Text Size

২০২৩১২১০ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১.৪১

10 Dec 2023|Duration: 01:05:23|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
   
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
   
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ৩/১/৪১ 

সৌম্যানুশোচে তমধঃপতন্তং
ভ্রাত্রে পরেতায় বিদুদ্রহে যঃ। 
নির্যাপিতো যেন সুহ্হতস্বপূর্যা
অহং স্বপুত্রান সমনুবতেন॥

অনুবাদ:- হে সৌম্য! যে ধূতরাষ্ট্র মৃত ভ্রাতা পাণ্ডুর অনাথ সন্তানদের প্রতি বিদ্রোহ আচরণ করে ভ্রাতার দ্রোহ করেছেন, যিনি তার পুত্রদের অনুবত্ী হয়ে আমাকে তাঁর গৃহ থেকে নির্বাসিত করেছেন, যদিও আমি হচ্ছি তাঁর যথার্থ হিতাকাজ্ষ্ষী, সেই অধঃপতিত ধৃতরাষ্ট্রের জন্য আমি অনুশোচনা করি।

তাৎপর্য:- বিদুর তীর জ্ঞেষ্ঠ ভ্রাতার কুশল সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেননি, কেননা তার কুশলের কোন সম্ভাবনা ছিল না, তার তো কেবল নরকে অধঃপতিত হওয়ারই সংবাদ ছিল। বিদুর ছিলেন ধৃতরাষ্ট্রের একজন একান্তিক শুভাকাঙক্ষী, এবং তার হৃদয়ের কোণে তার চিন্তা জাগরূক ছিল। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন যে, ধৃতরাষ্ট্র তার স্বর্গীয় ভ্রাতা পাণ্ডুর পুত্রদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারেন এবং তার কুটিল পুত্রদের প্ররোচনায় তাকে (বিদুরকে) তার গৃহ থেকে বার করে দিতে পারেন। এই সমস্ত দুর্ব্যবহার সত্বেও বিদুর কখনও ধৃতরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শত্রুতাপোষণ করেননি, পক্ষান্তরে তিনিই তীর শুভাকাঙ্ী ছিলেন। বিদুর যে ধৃতরাষ্ট্রের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন তা ধূতরাষ্ট্রের জীবনের অন্তিম অবস্থায় প্রমাণিত হয়েছিল। বিদুরের মতো বৈষন্রবের আচরণ এমনই-_তিনি সকলের মঙ্গলের কামনা করেন, এমনকি তার শত্রুদের প্রতিও।

***

জয়পতাকা স্বামী:-  আমরা দেখতে পাই যে বিদুর তিনি এমন কি ধৃতরাষ্ট্রের মতো একজনের ক্ষেত্রেও শুভ চিন্তকআমরা দেখি যে কিভাবে এই সব কিছু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা, লীলা মানে কি অভিনয় এটা এক রকম অভিনয়ের মতো, কিন্তু এটা এই পৃথিবীতে করা হয়। (আমি বাংলায় বলতে পারব না কারণ সে বুঝতে পারছে না) আসলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরিবর্তিত হন না কিন্তু তিনি এই সমস্ত লীলায় অভিনয় করছেন এবং এটি হচ্ছে তাঁর আনন্দ উপভোগ। বিদুর এত সৌভাগ্যবান যে তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলায় আছেন। সাধারণ জাগতিক জীবনে আমরা জিজ্ঞেস করি, তোমার কাকা কেমন আছে? ইত্যাদি, কিন্তু বিদূর, তার আত্মীয়রা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পার্ষদ এবং এছাড়াও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং তার আত্মীয়, তাই তিনিও একই জিনিস করছেন, তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছেন, তবে তারা সকলে দিব্য পার্ষদগণ। তিনি ধৃতরাষ্ট্রের কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছেন না কারণ সে তখন পাপ কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল

আমার বিশ্রামের সময় আমি আবার দশম স্কন্ধ পড়ছিলাম যে কিভাবে রুক্মিনী দেবী কৃষ্ণকে পত্র প্রেরণ করেছিলেন, কিভাবে কৃষ্ণ তাকে অপহরণ করতে পারবেন এবং তার আগে তিনি বর্ণনা করেছিলেন যে তার পারিবারিক রীতিঅনুযায়ী কিভাবে বিবাহের পূর্বে তিনি দুর্গা মন্দিরে যাবেন এবং সেখান থেকে তাকে অতি সহজেই অপহরণ করা যাবে। যখন তিনি অম্বিকা অর্থাৎ দূর্গা মন্দিরে ছিলেন, তিনি অম্বিকা দেবীকে তার শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন, তিনি অম্বিকা দেবীর পতি কেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। তার তার স্বামী হচ্ছে মহাদেব শিব এবং তিনি বলেছিলেন তোমাদের সন্তানদেরও শ্রদ্ধা নিবেদন করি। তার সন্তানেরা হচ্ছেন কার্তিকেয় এবং গণেশ। তার সাথে কিছু বয়স জ্যেষ্ঠ মহিলারা ছিলেন তারা তাকে উৎসাহ প্রদান করছিলেন যে দয়া করে তুমি সত্যিই যেটা চাও সেইটা প্রার্থনা করো। তার ভ্রাতা তাকে শিশুপাল-এর সাথে বিবাহ দিতে চাইছিল, তিনি অম্বিকা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, “দয়া করে কৃষ্ণকে আমার স্বামী হিসেবে পেতে অনুমতি প্রদান করুন। আমি কৃষ্ণকে চাই! আমি কৃষ্ণকে চাই!তাই দেবী মন্দিরে যাওয়া কোন বড় বিষয় নয়, কিন্তু তুমি কি প্রার্থনা করছ তা মহা গুরুত্বপূর্ণ।গোপীরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য কাত্যায়নীর আরাধনা করেছিলেন, রুক্মিণী দেবী তিনি কৃষ্ণের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। যখনই তিনি অম্বিকা মন্দিরের বাইরে আসলেন, সেখানে সৈনিকরা, মহারথীরা, তারা তার দিকে তাকান এবং তার সৌন্দর্য দর্শন করেন, তার সৌন্দর্য দেখে তাদের হাত থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিচে পড়ে যায় এবং তারা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এইভাবে তখন কৃষ্ণ আসলেন এবং তাকে নিয়ে চলে গেলেন।জরাসন্ধ বলল, “এই দাঁড়াও! দেখো সে রুক্মিণীকে নিয়ে যাচ্ছে!তখন তিনি এবং অন্যান্য মহারথীরা ও সেনাপতিরা কৃষ্ণের পিছু করে কিন্তু পিছনে বলরাম ছিলেন এবং যদু সৈন্যরা ছিলেন। কৃষ্ণ রুক্মিণীকে বললেন, “তুমি চিন্তা করো না আমাদের সেনাবাহিনী তাদের হারিয়ে দেবে।যেহেতু তখন তিনি কৃষ্ণের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। এইভাবে কৃষ্ণ লীলায় কত ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা হয়েছে কিন্তু সেই সব কিছু কৃষ্ণের সাথে সম্পর্কিত, কোন কোন ব্যক্তিরা, দিব্য ব্যক্তিবর্গ যারা আধ্যাত্মিক জগৎ থেকে নিম্নে এসেছেন, কোন কোন দেবতা এবং কেউ কেউ মনুষ্য এসেছেন।

যখন প্রদ্যুম্নকে চুরি করা হয় তখন তিনি সাত বছর বয়সী ছিলেন, তাই রুক্মিণী তিনি বিলাপ করছিলেন এবং এই সব কিছু হচ্ছিল তখন কৃষ্ণ তাকে বললেন, “তুমি ভালোভাবেই জানো” কারণ তিনি একজন মনুষ্যের অভিনয় করছিলেন এবং বিলাপ করছিলেন এটি আপনাদের সেই লীলার কিছু দৃষ্টিশক্তি প্রদান করবে যে কি হচ্ছিল কৃষ্ণ জানেন যে সবকিছু কিভাবে হয় কিন্তু আমরা তা জানি না।

চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি ছিলেন বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রদানকারী নিমাই পণ্ডিত, তারপর কেশব কাশ্মীরি  নবদ্বীপে তার হাতি এবং ঘোড়ার দল নিয়ে এসেছিলেন এবং তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি যে কারো সাথে তর্ক যুদ্ধ করবে, তাই এই বাক বিতর্কে কে আগ্রহী? তখন চৈতন্য মহাপ্রভু নিমাই পণ্ডিত তিনি ভাবলেন যে কারো এইরকম ভাবে গর্বস্ফীত হওয়া উচিত নয়। তিনি ভাবলেন যে যদি আমি তাকে সর্বসম্মুখে পরাজিত করি, তাহলে তার অপমান হবে এবং সব হাতি ও ঘোড়া চুরি করে নেওয়া হবে। তাই তিনি ভাবলেন যে কিভাবে তাকে এমনভাবে হারানো যাবে যাতে তিনি অপমানিত হবে না। তাই তিনি এসব কাশ্মীরের প্রশংসা করছিলেন, যিনি সেই সময় এসেছিলেন গঙ্গায় স্নান করতে, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি গঙ্গার মহিমায় শ্লোক রচনা করতে পারবেন?  তারপর তিনি পদ্যর পর পদ্য বলে গঙ্গার মহিমা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। নিমাই পণ্ডিতের ছাত্ররা তার শুনলেন এবং তারা তা দেখে প্রশংসা করছিলেন যে, “কত বিদ্বান পণ্ডিত! ও বাবা!” তো তিনি কাব্য রচনা করেছিলেন কিন্তু এমন নয় যে তিনি সেই সব কিছু স্মরনে রেখেছিলেন। তখন চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “খুব ভালো! আমি আপনার মত সমগ্র বিশ্বে কোন পণ্ডিত দেখিনি। আমাকে আপনার কাব্যের একটি ভালো এবং একটি বাজে দিক সম্পর্কে বলুন।“ কিন্তু তিনি বিষ্ময়াবিভূত হয়েছিলেন, তিনি বললেন যে, “আমার কবিতায় কোন ভুল থাকতেই পারে না!” কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু ৫৭তম শ্লোকটি মনে রেখেছিলেন এবং কেশব কাশ্মীরি বললেন, “আপনি তা মনে রেখেছেন!” চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “ঠিক যেমন ভগবান আপনাকে পাণ্ডিত্য দিয়েছেন, তেমনি তিনি আমাকে স্মরণ শক্তি দিয়েছেন।” এইভাবে তিনি তার কাব্যের ভালো ও বাজে গুণগুলি বলেছিলেন। কেশব কাশ্মীরী তার শ্রীবিগ্রহ দেবী সরস্বতীর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যে, “আমি এই তরুণ পণ্ডিতের দ্বারা হেরে গেলাম। “আমি তোমাকে এইবার সাহায্য করতে পারলাম না, কারণ তুমি যার কথা বলছ, তিনি আমার স্বামী। তাই কেশব কাশ্মীরি তিনি পরের দিন নিমাই পণ্ডিতের গৃহে যান, এইভাবে তিনি বৈষ্ণব ধর্মে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। তিনি নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের একজন আচার্য হন চারটি বৈষ্ণব সম্প্রদায় রয়েছেব্রহ্মা, শ্রী, নিম্বার্ক এবং বিষ্ণু স্বামী সম্প্রদায়। 

এটি হচ্ছে কৃষ্ণ লীলা, কিন্তু কৃষ্ণ লীলায় মানুষেরা জানতেন যে তিনি হচ্ছেন ভগবান কিন্তু গৌর লীলায় তিনি কয়েকজন বাদে প্রত্যেকের কাছে তা গোপন রেখেছিলেন। যখন তিনি পূর্ব বাংলায় প্রচার করতে গিয়েছিলেন, তখন তার স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়া অপ্রকট হন, তিনি বিরহের কারণে বৈকুন্ঠে ফিরে যান, কারণ বৈকুন্ঠে এত বিরহ থাকে না। যখন তিনি ফিরে এসেছিলেন, তখন তার মা অত্যন্ত দুঃখিত ছিলেন, তাই তিনি বিষ্ণুপ্রিয়াকে বিবাহ করার জন্য সহমত হন। বিষ্ণুপ্রিয়ার পিতা অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন যে আমার কন্যা নিমাই পণ্ডিতের মতো স্বামী প্রাপ্ত হয়েছে। নিমাই পণ্ডিত কোথাও একটা যাচ্ছিলেন এবং কিছু গ্রামবাসীরা তার কাছে আসেন এবং বলেন, “হা! হা! হা! তুমি তো বিষ্ণুপ্রিয়াকে বিবাহ করছ!” যখন সেই ব্যক্তি হাসছিলেন, তখন চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “আমিও কৌতুক করব।” তাই তিনি বললেন, “আমি আমার সাথে বিষ্ণুপ্রিয়ার বিবাহ সম্পর্কে কিছুই শুনিনি। তখন সেই ব্যক্তি ফিরে যান ও এটি বিষ্ণুপ্রিয়ার পিতাকে গিয়ে বলেন, বিষ্ণুপ্রিয়ার পিতা তিনি প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন, তিনি ক্রন্দন করতে শুরু করেন। নিমাই পণ্ডিত তাকে দেখেন, তিনি অত্যন্ত দুঃখিত ছিলেন। তখন চৈতন্য নিমাই ভাবলেন যে আমার ভক্তদের এত কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। যদি আপনারা ভগবান কৃষ্ণ চৈতন্য বা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা অধ্যয়ন করেন তাহলে দেখবেন যে সেখানে তাদের ভক্তদের বিষয়ে কত কিছু ভাবা হয়েছে। শুধুমাত্র ভক্তরাই নয়, প্রত্যেকের সম্পর্কে ভাবা হয়েছে। তাই তিনি একজন ব্রাহ্মণকে বললেন বিষ্ণুপ্রিয়ার পিতাকে বলতে যে, এটি কেবল এক কৌতুক ছিল এবং এতে সত্যিই কোন সন্দেহ নেই যে আমি বিষ্ণুপ্রিয়াকে বিবাহ করব। ঠিক যেমন কৃষ্ণ লীলায় সেখানে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ হয়েছিল, তিনি কত রানীদের বিবাহ করেছিলেন, বৃন্দাবনে গোপীদের সঙ্গে নৃত্য করেছিলেন, সেইরকমই চৈতন্য মহাপ্রভু এক বিশাল কীর্তন করেন, যেখানে চাঁদ কাজীর সামনে লক্ষ লক্ষ মানুষেরা ছিলেন। যখন তিনি চাঁদ কাজীর গৃহে যান এবং তার সাথে আলোচনা করেন, চাঁদ কাজী বললেন, “আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি যে অর্ধ মানব অর্ধ সিংহ আমার কাছে আসলেন এবং আমার বক্ষ চিরে দিয়েছেন এবং বলেছেন যে যদি সে তাঁর ভক্তদের কীর্তন বন্ধ করার সাহস করে, তাহলে তিনি আমাকে হত্যা করবেন।” তারপর তিনি তার বক্ষ দেখান এবং সেখানে আচরের দাগ ছিল। তারপর তিনি বললেন, “এখন থেকে তোমাদের হরিনাম সংকীর্তন করার জন্য আমার অনুমতি আছে!” তাই তখন থেকে তাদের চাঁদ কাজীর এই প্রতীক আছে, যা কীর্তন করার জন্য অনুমতি। 

এইভাবে চৈতন্য লীলা এই বিশ্বে ৪৮ বছর দৃশ্যমান ছিল। যখন কৃষ্ণ লীলা সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তখন চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা শুরু হয়, কিন্তু এটি সমাপ্ত হয়নি। চৈতন্য মহাপ্রভু, ভবিষ্যৎবাণী করা ছিল যে কেউ একজন আসবে এবং এই হরিনাম সমগ্র বিশ্বে ছরিয়ে দেবে, তা হচ্ছে শ্রীল প্রভুপাদ। ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণে এটিও বলা হয়েছে যে ১০,০০০ বছরের জন্য এই কলিযুগে এক স্বর্ণযুগ থাকবে, তা হবে কলি যুগ শুরু হওয়ার ৫০০০ বছর পর এবং চৈতন্য মহাপ্রভু এসেছিলেন কলিযুগ শুরু হওয়ার ৪৫০০ বছর পর। এবং শ্রীল প্রভুপাদ কলি যুগ শুরু হওয়ার ৫০০০ বছর পর এসেছেন।

আমাদের সংকীর্তন ভক্তরা গ্রন্থ বিতরণের জন্য বাইরে যাচ্ছে এটি হচ্ছে চৈতন্য লীলার অংশ আমাদেরকে গ্রন্থ বিতরণ করতে হবে আমাদেরকে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করতে হবে যাতে এই ১০০০০ বছরের যে ভবিষ্যৎ বাণী যে সমগ্র বিশ্ব কৃষ্ণভাবনাময় হবে তা সত্য হয়। এই কৃষ্ণভাবনামৃতে যা কিছু হয়, তা চৈতন্য লীলার অংশ। আমরা যা কিছু করি তা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা হিসেবে করা উচিত। এইভাবে সেই সমস্ত সেবা ভগবানের লীলা হিসেবে বিবেচিত। শ্রীল প্রভুপাদ লন্ডনে সকল গৃহস্থদেরকে বলেছিলেন যে তাদের পরমহংস হওয়া উচিত। তিনি বলেছিলেন যে, “আমার গুরুদেব শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের সন্তান, তাই গৃহস্থদের, তোমাদের আচার্য সন্তান পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।” আমাদের বহু আচার্য প্রয়োজন আপনি যা কিছু করেন, যদি তা কৃষ্ণের জন্য করেন, তাহলে কৃষ্ণ খুশি হবেন।

আমরা আনন্দিত যে শ্রীমতি দৈবিক শক্তি দেবী দাসী এখানে আছে সে এখানে থাকত কিন্তু এখন সে সব সময় বৃন্দাবনে থাকে। তাই আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং আমাদের সংকীর্তন ভক্তরা আজকে বাইরে যাবে। দিল্লি ২.৫ লক্ষ বুক পয়েন্টে এগিয়ে আছে, তাই চলো আমরা সকলে সংকীর্তন ভক্তদের আমাদের আশীর্বাদ দেই। হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। যারা এখানে থাকছ, ডিসেম্বর মাসে অনেক ছুটির দিন আছে এবং অনেক মানুষেরা মায়াপুরে আসছে, তাই তোমাদেরও ভাবা উচিত যে তোমরা কিভাবে কিছু গ্রন্থ বিতরণ করতে পারবে। নবম স্কন্ধে একটি শ্লোক আছে এবং তার তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে, “যদি কৃষ্ণভাবনামৃতের বিষয়ে দেখা যায়, তাহলে পুরুষ, মহিলা, শূদ্র যেই হোক না কেন তারা সকলেই সমান। তাই আমরা চাই সকলেই যাতে কৃষ্ণভাবনাময় হয়, তাহলে তারা সকলে সমান হবে। যদি কৃষ্ণভাবনা না থাকে তাহলে ভিন্নতা আছে। তাই আমরা আবার আমাদের আশীর্বাদ সংকীর্তন ভক্তদের দেব। আমরা চাই প্রত্যেকেই সংকীর্তনে বের হোক এবং গ্রন্থ বিতরণ করুক এবং অনেক আচার্য গড়ে তুলুক, পরমহংস হোক এবং ভারতকে গ্রন্থ দিয়ে প্লাবিত করুক। আমি শুনলাম যে ভক্তরা ম্যারাথন করার পর মায়াপুরে ফিরে আসবে এবং খুব শীঘ্রই আবার তারা আসার পর অযোধ্যাতে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার ইসকনকে সেখানে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করেছেন। দিল্লির সাথে মায়াপুরকেও গ্রন্থ বিতরণের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

প্রত্যেক যে আচার্য গড়ে তোলা হচ্ছে, পরমহংস গড়ে তোলা হচ্ছে, প্রত্যেক আরতির এই সবকিছুই চৈতন্য লীলার অংশ। প্রত্যেক বই যা বিতরিত হচ্ছে, এই সব কিছুই চৈতন্য লীলার অংশ। আজকে এই প্রবচনের শেষে আমরা পূর্ব ভাগের ভক্তদের দর্শন দেব। চৈতন্য লীলার অংশ হওয়ার অনুভূতি কিরকম হবে

ঠিক যেমন বিদুর, তিনি ধৃতরাষ্ট্রের জন্য দুঃখিত ছিলেন। এত মানুষেরা আছে, তাদের কাছে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ নেই। তাদের কাছে চৈতন্য লীলার অংশ হওয়ার মহা-আনন্দ নেই। বেদুর তিনি ধৃতরাষ্ট্রের কথা চিন্তা করেছিলেন, ঠিক যেমন আমাদের সংকীর্তন ভক্তরা বদ্ধ জীবদের সম্পর্কে চিন্তা করে। আমরা চাই সমগ্র বিশ্ব যাতে কৃষ্ণভাবনামৃতে সুখী হয়। কোন মন্তব্য বা প্রশ্ন আছে কি?

ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী:- হরে কৃষ্ণ! গুরুমহারাজ আমরা সংকীর্তন ভক্তদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এবং সমস্ত ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা সকলে আশীর্বাদ প্রদান করেছেন ভক্তদেরকে এবং আপনাদের আশীর্বাদে এই বছর সবাই ভালো গ্রন্থ প্রচার করবে। আরও কৃতজ্ঞতা জানাই যে সংকীর্তন ভক্তদের প্রতি আপনার হৃদয়ের যে করুণা, সেটা আমাদেরকে আরো গ্রন্থ বিতরণে উজ্জীবিত করবে। আরেকটা বিষয় আমি সব সময় আপনার থেকে শুনে আসি যে আমরা দিল্লির থেকে আড়াই লক্ষ পয়েন্ট পিছিয়ে আছি, তার মানে আপনি চাইছেন এটা যে এগিয়ে গিয়ে দিল্লিকে হারিয়ে আমরা প্রথম স্থানে আসি এই বছর। অন্যান্য সহ-পরিচালকবর্গ সবসময় আমাদেরকে উৎসাহিত করছেন যে আমাদেরকে এই বছর ম্যারাথনে ১ নম্বরে আসতে হবেই। আমাদের এই বছর যে একটা সুযোগও রয়েছে যে এই বছর এই অযোধ্যা যাত্রায় গিয়ে আপনার আশাটা, আপনাদের ইচ্ছাটা পূরণ করতে পারব। কিন্তু সবার সামনে আপনার কাছে প্রার্থনা করছি শুধু সংকীর্তন ভক্তরা চেষ্টা করলেও এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। আমাদের অন্যান্য ভক্তবৃন্দ যারা মায়াপুরের সঙ্গে যুক্ত, গৃহস্থ ভক্ত, এখানে যারা উপস্থিত আছেন, যারা অনলাইনে আছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই লক্ষ্যে, গুরু মহারাজের ইচ্ছাকে পূরণ করতে পারব। আমাদের সংকীর্তনের একদল গৃহস্থ ভক্ত তারা সবসময় গ্রন্থ প্রচার করছেন সংকীর্তন সেবা অফিস থেকে। আমরা চাইছি আপনাদের সকলের সহযোগিতা, তাহলে আমরা অবশ্যই এই বছর বিজয় লাভ করব। যেরকম গত সেপ্টেম্বর মাসে ভাদ্র পূর্ণিমাতে সকলের সহযোগিতায় সারা বিশ্বে আমরা প্রথম স্থান লাভ করেছি, দিল্লি ভাগবত বিক্রি করেছে ১,৫০০। আমরা ভাগবত বিক্রি করেছি ৪,৫০০। সেই রকম আপনাদের সকলের সহযোগিতা হলে আমরা এই অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারব। অযোধ্যাতে আমরা গ্রন্থ নিয়ে যাব, আশা রয়েছে তিন লাখ ভগবদগীতা ওখানে আমরা পূর্ণ্যার্থীদের কাছে বিনামূল্যে বিতরণ করব। তো আপনারা সকলে, এটা একটা সেনসিটিভ মন্দির, ভগবানের মন্দির বানিয়েছেন, শ্রী রাম মন্দিরের, রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকলে কিছু কিছু গীতা দান করবেন, সেই গীতা নিয়ে আমরা অযোধ্যাতে যাব।  যেটা গুরু মহারাজ বলছেন যে সারা বিশ্বে গ্রন্থের বন্যা বইবে এবং প্রত্যেকটি মানুষ কৃষ্ণভাবনামৃত হবে, তা এটার দ্বারাই পূরণ হবে, শ্রীল প্রভুপাদের বই পড়ে সবাই ভক্ত হবে।

হনুমান পাথর নিয়ে গিয়েছিলেন সেতু বানিয়েছিলেন, তো শ্রীল ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী বলছেন আমরা গীতা নিয়ে যাব এবং ধর্মের সেতু বানাব। জয় শ্রীরাম! সবাই প্রত্যেকে কিছু না কিছু ভগবদগীতা দান করবেন। সেই গীতা নিয়ে আমরা ওখানে প্রচার করব, সকলের হাতে তুলে দেব। নিজে কিছু দান করবেন, এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবেন, নিজে কিছু গীতা দান করে এবং অন্যকেও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাবেন। এটাই প্রথমবার এবং শেষবার। এই সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। সবাইকে অংশগ্রহণ করাতেই হবে! কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি দৈবিক শক্তি মাতাজী আমাদের এই আলোচনা শুনে চার খানা ভগবদগীতা দান করেছেন অযোধ্যার জন্য। ধন্যবাদ! কৃতজ্ঞতা জানাই! সকলের সাহায্য চেয়ে আমি এখানে আমার আলোচনা শেষ করছি। 

জয়পতাকা স্বামী:- কথা শুনে আমার স্মরণ হল যে আমি দিল্লিতে কিছু সময় আগে ছিলাম, সেখানকার মন্দির অধ্যক্ষ প্রত্যেক গৃহস্তের কাছে গিয়েছিলেন, তিনি প্রত্যেক নামহট্ট এর কাছে গিয়েছিলেন এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন একটি সংকল্প নিতে যে তুমি কত গ্রন্থ বিতরণ করতে পারবে, আমাদেরকে মায়াপুরকে হারাতেই হবে! তাই আমরা সংকীর্তন ভক্তদের আমাদের আশীর্বাদ প্রদান করি কিন্তু যেমন মহারাজ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে প্রত্যেক গৃহস্ত ভক্ত যারা থাকছে, তাদের উচিত এটা দেখা যে তারা কত গ্রন্থ বিতরণ করতে পারবে। অচিন্ত্য চৈতন্য দাসের ছেলে মাধব ১২ বছর বয়সী, সে প্রত্যেক দিন গ্রন্থ বিতরণ করে, তোমার লক্ষ্য কি? (গৌর পূর্ণিমার আগে ১৬,১০৮ গ্রন্থ বিতরণ করা) প্রত্যেকেই তাদের লক্ষ্য তাদের সংকল্প করতে পারে। কোনদিন বাংলাদেশ যদি তোমাদের হারিয়ে যায়, তাহলে তাতে আশ্চর্য হয়ো না। যখনই কোন ভক্ত অত্যন্ত উৎসাহী হন কৃষ্ণ তাকে কৃপা করেন।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 17/9/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions