Text Size

২০২৫০৩৩০ ‘গুরু আজ্ঞা’ অনুষ্ঠানে সান্ধ্যকালীন প্রবচন

30 Mar 2025|Duration: 05:43:53|Bengali|Public Address|Madurai, India

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ৩০শে মার্চ, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ইসকন মাদুরাই, ভারতে প্রদান করেছেন।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

এখানে দুদিন কাটিয়ে আপনাদের কেমন লাগছে? এটি একটি খুব ভালো অনুষ্ঠান! সাফারির ভক্তদের অনুষ্ঠান আপনাদের কেমন লাগলো? আমরা বিভিন্নভাবে ভক্তদেরকে আমাদের সঙ্গ প্রদান করার চেষ্টা করেছি। প্রথম দিন সকালে আমি উপস্থাপন করেছিলাম যে কিভাবে প্রভুপাদ চেয়েছিলেন ভবিষ্যতে সংস্থায় লক্ষ লক্ষ দীক্ষাগুরু থাকবে!প্রভুপাদ বলেছিলেন গুরু হওয়া কোন কঠিন বিষয় নয়, কৃষ্ণ যা যা বলেছেন আপনাকে কেবল তারই পুনরাবৃত্তি করতে হবে। আপনারা হয়তো চান আমি আরো কিছুদিন এখানে থাকি, আপনারা চান আমি এই জগতে আরো কিছু সময় থাকি, আর বর্তমানে জিবিসির গৃহীত কার্যক্রম অনুসারে যদি কারো গুরু বর্তমান থাকেন তবুও সে গুরু হতে পারে, তবে কিছু শর্ত রয়েছে। তাদেরকে তাদের আধ্যাত্মিক গুরুর কাছ থেকে আজ্ঞা প্রাপ্ত হতে হবে, তাদেরকে কমপক্ষে ২৫ বছরের দীক্ষিত ভক্ত হতে হবে, এই অঞ্চলের ক্ষেত্রে সাউথ ইন্ডিয়ান ডিভিশন কাউন্সিলের(এসআইডিসি)অনুমোদন লাগবে আর জিবিসি সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশের ভোট লাগবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এসআইডিসিতে ২০-২৫ জনের নাম সুপারিশ করেছি। ৬৪ জন রয়েছেন যারা ২০০০ সালের পূর্বেই ব্রাহ্মণ দীক্ষা পেয়েছেন আর ৭২ জন এমন রয়েছেন যারা হরিনাম দীক্ষিত কিন্তু তাদের ব্রাহ্মণ দীক্ষা এখনো হয়নি। এটা আমি কেবল দক্ষিণ ভারতেরই কথা বলছি। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে  পাঁচ হাজার ভক্তকে দীক্ষা দান করার আদেশ দিয়েছিলেন আর আমি তা ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছি। যখন আমি এসআইডিসির সভাপতিকে আমার মনোনীত ভক্তদের নামসমূহ সুপারিশ করে পাঠিয়েছিলাম তারা বলেছিল যে বহু ভক্ত নাকি দীক্ষাগুরু হতে রাজি নন।  আমি যদিও বর্তমানে পুরুষ ভক্তদেরই মনোনীত করেছি এবং তাদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। আমার একজন পুলিশ আধিকারিক এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল তিনি পুরুষ ছিলেন না, তিনি একজন মহিলা ছিলেন। ভারতে লিঙ্গবৈষম্য করা হয় না। আমি শতকরা মান ভুলে গিয়েছি, তবে ভারতীয় লোকসভার শতকরা একটি নির্দিষ্ট ভাগ মহিলা আর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ১৭ শতাংশ বিচারপতি মহিলা।  আমি জানিনা কৃষ্ণ আরও কতদিন আমাকে এই জগতে রাখবেন তবে আমি যখন থাকবো না তখন আপনাদের জন্য গুরু হবার এই পদ্ধতি অনেক সহজ হয়ে যাবে কারণ সেক্ষেত্রে জিবিসির ভোটের প্রয়োজন হবে না, আপনাদের কেবল ১০ বছরের ব্রাহ্মণ দীক্ষিত হলেই চলবে। যেহেতু আমি বলেছি যে আমাদের প্রচারকার্যকে বিস্তার করার দরকার রয়েছে তাই প্রত্যেক ভক্তের ক্লাস দেওয়া দরকার। এভাবে তাদের প্রচার করার অনুশীলন করা উচিত কারণ আমরা দেখতে চাই ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ইচ্ছা পূর্ণ হচ্ছে। আর ২০০০ সালের পূর্বে ৭২ জনে ভক্ত দীক্ষা নিয়েছেন কিন্তু তারা এখনো ব্রাহ্মণ দীক্ষিত হতে পারেননি। তাদের শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করা উচিত, ভক্তিশাস্ত্রী করা উচিত এবং ব্রাহ্মণ দীক্ষা পাওয়ার জন্য নিজেদেরকে গড়ে তোলা উচিত।  শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থের শিক্ষাসমূহ যদি আপনার জানা থাকে তবে আপনি শিক্ষাগুরু হিসেবে অথবা যে কোন ভাবেই সেই শিক্ষা সমূহ প্রচারে যুক্ত হতে পারেন। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন আপনি যদি কেবল কৃষ্ণ যা বলেছেন তারই পুনরাবৃত্তি করেন তবে আপনিও একজন গুরু। তাই আমরা চাই যারা হরিনাম দীক্ষা গ্রহণ করেছেন তারা যেন ব্রাহ্মণ দীক্ষাও গ্রহণ করেন আর তার জন্য আপনাকে ভগবতগীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম তিনটি স্কন্ধ অধ্যয়ন করতে হবে। আর আমরা চাই এভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আন্দোলনের আরো প্রচার-প্রসার হোক এবং যতজনকে আপনি হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে, ভক্তিমূলক সেবা করতে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন সেইটা হবে আপনার কৃতিত্ব। আমি বলতে চাইছি যে সকলেই ক্রিকেট দুনিয়ার তারকাদেরকে চেনে, চলচ্চিত্র জগতের তারকাদেরকে চেনে, কিন্তু আসলেই সকলের যাকে চেনা দরকার তিনি হলেন কৃষ্ণ আর আমাদের মন্দিরগুলো এবং ভক্তরা এই কাজটিই করে থাকেন। শ্রীল প্রভুপাদ যখন আমাকে একজন জিবিসি সদস্য হিসেবে নিয়োগ করেন, আমি ছিলাম প্রভুপাদের দ্বারা মনোনীত শেষ জিবিসি সদস্য এবং আমার প্রথম কার্যক্ষেত্র হয় বাংলা এবং উড়িষ্যা। ক্রমে আমি দক্ষিণ ভারতের দায়িত্বভার গ্রহণ করি এবং চেন্নাই আর বেঙ্গালুরুতে প্রচারকার্য শুরু করি। বর্তমানে দক্ষিণ ভারতে অনেকগুলি শাখা, অনেক মন্দির স্থাপন হয়েছে। আমি সমস্ত মন্দিরের সভাপতি এবং শাখাকেন্দ্র গুলির কাছে কৃতজ্ঞ।  এই সকল মন্দিরের সাথে যুক্ত সকল গৃহস্থ্য ভক্তদের এবং অন্যান্য সকল ভক্তদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি যে ভক্তদের প্রচারের মাধ্যমে জগৎবাসী উপকৃত হবে। আমরা এই দেহ নই আমরা এই দেহে থাকা চিন্ময় আত্মা। মায়াপুরে টিওভিপির পশ্চিমভাগে আমরা একটি মিউজিয়াম তৈরি করছি। আমরা এ বিষয়ে বিভিন্ন নকশা তৈরি করছি এবং একনাথ গৌর দাস আমাদের সে বিষয়ে সহায়তা করছে। আমরা এভাবে সকলের কাছে প্রদর্শন করতে চাই যে আসলে তারা কে এবং কিভাবে তাদের সৃষ্টিকার্য সম্পাদিত হয়। বর্তমানে গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে মায়াপুরে ১৫লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম হয় এবং দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের জন্য আমাদের একটি নির্দিষ্ট পরিক্রমাকারী দল রয়েছে। বলরাম গোবিন্দ দাস এর তত্ত্বাবধানে সহায়তা করে। কিছু ভক্তরা এই দক্ষিণ ভারত ভ্রমণকারী দলে যোগদান করতে চেয়েছিলেন কারণ তাহলে তারা ইডলি, ধোসা, দই বিভিন্ন সুস্বাদু প্রসাদ পেতে পারবেন।  তো এই বছর আমরা কতজন ভক্তকে নিয়ে এসেছি? ৬০০ ভক্ত।  তো আপনাদের সকলেরও পরিকল্পনা করা দরকার যে কিভাবে আগামী বছরগুলিতে অন্ততপক্ষে একবার আপনারাও এই দক্ষিণ ভারত ভ্রমণকারী দলে যোগদান করতে পারেন। বলরাম গোবিন্দ দাস অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে, সে ঠিকমতো প্রসাদ পায়না! সে নিজের যত্ন নেয় না! আমি তাকে বলেছি যে তোমার ঠিক মত প্রসাদ পাওয়া দরকার, নয়তো তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ! তো এভাবে সে অনেক কঠোর পরিশ্রম করে এবং তাই আপনাদেরও উচিত দক্ষিণ ভারত পরিক্রমায় অংশগ্রহণ করে তাকে আরো উৎসাহ প্রদান করা। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে আরো অনেক কিছু করতে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি আমাকে তার উইলের একজন অছি হিসেবেও নিযুক্ত করেন। আপনারা শ্রীবল্লভ দাস, হরিলীলা দাস এবং বিসিএসটির দ্বারা নির্মিত একটি উপস্থাপনা দেখলেন।  শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে ভক্তিবেদান্ত চ্যারিটি ট্রাস্ট(বিসিএসটি এর একজন আজীবন সভাপতি হিসেবেও নিয়োগ করেন। রমণীপতি দাস এখানে উপস্থিত রয়েছেন যিনি এই ট্রাস্টের নতুন তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছেন।  বিসিএসটি ট্রাস্ট এর কাজ হচ্ছে গৌড়মন্ডল ভূমির সকল পবিত্র স্থানসমূহের সংরক্ষণ করা। আর এভাবে প্রভুপাদ আমাকে অনেক সেবা প্রদান করেছিলেন এবং সেগুলি যথাযথভাবে পূর্ণ করতে আমার আপনাদের সহায়তার প্রয়োজন।  তো আমি আশা করি যে আপনারা উৎসাহিত হয়েছেন এবং আপনারা আমাকে সহায়তা করবেন। সাধারণ মানুষেরা মনে করে যে তারা তাদের এই দেহটি এবং তারা কৃষ্ণকে তো একেবারেই চেনে না। কৃষ্ণ বৃন্দাবনে বিভিন্ন লীলা করেছেন এবং কখনো তিনি অসুর সংহারও করেছেন। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর ব্যাখ্যা করেছেন যে এই সকল অসুর সংহার লীলা অধ্যয়ন করার মাধ্যমে আসলে আমাদেরই অনর্থসমূহের নাশ হয়, যেমন পুতনা ছিল একজন রাক্ষসী কিন্তু সে অনেক সুন্দর একজন স্ত্রীলোকের রূপ ধারণ করে এসেছিল এবং তারপর কৃষ্ণ তার প্রাণবায়ুকে শুষে নিয়েছিল। এভাবে পুতনা আমাদের মধ্যে থাকা এক প্রকার অনর্থের প্রতীক যাকে কৃষ্ণ ধ্বংস করেছিল। এভাবে বৃন্দাবনে প্রায় বাইশ জন অসুর এবং অনর্থ এসেছিল আর যখন এইগুলো আপনারা অধ্যয়ন করবেন আসলে তার মাধ্যমে আপনারা আপনাদের মধ্যে থাকা অনর্থ সমূহেরই ধ্বংস সাধন করছেন আর তাই কৃষ্ণের সকল লীলাই মঙ্গলময়। আমি আশা করি যে আপনাদের সকলের কাছেই শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত এবং শ্রীমদ্ভগবত গীতা রয়েছে। বিবিটি ইন্ডিয়া বিভিন্ন ভাষাতে এই সকল গ্রন্থ সমূহ প্রকাশ করেছে আর আপনারা ট্রানসেন্ড অ্যাপ ব্যবহার করে এই সকল গ্রন্থের অডিও শুনতে পারেন। এই সকল গ্রন্থসমূহ আপনারা পড়ুন, শুনুন আপনারা যেটা চান। মালয়েশিয়ায় একজন ভক্ত আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে কৃষ্ণ কি তামিল ভাষা জানেন? কৃষ্ণ সব ভাষা জানেন! এমনকি তামিল পর্যন্ত! তিনি গাছেদের ভাষা, মৌমাছিদের ভাষা, সকল প্রাণীদের ভাষা জানেন! দয়া করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করুন।  আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যে যে স্থানে গমন করেছিলেন সেই সকল স্থানে তার শ্রীচরণচিহ্ন স্থাপনের প্রয়াস করছি। তার দয়া অচিন্তনীয়! আর আমরা দুটি স্থান পেয়েছি যেখানে নিত্যানন্দ প্রভু ভ্রমণ করেছিলেন। যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু গৃহস্থ আশ্রমে ছিলেন তখন নিত্যানন্দ প্রভু দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ করেছিলেন আর যখন মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করেন তখন উনি সমগ্র দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ করেছিলেন। আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কিছু শ্রীপাদপদ্মের অভিষেক ক্রিয়া এখানে সম্পন্ন করেছি।

সাফারি ভক্তরা এরপর কেরালা যাবে এবং সেখানে আরো কিছু মন্দির দর্শন করবে। সেখানে কিছু মন্দির রয়েছে যারা আমাদেরকে তিন ফুট বাই তিন ফুট স্থানও দিতে রাজি নয়। আমরা বলরাম গোবিন্দ দাসের উপর নির্ভর করে রয়েছি যে সে ঐ সকল মন্দিরগুলিকে রাজি করাতে পারে, যাতে তারা আমাদেরকে স্বল্প পরিসর স্থান দেয় যেখানে আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর চরণচিহ্ন স্থাপন করব। এটা আমাদের পরম গুরুর ইচ্ছা ছিল এবং আমরা এভাবে প্রভুপাদকে ওনার গুরুদেবকে সন্তুষ্ট করতে সহায়তা করার মাধ্যমে প্রভুপাদের সেবা করতে চাই। এটা আপনাদের কাছে একটি বড় সুযোগ নিজেদেরকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং শ্রীল প্রভুপাদের সঙ্গে যুক্ত করার।  শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে উনি কেবল দীক্ষাগুরু নয় উনি সকলের শিক্ষাগুরুও।  তেমনি আমিও সকলকে শিক্ষা প্রদানও করে থাকি। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু চেয়েছিলেন তার সকল অনুগামীরা যেন দীক্ষা গুরু হয়।  একজন বরিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন সারঙ্গ ঠাকুর। মহাপ্রভু যখনি তাকে দেখতেন তখনই তাকে জিজ্ঞাসা করতেন তোমার একজনও শিষ্য নেই কেন? তাই উনি ঠিক করলেন যে ঠিক আছে আগামীকাল আমি প্রথমেই যাকে দর্শন করব তাকেই দীক্ষা প্রদান করব আর তারপর পরের দিন তিনি প্রাতঃস্নান করতে গঙ্গায় যান। তখন গঙ্গা দিয়ে একটি মৃতদেহ ভেসে যাচ্ছিল। তখন তিনি মনে করলেন এটিই হলো সেই প্রথম ব্যক্তি যাকে আজ আমি প্রথমে দর্শন করেছি তাই তাকেই উনি মন্ত্র প্রদান করলেন!- “হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে” এবং তাকে দীক্ষা দিয়ে মুরারি চৈতন্য দাস নাম প্রদান করলেন আর তিনি বেঁচে উঠলেন! হরিবোল! আর যেহেতু তিনি ছিলেন আগে থেকেই মৃত তাই তিনি গঙ্গায় জলের নিচেও হরিনাম জপ করতে পারতেন, তিনি বাঘের পিঠে চড়তেন আর এভাবে গ্রামে গ্রামে ভ্রমণ করে বেড়াতেন।  লোকজন এই দৃশ্য দেখে অত্যন্ত আশ্চর্য হতো এবং তার হাজার হাজার শিষ্য হয়েছিল। তো এভাবে সারঙ্গ ঠাকুরের মাত্র একজন শিষ্য ছিল কিন্তু সেই শিষ্যের হাজার হাজার শিষ্য ছিল! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! তো এভাবে আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শক্তি দেখতে পাই এবং আমি চাই আপনারা সকলে সেই শক্তি দ্বারা আবিষ্ট হন। 

আমি শুনলাম যে এখানে কিছু ভক্তরা আমার ভার্চুয়াল গ্রন্থবিতরনে অংশগ্রহণ করে, আমি তাদের সকলের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। প্রত্যেকদিন সকালে আমি মায়াপুরের গ্রন্থ প্রচারের বিবরণ শ্রবণ করি আর আমার মনে হয় তারা আমার ভার্চুয়াল বুক টেবিলের বিবরণও প্রদান করে থাকে।  গতকালকে আমি ১৯৮ টি গ্রন্থ বিতরণ করেছি আর এভাবে যখন আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি তখনও আমার ভার্চুয়াল বুক টেবিল আমার হয়ে গ্রন্থ বিতরণ করছে। যদি আমরা কারোর সঙ্গে কথা বলি আমরা কতক্ষণ কথা বলতে পারব? কিন্তু তারা যদি একখানা গ্রন্থ ক্রয় করে, যেমন শ্রীল প্রভুপাদের ভগবত গীতা তাহলে তারা আরো কত ঘন্টা বেশি সময় ধরে বেশি পড়তে পারবে!

এরপর এখান থেকে আমি মায়াপুরে ফিরে যাবো এবং  সেখানে গিয়ে আমি বীরনগরে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের জন্মস্থানে শ্বেত প্রস্তর নির্মিত একখানি ফলক স্থাপন করব। বলরাম গোবিন্দ দাস এবং কৃষ্ণকথা দেশের ভক্তরা আমাদেরকে তার জন্য অনুদান দিয়েছেন এবং আমরা এর রূপদানের চেষ্টা করছি। শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের জন্মস্থানে বহুবার গিয়েছেন এবং সেখানে কিছু একটা স্থাপনা করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। যেহেতু আমরা সেখানে সুন্দর কিছু একটা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি তাই আমরা আশা রাখি যে আপনারা মায়াপুরে আসবেন এবং ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের জন্মস্থানও দর্শন করবেন। দক্ষিণ ভারতে কিভাবে পাদপীঠ স্থাপন করা হবে, কিভাবে ভক্তদেরকে প্রচারকার্যে নিয়োগ করে প্রচার বৃদ্ধিকরা হবে, কিভাবে ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের জন্মস্থানের উন্নয়ন করা হবে, এইরকম আরো বহু কিছুর চিন্তা আমি করি। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে বলেছিলেন অসীম রূপে প্রচারকে বর্ধিত করতে আর এই প্রচারকে বাড়াতে আমি আপনাদের সহায়তা প্রার্থনা করি। আপনাদের সকলকে অনেক ধন্যবাদ।  আমি এসআইডিসির সকল নেতৃবর্গকেও আমার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি যারা আমাকে সহায়তা করছে। আমি দেখতে পাই যে আমার যে সমস্ত গুরুভ্রাতাগণ ছিলেন তারা অনেকে ইতিমধ্যেই এই জগত থেকে প্রস্থান করেছেন এবং তাদের শিষ্যরা(যদিও সকলে নয়)তাদের গুরুর উপরে থাকা দায়িত্বভার নিজেরা গ্রহণ করেছে।  আমিও চাই যে আমার শিষ্যরা যেন আমার উপর থাকা দায়িত্বভারকে গ্রহণ করে, যখন আমি এই জগতে রয়েছি অথবা আমি এই জগত থেকে প্রস্থান করেছি উভয় সময়েই। হরিবোল! গৌরাঙ্গ! একনাথ গৌর দাস এখন আপনাদের বৈশাখ মাসের চ্যালেঞ্জ সম্বন্ধে কিছু বলবে।  শিশুদের জন্য অনেক রকমের চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এর পরের মাস থেকেই শুরু হচ্ছে বৈশাখ চ্যালেঞ্জ। গুরু হওয়ার দায়িত্বভার গ্রহণ করার অনুষ্ঠানটি কাল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দুজন ভক্তের জন্য। রেবতি রমন দাস এবং চৈতন্য অবতারি দাস গুরু হওয়ার জন্য জিবিসির দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে। আমি সিআইডিসিকে আমার তরফ থেকে অনুমতি প্রদান করছি যে, যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে তাদের যতজনকে প্রয়োজন তারা যেন তাদের স্বীকৃতি দিয়ে দেয়।  এটা সিআইডিসির তালিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আলাদা তালিকা রয়েছে। আমি আপনাদেরকে সেই তালিকাসমূহ দেখাতে চেয়েছিলাম কিন্তু ব্রজেশ্বর গৌর দাস আজ সন্ধ্যেবেলায় উপস্থিত নেই।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by পায়েল চন্দ্র 19/02/2026
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions