নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ৩রা মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচনটি শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ৩য় স্কন্ধ, ১৫ অধ্যায়, ৩২ নং শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৫.৩২
মুনয় উচুঃ
কো বামিহৈত্য ভগবৎপরিচর্যয়োচ্চৈ-
স্তদ্ধর্মিণাং নিবসতাং বিষমঃ স্বভাবঃ।
তস্মিন্ প্রশান্তপুরুষে গতবিগ্রহে বাং
কো বাত্মবৎকুহকয়োঃ পরিশঙ্কনীয়ঃ॥
অনুবাদ: মহর্ষিগণ বললেন—এই দুজন কে? যাঁরা ভগবানের সেবায় অধিষ্ঠিত, তাঁদের মধ্যে ভগবানেরই মতো গুণাবলীর বিকাশ হয়; কিন্তু ভগবানের সেবার সর্বোচ্চ পদে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও এদের এই বিষম স্বভাব কেন? এরা বৈকুণ্ঠে বাস করছে কিভাবে? বৈরীভাবাপন্ন মানুষের ভগবানের ধামে প্রবেশ সম্ভব হয়েছে কিভাবে? ভগবানের কোন শত্রু নেই। তাহলে কে তাঁর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হতে পারে? সম্ভবত এই দুই ব্যক্তি ভণ্ড; তাই তারা অন্যদেরও তাদেরই মতো বলে মনে করে।
তাৎপর্য: বৈকুণ্ঠবাসী ও জড় জগতের অধিবাসীদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, বৈকুণ্ঠ-লোকের অধিবাসীরা সর্বদাই পরমেশ্বর ভগবানের সেবায় যুক্ত, এবং তাঁরা ভগবানের সমস্ত সদ্গুণে বিভূষিত। মহাজনগণ বিশ্লেষণ করেছেন যে, কোন বদ্ধ জীব যখন মুক্ত হয় এবং ভগবানের ভক্ত হয়, তখন তাঁর মধ্যে ভগবানের গুণাবলীর প্রায় শতকরা ঊনআশী ভাগ সদ্গুণ বিকশিত হয়। তাই বৈকুণ্ঠলোকে ভগবান ও তাঁর ভক্তদের মধ্যে কোন রকম বৈরীভাবের কোন প্রশ্ন ওঠে না। এই জড় জগতে নাগরিকেরা রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হতে পারে, কিন্তু বৈকুণ্ঠে সেই রকম কোন মনোভাব নেই। সমস্ত সদ্গুণগুলি সম্পূর্ণরূপে বিকশিত না হলে, বৈকুণ্ঠলোকে প্রবেশ করার অনুমতি পাওয়া যায় না। সদ্গুণ কথাটির মূলতত্ত্ব হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের শরণাগতি স্বীকার করা। তাই দুজন দ্বারপাল যখন মহর্ষিদের বাধা দিয়েছিলেন, তখন তাঁদের সেই আচরণ বৈকুণ্ঠোচিত হয়নি, এবং তা দেখে সেই মহর্ষিরা বিস্মিত হয়েছিলেন। এখানে বলা যেতে পারে যে, দ্বারপালের কর্তব্য হচ্ছে কাকে প্রাসাদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে এবং কাকে দেওয়া হবে না, তা নির্ধারণ করা। কিন্তু এই বিষয়ে তা প্রাসঙ্গিক নয়, কেননা যতক্ষণ পর্যন্ত না সম্পূর্ণরূপে ভগবদ্ভক্তির মনোভাব বিকাশ করা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউই বৈকুণ্ঠে প্রবেশ করতে পারে না। ভগবানের কোন শত্রুই বৈকুণ্ঠে প্রবেশ করতে পারে না। কুমারগণ তাই স্থির করেছিলেন যে, দ্বারপাল কর্তৃক তাঁদের প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার কারণ হচ্ছে, সেই দ্বারপালেরা ছিল ভণ্ড।
***
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী : গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! অদ্বৈত গোঁসাই!
এই আকর্ষণীয় শ্লোকে বৈকুন্ঠলোক সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে। সেখানকার সকল অধিবাসীবৃন্দ সম্পূর্ণ শতভাগ ভক্তিযোগ অনুশীলনে নিমগ্ন থাকেন। তারা ভগবান বিষ্ণুকে সেবা করে, ভগবানকে ভালোবাসে, ভগবানকে প্রেম করে। কিছু ভক্ত আছেন পুরুষ দেহধারী ও কিছু ভক্ত রয়েছেন নারীদেহধারী। এই জড়জগতে আত্মা ও দেহ এক নয়। হয়তো আধ্যাত্মিক জগতে আমাদের পুরুষ স্বরূপ আছে, কিন্তু এই জড়জগতে আমরা নারী দেহে আছি, আবার তদ্বিপরীতও হতে পারে। কিন্তু এই জড়জগতে আমাদের আত্মা অনেক ছোটো, এক চুলের ডগার দশ হাজার ভাগের এক ভাগ। যদি আপনি চিন্ময়জগতে বা বৈকুন্ঠলোকে যেতে চান, তাহলে আপনাকে এই জড়জগতে থাকাকালীনই ভগবানকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। শাস্ত্রে বলে বিভিন্ন আটটি ধাপ আছে ভগবদ্ভক্তি অর্জন করার, তারপর প্রেমের উদয় হয় এবং প্রেমেরও আটটি ভিন্ন স্তর রয়েছে। মূল বিষয় হচ্ছে—কোনো ভক্ত ভগবানের সঙ্গে কোনো এক বিশেষ রসে যুক্ত হতে পারে, এবং সেই রসের একটি নির্দিষ্ট স্তর আছে, যদিও সেই সব রসই দিব্য।
টি.ও.ভি.পি-র পশ্চিম ভাগে এস.এম.ও.ভি.পি আছে, সেখানে প্রদর্শনীর জন্য আমরা একটি কোম্পানিকে নিযুক্ত করেছি। এখন শ্রীমদ্ভাগবত না পড়লে অন্য কোথাও কি বৈকুন্ঠলোকসমূহের এই বর্ণনা আছে? অযোধ্যায় নিত্যলীলা হয়ে চলেছে ও রামলীলা সম্পর্কে সকলেই অবগত। কিন্তু সাধারণ মানুষ এটা বুঝতে পারে না যে বৈকুন্ঠলোকে কি হয় এবং কৃষ্ণলীলা সম্পর্কে আরও কম জানে। রামেশ্বর প্রভু বলছিলেন—এই জড়জগতে আপনার যে আবেগ আছে, তা চিন্ময়জগতে ১ লক্ষ কোটি গুণ বা তারও অধিক হয়। কিন্তু একথা বললে কোনো কাজ হয় না, কিছু উদাহরণ দিতে হয়। তাই আমাদের আরও অনেক বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। অতএব আমরা এমনকিছু প্রদান করছি, যা পূর্বে কেউ কখনো প্রদান করেনি। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সমগ্র জগতকে এমন কৃপা প্রদান করেছেন, যা পূর্বে কোনো অবতার কখনো প্রদান করেননি। গৌরাঙ্গ!
শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে অনুরোধ করেছিলেন—বিদেশী, শূদ্র নির্বিশেষে সকল ভক্তদের জন্য পুরীর জগন্নাথমন্দিরে প্রবেশাধিকারের অনুমতি লাভ করতে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, যেহেতু তারা ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে স্বয়ং ভগবান বলে স্বীকার করেন, তাই তাদের তাঁর সকল ভক্তদেরও গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু সেটা এখনও অপ্রাপ্তই আছে। তিরুপতি দেবস্থানম, গুরুবায়ুর দেবস্থানম-এ তারা বলে কেবল হিন্দুরাই প্রবেশ করতে পারবে, কিন্তু বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আমাদের ভক্তদের জন্য তাদের একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে এবং তার মাধ্যমে ভক্তরা প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু পুরীর শংকরাচার্য আদেশ দিয়েছেন—‘বিদেশীদের প্রবেশ নিষেধ’। তাই ভগবান জগন্নাথদেব নিজেকে সহ পুরীর সমগ্র মন্দিরের অনুরূপ মন্দির পশ্চিমবঙ্গের দীঘায় প্রকাশিত করেছেন। স্থপতি বলছিলেন যে এখানকার মন্দির পুরীর মূল জগন্নাথ মন্দির থেকে কেবল ১৫ মিলিমিটার ভিন্ন এবং তারা এটাকে একটি অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে করছেন।
এখানে শ্রীধাম মায়াপুরে গতকাল ৩৩০০০ দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর দীঘাতে মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনের পর সেখানে দু’লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল। তারপরের দিন পাঁচ লাখ লোক এসেছে। পুরীর পাণ্ডারা বলেছেন—“বিদেশীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ!” কিন্তু মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন—“আমরা পাণ্ডারা কি বলে তার পরোয়া করি না, ইসকন পূজা করবে, ইসকন পরিচালনা করবে, কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক কোনো দায়দায়িত্ব নেই। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে প্রায় ৩০০জন মন্দির মার্জনকারী ও অন্যান্য কর্মচারী নিযুক্ত করেছেন, যাদের তিনি পারিশ্রমিক প্রদান করেন। এখন, ওড়িশা সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করছেন যে ‘নবকলেবরম’ অন্তে বাড়তি থাকা কাষ্ঠসমূহই দীঘাতে শ্রীজগন্নাথদেবের বিগ্রহ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। অতএব, যে কাষ্ঠ দ্বারা জগন্নাথপুরীতে শ্রীবিগ্রহ নির্মাণ করা হয়েছে, সেই একই কাষ্ঠ ব্যবহৃত হয়েছে দীঘার জগন্নাথদেবের শ্রীবিগ্রহ নির্মাণে। সেখানকার ইসকনের পরিচালকমণ্ডলী বলছিলেন যে—“আমাদের এখন আরও পূজারীর প্রয়োজন।” সেখানে চার-পাঁচটা মতো দালান রয়েছে। আমরা মেদিনীপুর, মায়াপুর এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভক্তদের সেখানে যেতে এবং কীর্তন করতে অনুপ্রাণিত করছি। আমরা অন্যান্য দালানগুলিতে গ্রন্থ বিতরণের সুযোগ-সুবিধা বিষয়েও আলোচনা করছি। আর যেভাবেই হোক, পুরীর কোনো কোনো পাণ্ডারা এসেছিলেন এবং তাদেরকে কাষ্ঠনির্মিত শ্রীবিগ্রহগণের প্রতিষ্ঠাকার্য সম্পাদনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর যে তারা আমাদের পুরীর মন্দিরে প্রবেশাধিকার দেয় না, কিন্তু জগন্নাথদেব আমাদের দীঘাতে অবিকল একইরকম মন্দির করে দিয়েছেন এবং সেখানে আমরাই সেবা-পূজার দায়িত্বে আছি। আমরা সেখানে গ্রন্থ বিতরণ ও কীর্তনও করতে পারি। আমি কৃষ্ণের কৃপা দেখে অভিভূত হয়ে গেছি! ওড়িশা সরকার বলছিলেন—এটা সেই একই কাষ্ঠ, যা পুরীর জগন্নাথদেবের শ্রীবিগ্রহ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে! এমনকি আরো সুন্দর হয়েছে!
ঠিক যেমন এই শ্লোকে উল্লেখ করা হয়েছে যে আমাদের ভক্তিযোগ অনুশীলন করা উচিত। যখন কোনো বদ্ধ জীব কৃষ্ণপ্রেম লাভ করে, তখন সে নিত্যমুক্ত ভক্তে পরিণত হয় এবং তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শতকরা প্রায় ৭৯ শতাংশ সদগুণ তার মধ্যে প্রকাশিত হয়। ঐ বৈকুন্ঠলোকে কোন বিরোধিতা নেই। শ্রীল প্রভুপাদ তাৎপর্যে উল্লেখ করেছেন: “এই জড় জগতে নাগরিকেরা হয়তো রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হতে পারে, কিন্তু বৈকুন্ঠতে এই ধরনের মানসিকতার অস্তিত্ব নেই।” গৌরাঙ্গ! এই জড়জগতে আমরা যেসকল সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারীদের দেখতে পাই, তাদের নিজ তপস্যা বলে স্বীয় স্থানে অধিষ্ঠিত থাকতে হয়। গতকাল আমি একজনের থেকে একটি চিঠি পেয়েছি যিনি সাম্প্রতিক ডাক্তার হয়েছেন। এখন তিনি বলছেন সেখানে কোন বৈষ্ণবসঙ্গ নেই, খেতে পারছি না, বেশিরভাগ সময় ফল খাচ্ছি। তো উনি ডাক্তারি পেশায় যুক্ত। আমি তাকে বললাম আপনার বিবাহ করা উচিত এবং একজন বৈষ্ণবী স্ত্রী গ্রহণ করা উচিত যাতে সে তার জন্য প্রসাদ রান্না করতে পারবে এবং তারা উভয়ে মিলে একত্রে ভগবানের সেবা-পুজা করতে পারবে। গৃহস্থরা এটা বলতে পারবে না যে তাদের কোনো ভক্তসঙ্গ নেই, তাদের কাছে নিজ সহধর্মিণীরা রয়েছেন। আর ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসীদেরও এটা বলা উচিত নয় যে তারা ভক্তসঙ্গ লাভ করতে পারছেন না, কারণ আমাদের সমগ্র বিশ্ব জুড়ে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করতে হবে, এমন নয় যে কোনো ভক্ত সঙ্গ নেই, ভক্তরাই কৃষ্ণভাবনামৃতে আকৃষ্ট হন।
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর একজন গৃহস্থ ছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ ১৯৭৩ সালে লন্ডনে একটি প্রবচনে বলেছিলেন যে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর ছিলেন একজন গৃহস্থ, আর তাঁর যিনি পুত্র ছিলেন, তিনি হচ্ছেন আমার গুরুদেব। শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে তাঁর গুরুদেব একজন আচার্য ছিলেন। আপনাদের সকলেরও একজন আচার্যের ন্যায় সন্তান লাভের চেষ্টা করা উচিত। আমরা সর্বদা শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের সম্পর্কেই উল্লেখ করে থাকি, কিন্তু একজন সন্তান প্রাপ্তিতে দুজন ব্যক্তিরই ভূমিকা থাকে। যেহেতু তাঁর পত্নীও সম্পূর্ণরূপে কৃষ্ণভাবনাময় ছিলেন, সেই জন্য তাঁরা শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরকে তাঁদের সন্তানরূপে লাভ করতে পেরেছিলেন। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর তাঁর পুত্র শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরকে বলেছিলেন যে তাঁর যত বিস্তৃতভাবে সম্ভব কৃষ্ণভাবনামৃতের বিস্তার করা উচিত এবং আমরা শুনছি যে ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের মা যখন তিনি পরলোকে যাচ্ছিলেন, এই ভক্তিসিদ্ধান্তর হাত ধরে বললেন—“তুমি গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর প্রচার করো অপরিমিতভাবে।” গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! তো আমরা চাই এখানে সকলে কৃষ্ণভাবনাময় হন। এটা উল্লিখিত হয়েছে যে বৈকুন্ঠলোকে কোন অসুর বা অভক্ত নেই। তাই আমরা চাই এখানে ভক্তরা ভগবদ্ভক্তির নয়টি অঙ্গের বিকাশসাধন করুন।
যখন চারকুমারগণ বৈকুন্ঠলোকে প্রবেশ করতে গিয়েছিলেন, তখন তারা সেখানে দ্বারপালদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। বৈকুন্ঠলোকে প্রবেশাধিকারের জন্য আমাদের পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি শতকরা শতভাগ অনুকূল মনোভাবাপন্ন হতে হবে। শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে—যদিও এটা নির্ধারণ করা দ্বারপালের কর্তব্য যে কে প্রাসাদে প্রবেশ করবে আর কে করতে পারবে না, কিন্তু এক্ষেত্রে এই বিষয়টি প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ যদি কেউ শতভাগে শুদ্ধ কৃষ্ণভক্তিতে স্থিত না হয়, তাহলে তাঁর বৈকুন্ঠলোকে প্রবেশের কোনো প্রশ্ন আসে না। তো এই কারণে তাঁরা সেই দ্বারপালদের জড়জগতে অধঃপতিত হওয়ার অভিশাপ দিয়েছিলেন। তখন ভগবান বিষ্ণু সেই দ্বারপালদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তারা ভগবানের শত্রুরূপে তিন জন্মলাভ করতে চান, নাকি ভগবানের ভক্তরূপে সাত জন্মলাভ করতে চান? তারা তিন জন্মলাভের বিকল্প বেছে নিয়েছিলেন, যাতে তারা যত শীঘ্র সম্ভব তাদের ভগবত সেবায় প্রত্যাবর্তন করতে পারেন। যাইহোক, এটি শ্রীমদ্ভাগবতের খুব সুন্দর একটি শ্লোক।
কারো কোন প্রশ্ন আছে?
শ্রীল ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী মহারাজ: গুরুমহারাজ দণ্ডবৎ প্রণাম, আমার কোন প্রশ্ন নেই আমি শুধু আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি। আজকে থেকে মায়াপুর পরিচালকবৃন্দ নবরাত্রি নরসিংহ মহোৎসব শুরু করছেন, আর আমাদের গ্রন্থ বিতরণী দল থেকে আমরা নবরাত্রি গ্রন্থ বিতরণ উৎসব উদযাপন করব, যাতে আমরা শ্রীল প্রভুপাদের প্রীতিবিধানে আরো অনেক গ্রন্থ বিতরণ করতে পারি। এবং আমি মায়াপুরের ভক্তদের অনুরোধ করছি যে তারাও অধিক গ্রন্থ বিতরণে অংশগ্রহণ করতে পারে।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: আমার আশীর্বাদ—কৃষ্ণে মতি রস্ত! আপনারা ৩৬৫ দিন ধরে দিঘাতেও গ্রন্থ বিতরণ করতে পারেন। এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার গ্রন্থবিতরণকারীদের বেতনও দেবেন। যাইহোক, গৃহস্থরা সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারেন, ব্রহ্মচারী ও সন্ন্যাসীরা কোনো বেতন চান না, তারা শুধু শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ চান!
Lecture Suggetions
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন