মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
বিষয়: ইসকনের সাতটি উদ্দেশ্য —
পঞ্চম উদ্দেশ্য: “সদস্যবৃন্দ ও বৃহত্তর সমাজের উদ্দেশ্যে পবিত্র স্থান নির্মাণ করা”
জয়পতাকা স্বামী: শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি সমগ্র বিশ্বে ভ্রমণ করে বিভিন্ন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন যে প্রত্যেকটি মন্দির যাতে এক পবিত্র তীর্থস্থান হয়, যেখানে মানুষেরা আসতে পারবেন এবং পরিশুদ্ধ হতে পারবেন, আধ্যাত্মিক জীবনে উন্নত হতে পারবেন। শ্রীধাম মায়াপুর, শ্রীধাম বৃন্দাবন, এগুলি এমনিতেই পবিত্র ধাম। শ্রী মায়াপুর ধাম ঔদার্য ধাম হিসেবে পরিচিত, শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতী রাধারানীকে বলেছিলেন যে, “শ্রীধাম বৃন্দাবনে কেউ যে কৃপা প্রাপ্ত হয়, তা এই মায়াপুর ধামে প্রাপ্ত হয় যাবে।” কিন্তু এখানে অধিক কৃপা আছে! শ্রী বৃন্দাবন মাধুর্য ধাম হিসেবে পরিচিত, সেই লীলাস্থলী অত্যন্ত মধুর, এবং এটি উল্লেখিত আছে যে শ্রীবৃন্দাবন হচ্ছে মধুরতম এবং মথুরা হচ্ছে মধুরতর ও দ্বারকা হচ্ছে মধুর স্থান। তাই, শ্রীমতি রাধারানীকে বংশীবাদনরত দেখে শ্রীকৃষ্ণ এখানে এসেছিলেন, তিনি তাঁকে বলেছিলেন যে এই স্থান বৃন্দাবনের মতই সম কৃপা প্রদান করবে।তাঁর জন্য এত অপরূপ ধাম নির্মাণের জন্য তিনি তাঁকে সাধুবাদ জ্ঞাপন করেছিলেন। তাই এখানে আমাদের স্বাভাবিকভাবেই এক পবিত্র তীর্থস্থলী আছে, কিন্তু প্রত্যেক মন্দিরই হচ্ছে পবিত্র স্থান, যেখানে কেউ ভক্তিমূলক সেবা করে বহুবিধ সুকৃতি লাভ করে থাকেন। এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ সমগ্র বিশ্বের সব মানুষদের সুকৃতিবান করতে চাইতেন ।
যখন শ্রীল প্রভুপাদ বিভিন্ন মন্দিরে শ্রীবিগ্রহগণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন তার ফলে সেই সমস্ত স্থান এক পবিত্র তীর্থে পরিণত হয়েছিল, এবং লোকেদের সেখানে আগমনের কারণে তারা আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ লাভ করেছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে প্রতি নগর ও গ্রামে তাঁর পবিত্র নাম উচ্চারিত হবে। শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এই ভবিষ্যৎবাণী উপলব্ধি করার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাঁর তিরোভাবের পাঁচ দিন পূর্বে তিনি ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আর আমরা ইতিমধ্যেই ভারত এবং বাংলাদেশে অনেক পবিত্র ভূমি লাভ করেছি। বাংলাদেশ, অনেক হিন্দুরা সেই দেশ ছেড়ে পলায়ন করেছেন। আমাদের কাছে অদ্বৈত গোঁসাই-র আবির্ভাব স্থান, শ্রীবাস ঠাকুরের আবির্ভাব স্থান আছে, এবং আমরা গদাধর প্রভুর আবির্ভাব স্থান লাভের চেষ্টা করছি। আমাদের কাছে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধির আবির্ভাব স্থানও আছে এবং শ্রীল প্রভুপাদের ইচ্ছানুক্রমে আমরা পশ্চিম বাংলায় অনেক পবিত্র ভূমির সংস্কারকার্য সম্পন্ন করেছি।
সাম্প্রতিক কিছুদিন পূর্বে শ্রীল শিবারাম মহারাজ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেইসব লীলাস্থলিতে গিয়েছিলেন, যে স্থান আমরা প্রাপ্ত হয়েছি। তিনি বলেছেন যে এই সমস্ত স্থানগুলি অত্যন্ত মাধুর্যময়। সেখানে আপনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর উপস্থিতি অনুভব করতে পারবেন, সেইজন্য আমরা চাই যে সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন মন্দিরে যখন মানুষেরা যাবে, তখন তারাও যাতে শ্রীশ্রীরাধা-কৃষ্ণ, শ্রীশ্রীনিতাই গৌর, শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেব ইত্যাদি শ্রীবিগ্রহগণের উপস্থিতি সেখানে উপলব্ধি করতে পারেন।
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর, তিনি বীরনগরে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের কৃষ্ণকথা দেশের ভক্তবৃন্দরা বলেছেন যে তারা এই ভূমির সেবাকার্যে অংশগ্রহণ করতে চান। এইভাবে পূর্ববর্তী আচার্যগণকে মহিমান্বিত করার শ্রীল প্রভুপাদের যে বাসনা, তা পূর্ণ হচ্ছে। আমরা পবিত্র তীর্থস্থান সমূহের সোনার খনির মধ্যে অবস্থান করছি। আমি এটি বলছিলাম যে কিভাবে বাংলা হচ্ছে প্রথম নম্বরে, কিন্তু এখন তা তৃতীয় নম্বরে পিছিয়ে পড়েছে। এটি ভালো হয়েছে! আমি আমিষ গ্রহণের ক্ষেত্রে এক নম্বরে থাকার বিষয়ে বলছিলাম, এবং এখন নাগাল্যান্ড বা অন্ধ্রপ্রদেশ বা তেলেঙ্গানা এগিয়ে গেছে, তাই আমরা চাই যে সকল বাংলাবাসীরা প্রসাদভোজী হয়ে উঠুন। আমরা চাই যে এখানে প্রত্যেকের বৈষ্ণব প্রসাদভোজী হওয়া উচিত। আমার কাছে পরিসংখ্যান নেই, কিন্তু আমরা — সরল জীবন এবং উচ্চ চিন্তা— এই ধারণা প্রচার করার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশে সেখানে ৭-৮% হিন্দুরা আছেন আপনারা তাদের মধ্যে কতজন নিরামিষভোজী? ০.৫%, দেখুন কৃষ্ণভাবনামৃতের অর্থ হচ্ছে হরে কৃষ্ণ নাম কীর্তন করা, কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করা। আপনারা কতজন কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করতে পছন্দ করেন?
এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে প্রত্যেকে যারা আমাদের মন্দিরে আসেন, আমরা তাদেরকে পুরি, সবজি দেই। আমরা সেই সমস্ত মানুষদেরকে কৃষ্ণের প্রতি অনুকূল হতে পরিবর্তিত করতে চাই। এই বিপ্লব শ্রীল প্রভুপাদ পাশ্চাত্য দেশের প্রারম্ভ করেছিলেন। আপনার শ্রীমান রামেশ্বর প্রভুর থেকে তা শুনেছেন। তাই হরে কৃষ্ণ নাম কীর্তন করুন, কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করুন এবং এইভাবে ধীরে ধীরে মানুষদের পরিবর্তন করা শুরু করুন। শ্রীল প্রভুপাদের এই দুরদৃষ্টি ছিল এবং তাঁর কৃপায় এটি সমগ্র বিশ্বে প্রচারিত হয়েছে। আমাদের মন্দিরে আমরা শ্রবণ করি, এটা হচ্ছে শ্রবণ উৎসব যা চলছে। এই শ্রবণ উৎসবের পর কীর্তন উৎসব হবে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যে, পবিত্র নাম শ্রবণ-র মাধ্যমে আমরা আমাদের হৃদয় পরিশুদ্ধ করতে পারি। কীর্তন-শ্রবণ-কীর্তন, আমরা আশা করি যে ভক্তরা এই বিষয়ে উৎসাহিত হবেন এবং যে সমস্ত মানুষেরা আসছেন, তাদের আশীর্বাদ করবেন যাতে তারা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অধিক শ্রদ্ধান্বিত হতে পারেন।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
কোন প্রশ্ন আছে?
প্রশ্ন: দয়া করে আমাকে কোন ব্যক্তিগত নির্দেশ দিন, যা আমি আমার সারাজীবন পালন করতে পারব।
জয়পতাকা স্বামী: হরে কৃষ্ণ নাম করো এবং সুখী হও! কৃষ্ণের নাম স্বয়ং কৃষ্ণ থেকে অভিন্ন। যদি তুমি তোমার সারা জীবন নাম জপ কর, তাহলে খুব সহজেই তুমি ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারবে।
প্রশ্ন: আমরা বদ্ধ জীবদের ক্ষেত্রে দেখি যে, এমনকি যদি সামান্যতম জড়জাগতিক সমস্যা হয়, তাহলে আমাদের ভক্তি নিম্নগামী হয়। কিন্তু আমরা যখন মহাত্মাগনকে দেখি, যেমন আপনি কত সমস্যাকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু তবুও আপনি এগিয়ে চলেছেন এবং কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করছেন ও কত কত জীবদের উদ্ধার করছেন। তাই আমরা কিভাবে নিজেদেরকে অনুপ্রাণিত করব, যাতে আমরা এমনকি সমস্যাকর পরিস্থিতিতেও আমাদের ভক্তি বজায় রাখতে পারি এবং কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করতে পারি?
জয়পতাকা স্বামী: শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, মনে করো না এটা এক সহজ পন্থা। সাধারণত এই সাফল্য অর্জন করতে বহু বহু জন্ম লাগে, কিন্তু কৃষ্ণভাবনামৃতে তুমি এমনকি এক জীবনেই সেই সাফল্য অর্জন করতে পারো। কানাডার মন্ট্রিয়ালে শ্রীল প্রভুপাদ এই পাঠ দিচ্ছিলেন যে, “যদি তুমি ১০০ শতাংশ কৃষ্ণভাবনাময় হও, তাহলে তুমি ভগবদ্ধামে ফিরে যাবে।” কিন্তু ভক্তরা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন যে ১০০%, তা খুবই কঠিন! শ্রীল প্রভুপাদ এক উচ্চ আসনে বসেছিলেন, তিনি নিচে নামতে শুরু করেন, তিনি বললেন, “এমনকি ৯০%!” ভক্তরা একটু স্বস্তি বোধ করছিলেন, কিন্তু ভাবলেন ৯০%, বেশ কঠিন! তখন শ্রীল প্রভুপাদ সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করলেন এবং ভক্তদেরকে বললেন, “এমনকি ৮০%!” এই বলে তিনি তাঁর আসন থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং তার চাদর মুড়ি দিলেন, তিনি তাঁর কাঁধের উপর চাদর ছুড়ে দিয়ে বললেন, এমনকি ৭০%। তাই আমাদের ১০০% জন্য চেষ্টা করা উচিত, এমনকি যদি আমরা সেই পথে থাকি, তাহলে তবুও আশা আছে। এই জড়জগৎ দুঃখ-দুর্দশাময়—আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক, আধিদৈবিক। আর এই সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে জড়জগত থেকে বাইরে বের হওয়া। হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২