প্রশ্ন:- আমি অন্য একজন ভক্তের পাঠ শুনেছিলাম, তিনি একজন পণ্ডিত। তিনি বলছিলেন যে জীবেরা ব্রহ্ম-জ্যোতি থেকে আসছেন। আপনি এমন কোন উদাহরণের সঙ্গে পরিচিত আছেন কি?
শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আপনি দেখবেন যে শ্রীল প্রভুপাদ অধিকাংশ বিষয়েই বলেছেন যে জীবেরা চিন্ময় জগৎ থেকে এসেছেন। তিনি একথাও বলেছেন যে জীবেরা হচ্ছেন তটস্থা শক্তি। কিছু কিছু জীব ভগবানের দিব্য জ্যোতি থেকেও আসেন। অতএব উভয় বিষয়ই রয়েছে। আমার মনে হয় এই সকল বিষয়ে শ্রীমৎ হৃদয়ানন্দ মহারাজের রচিত একখানি গ্রন্থ রয়েছে, যেখানে তিনি এই সমস্ত বিষয়ে বর্ণনা করেছেন। তবে তা কেবল সাদা-কালো নয়, বিভিন্ন জীবের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিও রয়েছে। এখানে কি শ্রীমৎ ভক্তিতীর্থ স্বামী মহারাজের কোন শিষ্য আছেন? শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজের কোন শিষ্য এখানে আছেন কি? তাঁরা উভয়েই আমার অতি প্রিয় ছিলেন, আর আমি এই কৃষ্ণভাবনামৃতে তাঁদের শিষ্যগণের পারমার্থিক উৎকর্ষতার জন্য প্রার্থনা করি। আর স্বভাবতই আমি আমার শিষ্যদের জন্যও প্রার্থনা করি। আর কোন প্রশ্ন আছে কি?
প্রশ্ন:- এখানে আমরা দেখি যে কিভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কখনো কখনো সন্ন্যাসীদের সাথে তর্ক করেছেন এবং বাক-যুদ্ধ করেছেন এবং অন্য সময়ে আবার তিনি তাঁদের আলিঙ্গন করেছেন, প্রসাদ দিয়েছে এবং কীর্তন করেছেন। অন্যদের ভক্তিপথে বা কৃষ্ণভাবনামৃতে আনার জন্য সর্বোত্তম উপায় কী?
শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সাধারণত মায়াবাদীদের সাথে আলোচনা করতেন না। যেহেতু ভক্তরা তাঁকে অনুরোধ করেন তাই তিনি বাধ্যতা বোধ করলেন। এবং একজন মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মণ সমস্ত সন্ন্যাসীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আর তাই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন, আর তিনি সেখানে উপবিষ্ট হলেন যেখানে অন্যান্য সন্ন্যাসী তাঁদের চরণ ধৌত করেছিলেন। তাই সেখানকার প্রধান সন্ন্যাসী প্রকাশানন্দ সরস্বতী বললেন, এটি একটি মলিন স্থান, কেন আপনি এখানে বসেছেন? শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, আমি নিজেকে আপনাদের মতো উন্নত সন্ন্যাসীদের সাথে বসার যোগ্য বলে মনে করি না। তাই প্রকাশানন্দ সরস্বতী তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর হাত ধরে তাঁকে তাঁর সাথে বসালেন। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে কেন তিনি বেদান্ত-সূত্র ইত্যাদি অধ্যয়ন করেন না। তিনি বললেন, দেখুন আমার পারমার্থিক গুরুদেব বলেছেন আমি একজন মূর্খ এবং আমার কেবল হরেকৃষ্ণ মন্ত্র জপ করা উচিত। আর তিনি তখন বারানসীর মায়াবাদী সন্ন্যাসীগণের সাথে আলোচনা করতে শুরু করলেন। তাই তিনি ছিলেন অতি বিনয়ী। এবং তিনিও প্রচুর জ্যোতি বিস্তার করেছিলেন এবং মায়াবাদী সন্ন্যাসীগণ জ্যোতি পছন্দ করেছিলেন!
প্রশ্ন:- সেই সকল মায়াবাদীদের অবস্থা কি যারা ভক্ত ও বৈষ্ণবদের গুণগান করেন, অথচ তাদের মায়াবাদ দর্শন ছাড়তে পারেন না। আমি শুনেছি যে ভারতবর্ষে এমন কিছু গুরু ছিলেন যারা শ্রীল প্রভুপাদের প্রচুর গুণকীর্তন করতেন যদিও তারা ছিলেন মায়াবাদী।
শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- বলা কঠিন। তারা যদি মায়াবাদ দর্শনের কথা না বলেন, তারা শুদ্ধ ভক্তদের মহিমা কীর্তন করেন, তবে এটি তাদের কৃতিত্ব। কারণ এই সমস্ত মানুষেরা অন্তিমে সেই মায়াবাদ দর্শনের কথাই বলেন। কিন্তু তারা যদি শ্রীকৃষ্ণ তথা তাঁর ভক্তদের মহিমা কীর্তন করেন, তবে তারা কিছু সুবিধা প্রাপ্ত হন। তারা ভক্তদের মহিমা কীর্তন করেন কারণ তারা কিছু ভক্তকে দেখেন কিন্তু অন্য সময়ে আবার তারা মায়াবাদের কথাই বলেন। শ্রীকৃষ্ণের গুণ-মহিমা কীর্তন করলে তাদের উপকার হয়।
প্রশ্ন:- কখনও কখনও আমরা যখন প্রচার করি এবং একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি করি তখন লোকেরা বিরক্ত হয়ে যায় এবং শুনতে চায় না। তাই মানুষকে কৃষ্ণভাবনামৃতে নিযুক্ত রাখার জন্য আমরা যা বলছি তাতে আমরা কীভাবে বৈচিত্র্য যোগ করব?
শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- বৈচিত্রময় কিছু বলবেন! হয়তো আপনি কিছু লীলা-কথা পরিবেশন করতে পারেন, আর লীলা কথা ভিন্ন হতে পারে। আমি নিশ্চিত নই যে আপনি ঠিক কি বিষয়ে কথা বলছেন তার কারণ আপনি যদি দেখেন যে কোন ব্যক্তি বিরক্ত হচ্ছেন তবে আপনি তাকে কিছু বলতে পারেন, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন, যেভাবেই হোক এটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।
প্রশ্ন:- পৃথিবীর বহু মানুষকে আপনি কৃপা করেছেন। এমন কিছু ভক্ত আছেন যাঁরা সমস্ত বিধি-নিষেধ পালন করেন ১৬ মালা জপ করেন, যেমন কিছু কিছু স্ত্রী আছেন যারা যাঁদের স্বামীর কারণে তাঁদের কিছু কর্ম চালিয়ে যেতে হবে যা ইসকন কর্তৃক অনুমোদিত নয়, কিন্তু তাঁরা দীক্ষা নিতে পারেন না। তাঁদের সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কি পথ আছে?
শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ:- আমি যখন মুম্বাই হাসপাতালে গিয়েছিলাম, আমি একজন প্রযুক্তিবিদের সাথে দেখা হয়েছিল যাঁর স্বামী ছিলেন মারাঠি, তিনি বলেছিলেন আমি একজন মারাঠি এবং আমি মাংস খাই এবং আমার স্ত্রীর রান্না করে দেওয়া উচিত। তিনি তাঁর স্বামীর জন্য মাংস রান্না করলেন, স্নান করলেন এবং তারপর নিজের এবং ছেলের জন্য নিরামিষ রান্না করলেন। এবং কৃষ্ণকে তা ভোগ নিবেদন করলেন। আমি মনে করি এমন একজন ব্যক্তিকে আমরা দীক্ষা দেওয়ার কথা ভাবতে পারি। যেকোন উপায়ে স্বামীকে কৃষ্ণভাবনাময় করার চেষ্টা করুন।
আমার ‘জয়পতাকা স্বামী’ নামক অ্যাপ আছে যা অ্যান্ড্রয়েড এবং অ্যাপল ফোনে উপলব্ধ। এবং সম্ভবত ৩০,০০০ মানুষের কাছে এটি রয়েছে। আমি জানি না আপনারা কতজন এটি অনুসরণ করছেন, তবে আমাদের জানকী রামচন্দ্রও আছেন, যাঁর বিভিন্ন ভাষায় JPS মিডিয়া রয়েছে এবং ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদির মতো সোশ্যাল মিডিয়াও চালু রয়েছে। তাই আমরা ভক্তদের সাথে বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি এবং আশা করছি যে সবাই সুবিধা গ্রহণ করেন। নিউ জার্সিতে আমাদের প্রায় ২০০ জন লোক ছিল এবং আমরা তাদের জগন্নাথ দণ্ড দিয়ে আশির্বাদ করতে সক্ষম হয়েছিলাম এবং এখানে সবাই যদি ঠিক থাকে তবে আমরা সবাইকে জগন্নাথ দণ্ডটি দিয়ে ভক্তদের আশীর্বাদ প্রদান করতে পারি।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20230104 পঞ্চ-ক্রোস পরিক্রমা
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন