নিম্নোক্ত প্রবচনটি শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ১২ এপ্রিল, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী: বরিষ্ঠ ভক্তগণ ও চিকিৎসা দল বলেছেন আমি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর মায়াপুর যেতে পারি। তাই পরিকল্পনা ছিল আমি দিল্লিতে ব্যাস পূজা উদযাপন করব ও আমার কথা অনুবাদ এবং সম্প্রচারিত করা হবে। এখানে এত ভক্তরা এসেছেন দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। একবার আমি চেন্নাইতে ব্যাসপূজা উদযাপন করেছিলাম, আর এই দ্বিতীয়বার মায়াপুরের বাইরে দিল্লিতে ব্যাসপূজা উদযাপন করছি। [শ্রীশ্রীমৎ লোকনাথ স্বামী সংশোধন করে বললেন এটা নয়ডা, দিল্লির বাইরে উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত] আমাকে শ্রীশ্রীমৎ লোকনাথ স্বামী ও শ্রীশ্রীমৎ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহারাজ মালা দিয়েছেন।
আমি জানি আপনারা সবাই প্রসাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। মায়াপুরে আজ মহাদ্বাদশী, কিন্তু দিল্লি ও নয়ডাতে আজ একাদশী তিথি। তাই আমি জানি না আপনাদের কাছে একাদশীর বিশেষ প্রীতিভোজ রন্ধনের জন্য রাঁধুনি আছে নাকি (হ্যাঁ আছে!) তাহলে আমাকেও কিছু নমুনা পাঠাবেন!
১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর ব্যাস পূজা লন্ডনে উদযাপন করেছিলেন এবং তিনি তাঁর সকল গৃহস্থকে বলেছিলেন যে তাদের পরমহংস হওয়া উচিত। সাধারণত আমরা আশা করি যে ব্রহ্মচারী ও সন্ন্যাসীরা পরমহংস স্তর লাভ করতে সক্ষম, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু যখন সন্ন্যাস গ্রহণের পর শান্তিপুরে শচীমাতার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তখন তিনি সব ভক্তদের বলেছিলেন—“তোমরা তোমাদের গৃহে পরিবারের কাছে ফিরে যাও।” চৈতন্য মহাপ্রভুর বেশিরভাগ অনুসারীরা ছিলেন গৃহস্থ। গৃহস্থদের গর্ভধান সংস্কার করা ও কৃষ্ণপ্রসাদ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসলে আমি ভাবছিলাম—আমাদের সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের যে সম্বন্ধ তা কত অসাধারণ! তাই আমরা যদি নিজেদের ইন্দ্রিয়সমূহ কৃষ্ণসেবায় নিযুক্ত করতে পারি, তাহলে তা আমাদের পরম সৌভাগ্য! শ্রীল প্রভুপাদ একটি প্রবচনে বলেছিলেন, “আমার গুরুদেব ছিলেন একজন আচার্য। তাই সকল গৃহস্থদের নিজেদের সন্তানকে আচার্যরূপে গড়ে তোলা উচিত।” শ্রীল প্রভুপাদের এই উচ্চাভিলাষ ছিল। তাই আমরা চাই আমাদের ভক্তরা যাতে সবকিছু কেবল কৃষ্ণের সন্তুষ্টিবিধানের জন্য করেন। অবশ্য, এই কলিযুগে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র হচ্ছে এক বিশেষ আশীর্বাদ, কিন্তু তবুও প্রত্যেক ভক্তের এইরূপ চিন্তা করা উচিত যে—“আমি যা কিছু করছি তার দ্বারা আমি কৃষ্ণকে প্রসন্ন করতে চাই!” আপনারা কি মনে করেন?
এটাই হচ্ছে কৃষ্ণভাবনামৃত এবং বিষয়ীভাবনামৃতের মধ্যে পার্থক্য। এই জড়জগতে সবাই চায় শ্রীকৃষ্ণ তাদের পরিস্থিতি সন্তুষ্ট করুন, তাই তারা প্রার্থনা করে—“দয়া করে আমাকে একটা ভালো চাকরি দিন! দয়া করে আমাকে আপনার শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় দিন যাতে আমার কাছে বড় বাড়ি থাকে।” কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শ্রীকৃষ্ণ নিম্নে অবতীর্ণ হন আমাদের সখা, প্রেমিক, সন্তান ও প্রভু হওয়ার জন্য।
এটা কি মায়াপুরে সম্প্রচারিত হচ্ছে?
আমি কিছু বলব বাংলা! (আমি বাংলায় কিছু বলব।) (ভক্তবৃন্দ: হরিবোল!)
ব্যাস পূজার দিন আসলে সেইদিন মনস্থির সংকল্প করা হয় গুরুদেবের অভীষ্টপূর্ণ হয়। (ব্যাস পূজার দিন গুরুদেবের মনোভিষ্ট পূর্ণ করার দৃঢ়সংকল্প করা হয়।) এবং এইভাবে এটা কোন জন্মদিন নয়, এটা হচ্ছে কি আরও বেশি (১৭:১০) (এটা কোনো জন্মদিন নয়, এটা হচ্ছে অধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ এক বিশেষ দিন) আমরা চেষ্টা করতে পারি প্রত্যেক বর্ণ—স্বামী-স্ত্রী, ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসী, সবাই এখন মনস্থির করে কৃষ্ণকে সন্তুষ্ট করা হবে। (আমরা চেষ্টা করতে পারি যে স্বামী-স্ত্রী, ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসী, প্রত্যেক বর্ণের সবাই যেন কৃষ্ণ সন্তুষ্টিবিধানে মনস্থির করতে পারি।) এখন মায়াপুর টিভিতে এখন অনলাইনে কুড়ি হাজার লোক দেখছে। (অনলাইনে মায়াপুর টিভির মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানটি ২০,০০০ জন দর্শন করছেন।) তারা চিন্তা করছে কি করে দিল্লি, নয়ডা এত ভক্ত সম্ভব হইল? (আর তারা চিন্তা করছেন নয়ডাতে এত ভক্ত সমাগম হল কিভাবে।) আপনারা এসেছেন আমরা তার জন্য খুশি হয়েছি। (আপনারা এসেছেন তাই আমরা খুব খুশি হয়েছি।)
এইভাবে আমরা আশা করি, আপনাদের জীবনের প্রত্যেকটা দিন মহোৎসবের মতো হোক। শ্রীবিগ্রহগণকে নতুন বস্ত্র নিবেদনের জন্য আমি মায়াপুরের ভক্তদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই। কখনো কখনো ভক্তরা আমাকে জিজ্ঞেস করে—“আমি কি করতে পারি?” কিন্তু প্রভুপাদের ইচ্ছা, ২০-৩০টা তিনি আদেশ দিয়েছেন। (শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে ২০-৩০টা আদেশ দিয়েছিলেন।) তিনি বলেছিলেন, “তুমি মায়াপুরে থাকো এবং তোমার সহকারীদের মাধ্যমে সেবা করো—তাহলে তুমি এই সব নির্দেশ পালনে সক্ষম হবে।” সেই সময় আমার সহকারীরা ছিলেন মূলত গুরুভ্রাতা ও গুরুভগিনীগণ। তবে এখন আপনারা আমাকে এই বিভিন্ন নির্দেশ পালনে সাহায্য করতে পারেন।
হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ