মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- সবাই প্রতিজ্ঞা করেছেন? আজকে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা আর কোথায়? (বীরভূম, বাঁকুড়া) বীরভূম, একচক্র আমি সব জায়গায় গিয়েছি, আর বাঁকুড়া গেছি প্রভুপাদের সাথে। এটা আমাদের নিতাই গৌরের বিগ্রহ একজন নিয়ে এসেছে, নবদ্বীপের একজন সাধু নিয়ে এসেছে মায়াপুরে। তখন আমরা নেব মনস্থির হয়নি। তারপরে বিচার হল আমরা সেই বিগ্রহ চাচ্ছি। আমি শুনছি সেই বিগ্রহ একচক্র চলে গেছে। আমরা গিয়েছি একচক্র, কিন্তু ওরা বলছে মুর্শিদাবাদে চলে গেছে। তারপরে আমরা মুর্শিদাবাদ গিয়েছি, এবং একটা আশ্রম ছিল, রামচন্দ্র কবিরাজের একটা মন্দির ছিল এবং অনেক বাবাজি, সাধু ছিলেন। তাদের দায়িত্ব ছিল না, তাই তারা বিচার করতে পারেনি। সেখানকার যে প্রধান মহন্ত, তার কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি রাজি হলেন। বলছেন যে, “তারা ভক্ত দিয়ে দাও।” আমরা নিয়ে এসেছি, এবং সেই আমাদের নৌকায় প্রতিষ্ঠা হল। সেখানে গিয়ে প্রভুপাদ পূজা করলেন এবং তারপর আমরা নৌকায় বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। এটা ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এই বিগ্রহ সব জায়গায় যায়নি কিন্তু বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা গিয়েছে। আরও কয়েক জায়গায় গিয়েছে। ... প্রভুপাদ বলছিলেন, গৃহস্থ বিগ্রহ পূজা করা প্রয়োজন যে ওঁনাদের দর্শন এবং চিন্তা, কিন্তু অর্জন হচ্ছে অনুশীলন একটা। পূজা করা, শৃঙ্গার করা, অভিষেক করা, নিবেদন করা, বিভিন্ন সেবার সেবার মাধ্যমে গৃহস্থদের যে সমস্ত অপরাধ ইত্যাদি সব নষ্ট হয়ে যায় এবং কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি বাড়ে। আপনাদের কয়জনের বিগ্রহ আছে বাড়িতে? হাত তুলুন! বেশি নেই! এইভাবে গৃহস্থ হরিনাম, প্রচার সেটা সবথেকে ভালো কিন্তু সব সময় হয়ত প্রচার করতে পারছে না, তার জন্য ঠাকুরের সেবা ভালো। সেই জন্য যদি বিগ্রহ না থাকে, কমপক্ষে চিত্রপট থাকা ভালো।
আজকে আপনারা নাম অপরাধ এবং বিভিন্ন বিষয় যে দীক্ষার কি প্রয়োজন ইত্যাদি বলা হয়েছে না? আপনারা অত্যন্ত ভাগ্যবান, এইসব হচ্ছে গৌর মণ্ডল ভূমির অন্তর্গত। নরোত্তম দাস বলছিলেন, “গৌর মণ্ডল ভূমি, যেবা জানি চিন্তামনি, তার হয় ব্রজ ভূমে বাস।” এই মন্দির পরিক্রমা করলে, পিছনে পঞ্চতত্ত্বের কাছে একটা ছবি আছে যে নিতাই, গৌর, অদ্বৈত গোঁসাই ইত্যাদি পঞ্চতত্ত্ব সঙ্গে বহু ভক্ত কীর্তন নৃত্য করছে। এখানে পরমেশ্বর ভগবান, পরম সত্য, উনি এসেছেন ভক্ত রূপে। এবং ভক্ত সঙ্গে তিনি নৃত্য করছেন। এখন ভগবানকে বলা হয় — ত্রিযুগ। তিনি সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর যুগে প্রকাশিতভাবে আসেন। কলি যুগেও আসেন কিন্তু গোপনভাবে, প্রচ্ছন্ন অবতার। চিন্তা করুন যে বাংলা ভারতবর্ষে চৈতন্য মহাপ্রভু এসেছেন, তিনি কৃষ্ণ, তিনি এসেছেন, তিনি ভক্তসঙ্গে নৃত্য করেন। উনি যখন চিৎকার করেন, তা হাজার সিংহের মতো। গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! অদ্বৈত গোঁসাই! তাদের কত ভাগ্য যারা ভগবানের সাথে কীর্তন নৃত্য করতে পেরেছে। কৃষ্ণ ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলছিলেন, যে ৫,০০০ বছর কলিযুগের মধ্যে শুরু হবে এক ১০,০০০ বছরের স্বর্ণ যুগ। সেখানে মানুষ বেশি কৃষ্ণ চেতনায় থাকবে, কৃষ্ণভাবনামৃত। এখন ৫,০০০ বছর হইল, প্রভুপাদ এসে সারা পৃথিবীতে প্রচার করলেন। ভক্তিবিনোদ ঠাকুর উনি পুঁথিতে বলছিলেন যে বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্ত পরিক্রমা করবে। এবং আর্য দেশ, ভারতবর্ষ থেকে ভক্তরা পরিক্রমা করবে। গৌরাঙ্গ প্রেম মহারাজ তিনি নামহট্টের ভক্ত। দুটো দল ... বিদেশী বৈষ্ণব সব এক হবে, পরস্পর আলিঙ্গন করবে, জয় শচীনন্দন! জয় শচীনন্দন! বলবে। কে কি জাত, কোন দেশ, কি বর্ণ এর কোন চিন্তা নেই। সব গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর চিন্তা! এখন এই ভক্ত এসেছেন ডেট্রয়েট আমেরিকা থেকে, ওখানে তিনি একটা ফার্মে থাকেন, কিন্তু তারা ওই ... জায়গা হরিনাম করে। খোল, করতাল নিয়ে হরিনাম। লোক এসে ভালো লাগে। আপনারাও করেন, কিন্তু আমেরিকায় করে এটা প্রভুপাদের প্রচেষ্টায়। এবং তিনি একটা গোশালায় থাকেন, সেখানে আমেরিকাবাসী এসে এক ঘণ্টা cow cuddling (গাভীকে আলিঙ্গন) করে। সেখানে ৪৫ মিনিট … সাধারণত বাইরের লোক গরু খায়। তারা ম্লেচ্ছ, কিন্তু একবার গরু আলিঙ্গন করলে বলে আমি জীবনে খাব না। এখন আপনাদের সংস্কৃতি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাচ্ছে। দেখুন আমার আরেকজন অভয় নিমাই, আপনারা যদি গাভীকে আলিঙ্গন করতে চান, সে দিতে পারে, এই ব্যবস্থা করতে পারে।
এখন কেউ আমরা চিন্তা করতে পারি যে চৈতন্যদেব ৫০০ বছর আগে ছিল, আমরা কি করে সঙ্গ পাব? কৃষ্ণ ছিলেন ৫০০০ বছর আগে, কি করে সঙ্গ পাবো? এখন কৃষ্ণের নাম, কৃষ্ণের লীলা, কৃষ্ণের গুন, কৃষ্ণের যে কোন জিনিস কৃষ্ণের সাথে যুক্ত আছে। এবং এইভাবে আপনারা কৃষ্ণের সঙ্গ পেতে পারো। কৃষ্ণ ছিলেন বৃন্দাবনে, উনি ১৫ বছর বয়স মতন তখন চলে গেলেন। কিন্তু সারা জীবন ব্রজবাসী কৃষ্ণকে চিন্তা করলেন। এবং সেইভাবে কৃষ্ণ বলেছেন আমি এক পাও বৃন্দাবন থেকে যাই না। কৃষ্ণের এত ভালোবাসা, এত প্রেম, এতে কৃষ্ণ বন্দি থাকেন। এইভাবে আমরা কৃষ্ণ, চৈতন্যদেব সঙ্গ পেতে পারব। যে সবসময় কৃষ্ণকে বিপ্রলম্ভ মধ্যে চিন্তা করে। কৃষ্ণ বিরহে চিন্তা করলে, কৃষ্ণের সঙ্গে থাকা হয়। গৌরাঙ্গ তাঁর চিন্তা করা, তার ভক্তের চিন্তা করা, এতে কত আনন্দ হয়। এইভাবে বিরহের ভাবে চৈতন্যদেব শিখিয়ে দিয়েছেন আমরা সবসময় কৃষ্ণের সঙ্গে থাকতে পারি। যশোদা মাই তিনি দই থেকে ঘি তৈরি করছেন, এবং মুখে তিনি কৃষ্ণ ভজন করছেন। এইভাবে স্বামী-স্ত্রী নামহট্টে তারা বিভিন্নভাবে কৃষ্ণ নাম করে, কৃষ্ণ সেবা করে, এটা কি আনন্দ হয়! এই আনন্দ অসীম। অধিবাসে বলে, কীর্তন করে আনন্দের সীমা নাই! আনন্দের সীমা নাই! আনন্দের সীমা নাই! আনন্দের সীমা নাই! নিরানন্দ দূরে যায়! নিরানন্দ দূরে যায়! আজকে যে দীক্ষা হচ্ছে তোমাদের, পাপ থেকে ক্ষয় হচ্ছে, পাপ থেকে মুক্ত হচ্ছে। কিন্তু তার প্রতিজ্ঞা হচ্ছে যে আজ থেকে আমি কোন পাপ আর করবো না। বিশেষ ভাবে প্রধান প্রধান পাপ চলবে না। এই যে চারটে নিয়ম আছে এটা আর চলবে না। প্রভুপাদ বলছিলেন একটা ভাষণে যে ওঁনার সমস্ত অনুগামী গৃহস্থ, পরমহংস হওয়া উচিত। উনি সবসময় চিন্তা করবেন গৌরাঙ্গ, কৃষ্ণের। এবং তিনি বললেন, আমার গুরুদেব ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর, তিনি ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের সন্তান। এইভাবে আপনারা সবাই গৃহস্থ, এটা আপনারা আচার্য সন্তান করুন। আমাদের অনেক আচার্য প্রয়োজন। ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করতে হয় যে আমরা গর্ভাধান সংস্কার করব, যাতে আমার কৃষ্ণভাবনাময় সন্তান হয়। সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুপুত্র। এবং এইভাবে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে, এখন গোপাল ভট্ট গোস্বামী, উনি লিখলেন সতক্রিয়সংস্কারদীপিকা, সেটার মধ্যে গৃহস্থ যেসব... এটা লেখা আছে। ব্রহ্মচারীর এটা জানা উচিত যেন ভক্তের কাছে বলার। এবং প্রথম সংস্কার, সেটা খুব সহজ হচ্ছে গর্ভধাণ সংস্কার। গৃহস্থ কেবল করবে, কোন সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী করবে না। আপনারা আচার্য সন্তান করুন, কৃষ্ণকে চিন্তা করুন, এবং এইভাবে আপনাদের জীবন চিন্ময় হবে।
আমাদের ইসকনে মূলত বলা হয়েছে যে, আমাদের নিয়ম গুরু থাকতে দীক্ষা দেওয়া হয় না। কিন্তু যদি গুরু আদেশ দেয়, তাহলে দিতে পারে। আমার বয়স হয়ে গেছে, আমি ভবিষ্যতে হয়ত যারা আমার কাছে আশ্রয় নিয়েছে, তাদেরকে দেব। কিন্তু আমাদের বর্তমানে যে সব জ্যেষ্ঠ শিষ্য আছে, তারা এখন ইসকনের অনুসারে দীক্ষা দেবে। গৌরাঙ্গ প্রেম গুরু হয়েছেন। এখন ক্রমে ক্রমে আরো শুরু করবে। এবং আমি ভবিষ্যতে কম দেব।
Lecture Suggetions
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ