Text Size

২০২৩১২০৭ দীক্ষা প্রবচন

7 Dec 2023|Duration: 00:25:34|Bengali|Initiation Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
   যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
   পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
   হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- হরে কৃষ্ণ! অনেক ভক্ত অনেক দূর থেকে এসেছে। সাধারণত এখানে শুকনো থাকে কিন্তু এখন বৃষ্টি হচ্ছে। আজকে আমরা এসেছি এটা দীক্ষা গ্রহণ করার জন্য। গুরু-পরম্পরায় থাকার জন্য এটা অনুষ্ঠান হচ্ছে। এখন ব্যক্তির মনে হচ্ছে সব আশ্রয় নিয়েছিল, এবং সেই জন্য আজকে দীক্ষা হচ্ছে। আমি নতুন শিষ্য গ্রহণ কম করব। এখন গৌরাঙ্গ প্রেম মহারাজ উনি গুরু হইলেন। আরো অনেকে গুরু হবে। এখন যারা আমার কাছ থেকে গুরু আশ্রয় নিয়েছে, তাদের দীক্ষা দেবো। কিন্তু কেউ যদি দীক্ষা না হল, গুরু আশ্রয় হল, যদি পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে সেটা করতে পারে। কিন্তু সেটা প্রণালী একটা থাকবে, দীক্ষার আগে ৬ মাস অপেক্ষা করে করতে হয়। এখন আমি নতুন করে আকাঙ্ক্ষী ইত্যাদি নেব না। গৌরাঙ্গ প্রেম মহারাজ নেবে। আজকে আমরা দশম স্কন্ধ ভাগবত পড়ছি, আমি অনেক বার পড়েছি এটা, ৫-৬ বার তার বেশি হবে। রুক্মিণী চিঠি লিখেছেন কৃষ্ণের কাছে। ...চিঠি খুব সুন্দর কিন্তু তিনি বললেন আমি সংক্ষিপ্ত বলছি। সেই চিঠি অনেক লম্বা ছিল, মোট কথা হচ্ছে আপনার গুনোগান শুনে আমার মনস্থির হলো যে আপনার সঙ্গে আমি আত্মসমর্পণ করব, আমি স্ত্রী হব। আমাকে অকস্মাত চুরি করে নিয়ে যান, তোমাকে আমার দাদা রুক্মি দিতে চায় শিশুপালের কাছে। কিন্তু আমাদের পরিবারের নীতি হচ্ছে এই অনুষ্ঠানের আগে একটা অম্বিকা মন্দির যেতে হবে যা প্রাসাদের বাইরে, সেই সুযোগ নিয়ে আমাকে চুরি করে নিতে পারো। এখন সে অম্বিকা মন্দিরের ভিতরে গেলেন, প্রণাম করলেন দেবীর কাছে, আপনার স্বামী মহাদেবকে প্রণাম করি, আপনার দুটো সন্তান কার্তিকেয়, গণেশ তাদের প্রণাম করি, আপনাদের প্রণাম করি। ওঁনার সাথে বিবাহিত বৃদ্ধ মহিলারা গেছেন, তারা বলছে, “আপনার যেটা আসলে চান, আপনার আসলে যেটা ইচ্ছা, এটা বলবেন।” তিনি প্রার্থনা করলেন, “আমি চাই কৃষ্ণ আমার স্বামী হোক। আমি চাই কৃষ্ণ, আমি কৃষ্ণকে চাই।” তাই দেব দেবীর কাছে গেলে এটা বড় জিনিস নয়, কিন্তু কি প্রার্থনা করে। গোপিকারা কাত্যায়নী পূজা করলেন, রুক্মিণী তিনি অম্বিকা শিব প্রার্থনা করলেন, তিনি কি প্রার্থনা করলেন? কৃষ্ণের জন্য। এখন পশ্চিমবাংলায় দুর্গাপূজা, কালীপূজা খুব প্রসিদ্ধ। কিন্তু দেব-দেবতার কাছে তিনি প্রার্থনা করলেন কৃষ্ণের জন্য, সেই জন্য যদি কৃষ্ণের ইচ্ছা থাকে এইভাবে বলবেন। সবাই বলে ধন দাও, গাড়ি দাও, বাড়ি দাও ভৌতিক জিনিস। কিন্তু আমরা কৃষ্ণের কাছে সেবা চাই। কৃষ্ণ নাম করব, কৃষ্ণের পূজা করব, কৃষ্ণের জন্য সন্তান হবে। এখন নামহট্ট যেটা তারা, এই সংস্কার দীপিকার মধ্যে গোপালভট্ট গোস্বামী লিখলেন এটার একটা সংস্কার আছে, গর্ভধান সংস্কার — গৃহস্থ ভগবানের কাছে প্রার্থনা করবেন যে আমার যাতে একটা ভক্ত সন্তান, একটা সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুপুত্র ... হোক এইভাবে প্রার্থনা করো। এবং গর্ভাধান সংস্কার এটা পালন করবে। এইভাবে আমরা যা কিছু করি তা ভগবানের সেবার জন্য করি। এখন গর্ভাধান সংস্কার আমাবস্যা-পূর্ণিমায় হয় না, অষ্টমী, একাদশীতে হয় না, বিশেষ ব্রত নরসিংহ চতুর্দশী ইত্যাদি হয় না।

দীক্ষা মানে হচ্ছে যে আজ থেকে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছি যে যা কিছু করব, কৃষ্ণের জন্য করি। ঠিক? আমাদের কয়েকদিন আগে একটা ... হচ্ছে, একটা মহিলা বললেন আমি ব্রহ্মচারীকে বিয়ে করতে চাই, কিন্তু ব্রহ্মচারী সে বিয়ে করতে চায় না। না সে বলছে আমি বিয়ে করবো। আমি বললাম আমি কি সাহায্য করবো অন্য একটা স্বামী পাওয়ার জন্য? শুনছি রাগ করে, ... আমি মিথ্যে বললাম, আমি ১৬ মালা জপ করিনি, আমি চারটে নিয়ম পালন করিনি, আমার সামনে ফটো পাঠিয়ে দিয়ে মাছ খাচ্ছি। এখন আপনার যদি এভাবে হয়… আমি খুঁজবো না। এইভাবে যদি নিয়ম না পালন করে, তখন তিনি আমাকে লিখছে, আমি খেয়েছি, আমি চর্বণ করেছি, কিন্তু গিলি নি। এটা মিথ্যে বলে হয়তো এখানে দীক্ষা পেয়ে যেতে পারো, কিন্তু এটা কৃষ্ণের তো আমি একটা কৃষ্ণের প্রতিনিধি সেবা করছি, দীক্ষাগুরু হচ্ছে কৃষ্ণের প্রতিনিধি, এখন কি হয় কি না হয়। একটা বাংলাতে কথা আছে, জল খাওয়া নদীতে উপবাস দিনে। যে নদীতে গিয়ে ডুব মেরেছে, ডুব মারলে কেউ দেখবে না, (গুরুমহারাজ জল খাওয়ার ভঙ্গি করলেন) তারপর সে উঠল। কিন্তু ভগবান আমার হৃদয় আছেন, উনি জানে না আমরা কি করি? এরকম করলে কার লোকসান হবে? এইরকম যে লুকিয়ে করে খাওয়া। যাই কিছু করি এটা ভগবানের সামনে আমাদের সোজা সত্যি কথা বলতে হয়। এবং ভগবান সেটা, শ্রীকৃষ্ণ, শ্রী চৈতন্য, এটা কমপক্ষে কলিযুগে যদি সত্যি কথা বলে, এটা ভালো পায়। একটা ডাকাতের দল নিতাই প্রভুর কাছে ওনার যে হিরে, অলংকার আছে, সেটা চুরি করতে চেয়েছে। কিন্তু তিনবার চেষ্টা করছিল পারেনি, বিভিন্ন বাধা এসেছে। যে ডাকাতের নেতা ছিল, সে এসেছে নিতাই প্রভুর কাছে, আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছে। কিন্তু অন্য ভক্তরা বললেন এরা ডাকাত, বিশ্বাস করা যায় কি? এরা গুপ্তচর হতে পারে, আর সবসময় মিথ্যে বলে। তখন নিতাই বললেন, জিজ্ঞেস করলেন, “আসল বৃত্তান্ত কি?” বললেন, “আমরা হচ্ছি ডাকাত। আমরা হচ্ছি খারাপ লোক, আমরা এসছি আপনাকে ক্ষতি করার জন্য, আপনার কাছ থেকে যেটা আপনার অলংকার আছে, সেটা চুরি করার জন্য। কিন্তু তিনবার আপনি এমন আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন, আমি বুঝতে পারছি যে আপনি সাধারণ লোক নয়। আপনি ভগবান তাই আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাই। এই যে ক্ষতি এটা ক্ষমা করুন।” এরকম একটা চোর, সে বলে না, সে স্বীকার করে না, কিন্তু এরা স্বীকার করে সব বলেছে এবং কেঁদেছে, নিতাই চরণের কাছে সমর্পণ করলেন। নিতাই তাকে উঠিয়ে আলিঙ্গন করলেন। হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল! (উলুধ্বনি)

সেইভাবে এখন আপনারা ভগবানের মন্দিরে হোক বা গৃহে ভগবানের সামনে থাকবো কিন্তু কোন মিথ্যা কথা আমরা রাখতে পারি না। এবং সেইভাবে যদি আমরা ভগবানের কাছে সত্য হই, স্বাভাবিকভাবে ভগবান খুশি হবেন। এই কলি যুগে কেউ বলতে পারে না যে কিছু পাপ করিনি। সবাই একটা কম বা বেশি পাপ করেছে, নিতাই গৌর এসেছেন পাপী লোককে উদ্ধার করে তাদের গোলক বৃন্দাবনে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

যাইহোক, আপনারা নিশ্চয়ই বিভিন্ন বক্তৃতা শুনলেন। একটা জিনিস আছে, যারা অবিবাহিত ছেলে বা মেয়ে, আমাদের একটা বৈষ্ণব ম্যারেজ ব্যুরো আছে, আপনাদের সাহায্য করার জন্য। এখন নামহট্টে এটা আছে কিনা জানিনা। আপনারা যদি কাউকে পান, তাতে যদি খুশি হয়, সেটা ঠিক আছে। আর যদি দরকার হয়, এই ম্যারেজ ব্যুরো দ্বারা আপনাদের ছবি, আর যা হয় ইত্যাদি দিতে পারেন।

যাইহোক, এখন আমি একবার হরিনাম বলব।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 30/1/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions