শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: সমবেত সকল ভক্তের প্রতি আমার বিনম্র প্রণতি জ্ঞাপন করছি, এবং এক সফল ভাদ্র পূর্ণিমার শুভেচ্ছা রইল। আমার পূর্বে শ্রীশ্রীমৎ গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজ বলছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ আমাদের বলেছিলেন সেখানে কলকাতায় আমাদের দশটি মন্দির থাকা উচিত। তবে শ্রীশ্রীমৎ গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী দিল্লী অঞ্চলে তা অতিক্রম করে গিয়েছেন! তিনি সেখানে প্রায় বারো বা চৌদ্দটি মন্দির তৈরি করেছেন, এবং সেই মন্দিরগুলি গ্রন্থ প্রচারের জন্য অত্যন্ত উৎসর্গীকৃত। কখনো কখনো মায়াপুরে ভক্তরা দিল্লীকে অতিক্রম করতে চেষ্টা করেন, তবে সাধারণত দিল্লী এক নম্বরে থাকে! তাই আমাদের যদি এই উৎসর্গতা থাকে তা হ'লে ভারতবর্ষের সাফল্যতা আশ্বস্ত রবে।
গতকাল শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের তিরোভাব দিবস ছিল। আমি পাঠ করছিলাম যে কিভাবে তিনি শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থের একখানি অনুলিপির সন্ধান করছিলেন। অথচ তিনি একটিও খুঁজে পাননি। তাই তো শ্রীল প্রভুপাদ সমগ্র বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ভাষায় শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা প্রভৃতি গ্রন্থকে সহজলভ্য করেছেন। ভারতবর্ষে বহুবিধ ভাষা রয়েছে। বাংলা, হিন্দী, মারাঠি, গুজরাটি, তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালায়ালম, অসমীয়া ইত্যাদি। তাই শ্রীল প্রভুপাদের বিবিটি সমস্ত প্রকারের গ্রন্থ প্রকাশ করেছে, শুধুমাত্র ইংরাজি ভাষাতেই নয়, পক্ষান্তরে এই সমস্ত ভাষায় সমগ্র বিশ্বে তা প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং আমাদের মহান আচার্য্য শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের পদাঙ্ক অনুসরণের দ্বারা গোলোক ধামে প্রত্যাবর্তন করবার আমাদের কাছে এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ। আর এইভাবে আমরা সফল হতে পারি।
আজ প্রভাতে আমরা শ্রীল প্রভুপাদের একখানি পত্র পাঠ করেছিলাম, যেখানে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, "আমাদের গুরুদেবকে ততদিন পর্যন্ত এই জড় জগতে অবস্থান করতে হয় যতদিন না তাঁর শিষ্যগণ গোলোক ধামে, বৈকুণ্ঠ ধামে স্থানান্তরিত হয়ে ফিরে না যান।"
অতএব, আমরা আশা করি যে ভাদ্র পূর্ণিমায় সকল ভক্ত শ্রীমদ্ভাগবতের সেট বিতরণ করার মাধ্যমে গোলোক ধামে প্রত্যাবর্তন করবার এই সুযোগ গ্রহণ করবেন। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের সময়ে এই যে ঘাটতি ছিল, এখন শ্রীল প্রভুপাদের তথা বিবিটির কৃপায় সকল গ্রন্থ পাওয়া সহজ হয়েছে।আমাদের লখ্য করা উচিত যে লোকেরা যেন গ্রন্থ পায় এবং তারা সেগুলি পাঠ করে। আসলে আমি শ্রীমদ্ভাগবতে পাঠ করছিলাম যে, "কোন এক ব্যক্তির গৃহে শ্রীমদ্ভাগবতের সেটি ছিল, তাদের সেই গৃহটি তীর্থস্থান হয়ে যায়! স্বর্গীয় গ্রহ থেকে সমস্ত দেবতা, তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের গ্রন্থ অবতারকে প্রণতি নিবেদন করবার জন্য অবতরণ করেছিলেন।"
সুতরাং প্রতিটি গৃহকে রুপান্তরিত করে এক চিন্ময় তীর্থস্থানে পরিণত করো। তাদের শ্রীমদ্ভাগবতের প্রতিলিপিগুলি দাও। তারা কতই না কৃপাধন্য তা গণনার উর্দ্ধে! তোমরা আমাকে এই ধারণাটি দিয়ে বলেছিলে যে, গত বছর আমি শতাধিক শ্রীমদ্ভাগবত পেয়েছিলাম। আমি সেই অনুলিপিগুলি গৌড়ীয় মঠগুলির গ্রন্থাগারে প্রদান করেছি। শ্রীল প্রভুপাদ বিশ্বের জন্য কী দুর্দান্ত অবদান রেখে গেছেন তা প্রত্যেককে বুঝতে দিন। তিনি বিশ্বজুড়ে এই শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত ইত্যাদি গ্রন্থগুলি প্রদান করেছেন। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর কেবল শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থের একখানি অনুলিপি সন্ধান করছিলেন! এখন আর কোন ঘাটতি নেই। তবে জনগণের উচিত সেগুলিকে গ্রহণ করা। যাতে তারা তাদের গৃহটিকে তীর্থস্থান হিসাবে গড়ে তুলতে পারে।
তারা শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করতে পারে, কৃপা লাভ করতে পারে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত এই গ্রন্থগুলি হ’ল প্রয়োজনীয় বস্তু যা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পরামর্শ দিয়েছেন। "বল-কৃষ্ণ, ভজ-কৃষ্ণ, কর-কৃষ্ণ-শিক্ষা।" কৃষ্ণ-শিক্ষা -র দুইটি দিক রয়েছে। তার একটি হ'ল ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ব্যক্ত করেছেন, আর দ্বিতীয়টি হ'ল "শ্রীমদ্ভাগবত" যা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সম্বন্ধে বলা হয়েছে। তাই এই ছিল ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সাধারণ অনুরোধ। তিনি প্রত্যেককে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত গ্রন্থগুলি পাঠ করতে অনুরোধ করেছেন। আমরা আশা করি যে ভক্তরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এই পাঠ গ্রহণ করবেন।
আমি কয়েকজন ভক্তকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, "তাঁরা শ্রীল প্রভুপাদের কতগুলি গ্রন্থ এবং শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করেছেন?" তাঁদের অধিকাংশই দ্বিতীয় দীক্ষা গ্রহণের জন্য কেবল সামান্য কিছু গ্রন্থ পাঠ করেছেন। একজন শিষ্য শ্রীল প্রভুপাদের সমস্ত গ্রন্থ পাঠ করেছে। আর শ্রীমদ্ভাগবতের অষ্টম স্কন্দ পর্যন্ত। আমি ভারত জুড়ে বিভিন্ন নেতাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আর একজন তো শ্রীমদ্ভাগবত কুড়ি বার পাঠ করেছেন। কুড়ি বার! ভেবে দেখো। আমি তা শুনে অত্যন্ত খুশি হয়েছিলাম! যাইহোক, আমি আশা করব যে প্রত্যেকেই গ্রন্থগুলি বিতরণ করবে। শ্রীশ্রীমৎ গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করো, এবং তার সাথে বৈশেশিকা প্রভুর দৃষ্টান্তও অনুসরণ করো। আমাদের উচিত এই বিশ্বকে কৃষ্ণ-শিক্ষা দিয়ে প্লাবিত করা এবং "গোলোক ধামে ফিরে যাওয়া।"এই জগতে থেকো না আর তোমার গুরুদেবকেও এখানে ফিরিয়ে এনো না!
হরেকৃষ্ণ! হরিবল!!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
20230104 পঞ্চ-ক্রোস পরিক্রমা
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ