Text Size

২০২৪০৭২০ শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহরাজকে স্মরণ

20 Jul 2024|Duration: 00:27:21|Bengali|Homages to Vaiṣṇavas|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নমো ওঁবিষ্ণুপাদায় কৃষ্ণপ্রেষ্ঠায় ভূতলে।
শ্রীমতে ভক্তিবেদান্ত স্বামীনিতি নামিনে॥
নমস্তে সারস্বতে দেবে গৌরবাণী প্রচারিনে।
নির্বিশেষ-শুন্যবাদী পাশ্চাত্যদেশ তারিণে॥

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু-নিত্যানন্দ
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ ॥

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ
গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রী মধুসূদন

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

নমো ওঁবিষ্ণুপাদায় কৃষ্ণপ্রেষ্ঠায় ভূতলে।
শ্রীমতে ভক্তিচারু স্বামীনিতি নামিনে॥

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: প্রথমে মায়াপুরে ঐ যে ভজন কুটির আছে, সেটা কেবল ছিল। তারপরে লোটাস বিল্ডিং-এ (পদ্ম ভবনে) প্রভুপাদ থাকতেন। তারপর আমরা লোটাস বিল্ডিং, চক্র বিল্ডিং ক্রমে ক্রমে আস্তে আস্তে তৈরি হল। গৌড়ীয় মঠ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) আনলেন এবং প্রভুপাদ শিষ্যদের দ্বারা খুব ধুমধাম করে অনুষ্ঠান হয়েছে। আমরা খুব বেশী তখন ভক্ত পাইনি। এবং যখন ভক্তিচারু এসেছে, তখন এটা খুব ভালো হল। কেননা তাঁর অনেক গুণ ছিল। এবং তখন আমরা একটা বাস নিয়ে সংকীর্তন করতাম। ভক্ত কিশোর আমার সাথে ছিলেন। একদিন হঠাৎ ভক্তিচারু স্বামী, তখন নিউ(নতুন) ভক্ত, তিনি চলে গেলেন। আমি জানতাম যে ওঁনার বাড়ি কোথায়। তিনি সাউদার্ন ক্যালকাটায় (দক্ষিণ কলকাতায়) ছিলেন। আমি ওঁনার বাড়ি তিন বার গেছি। কিন্তু তাঁর বাবা বলল— তিনি ওঁনার বন্ধু দেখতে গেছে। তখন আমি থ্রি.সি. অ্যালবার্ট রোডে ফিরে এসেছিলাম। এবং (7:35) ভক্তিচারু স্বামী আমাকে থ্রি.সি. আলবার্ট রোড ওখানে দেখা করলেন। আমি বললাম যে, প্রভুপাদ আসবেন। প্রভুপাদ তোমাকে দেখতে চাইবেন। সে রাজি হল মায়াপুর ফিরে আসতে। কিছুদিন পর প্রভুপাদ এসছেন, প্রভুপাদ তাঁকে খুবই পছন্দ করেছিলেন। এবং তাঁর পার্সোনাল(ব্যক্তিগত) কিছু সেবা দিয়েছেন। শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তিচারু স্বামী,  ভক্ত কিশোরকে ওঁনার কাছে রেখেছিলেন। এইভাবে ভক্তিচারু স্বামীকে ওঁনার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। বৃন্দাবনে একসাথে প্রথম, দ্বিতীয় দীক্ষা দিয়েছেন। হয়ত সন্ন্যাসও একইসাথে দিয়েছিলেন, আমি ঠিক জানিনা, আমি সেখানে ছিলাম না। ভক্তিচারু স্বামী খুব ভালো উনি প্রভুপাদকে সেবা করতেন, প্রভুপাদের কিছু বিশেষ সেবা করেছিলেন। ভক্তিচারু স্বামী জানতেন বিভিন্নরকম রান্না করতে। তারপর তিনি, একটা প্রিপারেশন(পদ) তার জন্য অনেক ঘি, অনেক (13:42) অনেক চিলি(কাঁচা মরিচ) দরকার। শ্রীল প্রভুপাদ বললেন, “এর মধ্যে তো কোন কাঁচা মরিচ নেই! কেন দেওয়া হয়নি?” তখন ভক্তিচারু স্বামী বললেন, “আপনি অসুস্থ। আমি কি করে চিলি(কাঁচা মরিচ) দেব?” “এটা কি করে হজম হবে আমি যদি চিলি(কাঁচা মরিচ) না পাই?” এরকম একটা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। ভক্তিচারু স্বামী চিলি(কাঁচা মরিচ) দিয়ে বাটিচচ্চড়ি নিয়ে এসেছেন। এরকম কত লীলা ছিল এর কোন শেষ নাই। ভক্তিচারু স্বামী শ্রীল প্রভুপাদের আবির্ভাব, তিরোভাব সেগুলো তিনি সবসময় পালন করতে আসতেন। এবং তিনি আরও নতুন নতুন উৎসাহ দিতে রাজি হল। ঠিক যেমন শ্রীল প্রভুপাদ পাশ্চাত্যে গিয়েছিলেন। এখন তিনি এইভাবে বিভিন্ন উৎসব করতেন। 

আমি উজ্জয়িনী গিয়েছিলাম বিভিন্নভাবে। এবং একসময় তিনি আমাকে থাকার জন্য তাঁর কোয়াটারে এক বিশেষ কক্ষ দিয়েছিলেন। তারপরে তিনি, আয়ুর্বেদিক কবিরাজ ছিল তার পাশের বিল্ডিং, আমাদের (19:23) বিভিন্নভাবে, তিনি একান্ত পার্সোনালভাবে(ব্যক্তিগতভাবে) দেখতেন।  সমস্ত জি.বি.সি. -এর জন্য তিনি বিশেষ একটা প্রসাদ নিয়ে দিয়েছিলেন। আমার সেখানে যাওয়া সম্ভব নাই, তিনি টিফিন কারি করে পাঠাতেন। তিনি বিভিন্ন সংকীর্তন ভক্তকে বিশেষ ক্লাস দিয়েছেন। আমার সঙ্গে (22:11) সম্পর্ক ছিল এবং তিনি আমাকে আলিঙ্গন করতেন। 

তিনি এইভাবে যখন চলে গেলেন, আমাদের অত্যন্ত দুঃখ হয়েছিল। আমি ভক্তিচারু স্বামীর শীষ্যগণের, তার একটা ই-মেইল করে দিয়েছে (23:50) এখন তিনি প্রভুপাদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। ভক্তিচারু স্বামী সমস্ত ডিভটির(ভক্তদের) প্রিয় ছিলেন। ওঁনার শিষ্য একটা ঐতিহ্যকে পালন করছেন। অবশ্যই আজকে মায়াপুরে অত্যন্ত ধুমধাম করে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। এটা এক অতি চমৎকার ব্যাপার! হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 25/06/25
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions