Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ

5 Mar 2022|Bengali|Question and Answer Session|Madras (Chennai)

আজ যেহেতু আমি দীর্ঘ সময় বিশ্রাম করছিলাম তাই প্রশ্নোত্তর আলোচনা হতে পারে। আজ কয়েকটি প্রশ্ন থাকবে আর এটিকে একটি দিন বলা হবে।

সুদেবী জয়শ্রী দেবী দাসী, ভুবনেশ্বর, ভারতবর্ষ: শরণাগতি ভজনে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর ষড়ঙ্গ-শরণাগতি সম্বন্ধে বলেছেন এবং তিনি এটিও বলেছেন যে যাঁরা ইহা অনুশীলন করেন শ্রীনন্দকুমার তাঁদের প্রার্থনা শ্রবণ করেন। কিন্তু মাঝে মধ্যে আমার মনে হয় যে আমি ঠিকভাবে এই বিশেষ করে কার্পণ্য বা নম্রতার অনুশীলন করতে পারছি না। এই পরিস্থিতিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে আমার কীভাবে এবং কী প্রার্থনা করা উচিত যাতে তিনি প্রার্থনা শুনতে পান?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: আমরা এটি মনে করতে পছন্দ করি যে আমরা যদি ভাল কিছু করি তবে তা গুরু ও কৃষ্ণের কৃপায় হয়েছে। আমরা নিজেদের জন্য কোনো কৃতিত্ব গ্রহণ করি না। এইভাবে, আমরা নম্র থাকি। আমরা যদি মনে করি আমরাই কর্তা, তাহলে সেটিও অহংকার। আর তাই আমরা সদাই গুরু ও কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকি।

কাকলি রাণী, দামোদর দেশ: যখন কোন ভক্ত তাঁর পারমার্থিক গুরুদেবের নির্দেশের সাথে যুক্ত না থাকে, তখন সেই ব্যক্তি কি মুক্তিলাভ করবে? নাকি সেই ব্যক্তি (স্ত্রী/পুং) কি তাঁর পারমার্থিক গুরুদেবের কাছে গুরু-দ্রোহী হবেন?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: এটি নির্ভর করে সে কতটা মন্দ এবং সে কি সামান্য অপরাধী বা সে সম্পূর্ণ অপরাধী তার উপর। আমরা নির্বিশেষ পদ্ধতিতে মুক্তি চাই না, আর এটি এমন কিছু যা আমরা প্রত্যাখ্যান করে থাকি। আমি জানি না সেই ব্যক্তি কী ধরনের মুক্তি লাভ করে। গুরুদেব আমাদের সাহায্য করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে আমরা পারমার্থিক পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারি এবং পারমার্থিক গুরুদেব আমাদের যা বলেন আমাদের তার প্রশংসা করা উচিত।

প্রেমেশ্বরী শ্রীরাধা দেবী দাসী:- পারমার্থিক গুরুদেবের বিরহ অনুভবকে কীভাবে মোকাবেলা করবেন?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: উত্তম প্রশ্ন করেছ। গুরু ও কৃষ্ণের বিরহ হলো এমন কিছু আমরা যার সম্মুখীন হই। তাই ভগবান শ্রীচৈতন্যদেব বলেছেন যে আমরা বিরহ অনুভব করে প্রগাঢ় ভক্তি লাভ করতে পারি। তাই যদি আমরা বিরহ অনুভব করি যা গুরুদেবের দেহের প্রতি, যা গুরুদেবের নির্দেশের প্রতি এবং তখন কেবল তাঁর নির্দেশাবলী অনুসরণ করার চেষ্টা করি। তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করে আমরা কৃষ্ণভাবনায় অগ্রসর হতে পারি। ব্যক্তিগতভাবে গুরুদেবের সেবা করা হলো ‘বপু-সেবা’ আর তাঁর নির্দেশাবলীর সেবা করা হলো ‘বাণী-সেবা’। তাই বাণী-সেবা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

মথুরা লীলেশ্বরী দেবী দাসী:- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে, তিনি সকলের প্রতি সমান এবং তিনি কাউকে ঘৃণা বা স্নেহের বস্তু বলে মনে করেন না। একই সাথে এটিও বলা হয়েছে যে যাঁরা ভক্তি সহকারে তাঁর আরাধনা করেন, তিনি তাঁদের কাছে নিজেকে নিবেদন করেন এবং তাঁরা নিজেকে তাঁর কাছে নিবেদন করেন। আপনি কি কৃপাপূর্বক ব্যাখ্যা করতে পারেন যে কিভাবে শ্রীকৃষ্ণ একই সময়ে পক্ষপাতী ও নিরপেক্ষ?

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: কৃষ্ণ, তিনি সর্বদাই নিরপেক্ষ থাকেন। তবে তিনি ভক্তদের প্রতিদান দেন যখন তাঁরা তাঁর অভিমুখে আসেন। কেউ যখন ভক্তি সহকারে তাঁর সম্মুখে আসেন, তখন তিনিও ভক্তির সাথে তার প্রতিদান দেন। কেউ যদি অবহেলার সহিত তাঁর কাছে আসে, তবে তিনি সেভাবেই তার প্রতিদান দেন।

কেয়া রাণী:- এমনটি বলা হয়ে থাকে যে রাধারাণী আমাদের যেখানে রাখতে চান সেখানে আমাদের সেখানে থেকেই সেবা করে খুশি হওয়া উচিত। অথচ এটি জানা সত্ত্বেও আমরা যদি দৈহিকভাবে ধামে থাকতে এবং সেখানে সেবা করতে চাই এটি কি স্বার্থপর ইচ্ছা নাকি এটিকেও বিরহ-ভাব হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে? কৃপাপূর্বক আমাদের ব্যাখ্যা করে বলবেন।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ: শ্রীল রূপ গোস্বামী উপদেশামৃতে বলেছেন যে, আমাদের একটি পবিত্র স্থানে বাস করা উচিত, যাতে এটি একটি ধামে হয় বা বাসস্থানের কাছাকাছি মন্দিরে থাকে। অতএব, সেই ধরণের ইচ্ছা অনুমোদিত।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by জয় রাসেশ্বরী দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions