মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী: আমার মাতৃভাষা হিন্দি নয়, তবে আমি একটু বলার চেষ্টা করব। আমার বাংলায় বলার অভ্যাস আছে। আমি ১ থেকে দেড় মাস হল দিল্লিতে আছি। আমি এখন কিছুটা হিন্দি শিখেছি। আমি ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে শ্রীশ্রীমৎ গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজের সাথে আছি। আমি ওনাকে বৃন্দাবনে শ্রীপাদপদ্ম প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ করার জন্য নিমন্ত্রণ করেছিলাম, মুম্বাইতে তিনি তাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তিনি এতে সহমত হয়েছিলেন, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং আমাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার সাথে তার দেখা হয়নি। প্রতিবছর নরসিংহ চতুর্দশী মহোৎসবে তিনি আসতেন এবং অংশগ্রহণ করতেন, কিন্তু গত নরসিংহ চতুর্দশীতে তিনি এখানে দিল্লী মন্দিরে অতি সুন্দর লক্ষীনরসিংহদেব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমি জানিনা তিনি কি করতেন, মায়াপুরে তিনি মায়াপুর কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। তিনি হচ্ছেন MVT-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এভাবে অবশ্য, তিনি ভারতীয় ব্যুরো-এর চেয়ারম্যানের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আমার কাছে তিনি ছিলেন অতি প্রিয় গুরুভ্রাতা। আমার কাছে এটা আশ্চর্যের বিষয় ছিল যে, যখন আমি কোমা থেকে বের হই, তখন আমি শুনলাম যে তিনি এই জগত ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন যে— “ভ্রান্ত যেই বলে বৈষ্ণব মরে, যখন তুমি ধ্বনি রূপে নিত্য বিদ্যমান”—তিনি কখনই ছেড়ে যান না, তিনি সর্বদা বাণীর মাধ্যমে আমাদের সাথে আছেন। আমার তিন দিন ধরে অবিরত ডায়ালিসিস চলেছে। আমি বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে গেছি, কিন্তু এটি এর কারণ নয় যে কেন আমি এখানে নেই। আমি ভাবছি শ্রীশ্রীমৎ গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজের সঙ্গ লাভ করে তোমরা কত সৌভাগ্যবান। তিনি আমাকে অনেকবার মায়াপুর এম.ই.বি. এর পদ ছাড়বেন বলেছিলেন, কিন্তু আমি তাকে বলেছিলাম যে দয়া করে আরো একটি বছর থেকে যান এবং তিনি তা করেছিলেন। আমি তাঁর থেকে কনিষ্ঠ, কিন্তু যেহেতু আমি পূর্বে সেই একই ভক্ত দলে ছিলাম, তাই তিনি আমাকে বরিষ্ঠের মতো সম্মান করতেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমরা সবসময় একে অপরের সাথে আলোচনা করতাম। তিনি আমাকে তাঁর অতিথিশালায় থাকতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। এইভাবে তিনি মায়াপুরে তার যে কোন শিষ্যকে এবং ইসকনের আমার শীষ্যবর্গকে দেখভাল করতেন। সকল ভক্তবৃন্দ, সকল জি.বি.সি. পুরো দিন মহারাজের গুণমহিমা কীর্তন করেছেন, (যেমন তারা এখানে করেন তিন দিন এবং তা এখনো চলছে) এখানে কিছু কিছু সদস্যরা আছেন যারা হচ্ছেন জিবিসির সদস্য, ব্যুরো সদস্য।
আমি কেবল এটাই বলতে চাই যে, শ্রীল গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী আমার অতি প্রিয় এবং আমি তাঁর সব শিষ্যদেরকে সাহায্য করার জন্য একটি স্বতন্ত্র ইমেইল আইডি তৈরি করেছি <Gkg.jpscare@gmail.com> যাতে আমি তোমাদের সাথে এক বিশেষ সম্পর্ক রাখতে পারি। তিনি দিল্লিতে, এনসিআর-এ ১৫-১৭টি মন্দির স্থাপনা করেছেন। আমি সবকটিতে যেতে পারিনি কিন্তু এটা এক অলৌকিক কার্য যা তিনি করেছিলেন। আমি শ্রীল প্রভুপাদের থেকে সরাসরি কলকাতায় দশটি মন্দির তৈরি করার কথা শুনেছিলাম, কিন্তু আমরা এখনও তা করতে পারেনি। তিনি আমাদের পূর্বে তা করে ফেলেছেন। আমরা ভারতে বিবিটি-র মূল সদস্য ছিলাম, তিনি ছিলেন সভাপতি। ভারতবর্ষ বিভিন্ন গ্রন্থ বিতরণ করছে। এটি তাঁর তত্ত্বাবধানে হয়েছে। অনেক কিছুই তাঁর সম্বন্ধে বলার যেতে পারে, আমি তত শক্তিশালী নই। যদি কোন প্রশ্ন থাকে, আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। যদি তোমাদের কাছে এখন কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে ঠিক আছে, নয়ত তোমরা আমার কাছে লিখতে পার।
প্রশ্ন: কিভাবে কেউ আমাদের গরুমহারাজ এবং আপনার মতো শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি শরণাগত হতে পারবে? এর রহস্য কি? কিভাবে কেউ এতটা শরণাগত হতে পারে যা এমনকি দৈহিক স্তরের ঊর্ধ্বে?
জয়পতাকা স্বামী: তিনি আমার থেকেও মহান ছিলেন, কিন্তু তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তার বিভিন্ন শারীরিক অসম্পূর্ণতা আছে, কিন্তু এই সবকিছু সত্ত্বেও তিনি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে এই আন্দোলন প্রচারের চেষ্টা করছিলেন। মানুষেরা এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে আপনি কিভাবে এই পরিস্থিতিতেও চালিয়ে যাচ্ছেন? কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ আমাদের জন্য কত বলিদান দিয়েছেন এবং তিনি এটি বলেছিলেন যে, যেহেতু তিনি ১০৮টি মন্দির স্থাপন করেছিলেন, তাই যাতে তা বজায় রাখা হয়। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, “অন্তত সেগুলিকে বজায় রেখো! যদি তোমরা এর থেকে বেশি প্রসার করতে পারো, তাহলে তা খুব ভালো হবে!” গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামীর সেই মনোভাব ছিল, তিনি কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন প্রচারের চেষ্টায় রত ছিলেন। হরে কৃষ্ণ!
মহারাজ প্রতি পাঁচ বছরে পঞ্চতত্ত্ব অভিষেকে আসতেন। এই বছর তিনি ভীত ছিলেন যে, তার জন্য এটি কষ্টদায়ক হবে এবং তিনি পড়ে যেতে পারেন। হরে কৃষ্ণ!
তার ইচ্ছাপত্রে বলা তাঁর অনুরোধ রাখার চেষ্টা করো। আমরা সবাই এক পরিবার। হরে কৃষ্ণ!
মহারাজ উদারভাবে বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরে অনুদান দিয়েছিলেন, তিনি তাঁর কিছু গুরুদক্ষিণা ও বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরে প্রদান করেছিলেন।
Lecture Suggetions
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন