Text Size

২০২৫০৪২৬ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৫.২৪

26 Apr 2025|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ২৬শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ৩য় স্কন্ধ, ১৫ অধ্যায়, ২৪ নং শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।

 শ্লোক ৩.১৫.২৪

যেহভ্যর্থিতামপি চ নো নৃগতিং প্রপন্না
জ্ঞানং চ তত্ত্ববিষয়ং সহধর্মং যত্র।
নারাধনং ভগবতো বিতরন্ত্যমুষ্য
সম্মোহিতা বিততয়া বত মায়য়া তে॥

অনুবাদ: শ্রীব্রহ্মা বললেন—প্রিয় দেবতাগণ! মনুষ্যজীবন এতই মহত্ত্বপূর্ণ যে, আমরাও সেই জীবন প্রাপ্ত হওয়ার বাসনা করি, কেননা মনুষ্যজীবনে ধর্মতত্ত্ব ও জ্ঞান পূর্ণরূপে লাভ করা যায়। কেউ যদি মনুষ্যজীবন লাভ করা সত্ত্বেও পরমেশ্বর ভগবান ও তাঁর ধাম হৃদয়ঙ্গম না করে, তাহলে বুঝতে হবে যে, সে বহিরঙ্গা প্রকৃতির প্রভাবের দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত।

তাৎপর্য: যে সমস্ত মানুষ পরমেশ্বর ভগবান ও তাঁর চিন্ময় ধাম বৈকুণ্ঠলোকের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে না, ব্রহ্মাজী তাদের তীব্রভাবে নিন্দা করেছেন। ব্রহ্মাজী পর্যন্ত মনুষ্যজীবন লাভ করার বাসনা করেন। ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেবতাগণ মানুষদের থেকে অনেক ভাল জড় শরীর লাভ করেছেন, তবুও দেবতারা এমনকি ব্রহ্মা পর্যন্ত মনুষ্যজীবন লাভ করার বাসনা করেন, কেননা যে সমস্ত জীব দিব্যজ্ঞান ও ধর্ম আচরণের পূর্ণতা প্রাপ্ত হতে চান, মনুষ্যজীবন বিশেষ করে তাঁদের জন্য। এক জন্মে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু মনুষ্যজীবনে অন্ততপক্ষে জীবনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অবগত হয়ে, কৃষ্ণভক্তির অনুশীলন শুরু করা উচিত। মনুষ্যজীবনকে একটি সবচাইতে মহৎ সৌভাগ্য বলা হয়েছে, কেননা তা হচ্ছে অজ্ঞানের সমুদ্র উত্তীর্ণ হওয়ার সবচাইতে উপযুক্ত তরণি। গুরুদেবকে সেই তরণির সবচাইতে সুদক্ষ কর্ণধার বলে মনে করা হয়, এবং শাস্ত্র-নির্দেশ হচ্ছে অজ্ঞানের সমুদ্রের উপর দিয়ে ভেসে যাওয়ার জন্য অনুকূল বায়ু। যে সমস্ত মানুষ তার জীবনে এই সমস্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করে না, সে আত্মহত্যা করছে। তাই যে ব্যক্তি মানবজীবনে কৃষ্ণভাবনার অনুশীলন শুরু করে না, মায়াশক্তির প্রভাবে সে তার জীবন হারায়। ব্রহ্মা এই প্রকার মানুষদের দুরবস্থার কথা ভেবে আক্ষেপ করেছেন।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দ মাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ
নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী : এখানে ব্রহ্মা দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলছেন। আমরা শুনেছি যে উচ্চলোকগুলিতে এত সুখভোগ ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তির সুযোগ রয়েছে যে তারা ভগবান সম্বন্ধে খুব একটা চিন্তা করেন না। পক্ষান্তরে, নরকগুলিতে এত দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হয় যে সেখানেও তারা ভগবান সম্বন্ধে চিন্তা করতে পারে না। এই মানব জন্মে সুখ-দুঃখের সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। তাই ব্রহ্মাজী, যাঁর আয়ু কোটি কোটি বছর, তিনি বলছেন যে তিনি মনুষ্য জীবন লাভ করতে চান। বর্তমানে এই কলিযুগের বেশিরভাগ মানুষই খুব একটা পরমার্থিক চেতনা সম্পন্ন নয়। এখানে বলছে মানুষ—হতে পারে পুরুষ বা মহিলা, কিন্তু এই মনুষ্য জন্ম পেয়ে যদি কিছু ভগবানের সম্বন্ধে না শেখে তাহলে বেকার গেল। মনুষ্য শরীরকে জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি রূপ ভবসমুদ্র পার হওয়ার এক উত্তম নৌকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এখানে উল্লেখিত হয়েছে যে গুরুদেব হচ্ছেন সেই নৌকার সুদক্ষ কর্ণধার

আমাদের এখানে বহু পুরুষ ভক্ত আছেন যারা ধামে বিভিন্ন প্রকারের সেবা সম্পাদন করেন। কিন্তু এমনকি বৈষ্ণবীরাও সেবা করছেন। এক একটা বিগ্রহের সামনে, পঞ্চতত্ত্ব এবং রাধা-মাধব একটা রঙ্গোলি হয়। দেখুন, ওখানে সামনে একটা রঙ্গোলি আছে। আপনারা দেখেন না, কিন্তু মহিলারা এটা করেন। এবং যে সুন্দর শৃঙ্গার হচ্ছে, এর নকশা যে করে, বাছাই করে মহিলা এবং পুরুষ, কিন্তু নকশা বেশি মহিলারা করে।  মহিলা ভক্তরা নকশা প্রস্তুত করে দেন এবং তারপর মহিলা ও পুরুষ ভক্তরা মিলে সেই নকশা অনুযায়ী বস্ত্র তৈরি করেন। শ্রীপাদ ব্রজবিলাস প্রভু বলেছেন শ্রীবিগ্রহের বস্ত্রের মানদণ্ডের নিরিখে মায়াপুরের স্থান সারা বিশ্বে প্রথম স্থানে থাকা উচিত।

গতকাল ২৪ হাজার দর্শনার্থী মায়াপুরে এসেছিলেন, কারণ এখন অসময়, মানে শীতকালে বেশি লোক আসে। কিন্তু তাদের কতজন পরমেশ্বর ভগবানের সম্পর্কে আসলেই জানেন? তারা প্রার্থনা করে আমাকে... কিছু ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য প্রার্থনা করে। তারা এটা চিন্তা করে না যে এই মনুষ্য জীবনে আমাদের পরমেশ্বর ভগবানের বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। তাই যে-ই ময়পুরে আসছে, তারা একটি গ্রন্থ ক্রয় করে এবং আপনারা তাদের কাছে প্রচার করতে পারেন ও বলতে পারেন যে এই মানব জন্ম কত গুরুত্বপূর্ণ, আর ভারতবর্ষে জন্মলাভ করা, একজন ভারতীয় হওয়া এক বিশেষ উপরিলাভ। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, “ভারত ভূমিতে হইল মনুষ্য জন্ম যার, জন্ম সার্থক করি করো পরোপকার”। পূর্বে যখন আমার বয়স কম ছিল, বছরের অনেক্ সময়েই আমি সারা বিশ্বে ভ্রমণ করতাম। ভ্রমণকালে আমার কিছু ভক্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল, তারা এখন এখানে আছেন। তাই আমরা যেখানেই যাই, সেখানেই মানুষদের কাছে কৃষ্ণের নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। এইভাবে এটি কলিযুগ হওয়া সত্বেও আগামী দশ হাজার বছর ধরে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এই আন্দোলন ও শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী থাকবে। তো এই সময়ে জন্মলাভ করা অত্যন্ত মঙ্গলজনক। আর এই কলিযুগের প্রতি বছরই আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এবং পঞ্চতত্ত্বের আবির্ভাব তিথিসমূহ উদযাপন করব। আপনারা কি অবগত আছেন যে আগামীকাল কার শুভ আবির্ভাব তিথি? এটি একটি চ্যালেঞ্জ! গান্ধর্বিকা গৌরাঙ্গি দেবী দাসী এই রকমের চিন্ময় প্রতিযোগীতার আয়োজন করে থাকে। এখন বৈশাখ মাসের সেবার সেইরকম এক চিন্ময় প্রতিযোগীতা চলছে। এখন আবির্ভাব হবে কালকে গদাধর পণ্ডিতের, হরিবোল! তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশে নামে পরিচিত। আমরা হয়ত গদাধর পণ্ডিতের আবির্ভাব স্থান অধিগ্রহণ করেছি বা সেটি অধিগ্রহণের চেষ্টায় আছি। আমাদের কাছে অদ্বৈত আচার্য ও শ্রীবাস ঠাকুরের আবির্ভাব স্থান আছে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন এই নবদ্বীপ ধাম শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব স্থান, তিনি বলেছিলেন—জন্ম-কর্ম, মায়াপুর হচ্ছে কর্মস্থান এবং সেটা (যোগপিঠ) হচ্ছে জন্মস্থান। একইভাবে একচক্রা গ্রামে ভগবান শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর মন্দির আছে। আমি সবেমাত্র এই খবর পেলাম যে আমরা গদাধর পণ্ডিতের জন্মভূমিও পেয়েছি। বাংলাদেশের ভক্তরা আমার এই আবেদনকে তাদের হৃদয় ধারণ করেছেন এবং অত্যন্ত কঠোর প্রচেষ্টা করেছেন এই সমস্ত পূণ্যভূমি লাভ করার জন্য। এখানে আমরা ভগবান শ্রীচৈতন্যদেবের বিভিন্ন পার্ষদবর্গের সব শ্রীপাটগুলির উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি। আমরা একটা অন্যরকম কিছু করতে চাইছি। আমরা পঞ্চতত্ত্ব, শ্রীচৈতন্যদেব এবং শ্রীল প্রভুপাদকে প্রসন্ন করতে চাই। প্রভুপাদ পঞ্চতত্ত্বকে প্রসন্ন করার যে উপদেশ  দিয়েছিলেন, আমরা সেটি পালনের চেষ্টা করছি।

এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর যে স্বয়ং ব্রহ্মাজী বলছেন উনি মানব জন্ম লাভ করতে চান এবং তিনি বলছেন যে দেবতারাও এই একই বাসনা করেন। যখন চৈতন্য মহাপ্রভু চারদিক থেকে চারটে কীর্তন দল নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন দিকে, চাঁদকাজীর কাছে, সেই সময় ইন্দ্রদেব ও বায়ুদেবও সেই কীর্তন দর্শন করতে নিম্নে এসেছিলেন। এবং “একী শ্রীচৈতন্যদেব কিভাবে নাচছেন এবং কাঁদছেন!”—তারা অজ্ঞান হয়ে পড়েছে।  তারপর যখন তাদের বাহ্যজ্ঞান ফিরে আসে, তখন তারাও মনুষ্যদেহ ধারণ করে কীর্তনে অংশগ্রহণ করেছিলেন! হরিবোল! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ!

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যে সকল স্থানে গিয়েছিলেন, আমরা সেই সকল স্থানে তাঁর শ্রীপাদপীঠ স্থাপনের প্রচেষ্টা করছি। আমরা চৈতন্যমঠের উদ্দেশ্যে একটি পত্র দিয়েছি যাতে তারা আমাদের চাঁদকাজীর সমাধিস্থল ও শ্রীধর অঙ্গনে শ্রীপাদপীঠ স্থাপনের অনুমতি দেন।

তো আপনাদের মধ্যে কারা কারা ঊর্ধ্বলোকের দেবতা ছিলেন? আমি এমন আশা করছি না যে আপনারা সে কথা প্রকাশ করবেন, কিন্তু আমি জানিনা! ব্রহ্মচারীরা কেবল যারা ব্রহ্মচারী আশ্রমে আছেন, সেই সকল ব্রহ্মচারীদেরই সঙ্গ করতে পারেন। কিন্তু যারা বিবাহিত, সেই সকল পতিদের তাদের পত্নীদের কৃষ্ণভাবনাময় হতে সাহায্য করা উচিত, আর স্ত্রীলোক তাদের স্বামীকে কৃষ্ণভক্তির পথে নিয়ে যাওয়া সাহায্য করা উচিত।  অবশ্যই, কোন কৃষ্ণভক্তকে পতি বা পত্নীরূপে গ্রহণ করা অধিক উত্তম।

যে সমস্ত ভক্তরা এখানে আসেন, তাদের পরমেশ্বর ভগবান সম্বন্ধে কিছু অনুপ্রেরণামূলক নির্দেশনা লাভ করা উচিত। আমি সহ-পরিচালনাকারীদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি যাতে তারা কিছু ভক্তদের নিযুক্ত করেন যারা প্রত্যেক শ্রীবিগ্রহ বেদির সামনে থেকে দর্শনার্থীদের শ্রীবিগ্রহের সম্পর্কে বর্ণনা করবেন। আমি জানি না কতদূর হয়েছে। পঞ্চতত্ত্ব বেদির সামনে একজনকে নিযুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি একজন ব্রহ্মচারী। আমি মনে করি—যেহেতু দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেক নারী-পুরুষ বা পরিবারেরা আসেন, তাই কোন গৃহস্থ, বিশেষত কোন মহিলা ভক্ত ঐ পদের জন্য অধিক উপযুক্ত হবেন, যিনি অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গেও কথা বলতে পারবেন। কোন ব্রহ্মচারীকে নৃসিংহদেবের বেদির সামনে রাখা যেতে পারে। আমি জানিনা কতজন মানুষ জানেন যে পঞ্চতত্ত্ব কাদের বলা হয়! “শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাস আদি গৌর ভক্তবৃন্দ” কারা জানেন? হয়ত আপনারা জানেন, কিন্তু যারা দর্শনার্থী তারা কি জানেন? এবং এই পঞ্চতত্ত্ব তারা কৃষ্ণলীলার কোন কোন ব্যক্তিত্ব ছিলেন সে সম্বন্ধে কি তারা জানেন? যেমন অদ্বৈত আচার্য পূর্বে কে ছিলেন? এইরকম বিষয়সমূহ। তো এইভাবে প্রত্যেক শ্রীবিগ্রহ সম্পর্কে বহু কিছু বলার আছে, কত জানতে চায় সেটার উপরে নির্ভর করে। আমার মনে হয় অধিকাংশই বেশি জানে না এবং তারা পরম সত্য সম্বন্ধে কতটা জানেন? তাই আমরা তাদের জন্য টি.ও.ভি.পি.-র পশ্চিমভাগে সে বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদানের চেষ্টা করছি।

তো আপনি অনেক ভাগ্যবান যে আপনি মানব জন্ম লাভ করেছেন। আর এখানে আপনারা বেশিরভাগ সবাই ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাই আপনারা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। শ্রীল প্রভুপাদ ১২-১৪ বার ভ্রমণ করে সমগ্র বিশ্বজুড়ে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রচার করেছিলেন। না হলে আমি কিভাবে জানতে পারতাম?

আগামী ৩০ সে এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়া। বর্তমানে মমতা ব্যানার্জি দিঘাতে জগন্নাথ মন্দির স্থাপন করেছেন এবং তিনি মন্দিরের ভিতরে যত পূজা-অর্চন, যত কাজ, তা করার জন্য ইসকন ভক্তদের অপ্রতিরোধ্য অধিকার দিয়েছেন। যদি কৃষ্ণের ইচ্ছা হয়, তাহলে জগন্নাথদেবের প্রাণপ্রতিষ্ঠার জন্য আমি সেখানে যাবো। তো এর ভিতরে কি রাজনীতি আছে সেটা আমি জানি না, কিন্তু আমি মনে করছি যে এরকম একটা বড় অধিকার দেওয়া হচ্ছে ইসকনে, সেটা জগন্নাথের সেবা করার ভালো। তো বিদেশি ভক্তরা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি পায় না, কিন্তু এখানে আমরা শ্রীবিগ্রহের সেবা পূজা করব, এমনকি প্রাণপ্রতিষ্ঠাও করব। পুরীর শংকরাচার্য বলেছেন, “না! না! এর  অনুমতি নেই, আপনারা এটিকে জগন্নাথ ধাম নাম দিতে পারবেন না!” পুরীর শংকরাচার্যই হলেন প্রধান ব্যক্তি, যিনি আমাদের জগন্নাথপুরীর মন্দিরে প্রবেশে নিষেধ করেন। আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম, তার কাছে রাধা কৃষ্ণের এক অত্যন্ত সুন্দর শ্রীবিগ্রহ রয়েছে। আমি তাকে বলেছিলাম, “আপনার কাছে অত্যন্ত  সুন্দর শ্রীবিগ্রহ আছে, কিন্তু আপনি বৃদ্ধ ও তত সুন্দর নন।” তখন তিনি বললেন—“এটা আমার লীলা।’ কেবল শ্রীকৃষ্ণ ব্যতীত সকলেই এই বার্ধক্যের লীলার মধ্যে দিয়ে যান। 

এখন ৯ টা বাজে, কারও কোনো প্রশ্ন আছে?

প্রশ্ন: হরে কৃষ্ণ গুরুমহারাজ। আমার প্রশ্ন হচ্ছে—কুদৃষ্টি জাতীয় কিছু কী সত্যিই অস্তিত্ব আছে? যদি থাকে তাহলে ভক্তদেরকে কি তা প্রভাবিত করে? যদি করে তাহলে ভক্তদের কি তাদের সাধনা গোপন রাখা উচিত? তা কি তাদের ভক্তিজীবনে আরও দ্রুত অগ্রসর করবে?

জয়পতাকা স্বামী: হ্যাঁ! কালা জাদু, কুনজর এই সবের অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু যদি ভগবদগীতার নবম অধ্যায় পাঠ করা যায়, তাহলে এসব কিছু থেকে মুক্ত থাকা যায়।  এছাড়াও ভক্তরা শ্রীবিগ্রহের সেবা পূজা করেন, দীপ দান করেন, নৃসিংহদেবের পূজা করেন, নৃসিংহ কবচ ধারণ করেন। তো এইসব জিনিস তাদেরকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে তা আমি জানি না। আমি মনে করি যে বেশি প্রভাব পড়ে না।

‘লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ’ গ্রন্থে এই রকম উল্লিখিত আছে যে কিভাবে প্রদ্যুম্নকে জন্মের পর একটি মাছ গিলে নিয়েছিল এবং তারপর একজন মহিলা তাকে লালন-পালন করেছিল, যে আবার পূর্বজন্মে তার স্ত্রী ছিল। তো কেউ যদি ভক্তদের উপর খারাপ কিছু তন্ত্র-মন্ত্র করার চেষ্টা করে, তাহলে সেটা আবার উল্টে তাদের উপরই সম্ভবত ফিরে আসে। এক্ইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ একটা বাড়ি নিয়েছে, আর সব লোক বলছে এখানে ভূত আছে। তো উনি দিনরাত কীর্তন করেন, আর সব ভূত চলে গেল।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by পায়েল চন্দ্র 25/12/2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions