Text Size

২০২৩১০০৮ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

8 Oct 2023|Duration: 00:36:18|Bengali|Question and Answer Session

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

জয়পতাকা স্বামী:- আমি ভাবলাম আমি আসব আর কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবো। অবশ্য যদি প্রশ্ন থাকে তাহলে। আমার সহকারি মহাবড়াহ দাস ভাষণ বলল এবং আমরা চাই প্রত্যেকে যাতে বিভিন্ন ভক্তের থেকে শোনার সুযোগ পায়।

আমরা ভক্তিমূলক সেবার ঠিক নটি পন্থা অনুসরণ করি। প্রথম হচ্ছে শ্রবণ করা, শ্রবণং। দ্বিতীয় হচ্ছে কীর্তন বা শ্রবণ, এটিকেও বলা হয় কীর্তনং। তারপর আমরা যা বলা হয়েছে তা মনে করতে চাই, সেটিকে বলা হয় স্মরনং। আমরা কৃষ্ণের সেবা করতে চাই, যা পাদ সেবনং। এইভাবে ভক্তিমূলক সেবার নটি পন্থা আছে এবং আমরা শ্রীকৃষ্ণের প্রতিবিধানের জন্য সেই সব কটি করতে পছন্দ করি। তোমাদের কি কোন প্রশ্ন আছে? যদি তোমরা তা লিখে দাও, তাহলে এটা গোপন থাকবে যে কে সেই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছে, যদি না সেখানে তুমি তোমার নাম দাও। তোমাদের কি কোন প্রশ্ন আছে?  

প্রশ্ন:- আপনি কিভাবে জানেন যে আমরা যে সেবা করি তা প্রকৃতপক্ষে আপনারকে সন্তুষ্ট করছে?   

জয়পতাকা স্বামী:- ভালো প্রশ্ন! যেহেতু আমরা গুরু এবং কৃষ্ণের খুশির জন্য সেবা করি তাই। এখন নির্দিষ্ট কিছু আছে যা গুরু বলে দেন যে তিনি চান সেই সেবা যাতে করা হয়। ঠিক যেমন আমি নাম-নিষ্ঠাকে বলেছি যে আমি এই মন্দির নির্মিত হতে দেখতে চাই, তাই সেই সেবা করার মাধ্যমে, মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে সে জানে যে তা গুরুর প্রীতিবিধান করছে। ঠিক তো?

নাম-নিষ্ঠা দাস:- আসলে আমি গুরু মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তা ছিল তিরুপতিতে এবং তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি আমাকে বললেন, “মন্দির নির্মাণ কর!” তাই আমি বললাম দয়া করে আপনি আপনার হাত রেখে আমাকে নির্দেশ দিন। সেই সময় উনি আমার মাথায় ওঁনার হাত রেখেছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, “সব সুযোগ সুবিধা সহ একটা সুন্দর মন্দির নির্মাণ কর”। সেই মুহূর্তে আমরা তিন জন ভক্ত ছিলাম, কোন অর্থ ছিল না এবং আমার মনে পড়ে পরবর্তীতে তিনি বিস্তারিতভাবে বলেছিলেন ৫ই জুন, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, পানিহাটিতে যে, “তুমি কি করছ?” সেটা ছিল অনলাইন সাক্ষাৎ। আমাদের সাথে খুব কমই কোন ভক্ত ছিল এবং আমি বললাম কিছুই করার নেই কারণ সবকিছুই বন্ধ আছে। গুরুমহারাজ বললেন, “তুমি চেন্নাইকে কেন ভেবে দেখছ না? ৬০০০ ভক্ত তাদের অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণ করেছে। তাই আমি ভাবছিলাম সৌমিত্র কৃষ্ণ দাস যদি ৬০০০ করতে পারে, তাহলে নাম নিষ্ঠা ১০,০০০ করতে পারবে!” এবং তারপর আমি চেষ্টা করেছিলাম, আর ৪ দিনের মধ্যে ১০,০০০ ভক্ত রেজিস্টার করেছিল এবং আমরা এমনকি জানতাম না যে অর্থ কোত্থেকে আসবে। আমরা এমনকি সেটাও জানতাম না! এমনকি সব ভক্তরা যাদেরকে গুরুমহারাজ গতকাল দীক্ষা প্রদান করলেন, তারাও সবাই সেই অনলাইনের মাধ্যমেই এসেছে আর এটা অবিশ্বাস্য! গুরু মহারাজ আপনাকে ধন্যবাদ!  

জয়পতাকা স্বামী:- হরে কৃষ্ণ! 

প্রেমপ্রকাশ হরিদাসের প্রশ্ন (ডাক্তার পরেখ):- শ্রীল প্রভুপাদের সাথে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ আপনার কোন একটি ঘটনা আছে যা আপনি চান যে আমরা জানি ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি।

জয়পতাকা স্বামী:- সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?

তোমরা জানো যে শ্রীল প্রভুপাদ অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি জিজ্ঞেস করছিলেন, “আধ্যাত্মিক গুরুর থেকে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কি শেখার আছে?” প্রত্যেকের বিভিন্ন ধারণা ছিল, কিন্তু প্রভুপাদের ধারণা ছিল — তোমাকে শুদ্ধ ভক্তি শিখতে হবে, কিভাবে কৃষ্ণের সেবা করতে হয় তা শিখতে হবে। সেবা করার এই মনোবৃত্তি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ঠিক যেমন শ্রীল প্রভুপাদ পাশ্চাত্যে গিয়ে সমগ্র বিশ্বে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে এর রহস্য কি? তিনি বলেছিলেন এর রহস্য হচ্ছে সবকিছুই তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক গুরুকে অনুসরণ করে করেছিলেন। যেমন তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু তাঁকে গ্রন্থ ছাপাতে বলেছিলেন, তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু তাঁকে জিবিসি প্রতিষ্ঠা করতে বলেছিলেন। তিনি যা করেছেন, সেই সবকিছুই তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক গুরুর নির্দেশ পালন করার চেষ্টা করেছেন। এটিই হচ্ছে তাঁর সাফল্যের রহস্য! 

প্রশ্ন:- কোন সেবা করার ক্ষেত্রে বা জড়জাগতিক জীবনে আমাদের অক্ষমতাকে কিভাবে গ্রহণ করব

জয়পতাকা স্বামী:- কখনো কখনো কেউ কোন কিছুতে দক্ষ হতে পারে, কখনো কখনো তারা দক্ষ হতে নাও পারে। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সবকিছুতেই সুদক্ষ। তাই আমরা কৃষ্ণের জন্য সব সেবা করার চেষ্টা করি এবং কিছু কিছু সেবা ভালোভাবে হবে আর কিছু কিছু হয়ত আরো ভালো হতে পারত। তাই আমরা আরো ভালোভাবে সেবা করার জন্য শ্রীকৃষ্ণের কৃপা প্রার্থনা করি ও এই অক্ষমতাগুলিকে আমাদের সেই বিষয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যে জায়গায় আমাদের আরো মনোনিবেশ করার প্রয়োজন আছে। 

প্রশ্ন:- দয়া করে আমাদেরকে নির্দেশ প্রদান করুন যে কিভাবে বৈষ্ণব অপরাধ এড়িয়ে চলা যায়? — রুক্মিনি দেবী দাসী। 

জয়পতাকা স্বামী:- প্রথমে আমাদের জানা উচিত যে বৈষ্ণব অপরাধ কি। এই কারণে দীক্ষা সময় আমরা দশবিধ নাম অপরাধ সম্পর্কে বলি। তারপর দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে আমরা সেইসব অপরাধ করা থেকে বিরত থাকি। দেখো কেউ হয়ত বলতে পারে, “ওহ! আমি জানতাম না যে এটি একটি অপরাধ।” তাই প্রথম তোমার জানা উচিত যে এই সবগুলি হচ্ছে অপরাধ। ঠিক যেমন প্রথম অপরাধ হচ্ছে কোন ভগবত ভক্তের প্রতি অপরাধ করা। তোমার সেটা এড়িয়ে চলা উচিত এবং তুমি যদি এমনটা করে থাকো, তাহলে তার জন্য ক্ষমা পাওয়া উচিত। 

যেমন শচীমাতা তিনি অদ্বৈত গোঁসাইয়ের প্রতি অপরাধ করেছিলেন, তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু এবং অন্যান্য পার্ষদরা অদ্বৈত আচার্যকে দেখতে গিয়েছিলেন। উনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “সবাই এখানে কি ব্যাপারে?” তখন চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “শচীমাতা আপনার প্রতি অপরাধ করেছেন, তাই তিনি আপনার থেকে ক্ষমা নিতে এসেছেন।” এবং অদ্বৈত আচার্য বললেন, “শচীমাতা!! শচীমাতা!! তিনি আমার প্রতি কিভাবে অপরাধ করবেন? তিনি এক অসাধারণ ভক্ত! তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুকে তাঁর গর্ভে ধারণ করেছেন।” এবং এইভাবে তিনি সমস্ত ভক্তিমূলক সেবার ক্ষেত্রে শচী মায়ের মহিমা কীর্তন করতে শুরু করলেন, তারপর শচীমায়ের মহিমা কীর্তন করতে করতে ভাবে বিভোর হয় মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। তখন চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “উনি তোমায় ক্ষমা করবেন না, তাই তুমি তাঁর শ্রীপাদপদ্ম থেকে চরণধূলি নিতে পারো, তাঁর চরণধূলি নিলে তোমার ক্ষমা হবে। কিন্তু তুমি ওনাকে ক্ষমা করতে বললে উনি তোমায় ক্ষমা করবেন না।” তারপর তিনি অদ্বৈত আচার্যের শ্রীচরণপদ্ম থেকে ধুলি নিলেন ও প্রত্যেকে বলে উঠলেন, “হরিবোল!” মেয়েরা, মহিলারা উলুধ্বনি দিচ্ছিল। মহিলারাই কেবল তা করে, আমি তা করতে পারবো না। এইভাবে তখন চৈতন্য মহাপ্রভু তার মাকে বৈষ্ণব অপরাধের জন্য ক্ষমা করেছিলেন। 

প্রশ্ন:- সখ্যম কিভাবে করা যায়?  

জয়পতাকা স্বামী:- কৃষ্ণের বন্ধু হওয়া! বৃন্দাবনের কৃষ্ণের অনেক সখা ছিলেন, অর্জুন তার সখা ছিলেন, উদ্ধবও তাঁর সখা ছিলেন। তাই একজন সখার পদাঙ্ক অনুসরণ করে, কেউ কৃষ্ণের সখা হতে পারে। তুমি কি প্রস্তুত আছ?

প্রশ্ন:- দয়া করে কিছু পরামর্শ বা নির্দেশ দিন যে মনবিক্ষেপ বা বিচলন ছাড়াই কিভাবে মনোযোগ সহকারে জপ করা যায়? অনেক সময় মন হঠাৎ অন্যত্র চলে যায়। — গিরিধারী গোপিনাথ দাস। 

জয়পতাকা স্বামী:- জুয়ারিরা জিজ্ঞেস করে, “কোন পরামর্শ দেবেন, কোন ঘোড়াটিকে বাজিতে লাগানো যায়?” কিন্তু এখানে দেখো শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে ১৬ মালা জপ করার জন্য আমাদের দু'ঘণ্টার বেশি সময় লাগা উচিত নয়। অনেক বছর ইস্‌কনের পরিচালক হিসেবে থাকায় আমার যা যা করতে হতো সেইসব বিভিন্ন চিন্তা মাথার মধ্যে আসত যে ­— আজকে আমাকে জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে দেখা করতে হবে, আজকে আমাকে এটা কিনতে হবে, ওটা কিনতে হবে। এত কিছু ভাবনা আমার মাথার মধ্যে আসত। তাই আমি যা করতাম তা হচ্ছে, আমি একটা ছোট খাতা রাখতাম এবং যেকোনো চিন্তা মাথায় এলে সেটা লিখে রাখতাম কারণ নয়ত সেই ভাবনা বারবার আসতেই থাকবে, আসতেই থাকবে। আমি কোন কিছু কেনার এই ভাবনাটা লিখে রাখতাম, তারপর আমি সেই খাতাটা আমার পকেটে রেখে দিতাম আর জপ করতে থাকতাম। কখনো কখনো আমি আমার ঘড়ি দেখতাম যে আমি জপ করার জন্য খুব বেশি সময় নিচ্ছি নাকি এবং আমি শ্রীল প্রভুপাদের মূর্তিতে মনসংযোগ করতাম। 

প্রশ্ন:- আমি কিভাবে আমার জীবনকে আপনার সেবায় উতসর্গ করব? — অতিসুন্দর জগন্নাথ দাস। 

জয়পতাকা স্বামী:- যখন কোন পুজোর সময় হয় বা দীপাবলি বা এমন কিছুতে তুমি তোমার বোন, তোমার মা, তোমার প্রিয়জনদের জন্য কিছু কেনাকাটা করার সময় চিন্তা করো যে এই ব্যক্তি কি ভালোবাসে? আমার কি নেওয়া উচিত এইরকম। সেই কেনাকাটা করা তখন এক ভালোবাসার কার্য হয়ে যায়। সেই একইভাবে তুমি যখন তোমার আধ্যাত্মিক গুরুর জন্য কিছু করতে চাও, তখন তোমাকে সেইভাবেই ভাবতে হবে যে কি ওঁনাকে প্রসন্ন করবে, কোনটি কাজে লাগতে পারে এবং এইভাবে তা তোমার আধ্যাত্মিক গুরুর প্রতি ভালোবাসার কার্য হবে। হরে কৃষ্ণ!

প্রশ্ন:- আমরা কিভাবে জানব

জয়পতাকা স্বামী:- কিভাবে যাব? যেভাবে তুমি এসেছ সেইভাবেই যাও।  

প্রশ্ন:- যে আমি কৃষ্ণকে অনেক ভালবাসি

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা কিভাবে জানব? তুমি বললে যাব এখন বলছ জানবো। 

প্রশ্ন:- রসরঙ্গিনী রাধিকা দেবী দাসী। 

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো তুমি রাধারানীর পন্থা প্রয়োগ করতে পারো এবং তুমি কিভাবে জানবে যে তুমি কৃষ্ণকে যথেষ্ট ভালোবাস কিনা? রাধারানী তিনি যতই কৃষ্ণকে প্রেম করুণ না কেন, তিনি ভাবেন আমি কৃষ্ণকে যথেষ্ট ভালোবাসি না। তাই তুমি কেন ভাববে যে আমি কৃষ্ণকে যথেষ্ট ভালোবাসি? আমাদের এমন কখনও অনুভব করা উচিত নয় যে আমরা যা করছি বা আমরা যতটা ভালবাসছি, তা যথেষ্ট। শ্রীকৃষ্ণকে আরো ভালোভাবে সেবা করার চেষ্টা করার মাধ্যমে, শ্রীকৃষ্ণকে আরো ভালোবাসার চেষ্টা করার মাধ্যমে সবসময় তুমি তোমার ভক্তি বৃদ্ধি করতে পারবে। 

তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ! 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 7/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions