Text Size

২০২৩১২০৭ EIDC তরুণদের প্রচারক দলের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বক্তব্য

7 Dec 2023|Duration: 00:25:10|Bengali|Youth Programs|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
   যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
   পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
   হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- সুস্বাগতম! তোমাদের সকলকে মায়াপুরে সুস্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এই তরুণদের প্রচার হচ্ছে এমন কিছু, যা চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি শুরু করেছিলেন। আসলে তিনি নবদ্বীপে ২৪ বছর বয়স পর্যন্ত ছিলেন। যার অর্থ হচ্ছে তিনি অনেক তরুণদের প্রচার করেছিলেন। তিনি নিমাই পণ্ডিত রূপে পরিচিত ছিলেন এবং তার একটি পাঠশালা ছিল, আর তিনিও অনেক শিক্ষিত ছেলেদের সাথে কার্য করেছিলেন, কিন্তু যেহেতু তিনি নিজেই তরুণ ছিলেন, তাই কখনো কখনো শিক্ষিত বালকেরা তাঁর যথেষ্ট প্রশংসা করতেন না এবং তাই জন্য তিনি ভেবেছিলেন যে আমি এইসব মানুষদের উদ্ধার করতে এসেছি, কিন্তু তারা অপরাধমূলক হচ্ছে। তাই তা শুনতে এমন লাগছিল যে তা তাদের জন্য সাহায্যকারী হবে না। তাই ২৪ বছর বয়সে তিনি গয়াতে সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। গয়া থেকে এখানে কেউ আছে কি? আমি শেষবার পরিভ্রমণের সময় সেখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীচরণ চিহ্ন প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি বিষ্ণু গয়াতে গিয়েছিলেন এবং তিনি গয়াতে দীক্ষাও গ্রহণ করেছিলেন। যখন তিনি গয়া থেকে ফিরে এসেছিলেন, তখন সংকীর্তন আন্দোলন শুরু করেছিলেন। আমি বলব যে বিহারেই প্রথম চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর কৃষ্ণ প্রেম প্রকাশিত করেছিলেন।

যাইহোক, শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি আমাদেরকে বুদ্ধিমান ছেলে, মেয়েদের প্রচারের জন্য উৎসাহিত করছিলেন। আমাদের কলেজে প্রচার করা উচিত এবং তিনি তাঁর শিষ্যদেরকে এই বলে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন যে — যখন তোমরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রচার করবে, তখন তারা কৃষ্ণের জন্য যা করতে পছন্দ করে তোমার তাদেরকে দিয়ে তাই করানো উচিত। যদি কেউ কৃষক হয়, তাহলে সে চাষের কাজ পছন্দ করবে। যদি কেউ কম্পিউটারের কাজে দক্ষ হয়, তাহলে সে অফিস বা এইরকম কাজ পছন্দ করবে। এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন ছেলেদেরকে এমন কিছুতে নিযুক্ত করা যা তাদের পক্ষে সহজ। এইভাবে অবশ্য অনেক ছেলে মেয়েরা ইসকনে যুক্ত হয়েছে। চৈতন্য মহাপ্রভুর আন্দোলন, যা শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক সমগ্র বিশ্বের কাছে নিয়ে আসা হয়েছে, সেখানে অনেক তরুণরা আছে। অবশ্য, এমন নয় যে প্রত্যেকেই তরুণ, কিন্তু বেশিরভাগই তরুণ। শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে যদি আমরা বুদ্ধিমান তরুণ শ্রেণীকে আকর্ষিত করতে পারি, তাহলে তা অনেক ভাল হবে। আমরা দেখি যে মায়াপুরে বিভিন্ন ধরনের মানুষ, পরিবার, তরুণ ও বিভিন্নধরনের মানুষেরা আসেন। তরুণদের প্রচারকারীরা বাইরে যায় ও বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান করে। কৃষ্ণভাবনামৃতকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য কাউকে অত্যন্ত দক্ষ হতে হবে। শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন যে আমাদের সঙ্গে সঙ্গেই তাদেরকে মুণ্ডন করা ঠিক নয়, ব্যক্তিদের আসতে দেওয়া হোক ও স্বাভাবিকভাবে এতে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হোক।

যাইহোক, শ্রীল প্রভুপাদ তরুণদের প্রচারের বিষয়ে অনেক গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং এই কারণে আমি এটা করার জন্য প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা কিছু ভাবি না যে কেউ গৃহস্থ নাকি বিবাহিত, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে তাদের ভক্তিমূলক সেবা করা উচিত। ভক্তিমূলক সেবার মাধ্যমে তারা শুদ্ধ হবে।

চৈতন্য মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভু পাপী মানুষদের উদ্ধার করার জন্য নিম্নে অবতীর্ণ হয়েছেন। এই কলিযুগে কেউই এই দাবি করতে পারে না যে তারা কোন পাপ করেনি। চৈতন্য মহাপ্রভু নিত্যানন্দ প্রভু ও অন্যান্যদের সাথে এই সব পাপী মানুষদের উদ্ধার করার জন্য এসেছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু এই বিচার করেননি যে কে যোগ্য এবং কে অযোগ্য, তিনি প্রত্যেককে অবাধে কৃপা প্রদান করেছিলেন। এইভাবে তারা প্রত্যেককে কৃষ্ণ দিয়েছিলেন, কেউ তা গ্রহণ করবে এবং কেউ হয়ত করবে না। তবে আমরা প্রচেষ্টা করেই যাব! আমরা দেখি যে পাশ্চাত্যে, আমি জানিনা ভারতে তা কেমন, তোমরা সেই সম্পর্কে আমাকে পরে বলতে পারো, তবে পাশ্চাত্যে আমরা দেখি যে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহজে তাদের কাছে যাওয়া যায়। তরুণদের প্রচারকারীরা এইরকম, অত্যন্ত ইতিবাচক। আমি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বিশ্ব বিদ্যালয়ে কিছু প্রবচন দিয়েছিলাম, আমাদের ভক্তদের সেখানে বুথ ছিল, যেখানে তারা প্রসাদ বিলি করছিল। সেই জন্য, তারা এত প্রশংসাপ্রবণ হয়েছিল যে সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদেরকে অফিস করার জন্য একটি ঘর দেওয়া হয়েছিল। সবসময়ের জন্য একটি ঘর! কিছু কিছু স্থানে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা ধাওয়া করে, কিন্তু এখানে তাদেরকে একটি ঘর দেওয়া হয়েছিল এবং তাই তাদের কাছে একটি ঘর ছিল, যাতে তারা পড়তে পারে এবং সাপ্তাহিক বৈঠকের জন্য এক খালি ঘরও পেয়েছে।

আমি উত্তর আমেরিকার কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম, যারা ছিল ভক্ত এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের কাছে যেতে পারত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান ও পাঠের জন্য অপেক্ষা করত। যাইহোক, আমিও ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বীকৃত কোর্সের শিক্ষা দিচ্ছিলাম, কলেজের পরে আমার একটি চাকরি ছিল। তারপর আমি এই হরে কৃষ্ণ আন্দোলনে যুক্ত হই। আমি ভগবদগীতা পড়ছিলাম, শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে দীক্ষা দিতেন না যতক্ষণ না আমরা গীতা ১০ বার পড়ছি। আমি গীতা অনেকবার পড়েছি, তাই সেই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে এটি প্রদান করেছিলেন যে আমি এক স্বীকৃত কোর্সের শিক্ষা দিতে পারতাম, ২ মূল্য। আমি ডুক ইউনিভার্সেটেও একটি কোর্স শেখাচ্ছিলাম, কিন্তু সেখানে কোন মূল্য ছিল না, যারা চাইত তারাই আসতে পারত। এটা হচ্ছে তখন, যখন কৃষ্ণভাবনামৃত ছিল খুব নতুন।

আসলে ভারতে কিছুটা হলেও ইসকনের এক খুব ভালো নাম আছে। আমাদেরকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করা হয়, আমি প্রত্যেক বছর গৌর পূর্ণিমা উৎসবের পরে বিদেশী ভক্তবৃন্দদের দল সহ, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে যাই। কখনো কখনো ৪০টা ভিন্ন দেশে। মানুষেরা তাদের থেকে শুনতে ও তাদের কার্যকলাপ দেখতে পছন্দ করে। আসামে কোন এক জায়গায় আসামের রাজ্যপাল রাশিয়ান মহিলাদের রামলীলা অভিনয় করতে দেখেছিলেন এবং তারপর তিনি মঞ্চে আসেন ও বলেন, অসংখ্য ধন্যবাদ! তোমাদের ধন্যবাদ এবং এই ওই। পরের বছর আমরা বৃন্দাবন যাব। আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীচরণচিহ্ন প্রতিষ্ঠা করব। যেমন আমরা গয়াতে করেছিলাম, ২০২৫ সালের টা আমি নিশ্চিত নই, আমাদের এখনো কোন স্থান ঠিক করা হয়নি। যদি তোমাদের কারো কোন পরামর্শ থাকে, তাহলে আমরা তা ভেবে দেখতে পারি। যাইহোক, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে তোমরা সকলে মায়াপুরে এসেছ একত্রে এই রিট্রিটের জন্য। উৎসাহে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষেরা বন্ধুত্বভাব ও উৎসাহের প্রতি প্রতিক্রিয়া করে, এবং এটা ভালো সময় গ্রন্থ অধ্যয়ন করার জন্য এবং কোর্সগুলিতে অংশগ্রহণ করার জন্য, সেটিরও আরো গভীর প্রভাব থাকতে পারে। কিছু ছাত্র-ছাত্রীরা তারা আকর্ষণীয় উপাধীর প্রতি আকর্ষিত এবং তাই তোমরা দেখতে পারো যে কোনটি  কাজ করবে। আমি জানিনা তোমরা এখানে কতদিন আছো, তবে আমি আশা করি যে তোমরা সুখী থাকবে।

এটি ঔদার্য ধাম নামে পরিচিত, এখানে তুমি যাই সেবা করবে, তার সহস্র গুণ ফল পাবে। এমনকি যদি তুমি শুয়ে থাকো, তাহলে তা অন্যত্র প্রণাম করার মত। কেউ একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে তাহলে কেন আমি সারাদিন শুয়ে থাকব না? কারণ আমরা কিছু সেবা করার ফলে আরো অধিক লাভ পেতে পারবো। এমনকি কোন কিছুই না করে যেমন শুয়ে থেকে তুমি লাভ পেতে পারবে, তাহলে যদি তুমি হরেকৃষ্ণ কীর্তন করে উপর নিচে লাফাও, তাহলে আরো অধিক লাভ পাবে।

আমাদের সাথে শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী মহারাজ আছেন। তিনি হচ্ছেন আমাদের একজন উৎসাহী গ্রন্থ বিতরণকারী। তিনি বিভিন্ন সংকীর্তন দল, বিভিন্ন কার্যপ্রণালী গঠন করেছেন। আপনি কি এই সম্পর্কে কিছু বলতে চান?

ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী:- আমি ইতিমধ্যেই দু'ঘণ্টা বলেছি।

জয়পতাকা স্বামী:- কোন প্রশ্ন আছে?

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 2024/03/02
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions