Text Size

২০২৫০১১১ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৩.৬-৭

11 Jan 2025|Duration: 00:50:14|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
  যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
  পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
  হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
  ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়  

শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৩.৬
মৈত্রেয় উবাচ
যদা স্বভার্যয়া সার্ধং জাতঃ স্বায়ম্ভুবো মনুঃ।
প্রাঞ্জলিঃ প্রণতশ্চেদং বেদগর্ভমভাষত॥

অনুবাদ: মহর্ষি মৈত্রেয় বিদুরকে বললেন—মানবজাতির পিতা মনু তাঁর পত্নীসহ আবির্ভূত হয়ে, সমস্ত বৈদিক জ্ঞানের উৎস ব্রহ্মার প্রতি যুক্তকরে প্রণতি নিবেদন করার পর, এইভাবে বলেছিলেন।

শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১৩.৭
ত্বমেকঃ সর্বভূতানাং জন্মকৃদ্‌ বৃত্তিদঃ পিতা।
তথাপি নঃ প্রজানাং তে শুশ্রুষা কেন বা ভবেৎ॥

অনুবাদ: আপনি সমস্ত জীবের পিতা এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের উৎস, কেননা তারা সকলে আপনার থেকে উৎপন্ন হয়েছে। দয়া করে আপনি আমাদের আদেশ করুন, কিভাবে আমরা আপনার সেবা করতে পারি।

তাৎপর্য: পিতাকে কেবল তার সমস্ত আবশ্যকতাগুলি পূরণ করার উৎস বলে পুত্রের মনে করা উচিত নয়, পক্ষান্তরে, পরিণত বয়সে পিতার সেবা করাও তার কর্তব্য। ব্রহ্মার সময় থেকে শুরু করে সেইটি হচ্ছে সৃষ্টির নিয়ম। পিতার কর্তব্য হচ্ছে পুত্রকে বড় হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করা, এবং পুত্র যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তার কর্তব্য হচ্ছে পিতার সেবা করা।

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: প্রত্যেক ৭১ চতুর্যুগ অন্তর ভিন্ন ভিন্ন মনু থাকেন। ব্রহ্মার একদিনে ১৪ জন মনু থাকেন। মনু হচ্ছেন দীর্ঘজীবী এক ব্যক্তিত্ব। তিনি নিজ স্ত্রীসহ তাঁর পিতা ব্রহ্মার কাছে প্রার্থনা করছেন যে, “আমরা আপনাদের জন্য কি সেবা করতে পারি? ব্রহ্মাদেব হচ্ছেন সমস্ত বেদের  জ্ঞান উৎস। উনি পিতা, গুরু, সব। একটা ভালো গুরু বা পিতা হতে, তোমার সন্তাত, শিষ্য ইত্যাদি পুনর্জন্ম থকে মুক্ত করতে হবে। শাস্ত্রে একটি শ্লোক আছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তির গুরু বা পিতা বা স্বামী বা দেব হওয়া উচিত নয়, যে তোমার অনুগত, সে পুনর্জন্ম থেকে মুক্ত করতে হবে। বেশিরভাগ সন্তানেরা তাদের পিতাকে কেবল তাদের প্রয়োজন সরবরাহকারীরূপে দেখে, কিন্তু যখন তারা বড় হয়ে যায়, তাদের নিজেদের পিতার সেবা করা উচিত। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন এটিই হচ্ছে সৃষ্টির নিয়ম যা ব্রহ্মার সময় থেকে হয়ে আসছে। পিতার কর্তব্য হচ্ছে পুত্রকে সযত্নে বড় করা এবং যখন পুত্র বৃদ্ধি প্রাপ্ত হবে, তখন তার নিজের পিতার সেবা করা উচিত।

আমি ভেবেছিলাম যে আমার বাবা এটি শুনে খুবই খুশি হবেন, যখন আমি তাকে বলব যে — “আমি একজন ভক্ত হয়েছি!” কিন্তু আমার বাবা বললেন, “তুমি এক্ষুনি ফিরে এসো, নয়ত আমি তোমার নাম সামরিক বাহিনীতে দিয়ে দেব এবং তুমি ভিয়েতনামে মারা যাবে।” তাই এটাই হচ্ছে শর্ত যে আমাদের পিতা, স্বামী, গুরু হওয়া উচিত নয়, যদি আপনি আপনার সন্তানদের উদ্ধার করতে না পারেন। তখন আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে আমার পূর্বাশ্রমের পিতা আমাকে উদ্ধার করতে সক্ষম নয় এবং সেই পরিস্থিতিতে আমাদেরকে পিতার নির্দেশ পালন করতে হবে না। তাই, আমি আমার গুরু শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করি যে, আমার কি করা উচিত? তিনি আমাকে বললেন, “ভালো হবে তুমি কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে যুক্ত হও।” তাই, আমি সেটাই করেছিলাম এবং তখন থেকে এখনও পর্যন্ত আমি কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে আছি। যদি আপনার পিতা ব্রহ্মা বা এমন কেউ হন, তাহলে তাঁর নির্দেশ পালন করার কোন অর্থ দাঁড়ায়।

ভগবান শ্রীরামের পিতা ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক, কৃষ্ণভাবনাময় ছিলেন। যখন ভগবান শ্রীরামকে তাঁর  পিতার দ্বারা চৌদ্দ বছর বনবাসে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তখন তিনি এটি পালনের প্রতি  বাধ্যবাধকতা অনুভব করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মাতা তাকে ভিন্ন কথা বলেছিলেন, তবে তিনি তাঁর পিতার থেকে আদেশ প্রথম লাভ করেছিলেন, এবং তাই তিনি তাঁর পিতার আদেশ পালন করেছিলেন। তার মা তাঁকে বিপরীত নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, কৌশাল্যা, তাঁর মাতা বলেছিলেন, “তুমি আমাকে কষ্ট দিচ্ছ!” যাইহোক বিভিন্ন দৃষ্টান্ত আছে, যেখানে পিতা নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পুত্র তা পালন করেছিলেন। যদি পিতা আধ্যাত্মিকভাবে আগ্রহী হন এবং যদি তাঁর সেই শক্তি থাকে, তাহলে তার কথা মান্য করতেই হবে। আমরা চিন্তা করি, আমি জানি না আমার কি ভালো আর কি মন্দ হবে। সেইজন্য আমরা গুরু গ্রহণ করি যে উনি যা আদেশ দেবেন তা পালন করব। প্রভুপাদ চেয়েছিলেন আমরা যাতে সমগ্র বিশ্বে চৈতন্য মহাপ্রভুর এই আন্দোলন প্রচারিত করি। তাই আমাদের গুরু, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা আচার্যের আদেশ পালন করার মাধ্যমে এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন সমগ্র বিশ্বে বিস্তারিত হয়েছে। মনু ব্রহ্মাকে জিজ্ঞেস করছেন, “আমি আপনার জন্য কি সেবা করতে পারি?” তাই তিনি হচ্ছেন একজন পুত্র, সুপুত্র।

আজকে হচ্ছে জগদীশ পণ্ডিতের আবির্ভাব দিবস। তিনি নিত্যানন্দ প্রভুর সখা বা তাঁর শাখা বিস্তার। তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন ভক্তদের নির্দেশে জগন্নাথপুরীতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রচার করেছিলেন, এবং সেখান থেকে তিনি চাকদার নিকটস্থ একটি গ্রামে ফিরে আসেন। তিনি শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের শ্রীবিগ্রহ একটি লাঠিতে করে বয়ে নিয়ে আসেন। শ্রীল প্রভুপাদ চাকদাতে গিয়েছিলেন, তিনি জগদীশ পণ্ডিতের শ্রীবিগ্রহ দর্শন করেছিলেন এবং সেই লাঠি দেখেছিলেন, যেটিতে করে জগদীশ পণ্ডিত জগন্নাথদেবের শ্রীবিগ্রহ নিয়ে এসেছিলেন। সেই লাঠি এখনও  সেখানে আছে। শ্রীল প্রভুপাদ চাকদাতে একটি প্রবচন দিয়েছিলেন, মাত্র কয়েকবার তিনি বাংলাতে প্রবচন দিয়েছিলেন এবং এটি ছিল এক আকর্ষণীয় প্রবচন ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, কিভাবে লোকেরা ট্রেনে করে কলকাতায় যায়, তারপর হয় বাসে করে বা ট্রামে করে বা পায়ে হেঁটে ট্রেন স্টেশন থেকে তারা তাদের কার্যালয়ে যায়। তারপর তারা তাদের কার্যালয়ে পৌঁছায় এবং সেখানে কিছু ঘন্টা কাজ করে, তারপর তারা একটি চা খাওয়ার বিরতি নেয়। এরপর তারা বিস্কুট খায় এবং তারপরে আবার কাজ করল। এবং তারপরে লাঞ্চে টিফিন খেত আধা ঘন্টা, চা খাওয়ার বিরতি কেবল ১৫ মিনিট, লাঞ্চ টিফিন আধঘন্টা। এরপর আবার কাজ করে, তারপর তাদের আরেকটি চা খাওয়ার বিরতি হয়, তারা বিস্কুট খায়, ১৫ মিনিটের বিরতি নেয়। এরপর কাজ করে, তারপর ছুটি পায়। তারা হেঁটে বা অন্য কোনোভাবে এক ঘন্টা ধরে যাত্রা করে ট্রেন স্টেশনে আসে, আর তারপর তারা চাকদায় আসার ট্রেন ধরে আবার এক ঘন্টা বা দেড় ঘন্টা ধরে ট্রেনে করে আসে। তারপর তারা গিয়ে তাদের রাতের আহার গ্রহণ করে, আর এরপর হয় তারা সহবাস করে বা ঘুমাতে যায়। শ্রীল প্রভুপাদ এই ধরনের প্রবচন দিয়েছিলেন। তারপর তিনি মানুষদের বললেন, “এটা কি মনুষ্য জীবন?  এটা কি মনুষ্য জীবন? ট্রেনে করে কলকাতায় যাওয়ার সময় হরে কৃষ্ণ নাম করুন।” তিনি এটি বলেছিলেন, তারপরে প্রভুপাদের আদেশ অনুযায়ী একটা বগি কীর্তন করেছে চাকদহ থেকে কলকাতা। শেষবার আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তারা কি এখনও এটা করে নাকি। শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি মানুষদের হরে কৃষ্ণ নাম কীর্তন করতে উৎসাহিত করতেন। 

মনু ৭১ চতুর্যুগ জীবিত থাকেন। আমরা কলি যুগে আছি। এই কলিযুগে প্রায় ১০০ বছর ৮০ বছর ইত্যাদি আয়ু থাকে কিন্তু কলি যুগ হচ্ছে ৪,২০,০০০ বছর। তাই আমাদের জীবন খুবই ক্ষুদ্র কালের জন্য, ৭১ গুন ৪ লক্ষ্য = ৪ মিলিয়ন ৩২ হাজার বছর। সেটা হচ্ছে মনুর জীবনকাল। তার বিভিন্ন কর্তব্য আছে যা তাকে ব্রহ্মার জন্য করতে হয়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি ৪৮ বছরের জন্য প্রকট লীলা করেছিলেন এবং সেই প্রকটকালীন সময়ের অর্ধেক সময় তিনি নবদ্বীপে অতিবাহিত করেছিলেন এবং নবদ্বীপে থাকার সেই ২৪ বছর এর মধ্যে হয়ত তিনি এক বছর বাংলাদেশে অতিবাহিত করেছিলেন, তারপর তিনি জগন্নাথপুরীতে যান, এবং তিনি ছয় বছর সমগ্র ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং পঞ্চতত্ত্ব, তাঁরা বাহ্যিকভাবে সংকীর্তন আন্দোলন প্রারম্ভ করতে আবির্ভূত হয়েছিলেন, কিন্তু এর গুহ্য কারণটি ছিল ভক্ত হওয়া।

শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে কিভাবে পুত্র মানে হচ্ছে ছেলে এবং মূত্র মানে হচ্ছে প্রস্রাব। প্রস্রাব এবং মূত্র উভয়ই একই যৌনাঙ্গ থেকে আসে। যদি সন্তান ভগবানের বাধ্য সেবক হয়, তাহলে তাকে বলা হয় পুত্র। যদি সন্তান শিক্ষিত না হয়, ভক্ত না হয়, তাহলে সে মূত্রের থেকে ভালো কিছু নয়! তাই আমরা পিতার আদেশ পালন করি যদি ধার্মিক আজ্ঞা হয়, অধার্মিক দিলে আমাদের করতে হয় না। তাহলে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সেটি পালন করা, কিন্তু যদি তা না হয়, তাহলে তাদেরকে পালন করার দরকার নেই। যেমন প্রহ্লাদ মহারাজ, তাঁর পিতা ছিলেন এক অসুর, তিনি তাঁকে কৃষ্ণের পূজা করতে বারণ করেছিলেন। রঘুনাথ দাস গোস্বামী চেয়েছেন চৈতন্যদেবের সঙ্গে যুক্ত হতে, কিন্তু বাবা চায়নি, বলি মহারাজ শুকরাচার্যকে অবজ্ঞা করেছিলেন, তাই এইরকম বহু দৃষ্টান্ত আছে যেখানে ব্যক্তি অধার্মিক নির্দেশ দিয়েছে, তাই পুত্র তা পালন করেননি।

এই শ্লোক এবং তাৎপর্য এই নির্দেশ প্রদান করছে যে, কিভাবে আমাদের পিতা, গুরু আদিজনের নির্দেশ পালনের প্রতি উৎসর্গিত হওয়া উচিত এবং কখন তা পালন না করা উচিত। পিতা বা মাতার গুরু দায়িত্ব রয়েছে। আমি আমেরিকারর নব তালবনে দেখেছিলাম যে একজন মাতাজি ছয় সন্তান সহ বসেছিলেন। সেখানে সন্দেশের একটি পাত্র ছিল, এবং সব শিশুরা জপ করছিল। তাদের কাছে মালা ছিল না, তারা কেবল নাম জপ করছিল, জপের সময়কাল শেষ হবার পর, এরপর তিনি শিশুদেরকে সন্দেশ প্রদান করেন। এইভাবে তারা শিশুদেরকে নাম জপের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।

জগদীশ পণ্ডিত আজকে যাঁর আবির্ভাব তিথি, এর পরবর্তী স্টেশনটি হচ্ছে সেই স্থানটি যা তার ভ্রাতা মহেশ পণ্ডিতের স্থান। আমি তার আবির্ভাব স্থান বা আশ্রম এর বিষয়ে জানিনা, কিন্তু সেখানকার সেবায়েতরা শ্রীল প্রভুপাদকে বলেছিলেন যে আমরা চাই এই আশ্রম ইসকনের সাথে যুক্ত হোক। তখন শ্রীল প্রভুপাদ সেখানে গিয়েছিলেন ও একটি প্রবচন দিয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন — “সোম থেকে শনি তোমরা কলকাতায় কাজ করো, কিন্তু রবিবারে তোমরা যা খাবার খাও, সেই সব কিছু একসাথে রেখে তা বন্ধন কর এবং শ্রীবিগ্রহকে অর্পণ করে, সেটি গ্রহণ করো।” এইভাবে তিনি ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন যে তারা কিভাবে অধিক কৃষ্ণভাবনাময় হতে পারবেন। এখন এই খানে মায়াপুরে কত ষাট হাজার কত ভক্ত থাকে। কিভাবে নিজের কৃষ্ণচেতনা বৃদ্ধি হবে, কিভাবে প্রচার করবে, সেটা আপনারা চিন্তা করুন।

এটি হচ্ছে পরবর্তী বিষয় যে আমি বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু আমি বলতে যাচ্ছিলাম যে আপনারা সকলে কৃষ্ণভাবনাময় হন এবং চিন্তা করুন যে কি করা যাবে। আসলে নতুন বছরের প্রথম দিনে আমাদের এক লক্ষ পাঁচ হাজার মানুষ এখানে এসেছিলেন এবং প্রত্যেকদিন আমাদের এখানে সহস্রাধিক মানুষ আসেন। ঠিক যেমন, মনু ব্রহ্মাকে জিজ্ঞেস করছেন যে কি সেবা তারা করতে পারেন, একইভাবে আমাদের চিন্তা করা উচিত যে আমরা গুরুদেব এবং শ্রীল প্রভুপাদের জন্য কি সেবা করতে পারি। হরিবোল!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 18.6.2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions