Text Size

২০২৫০৪১৯ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৫.১৭

19 Apr 2025|Duration: 01:00:39|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ১৯ শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচনটি শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ৩য় স্কন্ধ, ১৫ অধ্যায়, ১৭ নং শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দ মাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ
নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী : এখানে বৈকুন্ঠ লোকের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত সুন্দর এবং এখানে এই বৈকুন্ঠলোকে যারা আছেন সবাই শুদ্ধ ভক্ত। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন আমরা বারবার বলছি যে আপনারা সব শুদ্ধ ভক্ত হয়েছেন আমরা দেখতে পাই যে লন্ডনে দেওয়া একটি প্রবচনে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে, সকল গৃহস্থদের পরমহংস স্তরের হওয়া উচিত।

তো চার কুমারেরা বিষ্ণুলোকে ভগবান শ্রীবিষ্ণুকে দর্শনের অভিলাসে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা বৈকুন্ঠের দ্বারপালদের দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হন। তাই তাঁরা সেই দ্বারপালদেরকে অভিশাপ দেন যে—“আপনাদের জড়জগতে অধঃপতিত হতে হবে, কারণ আপনারা এখানে থাকার উপযুক্ত নয়।” তারপর ভগবান বিষ্ণু সেখানে আসেন এবং চার কুমার ভগবানের উদ্দেশ্যে প্রণাম নিবেদন করেন। তারা ইতিমধ্যেই ব্রহ্মানন্দের অনুভবে উদ্ভাসিত ছিলেন, কিন্তু তারা যখন শ্রীবিষ্ণুর চরণে যে তুলসী ছিল সেই তুলসীর ঘ্রাণ গ্রহণ করলেন, তখন তারা পরমানন্দ অনুভব করলেন। তারপর তারা ভগবদ্ভক্তে পরিণত হলেন। ভক্তিরসামৃতসিন্ধু অধ্যয়নের সময়ে আমি জিজ্ঞাসা করছিলাম যে—“শুদ্ধ ভক্ত কতখানি দিব্য আনন্দ অনুভব করে থাকেন?” প্রথমে তারা খুঁজে পায়নি, তারপর আমি খুঁজে পেয়েছিলাম। সেখানে এমনটা বলা হয়েছে যে, যত প্রকারের ভৌতিক আনন্দ আছে বা সুখ আছে এটা একটা গাভীর বাছুরের পায়ের গর্তে যেটুকু জল ধরে তার সাথে তুলনীয়। নিরাকার ব্রহ্ম উপলব্ধির আনন্দকে তার সামনে সমুদ্র বলা হয়েছে। কিন্তু যদি নিরাকার ব্রহ্ম উপলব্ধির আনন্দকে সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলেও তা কখনোই কৃষ্ণভক্তিরসের অমৃত সিন্ধুর এক ক্ষুদ্র পরমাণুরও সমান নয়। অধিবাস কীর্তনের মধ্যে একটা পদ আছে—“আনন্দের সীমা নাই! আনন্দের সীমা নাই! নিরানন্দ দূরে যায়!”

আমরা যখন দক্ষিণ ভারত ভ্রমণে গিয়েছিলাম সাফারি দল বিভিন্ন মন্দিরে ভ্রমণ করছিল। সেখানে কুম্ভকোনামের একটি মন্দিরের এক শ্রীবিগ্রহের নামের অর্থ ছিল ‘অক্ষয় আনন্দ’। তিনি অসীম অক্ষয় অমৃতাস্বাদনের প্রকাশ মূর্তি। তো এখানে হরি ধামের উল্লেখ করা হচ্ছে। গৌর ধাম এরও উর্দ্ধে। তাই আপনাদের সর্বদা চিন্তন করা উচিত কিভাবে আপনার সেবা দ্বারা আপনি ভগবানকে প্রসন্ন করতে পারবেন। এটা কঠিন কিছু নয়। এইভাবে যদি ভগবানকে সন্তুষ্ট করার জন্য সব সময় চিন্তা করা হয়, তাহলে স্বামী-স্ত্রী সবাই আনন্দের সাথে ভক্তির সমুদ্রে ভাসবে। বর্ণনা অনুযায়ী, বৈকুন্ঠ লোকগুলি সকল প্রকার ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ। কিন্তু সেখানকার অধিবাসীরা ভগবানের চিন্ময় গুণাবলীর প্রতি অধিক আগ্রহী, তাই তারা সেখানকার মৃদুমন্দ বাতাস এবং অন্যান্য সকল ঐশ্বর্যের প্রতি তত আগ্রহী নন। তারা ভগবানের অপ্রাকৃত গুণাবলীতেই সর্বদা তন্ময় হয়ে থাকেন।  বৈকুন্ঠের ঐশ্বর্য অথবা জড়জাগতিক ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ এসব বিষয় শুদ্ধ ভক্তদের কাছে পড়ে থাকা কোন শুষ্ক খড়কুটোর ন্যায় তুচ্ছবৎ প্রতিভাত হয়। এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ আমাদের কাছে বৈকুন্ঠলোকের বর্ণনা করছেন। সেখানকার অধিবাসীরা এত আনন্দ অনুভব করছেন যে তারা পরিবেশের সৌন্দর্য আদি অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করছেন না। তো হরিধামের এই বিবরণ টি.ও. ভি.পি-র পশ্চিমভাগে প্রদর্শিত হতে চলেছে। তো আমি একবার গঙ্গাবক্ষে আয়োজিত একটি সাক্ষাৎকারে বি.বি.সি. মিডিয়ার একজন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম।  আমার মনে নেই কি বিষয়ে কথা হচ্ছিল, তবে আমি একটি শব্দ ব্যবহার করেছিলাম “ইন্দ্রিয়তৃপ্তি”। তখন তিনি বলেছিলেন—এতে খারাপ কি আছে? ইন্দ্রিয়তৃপ্তিতে ভুল কি আছে? তো সেটাই একমাত্র আনন্দের উৎস যা তারা জানে, সেটা আমার জন্য একটি জ্ঞানচক্ষু উন্মীলনের মতো ব্যাপার ছিল যে কোনো জড়জাগতিক ব্যাক্তি বোঝেই না যে ভগবানের সেবা কি জিনিস! এটাই তাদের জানানো প্রয়োজন যে ভগবানের সেবায় অসীম আনন্দ রয়েছে। তো যারা এখানে আসছেন তাদের এখানে আসার জন্য যে ইচ্ছা রয়েছে তার কারণ হলো ভারতীয় হওয়ার ফলে তারা স্বাভাবিকভাবেই ধার্মিক। আমরা চাই ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা গোটা বিশ্ব জুড়ে অপরিসীমভাবে বর্ষিত হোক। শ্রীল রূপ গোস্বামীর মত অনুযায়ী, ব্রহ্মানন্দের কোটি কোটি গুণ আনন্দও কৃষ্ণের প্রতি ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদনের আনন্দের এক কণারও সমান নয়। তো শুদ্ধ ভক্তি মানে আপনার কোন দ্বিতীয় জড় বাসনা, এমনকি নিরাকার ব্রহ্মে বিলীন হয়ে মুক্তি পাওয়ারও বাসনা থাকবে না। এই জড়জগতে প্রচলিত বিভিন্ন মতবাদ যা মূলত ভগবানের সবিশেষ সত্তাকে অস্বীকার করে, সেগুলি মানুষকে নিরাকার ব্রহ্মে বিলীন হয়ে গিয়ে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতে উৎসাহ প্রদান করে।  এক যোগী ছিলেন যিনি হিমালয়ে ধ্যান করছিলেন। কিন্তু যখন তিনি কৃষ্ণের বংশীধ্বনি শুনলেন, তার ধ্যানভঙ্গ হয়ে গেল এবং তিনি এমন আনন্দ অনুভব করলেন যে তিনি ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং পাথরে তার মাথা ঠুকতে লাগলেন। তো এভাবে যারা ব্রহ্ম উপলব্ধির আনন্দ আস্বাদনে মগ্ন থাকেন, তারা যখন কৃষ্ণের বংশীধ্বনি বা কৃষ্ণের কোন লীলা শ্রবন করেন তখনই তারা যথাযথভাবে পরমানন্দকে অনুভব করতে পারেন।

শ্রীল প্রভুপাদ এখানে বলছেন যে সদ্য প্রস্ফুটিত কোন পুষ্পের সুগন্ধ কতই না সুন্দর হয়!কিন্তু তার প্রয়োগ কেবল নিজের ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধনের প্রয়োজনেই সীমিত।  কিন্তু বৈকুন্ঠলোকের অধিবাসীরা ভগবৎ সেবাকে অগ্রাধিকার দেয়, তাদের নিজস্ব ইন্দ্রিয় তৃপ্তিকে নয়।  ভগবৎ সেবার অসীম আনন্দের কাছে ইন্দ্রিয় তৃপ্তির আনন্দ নগণ্য।

আজ সকাল ৯টায় আমার একটা জরুরী ব্যুরো মিটিং আছে তাই আমাকে তাড়াতাড়ি বিরাম দিতে হবে।

ভগবান শ্রীচৈতন্যদেব, নিত্যানন্দ প্রভু, পঞ্চতত্ত্ব তারা এতই কৃপাময় যে আমরা এই জড়জগতে থাকাকালীনই অপ্রাকৃত আনন্দের আস্বাদন করতে পারি।  যদি আমরা সর্বদা এই প্রচেষ্টা করি যে কিভাবে তাদের সেবা করা যায়- সেটাই কাম্য, সেটাকে বলা হয় শুদ্ধভক্তি।  শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন ইন্দ্রিয়তৃপ্তি হচ্ছে লবণের মতো, খেতে হলে তা বেশি দিলে খারাপ হবে আর কম দিলে ভালো নয়, ঠিক ঠিক হতে হবে। প্রত্যেক মানুষের ইন্দ্রিয়তৃপ্তির প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।  শ্রীমদ্ভাগবতের অষ্টম স্কন্ধের গজেন্দ্র মোক্ষ লীলায় শ্রীল  প্রভুপাদ বলেছেন যে গজেন্দ্র ছিল একটা স্থলজ পশু আর কুমির হল একটা জলজ প্রাণী।  তো কে কোন পরিস্থিতিতে ভালো শক্তিমান থাকবে সেটাই বিচার্য। যেমন কুমির জলে ভালো শক্তি পাচ্ছে কিন্তু হাতি আস্তে আস্তে কম শক্তি পাচ্ছে, তাই শ্রীল  প্রভুপাদ বলেছেন, আমরা যে পরিস্থিতিতে নিজেদের অধিক শক্তিশালী মনে করব আমরা সেটাকে বেছে নিতে পারি। কারণ মায়ার বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি আর আমাদের মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে, কারণ আমরা সর্বদা কৃষ্ণের চিন্তায় এবং সেবায় থাকার বাসনা করি। আমাদের কিছু পরিমান ইন্দ্রিয়তৃপ্তিরও প্রয়োজন থাকে তবে বাকি সময়টা আমাদের কৃষ্ণের সেবায় যুক্ত থাকতে হবে।  যদি আপনি ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসী থাকতে চান সেটা ঠিক আছে।  তবে আপনাকে সর্বদাই নিরবচ্ছিন্নভাবে কৃষ্ণের চিন্তা এবং কৃষ্ণসেবা নিয়ে থাকতে হবে। কোন প্রশ্ন!

প্রশ্ন: ভগবদগীতায় কৃষ্ণ বলেছেন, “অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং”, অর্থাৎ একজনের হৃদয়ে অন্য কোন কিছুর প্রতি আসক্তি রাখা উচিত নয়। তো কিভাবে বৈকুন্ঠে একজনের কোন প্রেয়সী বা প্রিয় ব্যক্তি থাকতে পারে? তা কি অসংগত নয়? সেটা তবে কেমন ধরনের সম্পর্ক? সেটা কি সেই প্রেয়সী বা প্রিয় ব্যক্তির সঙ্গে বৈকুণ্ঠ জগতে থাকা নিত্য সম্পর্ক?

উত্তর: এটার মানে তাদের কোন জড় বাসনা নেই। তারা কেবল পরমেশ্বর ভগবানের গুণ মহিমা কীর্তন এর বাসনাতেই থাকেন আর তাতে তারা এত আনন্দ পেয়ে থাকেন যে এই জড় জগতের কোন কিছুর সাথেই সেই পরমানন্দের তুলনা চলে না। এরকম নয় যে আমরা ইচ্ছা বিহীন হয়ে যাবো, সেটাকে সাযুজ্য মুক্তি বলে। আমরা কেবল কোন জড়বাসনা করবো না। আমরা যদি কৃষ্ণকে সেবা করার বাসনা করি তবে তিনিও সেই সেবা গ্রহণ করতে পছন্দ করেন।

আর একটা প্রশ্ন!

প্রশ্ন: গুরু মহারাজ আমরা সর্বদা চেষ্টা করছি পঞ্চতত্ত্বের কৃপালাভ করতে এবং গুরু বৈষ্ণবগণের সন্তুষ্টিবিধান করতে কিন্তু কেন আমরা আনন্দের এক ফোঁটাও আস্বাদন করতে পারছি না গুরু মহারাজ?

উত্তর: আমি জানিনা কি বাধা রয়েছে। অনর্থ্য নিবৃত্তির স্তরে আমাদের সকল বাধা গুলো থেকে আমরা মুক্তি পাই। আমি জানিনা আপনি কেন কোন আনন্দ অনুভব করছেন না। আমি তো নিজেকে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ক্রন্দন করা থেকে আটকে রাখার চেষ্টা করি সর্বদা। আমাকে একটা জরুরী মিটিংয়ে যেতে হবে। উনি মহিলাদের প্রশ্ন করার সুযোগটি নিয়ে নিয়েছেন, তাই আমার আর সময় হবে না।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by পায়েল চন্দ্র 27/01/2026
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions