Text Size

২০২৫০১০৪ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১২.৪৯-৫১

4 Jan 2025|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ৪ঠা জানুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচনটি শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ৩য় স্কন্ধ, ১২ অধ্যায়, ৪৯-৫১নং শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্লোক ৪৯
ততোহপরামুপাদায় স সর্গায় মনো দধে॥

অনুবাদ: তারপর ব্রহ্মা অন্য আর একটি শরীর গ্রহণ করেছিলেন, যার মাধ্যমে যৌনজীবন নিষিদ্ধ ছিল না, এইভাবে তিনি সৃষ্টিকার্যে মনোনিবেশ করেছিলেন।

তাৎপর্য: ব্রহ্মার পূর্ব শরীর ছিল দিব্য, এবং যৌনজীবনের প্রতি তাঁর আসক্তি নিষিদ্ধ ছিল, তাই তাঁকে যৌনজীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার জন্য আর একটি শরীর গ্রহণ করতে হয়েছিল। এইভাবে তিনি সৃষ্টিকার্যে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাঁর পূর্বের শরীরটি কুজঝটিকায় পরিণত হয়েছিল।

শ্লোক ৫০
ঋষীণাং ভূরিবীর্যাণামপি সর্গমবিস্তৃতম্।
জ্ঞাত্বা তদ্‌ধৃদয়ে ভূয়শ্চিন্তয়ামাস কৌরব॥

অনুবাদ: হে কৌরব! ব্রহ্মা যখন দেখলেন যে মহাবীর্যবান ঋষিদের উপস্থিতি সত্ত্বেও জনসংখ্যা পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পেল না, তখন তিনি গভীরভাবে চিন্তা করতে শুরু করলেন কিভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়।

শ্লোক ৫১
অহো অদ্ভুতমেতন্মে ব্যাপৃতস্যাপি নিত্যদা।
ন হ্যেধন্তে প্রজা নূনং দৈবমত্র বিঘাতকম্॥

অনুবাদ: ব্রহ্মা মনে মনে ভাবলেন—আহা, কি আশ্চর্য! আমি সর্বদা সৃষ্টিকার্যে ব্যাপৃত রয়েছি, তবুও আমার প্রজাসমূহ বিস্তার লাভ করছে না। দৈব ছাড়া এই দুর্ভাগ্যের আর অন্য কোন কারণ নেই।

***

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: তো এখানে আমরা দেখতে পাই যে ব্রহ্মাজি এটাকে ওনার সেবা হিসেবে গ্রহণ করেছেন যে ওনাকে এই ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করতে হবে এবং তাকে প্রজা দ্বারা পূর্ণ করতে হবে। তিনি বহু প্রজাপতির সৃষ্টি করেছিলেন, কিন্তু তারপরও তিনি দেখলেন যে সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড জীবসমূহ দ্বারা পূর্ণ হচ্ছে না। দক্ষ ছিলেন তার সৃষ্ট একজন প্রজাপতি, তিনি দশ হাজার পুত্র সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু নারদ মুনি তাদের কাছে ভগবত তত্ত্ববিজ্ঞান প্রচার করেছিলেন এবং তাদেরকে ব্রহ্মচারী ও সন্ন্যাসীতে পরিণত করেন। তার ফলে দক্ষকে আরো সন্তান-সন্ততির সৃষ্টি করতে হয় এবং তিনি আরো দশ হাজার পুত্র সৃষ্টি করেছিলেন। আমরা আমাদের জীবনে এক-দুই অথবা তিন জন সন্তান সৃষ্টি করতে পারি, কিন্তু দক্ষ দশ হাজার করে সন্তান এক একবারে উৎপাদন করতে পারেন, এটাই আমাদের এবং তার মধ্যে পার্থক্য। ব্রহ্মা এই নিয়ে চিন্তিত ছিলেন যে কিভাবে আমি আমার সেবা সম্পাদন করব এবং কিভাবে এই ব্রহ্মাণ্ডকে জীব দ্বারা পূর্ণ করব। তবে ব্রহ্মার শরীর ছিল দিব্য। সেই শরীর যেহেতু চিন্ময় ছিল তাই তার দ্বারা যৌনক্রিয়া সম্পাদনে বাধা ছিল। কিন্তু প্রজাপতিদের সৃষ্টি করার পরও যখন ব্রহ্মাজি দেখলেন যে বিশ্ব তখনও খালি রয়েছে, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি আমি নিজেই সন্তান উৎপাদন করব। আমরা জানি না ব্রহ্মার ক্ষমতা কতখানি, হয়তো অত্যন্ত মহান। ঠিক এভাবে যেরকম ব্রহ্মা ভাবছিলেন যে আমার এইটা সেবা এবং আমাকে এই সেবা সম্পাদন করতে হলে এই ব্রহ্মাণ্ডকে জীব দ্বারা পূর্ণ করতে হবে কিন্তু তা পূর্ণ হচ্ছে না। সেরকমই আপনাদেরও নিশ্চয়ই কোন না কোন সেবা রয়েছে। আর কখনো কখনো আপনারা চিন্তা করেন যে আমি এই সেবা কিভাবে করব! এটা কিভাবে সম্পাদন করা উচিত! যখন কেউ ভক্তি জীবনে সম্পূর্ণরূপে দৃঢ় হয়, তখন সে অবশ্যই কোনো না কোনো সেবাতে যুক্ত হতে চায়।

যখন মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করে জগন্নাথপুরীতে ছিলেন, প্রতি বছর বাঙালি ভক্তরা পায়ে হেঁটে বাংলা থেকে জগন্নাথপুরীতে যাত্রা করতেন। যাওয়ার পর তৃতীয় অথবা চতুর্থ বৎসরে যখন তাদের নিয়মিত থাকার একটা বন্দোবস্ত হয়ে গিয়েছিল, তখন তারা তাদের স্ত্রীদেরকেও বাংলা থেকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের স্ত্রীদেরকে তারা নিয়ে যেতেন কারণ তারা মহাপ্রভুকে মধ্যাহ্নভোজনে তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করতে চাইতেন, আর এভাবে মহাপ্রভু প্রতিদিন কোন না কোন দম্পতি ভক্তদের বাড়িতে দুপুরে প্রসাদ পেতেন। কোন কোন দিন যখন তারা দেখতেন যে বেলা অনেক গড়িয়ে যাচ্ছে, তখন তারা দুই অথবা তিন গৃহস্থ মিলে মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ জানাতেন। মাতাজিদের মধ্যে কারা কারা চান যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দুপুরবেলায় আপনাদের বাড়িতে প্রসাদ গ্রহণ করুন? আর পতিদের কি ইচ্ছা!?

তারপর চার মাস পর চাতুর্মাসের শেষে যখন সকলে বাংলায় ফিরে যেতেন তখন সার্বভৌম ভট্টাচার্য ভাবতেন এখন আমার সময় কারণ আমি এখানেই থাকি। তারপর তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে এক মাসের জন্য নিমন্ত্রণ জানাতেন, তার বাড়িতে দুপুরের প্রসাদ পাওয়ার জন্য। কিন্তু তখন মহাপ্রভু বলতেন যে তিনি একজন সন্ন্যাসী আর এটা সন্ন্যাসীদের নীতির বিরুদ্ধে যে কেউ একই জায়গায় এক মাস যাবত প্রসাদ পেতে যাবে। তাই তিনি অনুরোধ জানাতেন যে তিনি যেন নিমন্ত্রণের পরিধি কম করেন। তারপর তার অনুরোধ চার সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ, তারপর দুই সপ্তাহ থেকে এক সপ্তাহে গিয়ে দাঁড়াত, কিন্তু শেষে মহাপ্রভু বলতেন একদিন যাবো। মহাপ্রভু অত্যন্ত কঠোর ছিলেন আর সার্বভৌম ভট্টাচার্যই বা আর তখন কি করবেন তাই তাকে একদিনই মেনে নিতে হত। তাদের মধ্যের এই অনুনয়-বিনয়ের বার্তালাপ অত্যন্ত বিস্তারিত রয়েছে, আমি ছোট করে সেটা ব্যাখ্যা করছি। সার্বভৌম ভট্টাচার্য আরও ১০ জন সন্ন্যাসীকে তার সঙ্গে নিয়ে যেতে বলেছিলেন ইত্যাদি, আমি ততো ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না। তারপর সেখানে বলা হয়েছে যে সার্বভৌম ভট্টাচার্য মহাপ্রভুর জন্য একটি বিশেষ ঘরের ব্যবস্থা করেছিলেন যার এক দিকের মূল দরজা দিয়ে মহাপ্রভু প্রবেশ করবেন এবং ঘরের আরেক পাশের দরজা দিয়ে তারা মহাপ্রভুকে গরম প্রসাদ পরিবেশন করবে। তারপর মহাপ্রভু যখন মূল দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন, তিনি প্রসাদের আয়োজন দেখে বললেন—“বাহ! এই সমস্ত কিছুই আপনারা রাধাকৃষ্ণকে নিবেদন করেছেন!? তবে এ তো একশ জনের পাওয়ার মতন প্রসাদের আয়োজন।” তখন সার্বভৌম ভট্টাচার্য বলতেন, “আমার পত্নী খুবই ভালো রাধুনী!” তিনি তিন রকম শুক্তো, দশ রকম শাকের আয়োজন করেছিলেন এবং সবজির পদ সমূহের বর্ণনা তো করাই যায় না! মোচাঘন্ট এবং আরো কতকিছু! বিভিন্ন রকমের চাটনি এবং নোনতা, পিঠে আর মিষ্টি।

আমার কাছে জয় রাধাকৃষ্ণ দাস নামে যে ভক্ত চৈতন্যচরিতামৃত পাঠ করে, আমি তাকে বলেছি তুমি এই যে খাবারের তালিকাসমূহ রয়েছে তা পঞ্চতত্ত্ব এবং রাধামাধবের পূজারীদেরকে দেখাতে পারো, অন্তত মাসে একবার তারা এই বিবরণ অনুযায়ী ভগবানকে ভোগ নিবেদন করতে পারেন। প্রথমে সার্বভৌম ভট্টাচার্য জগন্নাথের প্রসাদসমূহকে একটি আলাদা পাত্রে তুলে নিলেন। তারপর তাঁর আসনে বসার পর সার্বভৌম ভট্টাচার্য এবং ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মধ্যে বিস্তারিত এক বার্তালাপ চলে। সার্বভৌম ভট্টাচার্যের জামাতার নাম ছিল অমোঘ এবং সে ছিল একজন পরদোষদর্শী। সার্বভৌম ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে যেন বাইরে রাখা হয়। কিন্তু যখন তিনি ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে সেবা করতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন কোনোভাবে অমোঘ সেখানে ঢুকে পড়ে। অমোঘ বলে, “এ কি ধরণের সন্ন্যাসী! এটাতো দশ জনের খাবার!” এটা শুনে সার্বভৌম ভট্টাচার্য এত রেগে যায় যে সে অমোঘকে একটি লাঠি নিয়ে তাড়া করতে শুরু করে, কিন্তু অমোঘ ছিল যুবক আর শক্তিশালীও, তাই সে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়। তারপর সার্বভৌম ভট্টাচার্য মহাপ্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, “আমি আপনাকে আমার বাড়িতে প্রসাদ পাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, সমালোচনা অথবা নিন্দা শোনার জন্য নয়।” তখন মহাপ্রভু বলেন—“এটা নিন্দা নয়, এটা তো সত্যি।” কিন্তু তারপরও সার্বভৌম ভট্টাচার্য ভাবছিলেন যে, যদি আমি ওকে হত্যা করি তাহলে ও যেহেতু ব্রাহ্মণের ছেলে তাই আমার ব্রহ্মহত্যার পাপ লাগবে, আর যদি আমি নিজে আত্মহত্যা করি, তাহলে যেহেতু আমি ব্রাহ্মণ দেহে রয়েছি তাই পরবর্তী জন্মে আমি ব্রহ্মরাক্ষসে পরিণত হব। অর্থাৎ সে এই বিষয়টিকে কতখানি গুরুতর বলে মনে করেছিল। তার পত্নী তিনিও বলছিলেন আমার মেয়ে বিধবা হয়ে যাক, অর্থাৎ সে তার জামাতাকে অভিশাপ দিচ্ছিলেন।

এরপরই অমোঘের কলেরা হয়। মহাপ্রভু নিজের ঘরে চলে আসার পর যখন খোঁজ নিয়েছিলেন যে সার্বভৌম ভট্টাচার্যের কি হলো? তখন সকলে বলল যে সে এবং তার পত্নী উপবাসী হয়ে রয়েছে এবং অমোঘের হঠাৎ করে কলেরা হওয়ায় সে এখন মৃত্যুশয্যায় রয়েছে। মহাপ্রভু এটা শোনা মাত্রই দৌড়ে অমোঘের বাড়িতে গেছেন। মহাপ্রভু তার শ্রীহস্ত অমোঘের বুকে রেখে বললেন—“ব্রাহ্মণের হৃদয়ে সত্বগুণ বিরাজ করা উচিত, আর তা কোমল হওয়া উচিত। তুমি কিভাবে ঈর্ষা, বিদ্বেষ, এসবকে তোমার হৃদয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছ!? ওঠো, আর হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে কীর্তন করো!” তারপর সে উঠে বসলো আর নৃত্য কীর্তন করতে শুরু করল। সে বলছিল—“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।” তখন তার চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরতে শুরু হল এবং তার সারা শরীরে পুলক দেখা দিল। তার শরীরে অষ্টসাত্ত্বিক বিকারের সব লক্ষণসমূহ প্রকট হল। সে ভূমিতে পড়ে মহাপ্রভুর চরণযুগলকে আঁকড়ে ধরে তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে লাগল—“আমার অপরাধের জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিন।” সে নিজেই তার মুখে চড় মারতে আরম্ভ করল, আর বলতে লাগল—“এই মুখ দিয়ে আমি মহাপ্রভুর নিন্দা করেছি!” তারপর মহাপ্রভু সার্বভৌম ভট্টাচার্যের বাড়িতে এলেন। সার্বভৌম ভট্টাচার্য তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কেন আমার জামাতাকে উদ্ধার করেছেন? সে তো একজন নিন্দুক!” তখন মহাপ্রভু বললেন, “সে এখন বৈষ্ণব তার আর কোন অপরাধ নেই, কোন পাপ নেই। তাই এখন আপনি স্নান করে এসে আপনার প্রসাদ গ্রহণ করুন।”

আপনাদের মধ্যে কারা ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে সেবা করতে চান?! কারা রাধা-মাধবকে সেবা করতে চান?! এই সম্পূর্ণ ভক্তিযোগই আসলে শ্রীগুরুদেবের মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে সেবা প্রদানের পন্থা। আমি আমার এক শিষ্যের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছিলাম। সেখানে সে বলছিল সে কৃষ্ণের প্রতি তার আসক্তি কমিয়ে দিয়েছে এবং রসুন পেঁয়াজ খেতে আরম্ভ করেছে এবং তার জপের সংখ্যাও কমিয়ে দিয়েছে। তারপর আবার সে আমাকে জানায় যে, আপনাকে জানানোর পর থেকে আমি পুনরায় প্রত্যেক রাত্রে কৃষ্ণের সম্বন্ধে পড়া আরম্ভ করেছি এবং আমার হারিয়ে যাওয়া আসক্তি আবার ফিরে পাচ্ছি। সাম্প্রতিক আমার জ্বর হয়েছিল এবং আমার পায়ে খুবই ব্যথা করে এবং আমাকে শারীরিকভাবে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমার প্রত্যেক শিষ্য যেন সব বিধি-নিষেধের পালন করে এবং তাদের ভগবত সেবা খুব সুন্দরভাবে সম্পাদন করে।

গতরাতে আমরা ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের গ্রন্থ অধ্যয়ন করছিলাম যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে বৈধী ভক্তি অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে রাগানুগা ভক্তিতে উন্নীত হতে পারি। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে তাঁর আধ্যাত্মিক সিদ্ধি লাভ করতে কুড়ি বছর লেগেছে। আমি জানিনা আপনাদের এক একজনের কত সময় লাগবে। যদি শ্রীল প্রভুপাদেরই কুড়ি বছর সময় লেগে থাকে তাহলে আপনাদের আরো কত সময় লাগবে। সাধনা ভক্তি বা বৈধীভক্তি বিষয়টা এরকম নয় যে আপনি অনুশীলন শুরু করলে সাথে সাথেই আপনি অমোঘের মতন ‘হরিবোল’ বলে নৃত্য কীর্তন করতে আরম্ভ করবেন! অমোঘের ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছিল কারণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর শ্রীহস্ত তার বুকে রেখেছিলেন। গতরাত্রে আমরা পাঠ করছিলাম কিভাবে আমরা ভগবৎ শ্রদ্ধা বা ভগবানের প্রতি বিশ্বাস অর্পণ থেকে শুরু করে ক্রমিক পর্যায়ে উন্নতি সাধন করি। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে রয়েছে, যেমন ভগবত নিষ্ঠা ভক্তিতে দৃঢ়তা, তারপর ভগবত রুচি অর্থাৎ ভগবানের সেবায় রুচি, তারপর ভগবত আসক্তি অর্থাৎ ভগবানের সেবার প্রতি আসক্তি। এগুলি সবই বৈধীভক্তির স্তর। ধীরে ধীরে এক ধাপ এক ধাপ করে আমরা এগোই আর এভাবে উন্নতি সাধনের ক্ষেত্রে প্রথমে রুচি হয় তারপরে তা আসক্তিতে গিয়ে পৌঁছয়। এরপর আসে বৈধীভক্তির সর্বোচ্চ স্তর ভগবত রতি বা ভগবানের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আকর্ষণ, এরপর আসে ভগবত অনুরাগ বা ভগবানের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত প্রীতির স্তর। এভাবে ভগবত প্রেমের বিভিন্ন স্তরভেদ রয়েছে। ভগবত ভাবের স্তরে ভগবানের প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিশেষ কোন এক সম্পর্কের অনুভব আসে। এভাবে কোন এক বিশেষ সম্পর্কে সম্পর্কিত হয়ে ভগবানকে ভক্তি করাই হলো প্রত্যেকটা জীবের স্বধর্ম। তাই আমরা এই বৈধীভক্তি দৃঢ়ভাবে অনুশীলন করব এবং তাতে কুড়ি-ত্রিশ বছর যতবছরই লাগুক না কেন আমরা এই বৈধীভক্তি ছাড়ব না। কারণ এক ধাপ এক ধাপ করে আমরা উন্নতি সাধন করি।

আমাদের অন্যের সমালোচনা করা উচিত নয় যেরকমটা অমোঘ করেছিল। যখন আপনারা রাধামাধব অষ্টসখী মায়াপুরচন্দ্র-র সামনে যান দর্শন করতে, তখন আপনারা তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইবেন যে “হে ভগবান আমি বহু অপরাধ করেছি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। এখন আমি আপনার শ্রীচরণে আশ্রয় গ্রহণ করছি।” আপনারা কি কখনো শ্রীবিগ্রহগণকে এরকম বলেছেন? কারা কারা বলেছেন? হাত তুলুন! এইটা একটা জিনিস যা আমাদের অবশ্যই করতে হবে।  সাধারনত হঠ যোগ বা অষ্টাঙ্গ যোগের মাধ্যমে ভগবত প্রাপ্তিতে বহু বহু জন্ম লাগবে, কিন্তু এই ভক্তিযোগের মাধ্যমে যেকোনো মানুষ এই জন্মেই তার মানব জীবনের চরম সাফল্য লাভ করতে পারে।

হরিবোল! গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! অদ্বৈত! গদাধর! শ্রীবাস! হরিবোল! শ্রীল প্রভুপাদের জয়!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by পায়েল চন্দ্র 4/4/2026
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions