Text Size

২০২৩১২৩০ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.২.১৬

30 Dec 2023|Duration: 01:02:20|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.২.১৬
মাং খেদয়ত্যেতদজস্য জন্ম-
বিড়ম্বনং যদ্বসুদেবগেহে।
ব্রজে চ বাসোঽরিভয়াদিব স্বয়ং
পুরাদ ব্যবাৎসীদ্‌যদনন্তবীর্যঃ॥

অনুবাদ- আমি যখন শ্রীকৃষ্ণের কথা চিন্তা করি — জন্মরহিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি কারাগারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, শত্রুর ভয়ে তিনি আত্মগোপন করে তাঁর পিতার প্রতিরক্ষা থেকে দূরে ব্রজে বাস করেছিলে এবং অসীম শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভয়ে মথুরা থেকে পলায়ন করেছিলেন — এই সমস্ত বিভ্রান্তিকর ঘটনা আমার মনে খেদ উৎপন্ন করে।

তাৎপর্য- যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন আদি পুরুষ যাঁর থেকে সবকিছু এবং সকলের সৃষ্টি হয়েছে — অহং সর্বস্য প্রভবঃ (ভগবদ্‌গীতা ১০/৮), জন্মাদস্য যত: (বেদান্ত সূত্র ১/১/২) — কেউ তাঁর সমকক্ষ নয় অথবা তাঁর থেকে মহান নয়। ভগবান পরম পূর্ণ, এবং তিনি যখন পুত্ররূপে, প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে অথবা শত্রুতার পাত্ররূপে তাঁর অপ্রাকৃত লীলাবিলাস করেন, তখন তিনি তা এত সুন্দরভাবে অভিনয় করেন যে, উদ্ধবের মতো শুদ্ধ ভক্তও বিমোহিত হন। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, উদ্ধব ভালোভাবেই জানতেন যে, শ্রীকৃষ্ণের অস্তিত্ব নিত্য,এবং কখনও তাঁর মৃত্যু হতে পারে না অথবা চিরকালের জন্য তিনি অন্তর্হিত হতে পারেন না, তবুও তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য  শোক করেছিলেন। এই সমস্ত ঘটনা তাঁর সর্বোচ্চ মহিমার পূর্ণতা প্রদান করার নিখুঁত আয়োজন। এই সমস্তই তাঁর আনন্দ উপভোগের জন্য। পিতা যখন তাঁর শিশুপুত্রের সঙ্গে খেলা করতে করতে ধরাশায়ী হন যেন তিনি তাঁর পুত্রের কাছে পরাস্ত হয়েছেন, তা কেবল তাঁর শিশুপুত্রের আনন্দবিধানের জন্য, অন্য কোন কারণে নয়। যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ সর্বশক্তিমান, তাই তাঁর পক্ষে জন্মগ্রহণ করা অথবা জন্মগ্রহণ না করা, জয় ও পরাজয়, ভয় ও নির্ভয়তা আদি পরস্পরবিরোধী অবস্থার সামঞ্জস্য করা সম্ভব। শুদ্ধ ভক্ত ভালোভাবে জানেন কিভাবে ভগবানের পক্ষে বিরোধী ভাবের সামঞ্জস্য সাধন সম্ভব, কিন্তু তিনি অভক্তদের জন্য শোক করেন, যারা ভগবানের পরম মহিমা সম্বন্ধে অজ্ঞতাবশত তাঁকে একজন কল্পনা প্রসূত ব্যক্তি বলে মনে করে, কেননা তাঁর সম্বন্ধে শাস্ত্রে বহু আপাতবিরোধী বর্ণনা রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোন বিরোধ নেই, যখন আমরা ভগবানকে আমাদের মতো একজন অপূর্ণ মানুষ বলে মনে না করে, তাঁকে যথার্থরূপে ভগবান বলে বুঝতে পারি, তখন আর কোন রকম বিরোধ থাকে না।

***

জয়পতাকা স্বামী:- উদ্ধব এবং মৈত্রেয় ঋষি মিলিত হয়েছিলেন। এটি স্বাভাবিক যে তারা প্রশ্ন করেছেন, আপনি কেমন আছেন? এমনকি যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, তিনি মনুষ্যলীলা করেছিলেন, তিনিও প্রশ্ন করেছিলেন,“ওহ আপনি কেমন আছেন?” কারণ জড়জগতে একজন ব্যক্তি ভালো থাকতে পারে বা খারাপ থাকতে পারে, কিন্তু চিন্ময় ধামে তারা জিজ্ঞাসা করে না, আপনি কেমন আছেন? কারণ পূর্ণ আনন্দ ব্যতীত অন্য কিছু থাকার ধারণাও সেখানে অচিন্ত্যনীয়। সেখানে প্রতি পদক্ষেপ এক নৃত্য, প্রতিটি কথা এক সঙ্গীত। বৈকুন্ঠ ধামে সকলই চিন্ময়, সকলই আনন্দময়। কিন্তু জড়জগতে তা নয়, সেখানে কিছু সমস্যা থাকতে পারে, অথবা ভালোও থাকতে পারে। সুতরাং এই জড়জগতে এই বৈপরীত্য আছে। অতএব উদ্ধ্‌ব, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত বিশিষ্ট ভক্ত। তিনি শুধু শ্রীকৃষ্ণের জ্ঞাতি ভাই ছিলেন না, কিন্তু তিনি তাঁর বন্ধু ছিলেন। যখন কৃষ্ণ গমন করেছিলেন, তিনি যুধিষ্টির মহারাজকে প্রসন্ন করতে চেয়েছিলেন, সেইজন্য তিনি ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে অর্জুন এবং ভীমের সাথে জরাসন্ধের কাছে গিয়েছিলেন। তারা ভিক্ষা করেছিলেন যে, “দয়া করে আমাদের কিছু ভিক্ষা দিন যে আমরা যা চাইব আপনি অবশ্যই তা দেবেন।” তারপর জরাসন্ধ ভাবলেন এরা প্রকৃত ব্রাহ্মণ নয়। এদের কোন রাজা অথবা যোদ্ধার মত দেখাচ্ছে। কিন্তু তিনি স্মরণ করলেন কিভাবে বিষ্ণু ব্রাহ্মণের রূপে বলির কাছে এসেছিলেন এবং ত্রিপাদ ভূমি যাচনা করেছিলেন। এমনকি যদিও তার গুরু তাকে নিষেধ করেছিলেন, তবু তিনি বিষ্ণুকে ত্রিপাদ ভূমি দিয়েছিলেন। তারপর তিনি অত্যন্ত বিখ্যাত হয়েছিলেন। তাই জরাসন্ধ ভাবলেন, “তারা যা চাইছে আমিও যদি তাদের তা দিই, তাহলে আমিও একজন অত্যন্ত উদার ব্যক্তিরূপে বিখ্যাত হব।” “আপনারা কি চান? দয়া করে আমাকে বলুন আমি আপনাদের দেব।” এরপর তারা প্রকাশ করলেন তারা কে। “আমি আপনার শত্রু কৃষ্ণ, এই হল ভীম এবং তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা অর্জুন। আমরা আপনার সাথে যুদ্ধ করতে চাই।” জরাসন্ধ বললেন, “আমি কৃষ্ণের সাথে যুদ্ধ করব না, কারণ সে কাপুরুষ। সে আমার থেকে পালিয়ে গেছে এবং সমুদ্রে দ্বারকায় গেছে কারণ সে আমাকে ভয় পায়। অর্জুন, সে কনিষ্ঠ, সে আমার মত শক্তিশালী নয়। ভীম, আমি ভীমের সাথে যুদ্ধ করতে পারি, সে সমপর্যায়ের মতো।” অতএব তারা ২৭ দিন ধরে যুদ্ধ করেছিলেন। প্রতি রাতে তারা বন্ধুর মতো থাকতেন এবং সারাদিন তারা যুদ্ধ করতেন। ভীম কৃষ্ণকে বললেন, “আমি জরাসন্ধকে পরাজিত করতে সক্ষম নই, সে আমারই মতো শক্তিশালী। তাই আমি কি করতে পারি?” সুতরাং তখন কৃষ্ণ একটি গাছের এক ছোট ডাল নিয়ে সেটাকে দুভাগে ভাগ করেলেন। কারণ যখন জরাসন্ধ একটি ছোট শিশু ছিল জরা নামক এক যাদুকরী আসলে তার দ্বিখন্ডিত দেহকে জুড়েছিল। এবং সেই চিহ্ন অনুযায়ী ভীমের বোঝা উচিত যে জরাসন্ধকে পরাজিত করার উপায় হল তাকে পুনরায় বিভক্ত করা। যাইহোক, ভীম জরাসন্ধকে ভূমিতে ফেলে তার একটি পায়ের উপর দাড়িয়ে যান এবং অন্য পা ধরে তিনি জরাসন্ধকে দুভাগে বিভক্ত করলেন। যদি ভীম চাইতেন, তিনি রাজা হতে পারতেন। কিন্তু তিনি জরাসন্ধের পুত্র সহদেবকে রাজা রূপে অভিষেক করান। সুতরাং তিনি হলেন মগধের রাজা। আপনারা কি জানেন মগধ কোথায়? এটি আমার ক্ষেত্র! এটি বিহারের অংশ! যাইহোক ২৮০০০ রাজা জরাসন্ধের কাছে বন্ধী হয়েছিলেন, তিনি ১০০০০০ রাজাকে ভগবান শিবের কাছে অর্পণ করতে চেয়েছিলেন। সুতরাং এই রাজারা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর অবস্থা ছিলেন। কিন্তু কৃষ্ণ, তিনি তাদের মুক্ত করলেন এবং তাদের সব রাজকীয় পোষাক প্রদান করার জন্য সহদেবকে বললেন। কৃষ্ণ দেখলেন যে তারা যেন প্রচুর পরিমাণে প্রসাদ পান কারণ তারা রাজা ছিলেন। তারপর তিনি তাদের সাথে কথা বললেন যে “আপনারা আপনাদের রাজ্যে ফিরে যান এবং বর্ণাশ্রম অনুসারে কর্তব্যকর্ম করুন। এবং আপনারা আপনাদের প্রজাদের সুন্দরভাবে যত্ন নিন। যখন আপনারা বংশধর গ্রহণের প্রয়াস করবেন তখন আমাকে স্মরণ করবেন।” এরা দীক্ষিত শিষ্য ছিলেন না, শুধু রাজা ছিলেন। কিন্তু কৃষ্ণ তাদের বললেন যখন আপনারা যৌনসঙ্গ করবেন, আমাকে স্মরণ করবেন।

সুতরাং ভক্তগণ তাদের গর্ভাধান সংস্কার করা উচিত, শ্রীবিগ্রহগণের কাছে প্রার্থনা ও এই সব করুন। কিন্তু কৃষ্ণ তাদের বললেন, আমাকে স্মরণ করুন। সুতরাং এইভাবে প্রকৃতপক্ষে আমাদের সকল কাজেই আমাদের কৃষ্ণকে স্মরণ করা উচিত। এইভাবে গৃহস্থদের কৃষ্ণকে স্মরণ করা উচিত এবং এমন কি অন্য সকল ভক্তদেরও কৃষ্ণকে স্মরণ করানো উচিত। একটি বিষয় হল এই যে যদি কেউ বিরহেও সর্বদা কৃষ্ণকে স্মরণ করতে পারে, সেইটিই হল মহাপ্রভুর শিক্ষা। চৈতন্য চরিতামৃতে একটি শ্লোকে বলা হয়েছে —

ভুক্তি মুক্তি সিদ্ধিকামী – সকলই ‘অশান্ত’
কৃষ্ণভক্ত-নিস্কাম, অতএব ‘শান্ত’
(চৈ চ মধ্য - ১৯,১৪৯)

হরিবোল! কারণ ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে কৃষ্ণসেবা একজন ব্যক্তিকে পরম আনন্দ এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে। আমরা কোথায় যাই, কোন গ্রহে তার উপর আমাদের কিছু নির্ভর করে না, আমরা শুধু কৃষ্ণসেবা করতে চাই। আমরা যদি কৃষ্ণসেবা করতে পারি, তাহলে আমরা আনন্দে থাকব।

ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষা দিয়েছেন যে কিভাবে আমরা সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের কথা ভাবতে পারব। এবং কিভাবে ভগবান স্বয়ং চিন্ময় ধাম থেকে অবতরণ করেছিলেন ও তিনি সংকীর্তন করছিলেন। যখন আমরা পঞ্চতত্ত্বের নিকটে যাই, সেখানে আপনি দেখবেন নিতাই গৌর চিত্র এবং পঞ্চতত্ত্ব সংকীর্তনে রত। কৃষ্ণ অসীম শক্তিমান। এবং যখন তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে আসেন, তিনি অপার করুনা প্রদান করতে আসেন। গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! হরিবোল! শ্রীল প্রভুপাদ রাধামাধব এবং মায়াপুর-চন্দ্রের আরাধনা করেছিলেন। এই জন্য এই মন্দিরকে শ্রীমায়াপুর চন্দ্রদয় মন্দির বলা হয়। সুতরাং আমাদের উদ্দেশ্য হল সকল মানুষের হৃদয়ে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে জাগ্রত করে তোলা।

গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! অদ্বৈত! গদাধর! শ্রীবাসাদি গৌরভক্ত-বৃন্দ!

এখন আমরা শ্রীল প্রভুপাদ ম্যারাথন উদযাপন করছি। আমরা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থসমূহ বিতরণ করার প্রয়াস করছি। আমরা কাউকে কতটাই বা বোঝাতে পারব, কিন্তু যদি তারা একটি গ্রন্থ নেয়, তারা দিনের পর দিন এটি পড়তে পারে এবং উপলব্ধি করতে পারে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমরা প্রতিদিন সকালে শুনি যে কোন দিন ৪০০০, কোনদিন ১১০০০ গ্রন্থ বিতরণ করা হয়েছে। সুতরাং আমরা আশা করি যে সকল ব্যক্তিরা যারা মায়াপুরে এসেছেন, তারা একটি গ্রন্থ বাড়িতে নিয়ে যাবে। আপনি কি মনে করেন, ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী?

ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী:- আমি সকল সমাজ এবং গৃহস্থ ভক্ত ও মাতাজীদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, তারা অনেক সাহায্য করছেন, মায়াপুরে তারা প্রচুর গ্রন্থ বিতরণ করছেন, এই বছর তারা অনেক গ্রন্থ বিতরণ করছেন এবং অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের উৎসবের জন্য গ্রন্থ সংগ্রহ করছেন। আমরা আশা করি যে এই বৎসরও আমরা আপনার ইচ্ছানুসারে আমাদের প্রথম স্থানের লক্ষ্য রাখব।

জয়পতাকা স্বামী:- নতুন দিল্লী মন্দির, তারা আমাদের কাছ থেকে শিখেছে এবং তারাও তাদের গৃহস্থ ভক্তদের ম্যারাথনে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে দিয়েছে। সুতরাং কোন স্থান আমরা লাভ করব তা কৃষ্ণের ইচ্ছা। কিন্তু আগামী বৎসর আপনাকে আগে শুরু করতে হবে। আমরা গ্রন্থ বিতরণ সম্বন্ধে শ্রীল প্রভুপাদের অনেক প্রবচন, অনেক পত্র শ্রবণ করেছি। আমার মনে হয় একটি পত্র রামেশ্বর প্রভুকে পাঠানো হয়েছিল, এখানে আছেন? তিনি হয়তো কিছু বলতে চাইবেন।

রামেশ্বর প্রভু(এসিবিএসপি): শ্রীল প্রভুপাদ আমাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন যে এই গ্রন্থগুলি স্বয়ং কৃষ্ণের থেকে অভিন্ন। কৃষ্ণ হলেন সকল জ্ঞানের উৎস। আমরা যখন মানুষকে গ্রন্থ দিই, আমরা তাদের সেই পরম জ্ঞান প্রদান করি। এবং কৃষ্ণ গ্রন্থ বিতরণকারীর উপর এত প্রসন্ন হন যে তিনি সেই সেবার জন্য বিতরণকারীকে পরম জ্ঞান প্রদান করেন। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্যই হল সমগ্র পৃথিবীকে কৃষ্ণ প্লাবিত করা।

জয়পতাকা স্বামী:- প্রকৃতপক্ষে আমরা যখন কৃষ্ণভাবনামৃত বিতরণ করি, তখন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু অত্যন্ত প্রসন্ন হন। চৈতন্যভাগবতে লেখা আছে যে যখন বৈষ্ণবগণ বাংলা থেকে এসেছিলেন, তারা সকলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে প্রণাম নিবেদন করতে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন তারা ওঠেননি, তারা শুধু ক্রন্দন করছিলেন। এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাদের তুলে আলিঙ্গন করতেন। হরিবোল! গৌরাঙ্গ!

আমরা গৌরাঙ্গকে প্রসন্ন করতে চাই, আমরা কৃষ্ণকে প্রসন্ন করতে চাই এবং সেটি করার জন্য আমরা জানি শ্রীল প্রভুপাদকে প্রসন্ন করাই মূল চাবিকাঠি। সুতরাং বদ্ধ জীবাত্মাদের কৃষ্ণ প্রদান করার এই কৃপা অবর্ণনীয়। আমরা রামেশ্বর প্রভুর কাছে শ্রবণ করলাম যে এইরূপে গ্রন্থ বিতরণের মাধ্যমে কৃষ্ণ আমাদের পরম জ্ঞান প্রদান করেন।

যাইহোক, আমরা জানি যে উদ্ধব, যখন মৈত্রেয় ঋষি তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেমন আছেন, তিনি বলেন কিভাবে সমস্ত কিছু এক থাকে, সূর্য অস্ত গেছে। যখন সূর্য ছিল, আলো ছিল, এবং যখন সূর্য অস্ত যায় সমস্তকিছুই অন্ধকার হয়ে যায়। অতএব কোনও ভাবে এই কলিযুগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু উদিত হয়েছেন, সুতরাং তা এই যুগকে আলো প্রদান করেছে। এবং তারপর তিনি যখন প্রস্থান করেছেন, তিনি তাঁর পশ্চাতে এই সংকীর্তন আন্দোলনকে রেখে গেছেন। শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি সমগ্র পৃথিবীতে এই সংকীর্তনকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেছেন যে তাঁর শিষ্যগণ, তাঁর অনুগামীগণ, তারা তাঁকে প্রতি নগরাদি গ্রামে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বানী প্রচারে সহায়তা করবে।

এই জড়জগত অনিশ্চিত। আমি শুনেছি যে কোভিড-১৯ ভারতে পুনরায় ফিরে আসতে শুরু করেছে এবং মায়াপুরে কমপক্ষে ৫০জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এসএমআইএস স্কুলের ছাত্রগণ এক ভ্রমণে গুয়াহাটি গিয়েছিল এবং যখন তারা ফিরে আসে, একজনের কোভিড হয়েছিল। এইভাবে এখন ৫০জন মানুষ মায়াপুরে আক্রান্ত আমি কয়েকদিন আগে শুনেছি। যদি আপনারা এটিতে আক্রান্ত না হতে চান তাহলে মাস্ক পরুন। এই মায়াপুরে অনেক দর্শনার্থী আসেন। তাদের মধ্যে কারোর কোভিড আছে কিনা, আমরা জানি না। যাইহোক এই জড়জগত এক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর স্থান। সুতরাং আমাদের সর্বদা কৃষ্ণের কথা চিন্তা করতে হবে। এবং যদি আমরা নিঃশ্বাস ছেড়ে দিই, আমাদের অন্তত গ্রন্থ দিয়ে যাওয়া উচিত। শ্রীপাদ বৈশাসিকা প্রভু বলছিলেন যে এই বৎসরের নীতি “দেওয়ার জন্য বাঁচা”, (লিভ টু গিভ যথার্থ অনুবাদ হয়নি) হরেকৃষ্ণ! গৌরাঙ্গ! কোন প্রশ্ন?

ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী:- আমরা শ্রীপাদ রামেশ্বর প্রভু, শ্রীপাদ জীবানাথ প্রভু, শ্রীপাদ কৃপানিধি প্রভুকে আমাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চাই যারা এখনও গ্রন্থ বিতরণ করছেন এবং আমাদের এত উৎসাহিত করছেন। আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করি, শ্রীপাদ রামেশ্বর প্রভু মন্দিরে গ্রন্থ বিতরণের স্কোর শুনছেন এবং আমরা উৎসাহের সঙ্গে লক্ষ্য করি। একই সঙ্গে আমাদের মায়াপুরের সব বিভাগ, যখন তারা শোনে যে মায়াপুর পিছনে পড়ে গেছে, সব বিভাগ সাহায্য করার জন্য দৌড়ে আসে। আমরা আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি এবং আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আমরা এই বৎসর কিছু অতিরিক্ত সহায়তা চাই, রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা উৎসবে আমরা প্রচুর পরিমাণে গ্রন্থ বিতরণ করতে চাই। অতএব, দয়া করে আপনাদের সামর্থ্য মতো সকল সহায়তার হাত এগিয়ে দিন।

গ্রন্থ বিতরণ সম্বন্ধীয় আমার একটি প্রশ্ন আছে যা বহু মানুষ বলে যে, আমরা ভগবদগীতা নিতে চাই না কারণ যখনই ভগবদগীতা গৃহে আসে এটি লড়াই শুরু করে সুতরাং কিভাবে আমরা তাদের ভগবদগীতা নেওয়ার জন্য বোঝাতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:- এটি কিরকম লড়াই শুরু করে?

ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী:- তারা বলে যে ভাগবদগীতা বলা হয়েছে সেখানে যেখানে কৌরব এবং পাণ্ডবদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। অতএব আমরা জানি যেই গীতা ঘরে প্রবেশ করবে এটি যুদ্ধ সৃষ্টি করবে।

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন গীতা বলা হয়েছিল অর্জুনকে। এবং যুদ্ধে অর্জুন জয়ী হয়েছেন। সুতরাং যদি তারা গ্রন্থ নেন, তারাও জয়ী হবেন। গৌরাঙ্গ!

কমলাপতি দাস:- অত্যন্ত উপদেশমূলক ক্লাস বিশেষত: বহু ব্যক্তিগত নির্দেশ রয়েছে। ভীম জরাসন্ধের সাথে দিবাভাগে যুদ্ধ করেছেন, কিন্তু রাত্রে তারা বন্ধু ছিলেন। আমরা যখন গ্রন্থ বিতরণ করি এমনকি যদি আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও থাকে, তবুও কিভাবে আমরা অন্যান্য ভক্তদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে থাকব, যাদের সাথে আমরা প্রতিযোগিতা করছি?

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন এটি ছিল ক্ষত্রিয় রীতি, তারা দিনে যুদ্ধ করত, রাতে তারা বন্ধু থাকত। আমরা ক্ষত্রিয়দের মত গ্রন্থ বিতরণ করছিনা। আমরা কৃষ্ণকে প্রসন্ন করার জন্য, গৌরাঙ্গকে প্রসন্ন করার জন্য, শ্রীল প্রভুপাদকে প্রসন্ন করার জন্য বিতরণ করছি। দেখুন যদি কেউ অধিক গ্রন্থ বিতরণ করে, আমরা আনন্দিত! কারণ অধিক মানুষ কৃষ্ণের বানী প্রাপ্ত হলেন। সেটি আগামী দিনে আরও কঠিন প্রয়াস করতে আমাদের উৎসাহিত করবে। সুতরাং আমরা একে অপরকে নিধন করার প্রয়াস করছিনা। আমরা অধিক গ্রন্থ বিতরণের জন্য প্রয়াস করছি। এই ভাবে, আমরা মৃত্যুকে জয় করতে পারি। হরে কৃষ্ণ!

ঠিক আছে আপনাদের ধন্যবাদ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by শরণাগতি মাধবী দেবী দাসী 20/4/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions