Text Size

২০২৩১২০৯ নামহট্ট দীক্ষানুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্য

9 Dec 2023|Duration: 00:30:06|Bengali|Initiation Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
   যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
   পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
   হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- আজ একাদশী। এটা হরির প্রিয় দিন। এখন এটা যারা আজকে কিছু ভক্তি সেবা করে, তাদের ১০০ গুন ফল বেশি হয়। নবদ্বীপ ধামে ১০০০ গুন বেশি হয়। আবার শাস্ত্রতে বলে যারা এক ক্রোশ গঙ্গার কাছে আছে, তাদের ১ লক্ষ গুন বেশি হয়। আপনারা আজকে এত গুন পাচ্ছেন, আমি হিসাব করতে পারছি না। নববিধা ভক্তি আছে, এটা নবদ্বীপের ৯ দ্বীপ। এক একটা দ্বীপ এক একটা ভক্তি সেবা। অন্তর্দীপ সেবা হচ্ছে সমস্ত কিছু অর্পণ করা ভগবানের। সীমন্ত দ্বীপ হচ্ছে ভগবানের বন্ধু হওয়া, সখ্য হওয়া। এখন আমরা আছি যেখানে এটা রুদ্রদীপ না অন্তর্দীপ এটা বোঝা যায় না। রুদ্র দ্বীপ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর দেখলেন, যে সংকীর্তন কীর্তন নৃত্য করছেন, সেটা রাসলীলার একটি জায়গা। যাইহোক, আমাদের ইচ্ছা ভগবানের যাতে সবসময় চিন্তা করা হয়। ইসকন মানে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ। এই কৃষ্ণভাবনামৃত সবসময় থাকার জন্য। এখানে শ্রীচৈতন্যদেব এসেছেন ৫০০ বছর আগে। আমরা কি করে তাঁর সঙ্গ পাব? কিন্তু তিনি শিক্ষা দিলেন যে ভগবান পরম সত্য। তাঁর নাম, তাঁর লীলা, তাঁর চিন্তা সবকিছু একই। আমরা যদি সবসময় ভগবান ভাবনামৃত করি, আমাদের যদি ভগবানের বিপ্রলম্ভ ভাব থাকে, আমরা এই প্রকার ভগবানের সঙ্গে থাকবো। এখন চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি শেখালেন ভগবানের সবসময় চিন্তা করা হয়। তিনি বৃন্দাবনে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নিত্যানন্দ চেয়েছেন উনি যাওয়ার আগে তিনি একবার শচীমাতাকে দেখুন। গঙ্গার কাছে কিছু রাখালকে বললেন, “যদি চৈতন্যদেব জিজ্ঞেস করে কোথায় বৃন্দাবন? দক্ষিণ দিক থেকে মুখ দেখাও।” এই বলে নিত্যানন্দ গঙ্গায় লাফ দিয়েছেন। এবং তিনি মায়াপুরে এসেছেন, এবং শচীমাতাকে বললেন, “চলুন নিমাই দেখার জন্য।” এবং শচী মা অন্য ভক্ত সঙ্গে গিয়েছে শান্তিপুরে অদ্বৈত বাড়িতে। চৈতন্য মহাপ্রভু উনি ভাবের মধ্যে, প্রেমের মধ্যে ছিলেন। তখন জিজ্ঞেস করছে বৃন্দাবন কোথায়, বাচ্চারা এইভাবে দক্ষিণ দিক দেখায়, আর কোন চিন্তা করেন নি আনন্দের মধ্যে। কিন্তু যখন শান্তিপুরে এসছে, তখন অদ্বৈত নদীকে পার করছে গঙ্গার মধ্যে, চৈতন্য মহাপ্রভু চিন্তা করছেন, “এখানে অদ্বৈত কি করে বৃন্দাবন এসেছে?” তখন কিছু পরে ... “আমি শান্তিপুরে আছি, আমি বৃন্দাবনে নেই।” তখন অভিযোগ দিয়েছে অদ্বৈতের কাছে, “আমি ভেবেছি এটা যমুনা।” তখন অদ্বৈত গোঁসাই বললেন, “গঙ্গা যমুনা ত্রিবেণীতে এক হয়ে গেল। এবং যমুনা হচ্ছে পশ্চিম দিকে, আপনি যমুনাতেই ছিলেন।” তারপর মহাপ্রভু স্নান করলে, তিনি শুদ্ধ বস্ত্র ইত্যাদি দিয়েছেন। এবং তারপর তিনি তাকে পার করে শান্তিপুরে নিয়ে এসেছেন। সে অনেক লীলা ওখানে হয়েছিল। মহাপ্রভু সন্ন্যাস নিলেন, চুল কেটে দিয়েছেন, গেরুয়া কাপড় পড়েছেন। তিনি প্রণাম দিয়েছেন শচীমাতার কাছে যে, “তুমি আমাকে জন্ম দিয়েছ, আমায় মানুষ করেছ, আমি তোমার কাছে ঋণী আছি। আরো কত ঋণ আছে সেটা জন্মে জন্মে শোধ করতে পারব না। আমি পাগল আছি, আমি সন্ন্যাস নিয়েছি, কি করবো? আপনি যে আদেশ দেবেন আমি করবো।” সে যদি উনি বলেন ফিরে আসো বাড়ি, সেটা লোক নিন্দা করবে। “ঠিক আছে আপনি জগন্নাথপুরীতে যান, ওখানে আপনার থাকার স্থান করুন। কোন কোন সময় বৃন্দাবন যাবেন, কিন্তু বৃন্দাবন অনেক দূর।” আর কিছুদিন রইলেন ওখানে শান্তিপুরে। এবং ভক্তদের সেবা হচ্ছে ইচ্ছা। শচীমাতা এই সুযোগ নিয়ে বললেন, “আমি রান্নার ভার নেব।” এইভাবে একটা উৎসব হয়ে গেল। শচীমাতা রান্না করলেন, অদ্বৈতের স্ত্রী সীতা ঠাকুরানী সহযোগিতা করলেন, এবং প্রতিবছর আমরা যাই শান্তিপুরে, ওখানে তিন প্রভুর বিস্রাম স্থান আছে। বেশিরভাগ চৈতন্যের ভক্ত ছিলেন গৃহস্থ। এমনকি অদ্বৈত আচার্যের ৬য় টা পুত্র ছিল। এখন ৩ পুত্র শুদ্ধ ভক্ত হয়ে গেল, আর ৩ ভক্ত শুদ্ধ ভক্ত হয়নি। এইভাবে এখন যারা গৃহস্ত, তারা ভগবানের মূর্তির কাছে প্রার্থনা করবেন যাতে ভক্ত সন্তান হয়। ভক্ত, সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুপুত্র হবে। স্বামী স্ত্রী গর্ভাধান সংস্কার করবেন। এটা সৎক্রিয়াসংস্কারদীপিকা গ্রন্থের মধ্যে আছে। এই সংস্কার বেশি জটিল নয়, স্বামী স্ত্রী এটা করে। এইভাবে প্রভুপাদ বলছিলেন লন্ডনে যে আমার গুরুদেব তিনি ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের পুত্র ছিলেন। এখানে বেশি গৃহস্থ আছেন। উনি বললেন লন্ডনে যে আপনারা সবাই আচার্য পুত্ররূপে তৈরি করুন। এখন আচার্য লালন-পালন করা ইত্যাদি এটা সহজ নয়। উনি সুন্দর একটা... তিনি বললেন গৃহস্থ আচার্য সন্তান করবে, এবং তিনি বললেন সবাই, সমস্ত গৃহস্থ পরমহংস হবে। সাধারণত আমরা চিন্তা করি সন্ন্যাসী... তারা পরমহংস হল। কিন্তু তিনি বললেন গৃহস্থ হবে পরমহংস। ...। আচার্য প্রতিষ্ঠাতার আজ্ঞা আপনারা পরমহংস হয়ে যান। এখন এটা শুরু হয় দীক্ষা নিলে।

দীক্ষা নেওয়া, তারপর আচরণ করা, সব সময় কৃষ্ণকে চিন্তা করা। গৌরাঙ্গ! চিন্তা করা, নিতাই! নিতাইকে চিন্তা করা। আমার কাছে গৃহস্থ, বাচ্চা হয়েছে, পাঠিয়ে দিয়েছে আমার বাচ্চাদের একটা নাম দিন। যাই হোক, কৃষ্ণের কাছে, গৌরাঙ্গের কাছে, পঞ্চতত্ত্ব আছেন, তাদের কাছে আমাদের সত্যি বলতে হবে যে এটা নয় যে কলিযুগের মধ্যে কেউ পাপ মুক্ত, কিছু কমবেশি পাপ ছিল আছে, কিন্তু দীক্ষা নেওয়ার পর প্রধান যেগুলো পাপ, মুক্ত হতে হবে পাপ থেকে। মাছ মাংস খাওয়া আমিষ আহার, জুয়া খেলা, নেশা। একজন স্ত্রী দীক্ষিত কিন্তু স্বামী চেষ্টা করে এক-দুমাস মাংসাহার ছাড়তে চেষ্টা করে, তারপর খাচ্ছে, এখন ডাক্তার বলছে আপনার লিভার খারাপ হয়ে যাবে, এবং লিভার খারাপ হচ্ছে। এইরকম আপনি মরে যাবেন। কিন্তু আবার কিছু মাস পরে আবার খেতে শুরু করে। এখন দীক্ষা মানে হচ্ছে আমার যা পাপ ছিল, সব দূর হয়ে গেছে, সব মুছে যায়। হরিবোল! কিন্তু তার সঙ্গে একটা নিয়ম আছে, যে আর পাপ করা যায় না। এখন স্বামী স্ত্রী তারা গর্ভাধান সংস্কার যদি করে, এতে কোন পাপ নেই। কিন্তু যদি অন্য পর স্ত্রী, অন্য পর পুরুষ সাথে মেশে, সেটা পাপ হয়। একটা গৃহস্থ নবদ্বীপে বেশ্যার সঙ্গে গিয়েছে, এখন প্রভুপাদ জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি গৃহস্থ, আপনি কেন বেশ্যার সাথে যাচ্ছেন?” আমি সন্তানের জন্য মিলন করতে পারি স্ত্রীর সঙ্গে, তো আমার একটু বেশি চাহিদা থাকে। তাই আমি বেশ্যার সাথে গেলাম। প্রভুপাদ বললেন যে, “বেশ্যার সাথে গেলে এটা পাপ। স্ত্রীর সঙ্গে এটা পাপ নয়।” তো আমরা কৃষ্ণভক্তি করার জন্য যা কিছু করি, শাস্ত্র অনুসারে করা উচিত। কৃষ্ণ গীতাতে বললেন — “যে মৈথুন শাস্ত্র বিরুদ্ধে নয় সেটা আমি।”

আমাদের ইচ্ছা আছে, একটা ভিডিও রিপোর্ট পেয়েছি যে কিভাবে নামহট্ট প্রচার করছে, কিভাবে বিভিন্ন প্রচার হচ্ছে। স্বামী স্ত্রী সহযোগিতা করে এটা প্রচার করে, আপনারা এটা চিন্তা করুন। দীক্ষার অর্থ হচ্ছে আজ থেকে আমি সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণ সেবা করব। এইভাবে করলে কৃষ্ণের ধাম ফিরে যাব।

কারা প্রতিজ্ঞা করেছেন? 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 30/1/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions