নিম্নোক্ত প্রবচনটি শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ১২ এপ্রিল, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী: জয় প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর! জয় প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ!
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়! ওঁ তৎ সৎ!
সাধারণত আমাদের ব্যাস পূজা একাদশীর দিনে অনুষ্ঠিত হয়। এই বছরও অন্যান্য বছরের মতো একই তিথিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, কিন্তু পঞ্জিকায় পরের দিন উপবাসের কথা বলা হয়েছে। আমি আগেও বহুবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু এবার দৃঢ়ভাবে প্রয়াস করব যে আমাদের পঞ্জিকা যেন অন্যান্য গৌড়ীয় মঠগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
যাইহোক, আজ আমরা ব্যাস-পূজা উদযাপন করছি, যেখানে আমরা গুরুদেবের পূজা করি। কারণ গুরুদেবের কর্তব্য হচ্ছে শাস্ত্রে যা বলা হয়েছে ও তাঁর গুরুদেব যা বলেছেন সেটির পুনরাবৃত্তি করা। আর ব্যাসদেব শাস্ত্র রচনা করেছেন। মায়াবাদীরা গুরু-পূর্ণিমা পালন করে, কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে যেহেতু আমরা সবিশেষবাদী, তাই বৈষ্ণবগণ আচার্যের আবির্ভাব দিবসকে ব্যাস পূজা হিসেবে পালন করেন।
কোনোভাবে আমি এখনও এখানে আছি! কিন্তু গত বছর গৌর পূর্ণিমার পর আমি শ্রীধাম বৃন্দাবনে চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীপাদপদ্ম স্থাপন করার জন্য গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে সাফারি ভক্তবৃন্দ ও নেপালের ভক্তরাও ছিলেন। কিন্তু আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম ও আমাকে দিল্লি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন থেকে আমার প্রতি সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করতে হয়।
এখানে আসা ছাড়া, সাম্প্রতিক দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ ছিল ডায়ালিসিস শুরু হওয়ার পর আমার প্রথম বড়ো যাত্রা। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে অনেক নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে প্রতি মাসে ১,০০,০০০ ছোট গ্রন্থ এবং ১০,০০০ বড়ো গ্রন্থ বিতরণ করতে বলেছিলেন! শ্রীশ্রীমৎ ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী মহারাজ বলেছেন—“আমার গ্রন্থ বিতরণ সংখ্যা কম হয়েছে, আমি এখনও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি!” তাই এখন আমার শিষ্যদের এগিয়ে এসে আমাকে সাহায্য করা উচিত। এটা হচ্ছে গত বছরের কথা। আমি জানি না যে এই বছর আমরা এগিয়ে আছি নাকি পিছিয়ে আছি! এ বছর তো মাত্র এক-দু’ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে।
গত রাতে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম—আপনাদের মধ্যে কতজন কৃষ্ণের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন? কেউ কি হাত তুলেছিলেন? এর অর্থ এখন আপনার আত্মা, দেহ—সবই কৃষ্ণের! আর তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি আপনাকে রক্ষা করবেন। কিন্তু আপনাকে নিজের দেহকে কৃষ্ণের সম্পত্তি মনে করে চালনা করতে হবে। আপনাকে নিজ শরীরের যত্ন নিতে হবে, ও তা কৃষ্ণের সেবায় ব্যবহার করতে হবে। এই দেহ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আত্মা নিত্য। যদি আপনি আপনার শরীর কৃষ্ণের সেবায় ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি কৃষ্ণের কাছে ফিরে যাবেন।
শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে সীমাহীনভাবে প্রচার বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছিলেন! তাই আমার অসীম সহায়তার প্রয়োজন! আমার শিষ্য-প্রশিষ্য, জ্ঞাতিভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভ্রাতা-ভগিনী সবার সাহায্য প্রয়োজন! তাহলেই তা হবে অসীম! অন্তত আমার শিষ্য-প্রশিষ্যদের তা অবশ্যই করা উচিত। আপনার যার সাথে কথা হয়, যার সাথে দেখা হয় সবাইকে কৃষ্ণের উপদেশ প্রদান করুন—“যারে দেখ, তারে কহ কৃষ্ণ-উপদেশ। আমার আজ্ঞায় ‘গুরু’ হঞা তার’ এই দেশ॥” (শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, মধ্য ৭.১২৮)
আমি দেখেছি যে আমার অনেক গুরুভ্রাতাগণ এই জগৎ পরিত্যাগ করেছেন, যেমন তমাল কৃষ্ণ গোস্বামী, ভক্তিতীর্থ স্বামী, গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী, ভক্তিচারু স্বামী। কিন্তু আমরা দেখছি যে তাঁদের শিষ্যদের মধ্যে কেবল এক-দু’জন গুরু হয়েছেন। হয়ত কেবল শ্রীশ্রীমৎ ভক্তিতীর্থ স্বামীর তিনজন শিষ্য গুরু হয়েছেন। কিন্তু মায়াপুরে শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর একটি প্রবচনে বলেছিলেন—“ধরা যাক এখন আমাদের দশ হাজার গুরু আছেন, এরপর তা এক লক্ষ হোক ও এক লক্ষ থেকে দশ লক্ষ হোক। এরপর দশ লক্ষ থেকে এক কোটি হোক! এইভাবে তাহলে জগতে আর দীক্ষা-গুরুর কোনো অভাব থাকবে না!”
শ্রীল প্রভুপাদ পাশ্চাত্যে মাত্র বারো বছর প্রচার করেছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে দুবছর পর ১৯৬৮ সালে যক্ত হয়েছিলাম। আর ১৯৭০ সালে আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করি ও ১৯৭৭ সালে গুরু হই অর্থাৎ মাত্র ন’বছরের মধ্যে! আমি কিছুজনকে গুরু করার চেষ্টা করছিলাম। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, “এটি অপরাধজনক, নিজ গুরুদেব প্রকট থাকাকালীন গুরু পদ গ্রহণ করা সদাচার বিরুদ্ধ।” (অডিও-ভিডিও বিরতি) তাই একটি নিয়ম আছে যে গুরু পদে আসীন হতে গেলে কোনো ভক্তকে অন্তত ২৫ বছর আগে দীক্ষিত হতে হবে। কিন্তু গুরুদেব যদি অপ্রকট হন, তাহলে কেবল ১০ বছর আগে দীক্ষিত হলেই হবে। এই হচ্ছে বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়।
প্রাথমিক গণনায় আমি লক্ষ্য করেছি যে পূর্ব ভারতের ৫৩৭ জন ভক্ত ২০০০ সালের আগে দীক্ষা গ্রহণ করেছিল। তারা সক্রিয় আছে কি না জানিনা, তবে আমরা গবেষণা করছি। কিন্তু অন্তত ২০ জন সবথেকে সক্রিয় আছে, তাই আমি তাদেরকে গুরুরূপে গ্রহণ করার প্রস্তাব দেব। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া ডিভিশনাল কাউন্সিল (EIDC) যারা আছেন, তাদেরকে এটি দেখতে হবে। এই বিষয়ে আমি এখন বেশি বলব না। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—আমরা শ্রীকৃষ্ণ বা চৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি ও মহাপ্রভুর বাণী প্রচারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ চাইতেন তাঁর সকল গুরুভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র ও সমগ্র সারস্বত গৌড়ীয় পরিবারের সবাই যেন ঐক্যবদ্ধভাবে সেবায় ব্রতী হন। আজকে এখানে গৌড়ীয় মঠের অনেক সদস্যবৃন্দ উপস্থিত আছেন, তাই আমরা খুবই আদৃত অনুভব করছি। আমরা জানি না তাদেরকে কি প্রসাদ দেওয়া হবে। তাদের জন্য একাদশী প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মাদুরাই থাকাকালীন আমি একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেছিলাম, যা ছিল প্রারম্ভিক সংস্করণ। তবে তারা বলেছিল, “আসল উদ্বোধনটি হবে মায়াপুরে ব্যাস-পূজার দিন!” এই অ্যাপটির নাম ‘মাই সাধনা’, যা এক বছরের অধিক সময় ধরে আপনার সাধনার হিসাব রাখবে। এর আরো অনেকগুলি দিক রয়েছে। এখানে উপস্থিত সেবাস্বরূপ দাস এই অ্যাপটি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সে এই অ্যাপটির কিছু উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করতে চায়। সবাই যদি আমাকে রিপোর্ট পাঠান, তাহলে আমি ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ব! প্রভু এইসব পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়গুলিতে কাজ করেছেন, হয়ত কিছুদিন দেরি হচ্ছে, কিন্তু অ্যাপটি খুব শীঘ্রই চালু হবে! দক্ষিণ ভারতে তারা বলেছিল যে এটি সব ভাষায় উপলব্ধ হবে। বাংলায় হয়ে গেছে। (ইতিমধ্যেই বাংলা ভাষায় উপলব্ধ হয়েছে।)
এখানেই আমি আমরা বক্তব্যে বিশ্রাম দিচ্ছি। এখন পাদপ্রক্ষালন, ভোগ নিবেদন ও পুষ্পাঞ্জলি নিবেদিত হবে।
Lecture Suggetions
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ