Text Size

২০২৫০২০৯ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৩.৪৬-৪৮

9 Feb 2025|Duration: 00:49:13|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
  যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
  পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
  হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
  ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়  

শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৩.৪৬

মৈত্রেয় উবাচ
ইত্যুপন্থীয়মানোঽসৌ মুনিভিব্রহ্মবাদিভিঃ
সলিলে স্বখুরাক্রান্ত উপাধত্তাবিতাবনিম্॥ 

অনুবাদ: মহর্ষি মৈত্রেয় বললেন—এইভাবে মহর্ষি ও ব্রহ্মবাদীগণ কর্তৃক স্তুত হয়ে, ভগবান তাঁর খুর দ্বারা পৃথিবীকে স্পর্শ করে, তাকে জলের উপর স্থাপন করলেন। 

তাৎপর্য: ভগবানের অচিন্ত্য শক্তির দ্বারা পৃথিবীকে জলের উপর স্থাপন করা হয়েছিল। ভগবান সর্বশক্তিমান, এবং তাই তিনি তাঁর ইচ্ছা অনুসারে বিশাল গ্রহসমূহকে জলে অথবা বায়ুতে স্থাপন করতে পারেন। মানুষের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক কখনও ধারণা পর্যন্ত করতে পারে না কিভাবে ভগবানের এই সমস্ত শক্তি ক্রিয়া করতে পারে। যে নিয়মের দ্বারা এই সমস্ত ঘটনা সম্ভব হয়, তার কিছু অস্পষ্ট বিশ্লেষণ মানুষ করতে পারে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানুষের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ভগবানের কার্যকলাপের ধারণা করতে অক্ষম। তাই একে বলা হয় অচিন্ত্য। তবুও কূপমণ্ডুক দার্শনিকেরা কাল্পনিক ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে।

শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৩.৪৭

স ইত্থং ভগবানুর্বীং বিষ্বকসেনঃ প্রজাপতিঃ।
রসায়া লীলয়োল্লীতামপ্সু ন্যস্য যযৌ হরিঃ॥ 

অনুবাদ: এইভাবে সমস্ত জীবের পালনকর্তা পরমেশ্বর ভগবান বিষ্ণু জলের ভিতর থেকে পৃথিবীকে উদ্ধার করে, তাকে জলের উপর স্থাপন করে, তাঁর স্বীয় ধামে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। 

তাৎপর্য: পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু তাঁর ইচ্ছাক্রমে বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য অসংখ্য অবতাররূপে জড় জগতে অবতরণ করেন, এবং তারপর তাঁর স্বধামে প্রত্যাবর্তন করেন। যখন তিনি আসেন, তখন তাঁকে বলা হয় অবতার অর্থাৎ ‘যিনি অবতরণ করেন’। ভগবান ও তাঁর বিশিষ্ট ভক্তেরা, যাঁরা এই পৃথিবীতে আসেন, তাঁরা আমাদের মতো সাধারণ জীব নন।

শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৩.৪৮

য এবমেতাং হরিমেধসো হরেঃ 
কথাং সুভদ্রাং কথনীয়মায়িনঃ
শৃন্বীত ভক্ত্যা শ্রবয়েত বোশতীং 
জনার্দনোহস্যাশু হৃদি প্রসীদতি॥

অনুবাদ: কেউ যদি ভক্তি সহকারে বরাহদেবের এই মঙ্গলময়ী কাহিনী শ্রবণ ও বর্ণনা করেন, তাহলে সকলের হৃদয়ে বিরাজমান পরমেশ্বর ভগবান অত্যন্ত প্রসন্ন হন।

তাৎপর্য: ভগবান তাঁর বিভিন্ন অবতারে আবির্ভূত হন, লীলাবিলাস করেন, এবং এক বর্ণনামূলক ইতিহাস তাঁর পিছনে রেখে যান, যা তাঁরই মতো অপ্রাকৃত। আমরা সকলেই কোন আশ্চর্যজনক বর্ণনা শুনতে ভালবাসি, কিন্তু অধিকাংশ কাহিনী মঙ্গলজনক নয় অথবা শ্রবণীয় নয়, কেননা সেইগুলি জড়া প্রকৃতির নিকৃষ্ট গুণসম্পন্ন। প্রতিটি জীব উচ্চতর গুণসম্পন্ন চিন্ময় আত্মা, এবং কোন লৌকিক বস্তুই তার পক্ষে মঙ্গলজনক হতে পারে না। তাই বুদ্ধিমান মানুষের কর্তব্য ভগবানের লীলার বিস্তারিত বর্ণনা নিজে শ্রবণ করা এবং অন্যদেরও শ্রবণ করার সুযোগ দেওয়া, কেননা তা জড় অস্তিত্বের ক্লেশ নষ্ট করবে। ভগবান তাঁর অহৈতুকী কৃপার ফলেই এই পৃথিবীতে অবতরণ করেন, এবং তাঁর কৃপাময় কার্যকলাপের ইতিবৃত্ত রেখে যান, যাতে ভক্তেরা তার দিব্য ফল লাভ করতে পারে।

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: এটি এক অত্যন্ত বিরল ঘটনা যে আমরা শ্রীমদ্ভাগবতের বরাহদেবের লীলাবিলাসের অংশটি পড়ছি এবং আজই হচ্ছে বরাহ দ্বাদশী। আমরা পড়লাম যে কিভাবে বরাহাদেব ধরিত্রীকে তুলেছিলেন এবং অসুর হিরন্যাক্ষকে হত্যা করেছিলেন। কি করে ভগবান পৃথিবীকে তুলতে পারেন? এটা সাধারণ জীব অচিন্ত্য। তারা মনে করে এটা একটা কাল্পনিক, কিন্তু এটাই হচ্ছে আসলে বাস্তব। যদি আমরা এই অবিশ্বাস্য লীলাবিলাস, পরমেশ্বর ভগবানের অসাধারণ কার্যাবলীর কথা স্মরণ করি, তাহলে তাতে আমাদের হিতসাধন হয়। ভগবান তিনি যা চান, তাই করতে পারেন। এখন এটি সাধারন মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য হতে পারে, কিন্তু ভক্তদের কাছে এটা তত বিশাল কিছু নয়। ভগবান সবসময়ই অত্যাদ্ভুত কার্যকলাপ করে থাকেন। 

ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বিষ্ণু সহস্রনাম শ্রবন করছিলেন এবং যখন তিনি বরাহদেবের নাম শ্রবণ করেছিলেন, তখন তিনি বরাহদেবের রূপ প্রকাশ করেছিলেন। তার দিব্য দেহ থেকে চারটি পদ, চারটি ক্ষুর বাহির হয়েছিল এবং যদি কেউ ভগবান হওয়ার দাবি করে, তাহলে বলবে, “দয়া করে আমাকে আপনার ক্ষুর দেখান।” আমরা তাদেরকে বিশ্বরূপ দর্শন করানোর কথা বলছি না, কেবল ক্ষুর দেখান। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তিনি এইরকম বিস্ময়কর লীলাবিলাস করেছিলেন, কারণ যাইহোক না কেন তিনি হচ্ছেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান। তিনি ভক্ত মনোভাব নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, কিন্তু কখনো কখনো তিনি এটাও প্রকাশ করেছিলেন যে তিনি হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান। বরাহ দেব এই পৃথিবীতে জলের উপরে রেখেছিলেন, তিনি ভূমণ্ডলকে জল, বাতাস, যেখানেই তিনি চান, সেখানেই রাখতে পারেন। তাঁর পক্ষে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। 

নবদ্বীপে একজন ভক্ত ছিলেন, তাঁর নামানুসারে দেবানন্দ গৌড়ীয় মঠের নামকরণ হয়। এটি বলা হয়েছে যে এই ভক্ত ছিলেন ভগবান বরাহোদেবের ভক্ত। তিনি প্রত্যেকদিন বরাহ দেবের পূজা করতেন। একদিন তিনি এই প্রার্থনা করেছিলেন যে তিনি বরাহ দেবকে দর্শন করতে চান। তখন বরাহ দেব তার সম্মুখে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং বরাহ দেবের দর্শন পেয়ে তিনি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছিলেন। তিনি প্রণাম করে খুব আনন্দিত হইল। তাই সেই গৌড়ীয় মঠে তাদের বরাহদেবের এক শ্রীমূর্তি আছে। বরাহদেব তিনি জল থেকে নীলাভ বর্ণে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আপনারা কি কখনো এমন একটি শুকর দেখেছেন যে নীল বর্ণের? এমন এক শুকর যে নিজেকে বিস্তারিত করতে পেরেছে ভূমন্ডলকে উত্থিত করার জন্য?

দেখুন ভক্তদের একটি গুন হচ্ছে যে, তারা সবসময় শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর অবতারদের সম্বন্ধে চিন্তা করেন। এখানে আমরা দেখছি যে প্রতিদিন সহস্রাধিক মানুষ আসেন, এটি বলা হয়েছে যে মানুষেরা পবিত্র তীর্থস্থান সমূহে যান ভক্তদের সঙ্গ করার জন্য, ভক্ত সঙ্গ করা হচ্ছে দ্বিতীয় ধাপ প্রেম ভক্তি পেতে। প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে শ্রদ্ধা, শ্রদ্ধাপরায়ণ হয়ে শ্রবণ, দ্বিতীয় পদক্ষেপ হচ্ছে সাধুসঙ্গ এবং তৃতীয় পদক্ষেপ হচ্ছে হরেকৃষ্ণ নাম-কীর্তন করা ও ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলন। তাই সহস্রাধিক ভক্তরা মায়াপুরে আসেন, তাদের ভক্তদের দেখা উচিত, তাদের ভক্তসঙ্গ করা উচিত। শ্রীমদ্ভাগবতের নবম স্কন্ধে শ্রীল প্রভুপাদ একটি তাৎপর্যে বলেছেন যে— যখন কৃষ্ণভাবনামৃতের কথা হয়, সেক্ষেত্রে পুরুষ, মহিলা, শূদ্র, যাইহোক না কেন তারা সবাই সমান। মানুষেরা যখন তারা মায়াপুরে আসে, তারা ভক্ত সঙ্গ করতে পারেন, তারা গ্রন্থ ক্রয় করতে পারেন, কিছু কৃষ্ণ কথা শ্রবণ করতে পারেন। গৃহস্থ হওয়া এক বড় দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে স্বামীকে দেখতে হবে তার স্ত্রী এবং পরিবার যাতে কৃষ্ণভাবনাময় হয় এবং স্ত্রীর এটি দেখা প্রয়োজন যে স্বামী যাতে কৃষ্ণভাবনাময় থাকেন এবং সন্তানেরা যাতে কৃষ্ণভাবনাময় থাকে। এটি এক গুরু দায়িত্ব। বরাহ দেব, তিনি হচ্ছেন বেদের মূর্ত প্রকাশ। তাঁর দিব্য স্বরূপের অংশসমূহকে এবং তাঁর কার্যাবলীকে বেদের স্বরূপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর বিভিন্ন কার্যকলাপ আছে, যদি আমরা সবসময় বরাহ দেব সম্বন্ধে চিন্তা করি, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীশ্রী পঞ্চতত্ত্ব, শ্রীশ্রী রাধা মাধবের কথা চিন্তা করি, তাহলে ভগবান অত্যন্ত প্রসন্ন হবেন। আমি দেখছি যে, অনেক ভক্তদের মোবাইল ফোন আছে, আমি জানিনা তারা কৃষ্ণভাবনাময় শো দেখেন নাকি, কিন্তু কোন না কোনভাবে আমরা এটা দেখতে চাই যে প্রত্যেকেই যাতে তাদের কৃষ্ণভাবনামৃতে অগ্রগতি লাভ করেন। আমরা অনেক ভক্তদের দেখতে চাই প্রত্যেকেই যেন কৃষ্ণপ্রেম লাভ করেন। কারা কৃষ্ণ কৃষ্ণপ্রেম চান? 

প্রভুপাদ আমাদেরকে পবিত্র নাম প্রদান করেছেন। কৃষ্ণ নাম এবং স্বয়ং কৃষ্ণ অভিন্ন। কখনো কখনো আমরা দীক্ষা প্রদান করি এবং কখনো কখনো দীক্ষার পর তারা নাম জপ করে না। আমি প্রথম যে ব্যক্তিকে আমেরিকাতে দীক্ষা প্রদান করেছিলাম, সে কৃষ্ণভাবনাময় কোন কিছুই করতো না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, “তুমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছ, তুমি প্রতিজ্ঞা করেছিলে!” সে বলল, “আমি এমন অনেক প্রতিজ্ঞা করেছি! আমি বলেছি কারো সাথে আমি পাঁচটার সময় বাসে দেখা করব কিন্তু, কিন্তু ছটা বেজে গেছে পৌঁছাতে, তাই আমি এই কথা দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তা ভঙ্গ করেছি, কারণ আমাদের এই সংস্কৃতি নেই।” যখন আমরা শ্রীবিগ্রহের সামনে প্রতিজ্ঞা করি, অগ্নির সামনে প্রতিজ্ঞা করি, গুরুর সামনে প্রতিজ্ঞা করি, তা এক অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ বিষয়। অর্জুন এক প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে— “যদি আমি আজ হত্যা করতে না পারি, তাহলে আমি নিজে দেহত্যাগ করব।” তিনি তা সত্যি বলেছিলেন। যখন তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তখন তা সত্যি সত্যি ছিল এবং বিপরীত পক্ষের পুরো সৈন্যবাহিনী এমন এক সজ্জা নির্মাণ করেছিল যে অর্জুনকে জয়দ্রথের কাছে যাওয়ার পূর্বে সমস্ত মহারথীদের পরাস্ত করতে হবে, তখন অর্জুন সমস্ত মহারথীদের পরাস্ত করেছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে সূর্যাস্ত হয়ে গিয়েছিল। জয়দ্রথ দৌড়ে এসেছিল এবং বলেছিল, “হা! হা! হা!” আমি এবার অর্জুনকে পেয়েছি!” এবং কৃষ্ণ তিনি এমন কিছু করেছিলেন যে, তিনি মেঘদের অন্য একদিকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ও তখন সূর্যালোক প্রকাশিত হয়েছিল। এবং শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন যে, “তোমার তীর এমনভাবে সজ্জিত করো, যাতে যখন তুমি জয়দ্রথের মস্তক ছেদন করবে, তা তার পিতার কোলে গিয়ে পড়ে।” তিনি তা করেছিলেন এবং জয়দ্রথের পিতা একটি অভিশাপ দিয়েছিল, যে জয়দ্রথের মস্তক মাটিতে নিক্ষেপ করবে সে মারা যাবে। তাই, জয়দ্রথের পিতা তার কোলে জয়দ্রথের মস্তক দেখে আঁতকে উঠলো, “আহহহহহ!” এই বলে তিনি সেই মস্তক ছুড়ে ফেলেছিল, আর তাই তিনিও মারা গিয়েছিল। তাই প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা হচ্ছে জীবন মরণের মতো। 

যাইহোক, বরাহ দেবের কথা শোনার জন্য আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি আমাদেরকে শ্রীমদ্ভাগবত প্রদান করেছেন। বরাহ দেব হচ্ছেন আসলে শ্রীকৃষ্ণ। এই রূপ ধারণ করলেন কৃষ্ণ এবং এই লীলা করলেন। আজকে হচ্ছে বরাহ দ্বাদশী এবং পরবর্তী দিন হচ্ছে নিত্যানন্দ ত্রয়োদশী। এইভাবে আমরা ভগবানকে তাঁর বিভিন্ন আবির্ভাব তিথিতে তাঁকে স্মরণ করি, কৃষ্ণ-জন্মাষ্টমী, শ্রীরাধাষ্টমী, শ্রীরামনবমী। তোমরা তোমাদের সঙ্গ তীর্থযাত্রীদেরকে প্রদান কর, তাদেরকে শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর বিভিন্ন অবতারদের কথা বলো, তাদেরকে শ্রীল প্রভুপাদ সম্বন্ধে বলো। এমনকি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শ্রীনরেন্দ্র মোদি বলেছেনযে, বেশিরভাগ মানুষই সেই বয়সে অবসর গ্রহণ করে, কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ তিনি প্রচার প্রারম্ভ করেছিলেন। তিনি অনেক হিন্দিতে কথা বলেন, আমি সব বুঝিনা, একটা জিনিস বলছিলেন, “কোণে কোণে!” — কোনে কোনে পৃথিবীতে গিয়েছেন শ্রীল প্রভুপাদ।

আসলে আমাদের শরীর কৃষ্ণের সম্পত্তি এবং এভাবে বরাহদেব এই জড় জগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বৈকুণ্ঠে থাকেন। যখন আমরা শরীর ত্যাগ করি, শ্রীকৃষ্ণ চান যে আমরা যাতে আমাদের গৃহ আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাই। এমন নয় যে যদি আমরা শরীর ত্যাগ করি, এটা ১০০% নিশ্চিত যে আমরা এই শরীর ত্যাগ করব। তাই এটা হচ্ছে যখনই আমরা এই শরীর ত্যাগ করব।  

গৌরাঙ্গি একটি প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছে। এই প্রতিযোগিতা হচ্ছে প্রত্যেককেই তাদের মৃত্যুর আগে কৃষ্ণভাবনাময় হতে হবে এবং আমি শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়ছিলাম, তিনি চান যে আমরা সবাই যাতে কারুনিকা—কারুনিকা—কৃপালু হই। মানুষেরা এখানে আসে, তারা মায়াপুর সম্বন্ধে কিছু শোনে। অবশ্য এটি হচ্ছে আধ্যাত্মিক জগতের জাতিসংঘ এবং ভক্তরা সমগ্র বিশ্ব থেকে এখানে আসেন এবং সমগ্র ভারত থেকেও আসেন। তাই তাদের প্রতি কৃপালু হবে। যদি তাদের কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদেরকে সাহায্য করবে। তোমরা হচ্ছেন অতিথিসেবক, আর তারা হচ্ছেন অতিথি। 

কিছু ভক্তরা শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদকে পুষ্প নিবেদন করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তিনি বলেছিলেন, “আমি অত্যন্ত পতিত এবং আমি এর যোগ্য নই।” মানুষেরা আমাকে সবসময় পুষ্প নিবেদন করে, হয়ত যদি তোমরা আমাকে পুষ্প নিবেদন কর, তাহলে আমি সমালোচিত হতে পারি। তোমরা সন্ন্যাসীদেরকে, শ্রীল প্রভুপাদ শিষ্যদেরকে ও সবাইকে পুষ্প নিবেদন করতে পার। আমাকে পুষ্প নিবেদন করার এক বড় প্রদর্শনী করবে না, আমায় যদি মানস পুষ্প দাও, সেটাই যথেষ্ট।

এখন আমাদের বিভিন্ন ঘোষণা আছে…

রাধারমন সেবক দাস: আমরা ভক্তদেরকে অনুরোধ করছি যে তাদের মোবাইলে জুম অ্যাপ ডাউনলোড করার জন্য। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ এ আমরা বিশেষ প্রভুপাদ সংযোগ দিবস পালন করব। সেখানে একই সাথে বাংলা, হিন্দি, রাশিয়ান এবং অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ হবে। এই ব্যবস্থাপনা হবে জুমের মাধ্যমে। যদি কোন ভক্তের সহায়তা প্রয়োজন হয়, সেই উপলক্ষে এই প্রবচনের পরে পঞ্চতত্ত্ব উঠানে হেল্প ডেস্ক উপলব্ধ থাকবে। এছাড়াও যে কোন দিনে ৬:৪৫ থেকে ৮টার মধ্যে মায়াপুর অ্যাকাডেমিতে তা উপলব্ধ থাকবে।

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: আজ হচ্ছে মায়াপুর অ্যাকাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠান। অনেক মানুষই হয়ত জানে না যে মায়াপুর অ্যাকাডেমি কি। মায়াপুর অ্যাকাডেমি শ্রীবিগ্রহ অর্চন প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ পরস্পর আলোচনামূলক বিগ্রহ অর্চন শিক্ষা প্রদান করে। এক অর্থে সেটি শ্রীল প্রভুপাদের দ্বারা শুরু হয়েছিল, তিনি জননিবাস প্রভুকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন এবং তাঁকে অন্যান্য পূজারীদের শিক্ষা দিতে বলেছিলেন। শ্রীবিগ্রহ হচ্ছে অর্চ অবতার এবং আমি সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন ভক্তদেরকে, বিভিন্ন পূজারীদেরকে বলেছি আমাকে এমন কিছু অলৌকিক ঘটনার কথা বলতে যা শ্রীবিগ্রহগণ করেছেন। আমার কিছু রেকর্ড রাখা উচিত ছিল, এটি অত্যন্ত অসাধারণ যে কত বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। তাই, আমরা একটি কোর্স প্রারম্ভ করেছি, আমি লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বিভিন্ন ভক্তদের এই কোর্সটি করার জন্য খরচ বহন করেছি। এটা হচ্ছে তিন বা চার মাসের কোর্স, আমার ঠিক মনে পড়ছে না। ভক্তরা যারা মায়াপুর অ্যাকাডেমিতে কোর্স করে, সেই সমস্ত দিনে তারা এখানে আসতে পারে এবং দেখতে পারে যে পূজারীরা কিভাবে বস্ত্র পরিধান করান, শ্রীবিগ্রহের অর্চন করেন। আমরা সেই সমস্ত ভক্তরা যারা পূজা করেন, তাদেরকে এখানে এসে মায়াপুর অ্যাকাডেমিতে যুক্ত হয়ে অন্তত জীবনে একবার এই শিক্ষা লাভ করতে উৎসাহিত করছি।  মায়াপুর হচ্ছে শ্রীল প্রভুপাদের অর্চন স্থান। তাই এটি শ্রীবিগ্রহ অর্চন শিক্ষা লাভের জন্য এক উত্তম স্থান।

নরসিংহ কব প্রভু যদি এখানে থাকেন, তাহলে তিনি হয়ত কিছু কথা বলতে পারেন, তিনি আমাদের শ্রীবিগ্রহ অর্চন মন্ত্রী। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 17.06.2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions