২০২৩১১২৭ প্রবচন শেষে শ্রীপাদ মরীচি দাসের জগন্নাথ দেব ও শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজের মহিমা বর্ণন
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
মরীচি দাস :- হরে কৃষ্ণ প্রিয় ভক্তগণ! আজকে আমাদের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আছে। আমরা শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব ও শ্রীল গুরুমহারাজের এক অসাধারণ কাহিনী বিবরণ করতে চলেছি। এই কাহিনীটি — “জগন্নাথপুরী এবং জয়পতাকা” নামে আখ্যায়িত। আপনারা কতজন এই কাহিনী শুনতে চান? আমি জগন্নাথ পুরী মন্দিরের একটি ছবি দেখাব, আপনারা ঠিক উপরে এই পতাকা, চাঁদ এবং ধ্রুবলোক দেখতে পারেন। তা অতীব সুন্দর! এখানে আপনারা এই কাহিনীটি লক্ষ্য করতে পারছেন, এটি সংঘটিত হয়েছিল পুরী পরিক্রমার সময়, যা শ্রীমান নাড়ু গোপাল প্রভু কয়েক মাস পূর্বে অক্ষয় তৃতীয়ার সময় সম্পাদন করিয়েছিলেন। যেই ঘটনা ঘটেছিল, তা হচ্ছে — শ্রীমান নাড়ু গোপাল প্রভু পরিক্রমায় অংশগ্রহণকারী সকল ভক্তবৃন্দ সহ মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন, যেখানে এক কল্প বৃক্ষ আছে, উনি সেখানে সেই বৃক্ষের মহিমা বর্ণনা করেছিলেন। সেখানে উড়িয়া বা বাংলা ভাষায় এটিকে বলা হয় কল্প বট বা বট। পুরানে এই কল্প বৃক্ষের এক কাহিনী বর্ণিত আছে। ব্রহ্মপুরাণ এবং স্কন্ধ পুরানে এটি উল্লেখিত আছে যে শ্রীক্ষেত্র জগন্নাথ পুরী মন্দিরের অভ্যন্তরে এটিই হচ্ছে একমাত্র কল্প বৃক্ষ। এই বিশেষ বৃক্ষটি; গুরুমহারাজ, তারা বলেছিলেন যে এই বৃক্ষের পাতা অত্যন্ত বিশেষ, তারা বলেছিলেন যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীগোপাল স্বরূপে এই বৃক্ষপত্রে শয়ন করেছিলেন। যদি আপনারা শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের সেবা-পুজা করার অভিলাষী হন, তাহলে আপনাদের জন্য কল্পবটের কৃপা লাভ করা প্রয়োজনীয়।
অক্ষয় তৃতীয়ার ৫/৬ দিন আগে তারা তা দর্শন করেছিলেন এবং জগন্নাথ পুরী মন্দিরের ধ্বজা উত্তোলনের কার্যক্রম দর্শন করেছিলেন। যেমন, আপনারা অবগত আছেন যে চক্রের উপরিভাগে একটি পতাকা থাকে। সেখানে সেই ধ্বজা-উত্তোলন দর্শন করে একজন মাতাজির এক তীব্র বাসনা হয়, তিনি বললেন, “কি অসাধারণ! যদি আমরা অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে চক্রের উপরে শ্রীল গুরু মহারাজের নামে ধ্বজা উত্তোলন করতে পারি, তাহলে তা কত ভালো হবে!” এটিই ছিল তার বাসনা। যখন তার হৃদয়ে এমন অভিলাষ হয়, তখন সেই কল্প বৃক্ষ থেকেও দুটি পত্র ভূপতিত হয়। এই হচ্ছে সেই পত্রকসমূহ। শ্রীল গুরুমহারাজ, এই হচ্ছে সেই বট বৃক্ষ, কল্পবট গাছ। এরপর তিনি পূজারীবর্গকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কিভাবে আমার গুরুমহারাজের নামে এই ধ্বজা নিবেদন করতে পারব?” সকল পাণ্ডাগণ বলেছিলেন, “এটা অসম্ভব!” তবে অবশেষে তিনি পর্যবেক্ষণ করলেন যে শ্রীমন্দিরাভ্যন্তরে একটি দফতর আছে, সেইখানে কেবল এই ধ্বজা উত্তোলন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের জন্য এক বিশেষ সেবক আছেন। তিনি সেই দফতরে যান। সেখানে বিভিন্ন প্রকারের ধ্বজা ছিল, আপনারাও যেকোনো ধ্বজা জামিন করাতে পারেন। আপনারাও ধ্বজার প্রযোজক হতে পারেন, যা আয়তন অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হয় — যেমন দুই হাত, তিন হাত, চার হাত ইত্যাদি। সব থেকে বড় ধ্বজাটি হচ্ছে চৌদ্দ হাত। আর এটিই চক্রের উপরিভাগে অবস্থান করে। তখন তিনি তাদেরকে বললেন যে, তিনি চৌদ্দ হাত লম্বা ধ্বজা জামিন করতে চান। তারা বললেন, “ঠিক আছে আপনি তা করতে পারেন, কিন্তু অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে ধ্বজা জামিনের জন্য সহস্রাধিক ব্যক্তি অপেক্ষমান। আমরা জানি না কোন ধ্বজা সর্ব শিখরে উত্থিত হবে। ভগবান শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব কেবল একটি ধ্বজা চয়ন করবেন।” তাতে তিনি সহমত হন। এরপর তিনি একটি রসিদ পান, যার উপরে লেখা ছিল, ‘এইচ এইচ জয়পতাকা স্বামী’।
এর নিয়মটি কি ছিল? এটাই হচ্ছে এই কাহিনীর এক আকর্ষণীয় অংশ। নিয়ম ছিল — তাকে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে ঠিক সকাল ৯টার সময় পৌঁছাতে হত। যদি এক মিনিটও বিলম্ব হয়, তাহলে তারা প্রবেশের অনুমতি দেবেন না। যেসকল ব্যক্তিরা চৌদ্দ হাত দীর্ঘ ধ্বজা নিবেদন করতে চান, ওনারা তাদের জন্য অনেক বসবার চেয়ার সাজিয়ে রেখেছিলেন। যারা অন্য ছোট ধ্বজা জামিন করবেন, তাদের সেখানে থাকার অনুমতি ছিল না, তারা কেবল অল্প কিছু অনুদান দেবেন। যেহেতু তিনি পরিক্রমায় ছিলেন, এবং সেই দিনটি ছিল পরিক্রমার শেষ দিন, তাই তিনি কোনপ্রকারে অনুমতি পেয়ে ৫-১০ মিনিট আগে মন্দিরে পৌঁছে যেতে পেরেছিলেন। তবে সেই দিন মন্দিরে এক লম্বা সারি ছিল, ঠিক যেমন তিরুপতিতে কয়েক মাইল দীর্ঘ আঁকাবাঁকা সারি থাকে। সেই সারির মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করা ছিল অসম্ভব! তাই তখন তিনি দ্বার-রক্ষকের সাথে কথা বলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করেন, কিন্তু তার প্রবেশের অনুমতি মেলেনি। তখন তিনি পরবর্তী দ্বারে যান, সেখানেও একই ঘটনা ঘটে, কত মানুষেরা সেখানে ছিলেন। তাই, তিনি অন্য আরেকটি দ্বারে যান এবং সেখানেও অনেক মানুষ ছিলেন। সেইজন্য, পৌঁছানো অসম্ভব ছিল, তবে সেই সারির মধ্যে দিয়ে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়ার জন্য তিনি ভক্তদের কাছে অনুনয়-বিনয় করেন ও অবশেষে এইভাবে মন্দিরের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। তিনি যখন সেখানে পৌঁছান, তখন ঘড়িতে ঠিক নটা বাজে! তিনিও বসার স্থান পান। তারপর কি হল? সেই রসিদটি ছিল গোলাপি রঙের এবং সকলের সব রসিদ একটি বাক্সের মধ্যে রাখা হয়েছিল, সেগুলো অনেক ছোট ছিল, তাই আপনি কেবল ছোট গোলাপি কাগজই দেখতে পারবেন। এতে যে কোনো প্রবঞ্চনা হচ্ছে না, তা নিশ্চিত করার জন্য পূজারী সবার মধ্যে থেকে একজন ভক্তকে যেকোনো একটি গোলাপি কাগজ তোলার জন্য ডেকে নেন, শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব তা বেছে নিচ্ছেন। সেই ভক্ত এসে একটি কাগজ তোলেন ও তা পূজারীকে দিয়ে দেন। পূজারী সেই রসিদটি উন্মুক্ত করলেন ও সেটির দিকে তাকিয়ে থাকলেন, উনি নামটি পড়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তার জন্য এটা এক খুবই কঠিন নাম ছিল! তিনি বললেন, “এইচ এইচ” (শ্রীল গুরুমহারাজ: আহ! এটা তো আমার নাম।) আসলে পূজারী বাদবাকি নাম উচ্চারণ করতে পারছিলেন না, কিন্তু মাতাজি সেখানে ছিলেন, তার নাম আসলে সপ্তপর্ণা মাতাজি। তিনি উচ্চঃকন্ঠে বলে ওঠেন, “জয়পতাকা স্বামী!”, প্রত্যেকে তার দিকেই দৃষ্টিনিক্ষেপ করেন, কারণ উনি তৎক্ষণাৎ মাটিতে পড়ে সরবে কাঁদতে শুরু করে দেন। বাস্তবে এটা যে হয়েছে তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না! তখন মন্দিরের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সবাই জয়পতাকা স্বামীর কথা বলছিলেন। সেইসময় পূজারী তাকে বললেন যে, “ঠিক আছে! যেহেতু জয়পতাকা স্বামীর নামে পতাকা নির্বাচিত হয়েছে, তাই এখন আপনাকে আবার অফিসে যেতে হবে।” আপনারা সেই গোলাপি রসিদটি দেখতে পারেন — সেখানে এই নাম এবং নম্বর আছে। তাকে আবার অফিসে যেতে হয়েছিল কারণ অফিসের সেই পূজারীকেই উপরে আরোহন করতে হবে। সাধারণত নিন্মভাগে অনেক ধ্বজা যায়, সহস্রাধিক, কিন্তু সর্ব শিখরে আরোহনের জন্য একটি পরিবারের একজন পাণ্ডাই আছেন। এটা বুঝতে হবে যে, পুরীতে একটি পরিবারই সহস্রাধিক বছর ধরে এই সেবা করে আসছেন। হয়ত একটি পরিবারই সবজি আমান্য করার এই একটি সেবা সহস্রাধিক বছর ধরে করছেন। তাই, উপরে আরোহনের এই সেবার জন্য তাকে আবার কিছু অর্থ দিতে যেতে হয়েছিল, সম্ভবত পাঁচশ টাকা। তারা তাকে বলেছিলেন যে, সেই দিনই সেই দুটো রসিদ নিয়ে তাকে বিকেল চারটের সময় আসতে হবে। যদি দুটো রসিদ না থাকে, তাহলে তারা বলেছিলেন যে তারা সেই সংকল্প করতে পারবেন না। তাই রসিদগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল!
তারপর কি হলো? তিনি আধঘন্টা আগে গিয়েছিলেন, কিন্তু যখন মন্দিরের অভ্যন্তরভাগে প্রবেশ করে কল্প বট বৃক্ষের কাছে গেলেন, সেখানে এই কাহিনী আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠল! এক বানর এসে তার ব্যাগ চুরি করে নিল। এবং সে কল্পবট বৃক্ষের উপর চড়ে, সেই বৃক্ষের উপর বসেছিল। সেই ব্যাগের মধ্যে কি ছিল? ওনার জপ ব্যাগ, সব সময় যেটা ব্যবহার করেন সেটা নয়, অন্য একটা জপ ব্যাগ ছিল, আর সব টাকা-পয়সা ছিল। কিন্তু তিনি সেই টাকার বিষয়ে তত চিন্তা করেননি, যেহেতু তা খুব বেশি পরিমাণে ছিল না, তবে সেই যে দুটো রসিদ, সেটাও ব্যাগের ভিতরেই ছিল। তখন পাণ্ডারা এক বড় বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রচেষ্টা করছিলেন যে সেই বানর যাতে ব্যাগটা ফেলে দেয়, কিন্তু সেই বানর আরো উপরে চলে যাচ্ছিল ও এক চূড়া থেকে আরেক চূড়ায় লাফ দিচ্ছিল, এরপর আবার সে সেই বৃক্ষের উপরে এসে বসেছিল। হঠাৎ সে ব্যাগটাকে খোলে, প্রথমে ব্যাগের ভিতর থেকে জপ মালা তুলে নিয়ে তা গাছের ডালে পেঁচিয়ে দেয়। তারপর সেই টাকাগুলো নিয়ে ছুড়ে ফেলে, তখন মানুষেরা সেগুলো তুলে নিচ্ছিল। তিনি(মাতাজি) এমনকি তাতেও আগ্রহী নয়, তিনি শুধু সেই রসিদের কথা ভাবছিলেন। সেই বানর ছিল এক অদ্ভুত বানর! অবশেষে, সে সেই রসিদটা বের করে এক কোণ থেকে একটু ছিড়ে নেয় (তিনি রসিদটি দেখাচ্ছেন) ও তারপর সেই দুটো রসিদ সপ্তপর্ণা মাতাজির কাছে নিচে ফেলে দেয়। এটা সত্যিই অদ্ভুত! বিকেল ৪:৩০ - ৫:৩০ ঘটিকা ধ্বজা উত্তোলিত হবে, তাই তখন তিনি সংকল্প গ্রহণ করেন ও এমনকি রিকশাতে করে আসার মত টাকাও তার কাছে ছিল না। তাকে তাড়াহুড়ো করে কলকাতায় ফিরে আসার জন্য স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়, সেই ট্রেন ছিল রাত ৭টা বা ৮টায়।
এখানেই এই কাহিনী শেষ নয়! যখন আমি মালয়েশিয়াতে ছিলাম, তিনি আমাকে এই সব বলেছিলেন, এই ধ্বজা উত্তোলনের কিছু দিন পূর্ব থেকেই আমাদের মধ্যে কথা হচ্ছিল। তারপর আমি জিজ্ঞেস করি যে সেই পতাকার কি হলো? তখন তিনি বললেন, “আমি তো পতাকার বিষয়ে ভাবিনি।” আমি বললাম, না! না! আমাদের সেই ধ্বজা চাই, কারণ এটা হচ্ছে গুরুমহারাজের ধ্বজা, তাই কিভাবে সেই ধ্বজা পাওয়া যাবে? যখন তিনি কলকাতায় পৌঁছান, তখন আমি তাকে এক পাণ্ডার নম্বর দেই, যিনি ছিলেন ইসকনের পাণ্ডা, তিনি ওনাকে ফোন করেছিলেন। তবে উনি বলেছিলেন যে সেই ধ্বজা পাওয়া অসম্ভব, কারণ অক্ষয় তৃতীয়ার দিনের এই ধ্বজা অনেক আগে থেকেই বলা থাকে তা কে নেবেন। তখন উনি সেই অফিসের নম্বর খোঁজার চেষ্টা করেন ও অবশেষে সেই সেবক অফিসের নম্বর খুঁজে পান। তিনি সেখানে বারংবার, বহু বার ফোন করছিলেন, কিন্তু কেউ ফোন তেলেন নি। এরপর তারা আবার তাকে ফোন করেন, তিনি জিজ্ঞেস করেন যে কিভাবে সেই ধ্বজা পাওয়া যাবে? তারাও আবার সেই একই কথা বলেন যে এটা সম্ভব নয়, অনেক বিভিন্ন অজুহাত দেন। এখন এই বড় কাহিনীকে ছোট করে বলছি, যা হয়েছিল তা হচ্ছে, অবশেষে উনি(পাণ্ডা) সহমত হন, তাহলে টাকা কিভাবে পাঠানো যাবে? আমি অচিন্ত্য নিতাই প্রভুকে ফোন করেছিলাম, তিনি তার বন্ধুকে ফোন করেছিলেন এবং তারপর সেই পতাকার জন্য ফোন পে-র মাধ্যমে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি জানতেন না যে কেন তাঁর পুরী যাওয়ার জন্য দুটো টিকিট হয়েছে, একটা টিকিট ছিল পরিক্রমার সময়ের, আর তারপর তিনি ফিরে আসার চারদিন পর তার বাবার সাথে পুরী যাওয়ার জন্য আরেকটা টিকিট ছিল। তিনি ফিরে এসেছিলেন, তবে আবার শ্রীক্ষেত্র যাওয়ার আরেকটা টিকিট তার কাছে ছিল। পাণ্ডার জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনি কিভাবে এই ধ্বজা নেবেন?” তিনি তাদেরকে সেটি রেখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, যেহেতু চার দিন পর আবার তিনি পুরীতে যেতেন। তাই চারদিন পর আবার তিনি পুরীতে ফিরে যান ও সেখান থেকে সেই ধ্বজা নিয়ে নেন।
শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের এই ধ্বজার উপর কোন নাম থাকতে পারে না, তারা শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের ধ্বজার উপর কোন নাম রাখেন না, তবে সেই রসিদ নম্বর ধ্বজার উপর আছে। এই হচ্ছে সেই পতাকা, যা অক্ষয় তৃতীয়ার দিন উঠেছিল। এই হচ্ছে সেই জয় পতাকা যা শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে উত্তোলিত হওয়ার জন্য নির্বাচন করেছিলেন। শ্রীল গুরুমহারাজ কি জয়! শ্রীল গুরুমহারাজকে নিবেদনের জন্য আমাদের কাছে এই ধ্বজা আছে এবং আমি সপ্তপর্ণা মাতাজিকে এখানে এসে এই ধ্বজাটি গুরুমহারাজকে দিতে অনুরোধ করছি। আপনারা যাবেন না, সবথেকে ভালো ব্যাপারটি হবে শ্রীল গুরুমহারাজকে এই পতাকাটি দেওয়ার পর। (গুরুমহারাজ তাদেরকে জগন্নাথের দাঁতন দিয়ে আশীর্বাদ করলেন।)
এই পতাকা, এতে দুটি অংশ আছে — বড় পতাকা যেটা হচ্ছে ১৪ হাত লম্বা। আমরা এই পতাকাটি খুলব, যার মধ্যে একটি চাঁদ আছে, তা খুব সুন্দর। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সেই পতাকার কোনায় আরেকটা কাপড় যুক্ত করা আছে। (সপ্তপর্ণা দেবী দাসী:- গুরু মহারাজ, পূজারী ধ্বজার এই অংশটিকে ‘শূন্য-গাঁথি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। কারণ এইসব গিটগুলো মন্দিরের চূড়ার উপরেই হাওয়ার মধ্যে থাকাকালীন স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়ে যায়। এটা হাওয়ার মধ্যে হয় বলে, এটাকে বলা হয় শূন্য এবং যেহেতু একটা গিট পরে, সেই জন্য তাকে বলা হয় গাঁথি।) তারা বলেন যে কেউ এটা করে দেয় না, কিন্তু এই গিট খুবই শক্ত। আগে এটা ছিল এক টুকরো কাপড়, কিন্তু এখন এটা ঘোড়ার লেজের মত হয়ে গেছে। তারা বলেন যে আপনি যদি এক পাত্র জলের মধ্যে শূন্য গাঁথি রাখেন এবং তারপর তা তুলে নিয়ে সেই জল পান করেন, তাহলে আপনার আর কোন শারীরিক সমস্যা থাকবে না। যেকোনো কিছু, দীর্ঘ ব্যাধিও সেরে যাবে। জয় শ্রীল গুরুমহারাজ! শ্রীল গুরুমহারাজ আবার হাঁটতে পারবেন এবং সমগ্র বিশ্বে ভ্রমণ করতে পারবেন।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়