Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব — ৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

6 May 2022|Duration: 00:09:00|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

প্রশ্ন:- এটি বলা হয়েছে যে নিত্যং ভাগবতসেবয়া — এটার মানে কি এই যে আমাদের প্রত্যেকদিন শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যয়ন করা উচিত অথবা আমরা শ্রীল প্রভুপাদের যে কোন গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে পারি?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  তোমার শ্রীল প্রভুপাদের সমস্ত গ্রন্থ অধ্যয়ন করা উচিত এবং পড়া হয়ে গেলে, তুমি অন্য গ্রন্থগুলো একবার পড়তে পারো। কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতম তোমার প্রত্যেকদিন অধ্যয়ন করা উচিত। ভগবদ্‌গীতা প্রচারের জন্য দরকার, তবে ভাগবতম্ তোমাকে সম্বন্ধ, অভিধেয়, এবং প্রয়োজন স্তরে নিয়ে যাবে।

 

প্রশ্ন:- কিভাবে যথাযথভাবে সম্বন্ধ, অভিধেয় এবং প্রয়োজন সম্পর্কে বিচার করা যাবে। দয়া করে আলোকপাত করুন।

 

জয়পতাকা স্বামী:- সম্বন্ধ হলো আমাদের সম্পর্ক বোঝা যে আমরা হলাম ভগবান কৃষ্ণের দাস। অভিধেয় হল সেই সম্বন্ধে যুক্ত হওয়া এবং প্রয়োজন হল শুদ্ধ কৃষ্ণ প্রেম, জীবনের পরিপূর্ণতা প্রাপ্ত হওয়া।

 

প্রশ্ন:- আমরা দেখেছি আপনি শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশাবলীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত এবং নিত্যকালের জন্য শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি ঋণী অনুভব করেন এবং তা পূর্ণ করার জন্য আপনার জীবন ও আত্মা উতসর্গ করতে প্রস্তুত। আমরা কিভাবে এই জগতকে উপভোগ করার বাসনা পরিত্যাগ করে এইরকম চেতনা এবং দৃঢ়নিষ্ঠতা লাভ করতে পারবো?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  দেখুন, আপনি যদি শ্রীমদ্ভাগবতম পড়েন, এটি আপনাকে জ্ঞান প্রদান করবে যে জড়জগৎ হলো এক ধরনের জঙ্গল এবং এখানকার আনন্দ হল ক্ষণস্থায়ী।  তাই আমাদের উচিত সবকিছুর পাশাপাশি ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করা।  আমি ভাবছিলাম যে কিভাবে এই কলিযুগে এটি ধারণা করা হয়েছে যে বেশিরভাগ মানুষদের বিবাহিত হওয়া উচিত এবং এইভাবে তারা কৃষ্ণভাবনাময় থাকবে। আমরা দেখি যে মানুষেরা সাধারণত তাদের জাগতিক বাসনার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত। কিন্তু আমরা উপলব্ধি করি যে এই জাগতিক বাসনাগুলি, এই জাগতিক বস্তুগুলি সব ক্ষণস্থায়ী।  এবং যদি তারা ভক্তিমূলক সেবা করে, তাহলে তা ক্ষণস্থায়ী নয়। তাই ভক্তদের দরকার ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করা এবং তাহলে জাগতিক জীবন আমাদের জন্য অতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে না। যেহেতু এটা মায়াময় অথবা ক্ষণস্থায়ী, তাই আমরা আমাদের সমস্ত কার্যকলাপ এমনভাবে করতে চাই যাতে কৃষ্ণ প্রসন্ন হবেন। আমি চিন্তা করছিলাম যে যখন কারো সন্তান আছে, আমরা সেই সন্তানকে ভক্ত করতে চাই এবং কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে আমাদের সমস্ত কার্যকলাপ  সম্পাদন করার চেষ্টা করি। যেমন আমরা খেতে পছন্দ করি, আমরা কৃষ্ণকে ভোগ নিবেদন করি ও প্রসাদ পাই। আমাদের ইন্দ্রিয় তৃপ্তির জন্য খাবার গ্রহণ করা থেকে এটি ভিন্ন জিনিস। এবং আমাদের গৃহে আমাদের শ্রীবিগ্রহ আছে, আমরা শ্রীবিগ্রহ অর্চনা করি, আমরা প্রত্যেকদিন শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যয়ন করি এবং তারপর আমরা বুঝি কোনটি ক্ষণস্থায়ী আনন্দ এবং কোনটি আসল সুখ। আমরা চাই আসলে ভক্তরা যাতে এই আনন্দটি লাভ করতে পারেন। হয়তো ক্ষণিকের জন্য ক্ষণস্থায়ী আনন্দ গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ধীরে ধীরে একজন উন্নত স্বাদ বিকশিত করে। ঠিক যেমন, চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি কীর্তন করতেন এবং নৃত্য করতেন, কখনো কখনো গভীর ভাবেবিভোর হয়ে তিনি রোদন করতেন, তার রোম শিহরিত হত ও কৃষ্ণ প্রেমের বিভিন্ন লক্ষণগুলি প্রকাশিত হতো। তাই আমরা চাই সকল ভক্তবৃন্দ এইরকম কৃষ্ণপ্রেম অনুভব করুন, এটি হয়তো কিছু সময় নেবে কিন্তু তারপর স্বাভাবিকভাবেই জাগতিক ইচ্ছা খর্ব হবে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions