Text Size

২০২৫০৪০৯ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৫.১

9 Apr 2025|Duration: 00:40:17|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ৯ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচনটি শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ৩য় স্কন্ধ, ১৫ অধ্যায়, ১নং শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ
নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী : এই শ্লোকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে দিতি এটা জানতে পেরে অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলেন যে তার পুত্রেরা অসুর হবে। কশ্যপ মুনি তাকে সতর্ক করেছিলেন যে সেই সময় মঙ্গলজনক নয়, এখন নিশ্চিতভাবেই কিছু সম্পাদন করা উচিত নয়। শ্রীল প্রভুপাদ এখানে উল্লেখ করেছেন যে, দিতি দেবতাদের অশান্তি বিলম্বিত করতে সেই সন্তানদের তার গর্ভে ১০০ বছর ধরে ধারণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু  এভাবে কেবল সেই সমস্যাসমূহকে কিছুকালের জন্য স্থগিত রাখা গেলেও তা সেই সমস্যার সমাধান ছিল না। তাই যারা বৈষ্ণবীরা রয়েছেন তাদের পক্ষে এটি একটি বড় দায়িত্ব। গর্ভাধান সংস্কারে পতি এবং পত্নী একটি পবিত্র দিন ও সময়কে চয়ন করেন এবং সেই উপলক্ষে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালন করেন। গোধূলিকাল এক্ষেত্রে ভালো সময় হিসেবে বিবেচ্য নয়, রাত্রিকাল উত্তম। শ্রীল প্রভুপাদ ১৯৭৩ সালে লন্ডনে গৃহস্থদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন তিনি চান তারা সকলে যেন এক একজন আচার্যকে সন্তান রূপে লাভ করেন। তবে এসব বিষয় এত সহজ ব্যাপার নয়। অদ্বৈত আচার্য, যিনি ছিলেন স্বয়ং মহাবিষ্ণুর অবতার, তার ছয়জন পুত্র ছিল।  তাদের মধ্যে তিনজন আচার্য হয়েছিলেন এবং তিনজন স্মার্ত ব্রাহ্মণ হয়েছিলেন। এভাবে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এজন্য আপনাদের শ্রীবিগ্রহের নিকট প্রার্থনাও জানাতে হবে, অগ্নিহোত্র এবং অন্যান্য যজ্ঞ সম্পাদন করতে হয়, বিভিন্ন প্রকার ত্যাগ স্বীকার করতে হয় এবং সেই নির্দিষ্ট দিনে বিশিষ্ট কিছু মন্ত্রও উচ্চারণ করতে হয়। রাত্রিকালীন আচার অনুষ্ঠান অত্যন্ত সহজ থাকে। আমি গৃহস্থদের সুবিধার্থে এই বিষয়ক বিবরণপত্র আমার মাসিক বার্তার সঙ্গে পাঠিয়েছিলাম। এখানে আমরা দেখতে পাই যে দেবতারা হলেন অদিতির পুত্র এবং অসুরেরা হলেন দিতির পুত্র। তারা দুজন আবার পরস্পর বোন ছিলেন।  তো অসুরেরা বলে থাকে আমরা পরস্পর ভাই, কিন্তু তোমরা দেবতারা আমাদের সেভাবে কখনো মেনে নাওনি। তো উর্দ্ধলোকে এই প্রকার পরিস্থিতি বিরাজমান। তাই দিতি আসলে দেবতাদের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন, কিন্তু তার পুত্রেরা ছিলেন হিরণ্যকশিপু এবং তার ভাই হিরন্যাক্ষ। হিরন্যাক্ষ ভগবান বরাহদেবের দ্বারা বধ হন এবং নবদ্বীপের একটি দ্বীপ বরাহদেবের নামে নামাঙ্কিত।  কারণ যখন তিনি হিরন্যাক্ষকে বধ করেন তখন নবদ্বীপের একটি দ্বীপ তার পশ্চাৎ পদদ্বয়ের স্পর্শপ্রাপ্ত হয়। এখন সেই দ্বীপের নাম হচ্ছে কোলদ্বীপ।  কোল হচ্ছে বরাহদেবের একটি নাম। নবদ্বীপের একটি গৌড়ীয় মঠ-দেবানন্দ গৌড়ীয় মঠ সেটি কোলদ্বীপে অবস্থিত।  সেই দেবানন্দ গৌড়ীয় মঠে শ্রীবরাহদেবের শ্রীবিগ্রহ রয়েছে। হিরণ্যকশিপু ভগবান নৃসিংহদেবের দ্বারা মুক্তি প্রাপ্ত হন।  আমরা আমাদের সাফারি দলকে দক্ষিণ ভারতের একটি মন্দিরে নিয়ে গিয়েছিলাম যে স্থানে কোন কারণবশত হিরণ্যকশিপু তার আসুরিক প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি এবং তিনজন দেবতা যথা-ব্রহ্মা, শিব এবং বিষ্ণু তারা সেখানে মিলিত হয়ে আলোচনা করেছিলেন কিভাবে দৈত্য হিরণ্যকশিপুকে বধ করা যায়।  এক অনন্য ইষ্টগোষ্ঠী!

ভগবান শ্রীচৈতন্যদেবের সেই মন্দিরটিও ভ্রমণ করেন। তাই আমরা সেখানে ভগবান শ্রীচৈতন্যদেবের শ্রীপাদপীঠ  স্থাপন করেছি। এক হাজার বছর পূর্বে শ্রী সম্প্রদায়ের এক আচার্য অন্ডাল দেবীর দর্শন প্রাপ্ত হন।  তিনি ওই স্থানে শৈশবে বড় হয়ে উঠেছিলেন। সেটি আমার কাছে খুবই আকর্ষণীয় ছিল কারণ অনেক দশক পূর্বে আমরা একবার তিরুপতি তিরুমালা দেবস্থানমে গিয়েছিলাম। সেই সময়ে আমরা একজন স্থানীয় জিয়ারের দর্শন পাই।  রামানুজাচার্য ওনার সম্প্রদায়ে ৬৪জন জিয়ার বা গুরু নির্বাচন করেছিলেন। সেই জিয়ার আমাদের বলেছিলেন আপনারা হচ্ছেন আমাদের মতই অন্ডাল দেবীর প্রতিনিধি কারণ আমাদের সম্প্রদায়ে আমরা যারাই কৃষ্ণকে ভালবাসি এবং কৃষ্ণনাম জপ করি আমরা অন্ডাল দেবীর সম্প্রদায়ভুক্ত এবং এমন একজন মহান ভক্তের সাথে আমার দেখা হয় যিনি আমাদের তাদের সাথে আমরা সম্পর্কিত বলে আমাদের চিহ্নিত করেন তার জন্য আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।

আমরা এমনটা আশা করি যে উপস্থিত সকল ভক্তবৃন্দ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সকল বিধি নিয়মের পালন করবেন এবং হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করবেন।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে

এই কৃষ্ণনাম এবং স্বয়ং কৃষ্ণ অভিন্ন এবং ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপের প্রচার প্রসার করেন।  ৬ বছর ধরে তিনি দক্ষিণ ভারতে প্রচারের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেন।  সেখানে তিনি যে শিবমন্দির অথবা দেবীমন্দিরেই যেতেন না কেন তিনি এই হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রই সকলকে জপ করতে বলতেন। তো ভগবান চৈতন্যদেব শিবমন্দিরে গিয়েছেন, তবে তিনি সেখানেও হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রের কীর্তন করেছেন।  একস্থানে তিনি ভগবান শিবকে আলিঙ্গন করেন এবং ভগবান শিব পরমানন্দ অনুভব করেন। আমি গতরাত্রে ভাবছিলাম যে কাল শেষ যে নাটকটি প্রদর্শিত হয়েছিল তা শিবের উপর আধারিত ছিল, কিন্তু তাতে কৃষ্ণভাবনার কিছুই ছিল না। আমি ভাবছিলাম তারা যে শিবমন্দিরের মতো কিছু একটা করেছিল সেখানে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রবেশ করছেন- তারা এরকম কিছু করতে পারত এবং মহাপ্রভু সকলকে বলতেন হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করো! শ্রীমদ্ভাগবতে একটি শ্লোকে বলা হয়েছে “বৈষ্ণবাণাম যথা শম্ভু”। তারপর এমনটা হতে পারত যে ভগবান শিব তার সুন্দর শিবলিঙ্গ থেকে স্বয়ং প্রকটিত হয়ে ভগবান শ্রীচৈতন্যদেবকে দণ্ডবৎ প্রণাম জানাতেন এবং ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাকে আলিঙ্গন করতেন এবং তখন সকল শিবভক্তবৃন্দ, ভগবান শিব এবং ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সকলে পরমানন্দে প্রেমোন্মত্ত হয়ে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করতেন! নাটকটি কি এইরকম হতে পারত না?! আমি জানি না মাধুর্য কাদম্বিনী কি এখানে রয়েছেন? যদি সে এখানে রয়েছে তাহলে ঠিক আছে কিন্তু যদি সে এখানে উপস্থিত না থাকে তাহলে তাকে দয়া করে এটা বলবেন। যে কোন নাটকই আমরা দেখব না কেন যদি সেটা দেবী-দেবতাদের নিয়েও হয়, কৃষ্ণভাবনার প্রদর্শনের উপর অধিক জোরে দিতে হবে।

আপনাদের কোন প্রশ্ন আছে? আপনারা তা লিখে দিতে পারেন। 

শ্রীমদ্ভাগবতে অনেক কাহিনী থাকে বৈদিক বিধিনিয়ম পালনের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক, যেমন দিতি যখন প্রথমে কশ্যপ মুনিকে বলে যে সে সন্তানলাভ করতে চায় এবং তাই সে তার সঙ্গ কামনা করছে, তখন কশ্যপমুনি তার কাছে প্রচার করে যে এটা ভালো সময় নয়, কিন্তু কশ্যপমুনি মানসিকভাবে ততটা দৃঢ় ছিলেন না এবং তাই দিতির কামনার দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়ে যান।  কিন্তু যখন দিতি গর্ভবতী হয় তখন সে অখুশি হয় কারণ সে জানতে পারে যে তার সন্তানেরা অসুর হয়ে জন্মগ্রহণ করবে এবং দেবতাদের অশান্তির কারণ হবে।  এইভাবে সম্পূর্ণ বৃত্তান্ত সেখানে দেওয়া হয়েছে।

আমি তাদের সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি যারা আমার ব্যাসপূজা উপলক্ষে আমার তরফ থেকে শ্রীবিগ্রহগনের বস্ত্রসমূহের নকশা প্রস্তুতিকরণে, তার রূপদানে অংশ নিয়েছেন এবং তার জন্য অনুদান প্রদান করেছেন।

প্রশ্ন: জগন্নাথের ভক্তরা অন্তিমে কোথায় গমন করেন? তাদের গন্তব্য কোথায়? ভগবান জগন্নাথের কি কোনো আলাদা লোক রয়েছে?

গুরুমহারাজ: ভগবান জগন্নাথ স্বয়ং কৃষ্ণ এবং তিনি কৃষ্ণের দ্বারকার ভাবে রয়েছেন।  আর কৃষ্ণলোকে কৃষ্ণের তিনটি ধাম রয়েছে, যথা-ব্রজমন্ডল, মথুরা এবং দ্বারকা।

প্রশ্ন: গৃহস্থ আশ্রমে স্থিত একজন আদর্শ পতি ও আদর্শ পত্নী হওয়ার জন্য কি করা প্রয়োজন?

গুরুমহারাজ: শাস্ত্রে এ বিষয়ে অনেক উপদেশ রয়েছে যে একজন স্বামীর কি দায়িত্ব এবং একজন পত্নীর কি দায়িত্ব। কিন্তু বৈষ্ণবেরা কৃষ্ণভক্তি এবং কৃষ্ণসেবা করার উপর অধিক জোর দেয়।

প্রশ্ন: যেমনটা আপনি বললেন যে আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রের জপ করা উচিত। যখন আমরা একা থাকি তখন আমরা কিভাবে ভালো জপ করতে পারব? কারণ বলা হয় ভক্তসঙ্গে ভালো জপ করা বেশি সহজ হয়। 

গুরুমহারাজ: কখন আমরা একা থাকি? কৃষ্ণ পরমাত্মা রূপে সর্বদা আমাদের হৃদয়ে রয়েছেন! আমাদের এটা চিন্তন করা উচিত যে আমরা সর্বদা কৃষ্ণের সাথেই রয়েছি।  আর আমরা কৃষ্ণের সঙ্গে রয়েছি এটা ভেবে আমাদের আরো বেশি সতর্কতার সাথে জপ করা উচিত। যদি তুমি কৃষ্ণভাবনায় পরিপূর্ণ মানুষদের সঙ্গে জপ করো তাহলে ভালো জপ করা সহজ কিন্তু যদি তারা নিজেরাই মায়ার দ্বারা প্রভাবিত হয় তাহলে তাদের সঙ্গে জপ করা অধিক কঠিন।

প্রশ্ন: কৃষ্ণভক্তি লাভের জন্য আমরা কি শিবের উপাসনা করতে পারি?

গুরুমহারাজ: যদি আমরা বৈষ্ণবরূপে শিবের পূজা করি বা তিনি কৃষ্ণভক্ত এরকম ভেবে তার পূজা করি তাহলে করতে পারি।  মূল বিষয়টা হলো ভগবান শিব একজন কৃষ্ণ ভক্ত। কিন্তু তাকে আলাদা কোন স্বাধীন ভগবান বলে স্বীকার করে তার পূজার করার কোন অনুমতি আমাদের নেই। যদি তাকে কৃষ্ণের ভক্ত মনে করে তার আরাধনা করা হয় এবং তাকে কৃষ্ণ প্রসাদ নিবেদন করা হয় তাহলে ঠিক আছে।

এখন সকাল ন'টা বাজে, আপনাদের প্রসাদের সময় হয়ে গেছে। 

হরিবোল!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by পায়েল চন্দ্র 24/12/2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions