Text Size

২০২৫০২০১ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৩.৩৭-৩৮

1 Feb 2025|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ১ লা ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচনটি শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ৩য় স্কন্ধ, অধ্যায়, ৩৭-৩৮ নং শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্লোক ৩৭
দীক্ষানুজন্মোপসদঃ শিরোধরং
ত্বং প্রায়ণীয়োদয়নীয়দংষ্ট্রঃ।
জিহ্বা প্রবর্গ্যস্তব শীর্ষকং ক্রতোঃ
সত্যাবসথ্যং চিতয়োঽসবো হি তে॥

অনুবাদ: অধিকন্তু, হে প্রভু! বারবার আপনার অবতরণ হচ্ছে সর্বপ্রকার দীক্ষার বাসনা। আপনার গ্রীবা তিন প্রকার ইচ্ছার স্থান, এবং আপনার দশন দীক্ষার ফল এবং সমস্ত বাসনার সমাপ্তি। আপনার জিহ্বা দীক্ষার প্রারম্ভিক কর্ম, আপনার মস্তক হোমরহিত অগ্নি ও উপাসনার অগ্নি, এবং আপনার প্রাণ সমস্ত বাসনার সমষ্টি।

শ্লোক ৩৮
সোমস্ত রেতঃ সবনান্যবস্থিতিঃ
সংস্থাবিভেদাস্তব দেব ধাতবঃ।
সত্রাণি সর্বাণি শরীরসন্ধি-
ত্বং সর্বযজ্ঞক্রতুরিষ্টিবন্ধনঃ॥

অনুবাদ: হে ভগবান! সোম নামক যজ্ঞ আপনার বীর্য। আপনার বৃদ্ধি প্রাতঃকালীন শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠান। আপনার ত্বক আদি সপ্ত ধাতু অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের সপ্ত উপাদান। আপনার দেহসন্ধি বার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রকার যজ্ঞের প্রতীক। তাই আপনি সোম ও অসোম উভয় প্রকার সমস্ত যজ্ঞের বিষয়, এবং যজ্ঞের দ্বারাই কেবল আপনি আবদ্ধ হন।

তাৎপর্য: বৈদিক অনুষ্ঠানের অনুসরণকারীরা সাত প্রকার যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন, এবং সেইগুলি হচ্ছে অগ্নিষ্টোম, অত্যগ্নিষ্টোম, উকথ, ষোড়শী, বাজপেয়, অতিরাত্র ও আপ্তোর্যাম। যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে এই প্রকার যজ্ঞ অনুষ্ঠান করেন, তিনি ভগবানের সঙ্গে অবস্থিত বলে মনে করা হয়। কিন্তু যিনি ভগবদ্ভক্তি সম্পাদন করার মাধ্যমে ভগবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, বুঝতে হবে যে তিনি ইতিমধ্যেই সব রকম যজ্ঞ অনুষ্ঠান করেছেন।

***

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী : আজ আমরা দুটি শ্লোক একসাথে পড়ছি। শ্লোক ৩৭ এর কোন তাৎপর্য নেই, শ্লোক ৩৮ এর রয়েছে।  ১৯৭১ সালের অর্ধ কুম্ভ মেলায় প্রভুপাদ বলছিলেন যে কিভাবে যিনি ভগবানের ভক্তিমূলক সেবায় যুক্ত হয়েছে সে শাস্ত্রে উল্লিখিত সমস্ত যজ্ঞগুলি ইতিমধ্যেই সম্পাদন করেছে। একটা ভক্ত হাত তুলেছে প্রশ্ন দিয়েছে। তার প্রশ্ন ছিল—শ্রীল প্রভুপাদ আমি আমার অতীত জীবনে কোন পুণ্য কর্ম করেছি বলে আমার মনে পড়ে না, তাহলে কি করে আমি এই পথে আসতে পেরেছি? কি কড়ে? তখন প্রভুপাদ উত্তর দিলেন, “আমি তোমার জন্য সৌভাগ্য তৈরি করে দিয়েছি।”

তো এখানে আমরা চাক্ষুষ মন্বন্তর এবং স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরে ভগবান বরাহদেবের আবির্ভাব সম্পর্কে অধ্যয়ন করছি। স্বায়ম্ভুব মনু হচ্ছে অনেক যুগ আগের, শত শত যুগ আগের। তিনি ছিলেন ব্রহ্মার এই দিনের প্রথম মনু এবং সেই সময়ে উর্দ্ধলোকের মাত্র কয়েকটি লোক প্রলয় বারিতে নিমজ্জিত হয়নি। তাছাড়া নিম্নের সব কয়টি লোকই প্রলয় বারিতে নিমজ্জিত হয়েছিল এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। তবে পৃথিবীর অবস্থা তখন অত্যন্ত শোচনীয় ছিল কারণ সে সম্পূর্ণরূপে তার কক্ষচ্যুত হয়ে ব্রহ্মাণ্ডের সর্বনিম্ন ভাগ গর্ভসমুদ্রের তলদেশে নিমজ্জমান হয়ে ছিল। স্বায়ম্ভুব মনুর সময়ে আমরা হিরণ্যকশিপু এবং হিরণ্যাক্ষ দৈত্যকে পেয়ে থাকি। এখানে বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে পরম পুরুষোত্তম ভগবান বরাহ রূপ ধারণ করেছিলেন। তবে আমাদের এটা অবগত হওয়া প্রয়োজন যে ভগবান যে রূপই ধারণ করুন না কেন তা জড়জাগতিক বা অনিত্য নয়, তা সম্পূর্ণ অপ্রাকৃত। একটি জাগতিক শুকর কখনো একটি গ্রহের থেকেও বড় দৈহিক আকার ধারণ করতে পারে না। সমস্ত পণ্ডিত, ঋষি, তারা ভগবান যে বেদের রূপ এটার অনুভব বিস্তার করেছেন এবং সে কারণেই তিনি তার দেহকে ইচ্ছামতো আকার দিতে পারেন। সব ভক্তবৃন্দ ভগবানের সেই রূপকে দেখে অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। কিন্তু অভক্তেরা তাঁকে দেখে প্রচন্ড ভয় পেয়েছিল। যে সমস্ত ঋষিরা তাঁর প্রতি প্রার্থনা নিবেদন করছিলেন ভগবান তাদের প্রতি কৃপাপূর্ণ দৃষ্টিপাত করেছিলেন। তারপর তিনি সমুদ্রের জলে ঝাঁপ দেন, আর তাতে সমুদ্রের জলরাশি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে বিরাট দুটি তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল। সমুদ্র তাতে অত্যন্ত ভয়ভীত হয়ে ভেবেছিল যে সে হয়তো দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। তাই সে ভগবানকে প্রার্থনা নিবেদন করে বলে, “আমাকে রক্ষা করুন!”

তারপর ভগবান ধরিত্রীকে তার দশনি-শিখরে ধারণ করে সমুদ্র থেকে উঠে আসেন। দশনি-শিখরে ধরণীসহ ভগবানকে তখন অত্যন্ত সুন্দর দেখাচ্ছিলো। তারপর তিনি হিরণ্যাক্ষ দৈত্যকে সংহার করেন। হিরণ্যাক্ষ ধরিত্রীকে সেই সমুদ্রের তলদেশেই নিমজ্জমান করে রাখতে চেয়েছিল এবং তাই সে ধরিত্রীকে কক্ষচ্যুত করে। পদ্ম পুরানে বলা হয়েছে যে যদি আমরা শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করি তাহলে আমরা একশোরও অধিক অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ করতে পারি। হরিবোল! গৌরাঙ্গ!এটা আপনাদের সকলের উপর শ্রীল প্রভুপাদের বিশেষ কৃপা। পদ্মপুরাণে এমনটা সাধারনত সকলের জন্য বলা হয়েছে, তবে আমরা নবদ্বীপ ধামে বাস করছি তাই আমি জানিনা ধামের প্রভাবে এই ফলাফল কত গুনে বর্ধিত হবে। সাধারণত নবদ্বীপ ধামে যেকোনো পুণ্যকর্ম অথবা আধ্যাত্মিক ক্রিয়া-কলাপের ফলাফল হাজার গুণ বেশি হয়ে থাকে। তবে ভগবানের ভক্তদের চরণে অপরাধ বা হরিনামের প্রতি অপরাধ করলে এই আশীর্বাদ ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা যখন নবদ্বীপ ধামে বসবাস করছি, সেই জন্য অত্যন্ত সাবধান হওয়া উচিত যাতে কোন নাম অপরাধ হয় না। 

এখানে আমরা স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরে ভগবান বরাহদেবের আবির্ভাব সম্বন্ধে অধ্যয়ন করছি। এই লীলা লক্ষ লক্ষ বছর আগে সংঘটিত হয়ে থাকলেও বর্তমানেও তার শ্রবণ পরিশুদ্ধি প্রদানকারী। সম্প্রতি ৫০০ বছর বা তার কিছুকাল পূর্বেই আমরা শ্রীচৈতন্যদেবের অবতারকে পেয়েছি, পঞ্চতত্ত্বকে পেয়েছি। ভগবান বরাহুদেবের অবতারকে কেবলমাত্র উর্ধ্বলোকের বাসিন্দারাই চাক্ষুষ দর্শন করতে সমর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই ধরাধামে প্রত্যেকের সঙ্গে লীলাবিলাস করেছেন এবং হরিনাম সংকীর্তন প্রচার করেছেন। আমাদের দুর্ভাগ্য যে পাঁচশ বছর আগেই তা হয়ে গিয়েছে! তবে আমরা এখনো চাইলে সেই সকল লীলাস্থলীসমূহ দর্শন করতে পারি। চৈতন্য মহাপ্রভুর কীর্তন করেছিলেন চাঁদ কাজীর বাড়ি পর্যন্ত, সেটা এখনো দেখা যায়। চাঁদ কাজের সমাধি আছে।

ব্যাসদেব সমগ্র বৈদিক সাহিত্যকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন তবে তারপরও তিনি আত্মসন্তুষ্টি লাভ করতে পারেননি। তিনি চার বেদ ১০৮ উপনিষদ এবং মহাভারতসহ ১৭ পুরান রচনা করেন। কিন্তু তবুও তিনি খুশি ছিলেন না। তখন তিনি তাঁর গুরু নারদ মুনিকে জিজ্ঞাসা করেন যে কেন তিনি আত্মসন্তুষ্টি লাভ করতে পারছেন না!? তখন নারদ মুনি তাকে উত্তর দিয়েছিলেন ‘আপনার এমন কিছু রচনা করা উচিত যেখানে কেবল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদনের মাহাত্ম্য বর্ণনা থাকবে’।  এই ঘটনার মাধ্যমেই আমরা শ্রীমদ্ভাগবত প্রাপ্ত হয়েছি আর ঠিক এই কারণেই শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়নের প্রতি এত জোর দিয়েছেন এবং আমিও সে কারণেই সকলকে কোর্সসমূহ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করি। ভক্তিশাস্ত্রী কোর্সে শ্রীমদ্ভগবত গীতা, উপদেশামৃত, ভক্তিরসামৃতসিন্ধু এবং ঈশোপনিষদ অধ্যয়ন করানো হয়ে থাকে। ভক্তিবৈভব এবং ভক্তিবেদান্ত সেটা তো শ্রীমদ্ভাগবতের উপরে, আর ভক্তি-সার্বভৌম হল সম্পূর্ণ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত। কেন ভগবান একজন ভক্ত রূপে অবতীর্ণ হন আমাদের এই সকল বিষয় সম্বন্ধে অবগত থাকা উচিত এবং অন্যের কাছে তা ব্যাখ্যা করার ক্ষমতাও রাখা উচিত। কৃষ্ণের থেকে সরাসরি কৃষ্ণ প্রেম লাভ করাটা অত্যন্ত কঠিন বিষয় তবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পঞ্চতত্ত্ব এনারা সেই একই কৃষ্ণপ্রেম অত্যন্ত অবলীলায় দান করেন। গৌরাঙ্গ!

বাংলায় একটি কথা আছে ‘মুচি হইয়া শুচি হয় যদি কৃষ্ণ ভজে/ শুচি হইয়া মুচি হয় যদি কৃষ্ণ ত্যাজে’ মুচির ঘরে জন্ম নিয়েও কেউ যথার্থ পবিত্র হয়ে উঠতে পারে যদি সে কৃষ্ণের ভজন করে কিন্তু যদি কেউ অত্যন্ত পবিত্র পরিবারে অথবা উচ্চ ব্রাহ্মণ কূলেও জন্মগ্রহণ করে কৃষ্ণকে ত্যাগ করে তবে তাকে মুচির ন্যায় বর্ণাশ্রম ব্যবস্থার সবচেয়ে নিচু জাতি বলে পরিগণিত করা হয়। যদি আপনি কোন না কোনভাবে ভক্তিমূলক সেবায় যুক্ত হতে পারেন তবে আপনি মহিমান্বিত, কিন্তু কেউ যদি সকল প্রকার ধর্মানুষ্ঠান পালনকারী উচ্চব্রাহ্মণ পরিবারেও জন্মগ্রহণ করেন কিন্তু কৃষ্ণভক্ত না হন তাহলে তাকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। তাই ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু, অদ্বৈত গোঁসাই, পঞ্চতত্ত্বের কাছে শরণাগত হওয়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন ও তাঁদের কৃপা ভিক্ষা চাওয়া উচিত। মহাপ্রভু যখন সন্ন্যাস গ্রহণের পর সমগ্র ভারত ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন এবং যখন তিনি জগন্নাথপুরীতে ছিলেন তখন তিনি এমন কিছু লীলা প্রদর্শন করেছেন যা তিনি নবদ্বীপে থাকাকালীন কখনো করেননি। পথে যাকেই তিনি দেখেছেন তাকেই আলিঙ্গন করেছেন এর থেকে বোঝা যায় ভগবান সবাইকে কত ভালবাসেন এবং সকলকে কৃষ্ণপ্রেম দান করতে তিনি কতটা ব্যাকুল।

অমোঘ, সার্বভৌম ভট্টাচার্যের জামাতা, সে ছিল বৈষ্ণবদের নিন্দাকারী এবং একজন অভক্ত। সে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নিন্দা করেছিল এবং সে কারণেই সার্বভৌম ভট্টাচার্য এবং তার স্ত্রী উপবাস করছিলেন, ক্রন্দন করছিলেন ইত্যাদি বর্ণনা রয়েছে। তারপর মহাপ্রভুর বাসস্থানে কেউ একজন এসেছিল এবং তাকে মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করেছিলেন সার্বভৌম ভট্টাচার্যের কি খবর? তখন সেই ব্যক্তি মহাপ্রভুকে বলেন সার্বভৌম ভট্টাচার্য এবং তার স্ত্রী উপবাস করে আছে এবং অমোঘ তার মৃত্যু শয্যায় শায়িত। তারপর ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দ্রুত অমোঘের গৃহে গমন করেন। অমোঘ তার মৃত্যুশয্যায় ছিল, তার কলেরা অথবা সেরকম কিছু হয়েছিল এবং মহাপ্রভু তার শ্রীহস্তপদ্ম তার বুকে রেখে বললেন, “একজন ব্রাহ্মণের হৃদয় অত্যন্ত নির্মল হওয়া উচিত! কেন তুমি হিংসা ঈর্ষা এসব কলুষকে তোমার হৃদয়ে স্থান দিয়েছো?” তারপর তিনি অমোঘকে আদেশ দেন ‘উঠে দাঁড়াও এবং হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করো!’ তখন সে উঠে দাঁড়ায় এবং হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র নৃত্যকীর্তন করতে আরম্ভ করে। তার মধ্যে রতি স্তরের সকল দিব্য লক্ষণসমূহ প্রকাশিত হয়। গৌরাঙ্গ! ভগবান গৌরাঙ্গ তাকে একজন ভক্তে পরিণত করে দেন অথচ তিনি তাকে হত্যা করেননি, তিনি তার মধ্যে থাকা আসুরিক প্রবৃত্তিকে হত্যা করেছিলেন। তারপর তিনি যখন সার্বভৌম ভট্টাচার্যের বাড়িতে গেলেন, সার্বভৌম ভট্টাচার্য তাকে জিজ্ঞাসা করলেন—“কেন আপনি ওকে রক্ষা করলেন?” ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “তোমার গৃহের একটা কুকুরও পর্যন্ত আমার অত্যন্ত প্রিয়, কারণ তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়।” তাই শ্রীল প্রভুপাদের সেবাতে যুক্ত থাকার মাধ্যমে আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুরও অত্যন্ত প্রিয় হতে পারব। সার্বভৌম ভট্টাচার্য কি জয়!

আমি আশা করি ভগবানের বিভিন্ন অবতার সমূহের এই সকল লীলা আপনারা আপনাদের হৃদয়ে ধারণ করবেন। কারণ ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু মাত্র ৫০০ অথবা তার কিছু সময় পূর্বেই এই নবদ্বীপে লীলাবিলাস করেছেন, আর আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে আমরা পঞ্চতত্ত্ব, রাধামাধব অষ্টসখী, রাধামাধব মায়াপুরচন্দ্রের সেবা করতে পারছি। তো আমি আজকে এখানেই ক্লাসের বিশ্রাম দেব।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by পায়েল চন্দ্র 4/4/2026
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions