Text Size

২০২৩১২১১ দীক্ষা প্রবচন

11 Dec 2023|Bengali|Initiation Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
   যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
   পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
   হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- কোথা থেকে এসেছো আজকে? কে প্রতিজ্ঞা করেছে? কার প্রতিজ্ঞা হয়নি? আজকে হচ্ছে একটা বিশেষ দিন যে আজকে সারঙ্গ ঠাকুরের তিরোভাব। ওনার মাত্র একটা শিষ্য ছিল মুরারি চৈতন্য দাস। কিন্তু মহাপ্রভু বলছিলেন আপনি শিষ্য দীক্ষা দিন, আপনার একটা শিষ্য গ্রহণ করা উচিত। এটা কয়েকবার উনি বলেছেন। তারপরে সারঙ্গ ঠাকুর ভেবেছেন যে প্রথম লোক দেখা হয়, দীক্ষা দেব। এখন তিনি গঙ্গা স্নান করতে গিয়ে গঙ্গার মধ্যে দেখছেন একটা মৃতদেহ ভাসছে। ... কেউ যদি সাপের কামড়ে মরে যায়, একটা কলার ভেলায় ভাসায়। এখন সেই মৃতদেহ সারঙ্গ ঠাকুরকে ধাক্কা মেরেছে। সারঙ্গ ঠাকুর চিন্তা করলেন এই প্রথম লোক আমি দেখেছি এবং কালকে ভেবেছি আমি দীক্ষা দেব। তাকে নিয়ে কানে দীক্ষা মন্ত্র দেয়। তারপরে সেই মৃতদেহ জাগ্রত হল। মৃত অবস্থা থেকে জীবিত হয়ে গেল। তার নাম দিয়েছে মুরারি চৈতন্য দাস। এখন ওনার মা-বাবা শুনেছে যে বেঁচে গেছে, তারা এসে বলছে যে “বাড়ি ফিরে আসো!” “আমি তোমার পুত্র ছিলাম, কিন্তু মরে গেছি। এখন আমার বাবা হচ্ছেন সারঙ্গ ঠাকুর। আমি ওনার সঙ্গে থাকব।” এখন যেহেতু মুরারি ঠাকুর মরে গেছে, ফিরে এসছে। তাই কোন ভয় নাই, মৃত্যু ভয় নাই। উনি বড় বাঘ উপরে চড়ে তিনি গ্রামের মধ্যে গেলেন। এরকম যদি আপনার গ্রামের মধ্যে বাঘ চড়ে কেউ আসতো, তাহলে আপনারা কি ভাবতেন? তিনি এসে সবাইকে বলতেন “হরে কৃষ্ণ নাম করো!” — হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। এইভাবে সারাঙ্গ ঠাকুরের আশীর্বাদে ওনার বহু শিষ্য ছিল। সারঙ্গ ঠাকুরের একটা শিষ্য, আর তার শিষ্য হাজার শিষ্য। শিষ্য হতে নিয়ম হয় এবং মনস্থির হওয়া উচিত যে আমি এই গুরুদেব আদেশ পালন করতে পারি।

আমি একবার বাংলাদেশে গেছি, তখন আমি হেলিকপ্টারে করে গেছি, আর এমন একটা অবস্থা ছিল আমরা কালবৈশাখী মধ্যে পড়ে গেছি। তখন সেই হেলিকপ্টারের চালক বললেন যে এইরকম চলতে পারি না, ভিশন ভয় আছে। উনি নেমে গেছে গ্রামের মধ্যে। এখন গৃহস্থ লোক হেলিকপ্টারে ঘিরে ফেলেছে, কিভাবে এসছে এটা, গ্রামে আসেনি তো। আপনারা দেখেছেন? এইভাবে একটা মহিলা এসে দেখাচ্ছে, “হ! এ আমার গুরুদেব!” তারপর আমরা হেলিকপ্টার থেকে নেমে তারপর ওনার বাড়ি চলে যাই। এখন উনার বাড়ির মধ্যে একটা মন্দিরের মত ছিল। আমার একটা ছবি ছিল, এবং আরেক গুরুর ছবি ছিল। ঠিক আছে, কিন্তু আমি বললাম, “উনি কে?” ওই মহিলা বলছেন, “আমার স্বামীর গুরু।” তিনি মাছ আলাদা রান্না করে খায়। তিনি মাছ খায়, আপনি নিরামিষ গুরু আর ইনি আমিষ গুরু। এখন এটা এখানে সবাই প্রতিজ্ঞা করছেন, যেকোনো মাছ-মাংস ইত্যাদি চারটে জিনিস খাবে না। এখন কুল গুরু ঠিক সদগুরু নয়, তারা নিয়ম পালন করে না। সেই শাস্ত্রে বলে সদ্গুরু গ্রহণ করা কোন অপরাধ নয়। আশা করি এইভাবে আমিষ গুরু, নিরামিষ গুরু এইরকম না করে আপনারা নিরামিষ থাকবেন।

এইভাবে আমাদের ইসকন মানে হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংঘ এবং সেটা হচ্ছে কৃষ্ণ চেতনা অথবা কৃষ্ণভাবনামৃত যা ইংরেজিতে বলে কৃষ্ণ কনশাসনেস। চৈতন্য দেব বললেন তিনি পাপী লোক গ্রহণ করবেন। চৈতন্যদেব এই কলিযুগের মধ্যে পাপী লোক গ্রহণ করেন, একটা শর্ত আছে। একবার দীক্ষা নিলে, নিয়ম সারাজীবন পালন করবে। এখন কেউ বলতে পারে না কলিযুগে যে আমি কোন পাপ করিনি। সবার কমবেশি পাপ আছে, কিন্তু চৈতন্যদেব সমস্ত পাপ থেকে উদ্ধার করবেন। হরিবোল!

যারা দীক্ষা নেবে, তাদের পাপ ক্ষয় হয়ে যাবে, কিন্তু এইভাবে নিয়ম ভাঙ্গা চলবে না। এখন সেইভাবে সবাই চেষ্টা করবে এবং এভাবে করবেন। এই স্বামী স্ত্রী তাদের সঙ্গে থাকলে কোন নিয়ম ভাঙ্গা হয় না, পরস্ত্রী, পরপুরুষ নিয়ম ভাঙ্গা হয়। এখন প্রভুপাদ বলছিলেন যে গৃহস্থ যদি আচার্য সন্তান হয়, এটার দরকার আছে। স্বামী-স্ত্রী কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করবেন, আমাদের যাতে একটা ভক্ত সন্তান হয়। এবং একটা সংস্কার আছে, সেটা হচ্ছে গর্ভাধান সংস্কার। এইভাবে গোপাল ভট্ট গোস্বামী এটা সংস্কারদীপিকায় লিখলেন। অন্নপ্রাসন, বিবাহ, ইত্যাদি বিভিন্ন সংস্কার কিভাবে করা হয়। তার অন্যতম একটা সংস্কার হচ্ছে গর্ভাধান সংস্কার। ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসী, বানপ্রস্থ এ করতে পারবে না। এ গৃহস্থ করতে পারে। যেটা আশ্রম আছে, সেইরকম নিয়ম কিছু বিশেষ আছে। এখন সাধারণত আমরা চাই ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসীরা সব পরমহংস হোক, কিন্তু প্রভুপাদ বলছেন স্বামী স্ত্রী, দম্পতি তারা পরমহংস হওয়া উচিত। কি করে পরমহংস হবে? সবসময় রাধা কৃষ্ণের চিন্তা করা, সবসময় গৌরাঙ্গ নিত্যানন্দের চিন্তা করা। কৃষ্ণ তাঁর লীলা করলেন বৃন্দাবনে, তারপর উনি চলে গেলেন মথুরায়, তারপরে বারবার জরাসন্ধ ও বিভিন্ন আসূরিক রাজা আক্রমণ করছিল তাই তিনি একটা শহর করলেন জলের মধ্যে, সেটার নাম ছিল দ্বারকা। এইভাবে যখন কৃষ্ণ বৃন্দাবন থেকে চলে যান মথুরা, দিনরাত ব্রজবাসী কৃষ্ণকে চিন্তা করতেন। এমনকি রাধারানী একটা ভ্রমরকে তিনি কথা বলছেন। এখন সেটা ভ্রমর কথা বলতে পারে না, তিনি বললেন, “আপনি কৃষ্ণ সম্বন্ধে বলবেন না!” একবার কৃষ্ণ সম্বন্ধে কানে ঢুকলে, আর অন্য কোন চিন্তা আসে না। এখন যে ব্রজবাসীর এক বিপ্রলম্ভ ভাব ভিতরে সবসময় ছিল, এটা চৈতন্যদেবের শিক্ষা যে আমরা বিপ্রলম্ভ ভাবের মধ্যে আমরা যদি রাধা কৃষ্ণ, গৌরাঙ্গ নিত্যানন্দ ইত্যাদি পঞ্চতত্ত্বের সেবা করি এবং যদি সবসময় চিন্তা হয় এই বিরহের মধ্যে, তাহলে আমরা তখন কৃষ্ণের সঙ্গে থাকি। এটি শাস্ত্রতে বলে যে কৃষ্ণ বৃন্দাবন থেকে এক পাও বেরিয়ে যায় না, কিন্তু দৃষ্টিতে কৃষ্ণ চলে গেলেন মথুরা, কিন্তু কৃষ্ণ উনি ব্রজধাম মধ্যে উনি ছিলেন এবং ভক্ত কিভাবে চিন্তা করে, ভক্ত কিভাবে অনুভব করে, এটা উনি দেখেন। এইভাবে আপনারা হয়ত চিন্তা করতে পারেন যে চৈতন্যদেব ৫০০ বছর আগে ছিল, কৃষ্ণ ৫০০০ বছর আগে ছিল। কিন্তু কৃষ্ণ, গৌরাঙ্গ তাঁরা হচ্ছেন পরম সত্য। তাঁদের চিন্তা করা কোন তফাৎ নেই। তাঁর নাম, তাঁর চিন্তা, তাঁর লীলা সবকিছু এক। অক্রূর কৃষ্ণের চরন চিহ্ন দেখলেন, তিনি কাঁদতে শুরু করলে, তিনি সেই চরণচিহ্নের উপর পড়ে মাথা দিয়েছেন। আমি গতকাল পাঠ দিচ্ছিলাম, আমার মনে পড়ছে যে কৃষ্ণ ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বললেন ৫০০০ বছর কলিযুগের শুরুর পরে একটা সোনার যুগ হবে ১০,০০০ বছরের। এই ১০,০০০ বছর কৃষ্ণভাবনামৃত বৃদ্ধি হবে। চৈতন্যদেবের এসছেন ৪৫০০ বছর পরে, তাহলে ৫০০০ বছর কলি যুগ শুরু হওয়ার থেকে কে এসছে? অভয়চরণ ভক্তিবেদান্ত স্বামী ঠাকুর প্রভুপাদ এসেছেন। আপনারা যদি কৃষ্ণভাবনামৃত, চৈতন্য ভাবনামৃত থাকেন, জপ করেন, প্রচার করেন, কীর্তন করেন এবং বিভিন্ন নামহট্ট ইত্যাদি করেন; তার মানে আপনারা চৈতন্য লীলা চলছে এখনও, প্রভুপাদ এটা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এবং তিনি আদেশ পেয়েছেন ভারতবর্ষেতে এইভাবে প্রচারের জন্য। এইভাবে এখন এই লীলা, চৈতন্যদেবের লীলা — পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম/ সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম। আপনারা এখনও চৈতন্য লীলা চলছে। যতক্ষণ আপনারা কৃষ্ণভাবনামৃত হয়, তার মানে এই লীলা মধ্যে আছেন। আপনাদের কেমন লাগে? লীলায় অংশগ্রহণ করা? এটা আমাদের গৌরাঙ্গ প্রেম মহারাজ এবং অন্যান্য নামহট্ট সেবক তাদের জন্য আপনারা সবাই চৈতন্য লীলা মধ্যে রেখেছেন।

সাধারণত, গুরু থাকতে দীক্ষা দেওয়া হয় না, কিন্তু শাস্ত্রে বিভিন্ন উদাহরণ ছিল। এখন গুরু যদি আদেশ দেয়, তাহলে শিষ্য দীক্ষা দান করতে পারে। গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী এভাবে একটা দীক্ষাগুরু হলেন, ও আরো হবেন। যাইহোক, আমার কাছে যারা গুরু আশ্রয়, আকাঙ্ক্ষী হয়েছিল, তাদেরকে দীক্ষা দিচ্ছি। কিন্তু ভবিষ্যতে হয়ত আমি দীক্ষা কমিয়ে দেব। যারা এখন দীক্ষা নিচ্ছে, এরা যদি মনস্থির করে তো যে আমি লীলা অন্তর্গত, আমি চৈতন্যদেবের চিন্তা করব, কৃষ্ণকে চিন্তা করব। হরিবোল! হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 2024/03/02
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions