Text Size

২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন

23 Jul 2021|Duration: 01:14:43|Bengali|শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য গ্রন্থ|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ কর্তৃক সংকলিত শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য গ্রন্থ। ২৩শে জুলাই ২০২১, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতবর্ষ।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎ-কৃপা তম্ অহং বন্দে শ্রী-গুরুং দীন-তারণম্
পরমানন্দং মাধবং শ্রী চৈতন্য ইশ্বরম্
হরিঃ ওঁ তৎ সৎ

ভূমিকা: আজ আমরা শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নামক গ্রন্থের ক্রমাগত সংকলন বজায় রাখব।

দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন

এই বিভাগাধীন : ভগবানের শ্রীবৃন্দাবনে গমণের প্রয়াস।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৮৫

কৃষ্ণসেবা হইতেও বৈষ্ণবের সেবা শ্রেষ্ঠ, ইহাই ভাগবতের সিদ্ধান্ত—
‘কৃষ্ণ-সেবা হৈতেও বৈষ্ণবসেবা বড়।
ভাগবত-আদি সব শাস্ত্রে কৈল দৃঢ়॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবার চাইতেও বৈষ্ণবের সেবা শ্রেষ্ঠ। শ্রীমদ্ভাগবতের নেতৃত্বে সমস্ত শাস্ত্রগ্রন্থই এটি নিশ্চিত করেছে।

শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর কৃত তাৎপর্য: কৃষ্ণভক্তি অপেক্ষা কৃষ্ণদাস বৈষ্ণবের প্রতি ভক্তি তারতম্য-বিচারে শ্রেষ্ঠ —শ্রীমদ্ভাগবত এই কথাই দৃঢ়রূপে স্থাপন করিয়াছেন। তথ্য। (ভাঃ ১১/২/৫); (ভাঃ ১১/১১/৪৭-৪৮) ও (ভাঃ ১১/১৯/২১) শ্লোক দ্রষ্টব্য।

আরাধনানাং সবের্ষাং বিষ্ণোরারাধনং পরম্।
তস্মাৎ পরতরং দেবি তদীয়ানাং সমৰ্চনম্‌।
পদ্মপুরাণ।

"সকল প্রকার পূজার মধ্যে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর পূজা হ’ল শ্রেষ্ঠ, এবং ভগবানের আরাধনার থেকেও শ্রেষ্ঠ হচ্ছে তাঁর ভক্ত, বৈষ্ণবের পূজা করা।"

সর্বত্র বৈষ্ণবাঃ পূজ্যাঃ সর্গে মর্ত্যে রসাতলে।
দেবতানাং মনুষ্যাণাং তথৈব যক্ষরক্ষসাম্॥

"বৈষ্ণবগণ স্বর্গে, মর্ত্তে, এবং নরকের সর্বত্রই পূজনীয়। তাঁরা দেবতা, মানবজাতি, যক্ষ, ও রাক্ষসের থেকে উচ্চতর।"

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: সুতরাং, বৈষ্ণবের সেবা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে পরম সন্তোষের। যদিও তিনি হলেন পরমেশ্বর ভগবান, তিনি অধিক প্রসন্ন হন যখন তাঁর ভক্তের প্রতি শ্রদ্ধা করা হয়।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৮৬

তথাহি—
“সিদ্ধির্ভবতি বা নেতি সংশয়োঽচ্যুতসেবিনাম্‌।
নিঃসংশয়োস্তু তদ্ভক্তপরিচর্যারতাত্মনাম্॥”

অনুবাদ: "পরমেশ্বর ভগবানের সেবক সিদ্ধিলাভ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে, তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে যাঁরা ভগবানের ভক্তের সেবায় নিযুক্ত রয়েছেন তাঁদের সিদ্ধিলাভের বিষয়ে একেবারেই কোন সন্দেহ নেই।"

শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর কৃত তাৎপর্য: তথ্য। ইতিহাস-সমুচ্চয় গোবিন্দভাষ্য ৩/৩/৫১, ৮২৯ পৃঃ দ্রষ্টব্য।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৮৭

বৈষ্ণবসেবাই কৃষ্ণলাভের একমাত্র পরম উপায়—
এতেকে বৈষ্ণবসেবা পরম উপায়।
ভক্ত-সেবা হৈতে সে সবাই কৃষ্ণ পায়॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: এইজন্য এই কারণেই, বৈষ্ণবগণের সেবা করাই হলো মুক্তিলাভের সর্বোত্তম উপায়। সকলেই ভক্তদের সেবা করার দ্বারাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অর্জন করতে পারেন।

শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর কৃত তাৎপর্য: বহু মানুষই হয়তো শ্রীকৃষ্ণের সেবা করে কোন ফল অর্জন করতে পারেনি, তবে ভক্তদের সেবা করার দ্বারা কৃষ্ণপ্রাপ্তি নিশ্চিত। কেউ যদি এমন কারও শ্রীচরণপদ্মের সেবা করেন যিনি শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিতের শ্রীপাদপদ্মের সেবা করেন, তিনি সুনিশ্চিতভাবেই কৃষ্ণপ্রেম প্রাপ্তির যোগ্য হয়ে উঠবেন, যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ বক্রেশ্বর পণ্ডিতের দেহে বিরাজ করেন, তাই যখনই বক্রেশ্বর পণ্ডিত নৃত্য করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণও পরমানন্দে তাঁর সাথে নৃত্য করেন। বক্রেশ্বর পণ্ডিত যে যে স্থানে বাস করেন সেই স্থানটি সমস্ত পবিত্র স্থানের চেয়েও পবিত্র হয়ে যায়, সেটি বৈকুণ্ঠ।

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: সুতরাং, বলা হয়ে থাকে যে বক্রেশ্বর পণ্ডিতের স্মরণ করলেই আমরা শুদ্ধ হয়ে যাই, এটি প্রদর্শন করে যে ভগবানের ভক্তরা স্মরণে রাখার জন্য সবচাইতে পবিত্র বস্তু।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৮৮

বক্রেশ্বরের সঙ্গপ্রভাবে দেবানন্দের গৌরদর্শনে অনুরাগ—
বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সঙ্গের প্রভাবে।
গৌরচন্দ্র দেখিতে চলিলা অনুরাগে॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সান্নিধ্যলাভের প্রভাবে দেবানন্দ পণ্ডিতের মধ্যে শ্রীগৌরচন্দকে দর্শন করার প্রগাড় বাসনা জাগরিত হ’ল।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৮৯

দেবানন্দের মহাপ্রভুর সমীপে গমন—
বসিয়া আছেন গৌরচন্দ্র ভগবান্‌।
দেবানন্দ পণ্ডিত হইলা বিদ্যমান॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখন বসে ছিলেন তখন দেবানন্দ পণ্ডিত মহাপ্রভুর সম্মুখে আগমন করলেন।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯০

দণ্ডবৎ দেবানন্দ পণ্ডিত করিয়া।
রহিলেন এক ভিতে সঙ্কোচিত হৈয়া॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে বিনম্র প্রণতি নিবেদন করার পর দেবানন্দ পণ্ডিত দ্বিধান্বিত হয়ে কোণায় দাঁড়িয়ে রইলেন। শুধুমাত্র বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সঙ্ঘের দ্বারা দেবানন্দ পণ্ডিতের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নিকটে আত্মসমর্পণের জন্য আকর্ষণ গড়ে ওঠে, এটিই হ’ল বৈষ্ণব সঙ্ঘের শক্তি!

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯১

মহাপ্রভু কর্তৃক কুলিয়ায় দেবানন্দের যাবতীয় অপরাধ খণ্ডন—
প্রভুও তাহানে দেখি’ সন্তোষিত হৈলা।
বিরল হইয়া তানে লইয়া বসিলা॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যদিও দেবানন্দ পণ্ডিতকে দেখে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং নির্জন একটি স্থানে ঠিক তাঁর পাশে বসালেন।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯২

পূর্বে তান যত কিছু ছিল 'অপরাধ
সকল ক্ষমিয়া প্রভু করিলা প্রসাদ॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দেবানন্দ পণ্ডিতের পূর্বের সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করে দিলেন এবং তাঁর প্রতি করুণা করলেন। পূর্বে দেবানন্দ পণ্ডিতের ছাত্ররা শ্রীবাস ঠাকুরকে অপমান করেছিলেন, এবং তিনি তাতে হস্তক্ষেপ করার মতো কিছুই করেননি, তবে একজন বৈষ্ণবের সেবা করার দ্বারা, অর্থাৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সেবা করার দ্বারা তিনি এই অপরাধকে ভগবানের ভক্ত শ্রীবাস ঠাকুরের বিরুদ্ধে প্রতিহত করলেন।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯৩

দেবানন্দ পণ্ডিতের নিকট মহাপ্রভুর বক্রেশ্বরের মাহাত্ম্য বর্ণন—
প্রভু বলে,—“তুমি যে সেবিলা বক্রেশ্বর।
অতএব হৈলা তুমি আমার গোচর॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, তুমি আমাকে দর্শন করতে পেরেছ যেহেতু তুমি বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সেবা করেছ।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯৪

বক্রেশ্বর পণ্ডিত—প্রভুর পূর্ণশক্তি।
সেই কৃষ্ণ পায় যে তাঁহারে করে ভক্তি॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “বক্রেশ্বর পণ্ডিত পরমেশ্বর ভগবানের পূর্ণ শক্তির অধিকারী। যে কেউ ভক্তিসহকারে তাঁর সেবা করেন তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করেন। এর দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে বৈষ্ণব সেবা কতই না তাৎপর্যপূর্ণ!

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯৫

বক্রেশ্বর হৃদয়ে কৃষ্ণের নিজ-ঘর।
কৃষ্ণ নৃত্য করেন নাচিতে বক্রেশ্বর॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “বক্রেশ্বরের হৃদয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বিরাজ করেন। বক্রেশ্বর পণ্ডিত যখন নৃত্য করেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণও তখন নৃত্য করেন।”

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯৬

যে তে স্থানে যদি বক্রেশ্বর-সঙ্গ হয়।
সেই স্থান সর্বতীর্থ শ্রীবৈকুণ্ঠময়॥”

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সঙ্গে সম্পর্কিত যে কোনও স্থান সমস্ত পবিত্র স্থানেরই সমান এবং শ্রীবৈকুণ্ঠ ধামের মতোই শ্রেষ্ঠ।”

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯৭

মহাপ্রভুর বাক্য-শ্রবণে দেবানন্দের করযোড়ে স্তব ও দৈন্যোক্তি—
শুনি' বিপ্র-দেবানন্দ প্রভুর বচন।
যোড় হস্তে লাগিলেন করিতে স্তবন॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “ব্রাহ্মণ দেবানন্দ পণ্ডিত যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাক্য শ্রবণ করলেন, তিনি জোড় হস্তে প্রার্থনা নিবেদন করতে শুরু করলেন।”

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯৮

“জগৎ উদ্ধার লাগি’ তুমি কৃপাময়।
নবদ্বীপ-মাঝে আসি’ হইলা উদয়॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “আপনি পরম করুণাময়। আপনি সমগ্র বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের জনগণকে উদ্ধার করার জন্য এই নবদ্বীপ ধামে আবির্ভূত হয়েছেন।”

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৪৯৯

মুঞি পাপী দৈবদোষে তোমা’ না জানি।
তোমার পরমানন্দে বঞ্চিত হইলুঁ॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “আমি আপনাকে চিনতে পারিনি কারণ আমি হলাম পাপীষ্ঠ এবং দৈবযোগে আমি ভাগ্যহীন। সেইহেতু আমি আপনার সান্নিধ্যে চিন্ময় সুখ আস্বাদন থেকে বঞ্চিত ছিলাম।”

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৫০০

সর্ব-ভূত-কৃপালুতা তোমার স্বভাব।
এই মাগোঁ তোমাতে হউক অনুরাগ’॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “হে মহাপ্রভু, আপনি স্বভাবতঃ সর্ব জীবের প্রতি করুণাময়। আমি এই ভিক্ষা করছি যেন আপনার জন্যই আমি সংযুক্ত হতে পারি। দেবানন্দ পণ্ডিত মহাপ্রভুর কাছে কৃপাভিক্ষা করলেন যে তিনি যেন তাঁকে তাঁর শ্রীপাদপদ্মে স্বতঃস্ফূর্ত আসক্তি প্রদান করেন।”

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৫০১

এক নিবেদন প্রভু তোমার চরণে।
কি করি উপায় প্রভু, বলহ আপনে॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “হে মহাপ্রভু, আপনার শ্রীপাদপদ্মে আমার একটি নিবেদন আছে। আপনাকে অর্জন করতে গেলে আমার কি করা উচিত কৃপাপূর্বক আপনি আমাকে তা নির্দেশ করুন।”

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৫০২

ভাগবত সর্বজ্ঞের গ্রন্থ, অসর্বজ্ঞের ভাগবত অধ্যাপনার অযোগ্যতা—
মুঞি অ-সর্বজ্ঞ-সর্বজ্ঞের গ্রন্থ লৈয়া।
ভাগবত পড়াঙ আপনে অজ্ঞ হৈয়া॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “আমি হলাম সবচাইতে অজ্ঞ ব্যক্তি যদিও আমি শ্রীমদ্ভাগবতের শিক্ষা প্রদান করি, যে গ্রন্থখানি হ’ল সবচাইতে মেধাবি মানুষদের জন্য।”

শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর কৃত তাৎপর্য: সর্বজ্ঞ বিষ্ণুস্বামী শ্রীমদ্ভাগবতকেই বেদান্তভাষ্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছেন। দেবানন্দ পণ্ডিত বলিলেন, আমি সর্বজ্ঞের গ্রন্থ লইয়া ভাগবত পড়াইবার অভিমান করি বটে, কিন্তু আমি অজ্ঞ বা অসর্বজ্ঞ; সুতরাং কি প্রকারে ভাগবত পাঠ করিব, তাহা আপনি বলিয়া দিউন॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীমদ্ভাগবত শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর অক্ষমতা বুঝতে পারেছিলেন, তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ প্রদান করতে অনুরোধ করছেন।

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৫০৩

দেবানন্দের মহাপ্রভুর নিকট হইতে ভাগবত অধ্যাপনার উপদেশ-গ্রহণ—
কিবা বাখানিমু, পড়াইমু বা কেমনে।
ইহা মোরে আজ্ঞা প্রভু, করহ আপনে॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: “কিভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে আমার শ্রীমদ্ভাগবত শিক্ষা প্রদান করা উচিত? হে মহাপ্রভু, আমি অজ্ঞ, কৃপাপূর্বক আপনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ প্রদান করুন।”

শ্রীশ্রীচৈতন্য-ভাগবত অন্ত্যখণ্ড ৩/৫০৪

শুনি’ তান বাক্য গৌরচন্দ্র ভগবান।
কহিতে লাগিলা ভাগবতের প্রমাণ॥

শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: দেবানন্দ পণ্ডিতের বাক্য শ্রবণ করে ভগবান শ্রীগৌরচন্দ্র শ্রীমদ্ভাগবত থেকে প্রমাণ উদ্ধৃতি করতে শুরু করলেন। পূর্বে দেবানন্দ পণ্ডিত খুবই গর্বিত ছিলেন, কিন্তু এখন তিনি উপলব্ধি করলেন যে প্রকৃতপক্ষে শ্রীমদ্ভাগবত হলো বৈদিক বৃক্ষের সুপরিপক্ক ফল, যা সবচাইতে মেধাবীযুক্ত মানুষের জন্য বোঝান হয়েছে, আর তিনি প্রকৃতই শ্রীমদ্ভাগবতের সারমর্ম উপধাবন করতে পারেননি। সুতরাং তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রতি নির্দেশ প্রদান করার প্রার্থনা ভিক্ষা করেছেন এবং তখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁকে প্রামাণিক পদ্ধতিতে শ্রীমদ্ভাগবত শিক্ষা প্রদান করতে শুরু করলেন।

ভগবানের শ্রীবৃন্দাবনে গমণের প্রয়াস: এই বিভাগাধীন, দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ নামক এই অধ্যায়টি এখানে সম্পূর্ণ হয়েছে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by তপ অদ্বৈত দাস
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions