তাঁদের ইচ্ছানুযায়ী তাঁকে কিছু দিতে পারে। ঠিক আছে।

পূরবী দাস:- আমি এমন একটি জায়গায় কাজ করতাম যেখানে অন্য কর্মচারীরা মুসলমান ছিল। জল পান করার জন্য বোতলে জল নিয়ে যেতাম। সেই একই বোতল থেকে, তারাও কখনো কখনো জল পান করত। একবার শুনেছিলাম, কোণ ভক্তের একই পাত্র থেকে কিছু নেওয়া উচিত নয়। তাই আমি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছি। এখন আমার কি করা উচিত? তাদের পান করতে অনুমোদন করব কি না? কৃপাকরে আমাকে পথ দেখান। আর এছাড়াও দয়া করে আমাকে পথ প্রদর্শন করুন যে কিভাবে আমি এই পরিস্থিতিতে প্রচার করতে পারি এবং কৃষ্ণভাবনাময় থাকতে পারি।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- অবশ্যই, আমরা যদি অভক্তদের দ্বারা ব্যবহৃত জল গ্রহণ করি, তাহলে তা আমাদের কৃষ্ণভাবনাকে খর্ব করতে পারে। একই সাথে, যদি অন্য লোকের এবং ভক্তরা যদি আমাদের কাছ থেকে জল নেয়, যা আমরা কৃষ্ণকে নিবেদন করি, তা হলে তারা কৃপাশীর্বাদ লাভ করে। তাই এই অবস্থায়, আপনাকে হয়তো দুটি বোতল নিতে হতে পারে। একটি কর্মীদের জন্য এবং একটি নিজের জন্য। আর আমরা অভক্তদের কৃষ্ণ-প্রসাদ দিতে চাই।

চতুরা দেবী দাসী, গুয়াংজু, চীন:- আমরা পতিতাত্মা। জন্মদিন পালন করা কি আমাদের জন্য উপযুক্ত?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আমরা যে কোনো সুযোগে প্রসাদ বিতরণ করতে পারি, সেটি ভালো। আর মানুষ সাধারণত অন্য কারণে জন্মদিন পালন করে থাকে। আপনি যদি লোকেদেরকে নিমন্ত্রণ জানাতে পারেন এবং তাদের প্রসাদ দিতে পারেন, তবে এটি শুভ কিছু ব্যাপার। জন্মদিন এবং বিভিন্ন উদ্‌যাপনের সুবিধা কীভাবে নেওয়া যায় তা আপনাকে ভাবতে হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

হর্ষবর্ধন গৌরাঙ্গ দাস:- ভক্তরা যখন জন্মদিন ইত্যাদির মতো কিছু অনুষ্ঠানে আমাদের সেবার জন্য আমাদের প্রশংসা করেন তখন সেই প্রশংসা গ্রহণ করার সঠিক ভাবটি কী হবে?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আমরা মনে ভাবি যে কিভাবে আমরা গুরু ও কৃষ্ণের কৃপায় কিছু সেবা করতে সামর্থবান হয়েছি। আর এভাবেই আমরা বিনম্র থাকি।

শচীদানন্দ গৌরাঙ্গ দাস, ইসকন কভেন্ট্রি, যুক্তরাষ্ট:- যদি আমি প্রতিদিন আপনার জন্য এক নির্দিষ্ট সংখ্যক জপ করার জন্য আমার মন ঠিক করি অথচ কোনদিন তা সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হই, তবে কি তা অপরাধ?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- প্রশ্ন হলো আপনি প্রতিজ্ঞা করেছেন কিনা। আমাদের দীক্ষা ঋণের অংশ হিসাবে দিনে ১৬মালা জপ করা উচিত। আমরা যদি গুরুদেবের জন্য অতিরিক্ত জপ করি, তা শুভ। আমি মনে করি আমার জয়পতাকা স্বামী অ্যাপে জপ, তুলসী পরিক্রমা এবং অন্যান্য বিষয়াদি নিবেদন করার জন্য একটি স্থান রয়েছে। সুতরাং, কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটি করে তবে এটি ভাল। যদি কেউ তা না করে, যদি তারা প্রতিজ্ঞা না করে থাকে তবে তা ঠিক আছে। তাই আমাদের অযত্নভাবে প্রতিজ্ঞা করা উচিত নয়। কোনও এক সময়, অর্জুন একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এবং কৃষ্ণ তাঁকে বলেছিলেন যে এই ধরনের প্রতিজ্ঞা কোর না।

বিশ্বম্ভর রাম দাস, মস্কো, রাশিয়া:- চৈতন্যচরিতামৃতে ইসলামের সাথে যুক্ত অনেক কাহিনী আছে। কোথাও কোথাও ইউরোপের কিছু তথ্য আছে। তৎকালীন খ্রিস্টধর্মের কথা আছে। গুরুমহারাজ তাদের বিষয়ে কি বলতে পারেন?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- সেই সময়ে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বিভিন্ন ভক্তদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। কেউ ইসলামের অনুগামী ছিলেন, কেউ বা বৌদ্ধ ছিলেন, আমি জানি না তিনি কোন খ্রিস্টানদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন কিনা, তবে আমরা বিশ্বাস করি যে ভগবান কেবল একজন এবং তাঁকে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ভিন্ন ভিন্ন নামে উপাসনা করা হয়। আমরা সারা বিশ্বের মানুষকে দিয়ে ভগবানের নাম কীর্তন করানোর চেষ্টা করছি এবং এটি ভগবানকে সন্তুষ্ট করবে আর এভাবে কোভিড-১৯র মহামারী হ্রাস করা যেতে পারে। অবশ্য, আমরা ভক্ত হিসাবে, কৃষ্ণের কাছে জড়জাগতিক কিছু চাই না। সুতরাং, আমরা বলেছি যদি এটি আপনাকে খুশি করে তবে ইসলাম, খ্রিস্টান ধর্মের অনুগামীরা এই রোগটি অতিক্রম করার জন্য প্রার্থনা করতে পারে। আমরা ধ্রুব মহারাজের বিষয়ে জানি যে, তিনি কৃষ্ণের কাছে কিছু জাগতিক বিষয় চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি অন্যান্য যা কিছু চেয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ তার চাইতে অনেক বেশি প্রিয়তম। তাই, কোনো না কোনোভাবে আমরা চাই যে লোকেরা দিব্য-পবিত্র নাম কীর্তন করুক এবং শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে তিনি ইরানের তেহরানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। তাই সেখানে তিনি কিছু মোল্লা, আয়াতুল্লাহদের সাথে কথা বলছিলেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে আল্লাহ্‌-হো শব্দের অর্থ হলো হে পরম সত্য। তাই তিনি তেহরানের লোকদের বলেছিলেন যে তারা যদি আল্লাহর নাম জপ করতে চায় এবং তা পছন্দ করে তবে তারা তা করতে পারে। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে আমাদের ঈশ্বরের নাম জপ করা উচিত। সুতরাং এটিই ছিল তাঁর অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি।

নিতাই লিলেশ্বর দাস, গুয়াহাটি, ভারতবর্ষ:- যখন আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং নির্দেশনা লাভের জন্য আপনার কাছে পৌঁছাতে পারি না তখন কি করব? একই সাথে যা কিছু নির্দেশনা আমরা আমাদের বরিষ্ঠদের কাছ থেকে পাই তা যদি সন্তোষজনক না হয় এবং আমাদের সমস্যার সমাধান না পাই তাহলে কি করব?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আমি প্রতিদিন বিভিন্ন ইমেল শুনি এবং আমার কিছু সংশ্লিষ্ট সচিব আছে, যেমন- রাধারমণ সেবক দাস ও অন্যান্যদের মতো। সুতরাং আপনি আমাকে লিখুন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে যদি উত্তর না পান, তাহলে আপনি আমার সংশ্লিষ্ট সচিবকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা লিখতে পারেন যে আপনি কেন উত্তর পাচ্ছেন না। সাধারণত, আপনি একটি উত্তর পাবেন। তবে অন্তত আপনাকে বলা হবে কেন আপনি উত্তর পাচ্ছেন না। এবং এই মুহূর্তে, আমাদের কাছে জয়পতাকা স্বামী শিষ্যদের ‘ই-কেয়ারও’ আছে এবং আপনি তাদের কাছেও লিখতে পারেন। আমি নিজেকে উপলব্ধ করার চেষ্টা করছি এবং আমি জানি না যে আপনি কোন শিক্ষাগুরুকে বিশ্বাস করেন। আপনি একজন শিক্ষাগুরুকে জিজ্ঞাসা করতে বা তাঁর থেকে পরামর্শ দিতে পারেন এবং কিছু অনুমোদন পেতে পারেন। অন্যথায়, আমি যেমন উল্লেখ করেছি আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আমি এখনও চেন্নাইতে অজিত গোপীনাথ দাসের গৃহে রয়েছি এবং তাঁর ছেলে ধ্রুব দাস পুনরাবৃত্তি করছেন। আর অন্যান্য ভক্তরা দক্ষিণ ভারতীয় প্রসাদ প্রস্তুত করছেন। আমি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছি।

প্রতিলিখন সমাপ্ত

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by জয় রাসেশ্বরী দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions