Text Size

২০২৩১০০৮ ইসকন জগন্নাথ মন্দিরের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রদত্ত বক্তব্য

8 Oct 2023|Duration: 00:25:14|Bengali|Public Address

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ৮ অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ম্যাঙ্গালোর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচন ইসকন জগন্নাথ মন্দিরের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে ম্যাঙ্গালোর, ভারতে প্রদান করা হয়েছিল।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
   যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
   পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
   হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- আমি এখানে আগে এসেছিলাম, কিন্তু এইবার আমি জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রার সুন্দর দর্শন পেয়েছি।  যখন তারা একটি স্থান পাওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছিলেন, তখন আমি এখানে এসেছিলাম এবং আমিও কিছু চিঠি পাঠিয়েছিলাম যে GCC-র ভক্তরাও সাহায্য করতে পারে। এখন আমি এই সুন্দর মন্দির তৈরি হয়েছে দেখে খুব আনন্দিত হয়েছি। শ্রীল প্রভুপাদ চেয়েছিলেন যে আমাদের এমন স্থান থাকা উচিত, যেখানে ভক্তরা সম্মিলিত হবেন এবং একত্রে হরে কৃষ্ণ জপ-কীর্তন করবেন, হরি কথা শ্রবণ করবেন। তাই এখানে আমি বেঙ্গালুরুতে দুটি স্থান দেখেছি। সকল সংগঠকদের অত্যন্ত ধন্যবাদ এবং আমি সকল ভক্তদের দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি।

আসলে মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভক্তিযোগে নিযুক্ত হওয়া। বেশিরভাগ মানুষেরা এটি উপলব্ধি করে না যে কলিযুগে যদি আমরা হরেকৃষ্ণ জপ করি, শ্রীবিগ্রহের সেবা করি, তাহলে আমরা তাঁদের আশীর্বাদ পাই। চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি এই স্থানে এসেছিলেন। তিনি উরুপিতে এসেছিলেন, তাই এই স্থান ভগবান কৃষ্ণের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। অবশ্য আমি অনেকবার উরুপিতে এসেছি এবং প্রয়াত পেজাবর স্বামী চৈতন্য মহাপ্রভুকে মাধ্বাচার্যের সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষা দিয়েছেন যে কিভাবে ভগবান কৃষ্ণের নাম এবং কৃষ্ণ অভিন্ন, আসলে মাধ্বাচার্য পবিত্র নাম জপ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রত্যেকে তা করে না, আমরা তা আমাদের প্রত্যেকদিনের সাধনার অংশ হিসেবে করি। হয় আমরা আমাদের মালায় জপ করি অথবা শ্রীবিগ্রহের সামনে কীর্তন করি। আপনারা কতজন মালায় জপ করেন? ধন্যবাদলু! নান্নী!

যাইহোক, কোনভাবে আমি পুরো দক্ষিণ ভারতের প্রতি দায়বদ্ধ, এছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলির জন্য যেখানে অনেক ভারতীয়রা কাজ করছে। তাই, আমরা চাই মানুষেরা যাতে তাদের জাগতিক কার্যের সাথে সাথে হরে কৃষ্ণ জপও করে। আমাদের ভরণপোষণের জন্য, নিজেদের অবলম্বনের জন্য জাগতিক কাজ করতে হবে, কিন্তু আমরা ভগবানের প্রীতিবিধানের জন্য হরে কৃষ্ণ জপ করতে চাই। মানুষেরা জিজ্ঞেস করে যে কিভাবে জড় জাগতিক কার্য এবং আধ্যাত্মিক কার্যে ভারসাম্য রাখতে পারব? তাই আমরা তাদেরকে দেখাই যে কিভাবে তা কার্যকরীভাবে করা যাবে। প্রকৃত আনন্দ ভক্তিমূলক সেবা থেকে আসে, প্রত্যেকে জন্ম নিয়েছে এবং প্রত্যেককেই মারা যাবে, কিন্তু কেউ যদি কৃষ্ণকে প্রীত করে এই জীবনযাপন করে, তাহলে যখন আপনি এই জগত ত্যাগ করবেন, আপনি কৃষ্ণের কাছে ফিরে যাবেন।

চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে তাঁর পবিত্র নাম জগতের প্রতি নগর ও গ্রামে শোনা যাবে। এবং তিনি বিশেষত ভারতীয়দের ক্ষেত্রে বলেছেন যে জব করবে এবং তিনি বলেছেন,

ভারত ভূমিতে হৈল মনুষ্য জন্ম যার
জন্ম সার্থক করি’ কর পর-উপকার
(চৈ চ আদি ৯.৪১) 

ভারতে জন্মগ্রহণ করা হচ্ছে অত্যন্ত বিশেষ, কারণ আপনি ছোটবেলা থেকেই জগন্নাথদেব কৃষ্ণের সম্পর্কে শ্রবণ করতে পারেন। তাই এই মনুষ্য জীবনের সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত মঙ্গলজনক।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ তিনি এই বাণী এনেছিলেন, তিনি ভগবদগীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম সমগ্র বিশ্বে এনেছেন। আমি ১৯ বছর বয়সী ছিলাম এবং আমি আমেরিকাতে এই তত্ত্ব জানতে পেরেছিলাম, তাই আমি প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা করতে চাইছিলাম। সেই সময় শ্রীল প্রভুপাদ মন্ট্রিল কানাডাতে ছিলেন। আমি সেখানে গিয়েছিলাম এবং আমার তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। তারপর আমি মন্ট্রিলে মন্দির অধ্যক্ষ হই ও টরন্টোতে মন্দির করতে শুরু করি। এবং তারপর শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে ভারতে পাঠিয়ে দেন ও তিনি আমাকে ভারতীয় নাগরিক হতে বলেন, যা আমি এখন আছি!

ভক্তরা খুব এখানে খুব সুন্দর মন্দির তৈরি করেছে। দয়া করে ভগবদগীতাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা কি, শ্রীমদ্ভাগবতম ইত্যাদি অনুধাবনের মাধ্যমে আপনাদের মনুষ্য জীবনের সদ্ব্যবহার করুন। তিনি(কৃষ্ণ) বলেছিলেন যে যদি কেউ তাঁর আবির্ভাব ও কার্যের দিব্য প্রকৃতি সম্পর্কের জানে, তাহলে এই জীবনের শেষে তারা ভগবৎ ধামে ফিরে যায়। আমরা বৈদিক তারামণ্ডলীর প্রদর্শশালা নির্মাণ করছি, এটি আছে মায়াপুরের বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরে। এইভাবে আমরা চাই প্রত্যেকে যাতে এটা উপলব্ধি করে যে আমরা মূলত কৃষ্ণের থেকে এসেছি এবং এটা সীমিত নয়, প্রত্যেকেই মূলত কৃষ্ণের থেকে এসেছে। রাধাকৃষ্ণের সেবা করার মাধ্যমে, হরে কৃষ্ণ জপ করার মাধ্যমে, কেউ পারমার্থিক আনন্দ অনুভব করতে পারে। কেউ টাকার জন্য কাজ করে, কিন্তু ভক্তরা প্রেমবশত কৃষ্ণের সেবা করে! তারা কৃষ্ণের সেবা করার মাধ্যমে কত আনন্দ অনুভব করে!

চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি সমগ্র ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন এবং আমরা ভাবছি যে যেখানে যেখানে তিনি ভ্রমণ করেছিলেন, আমাদের সেখানে তার শ্রীচরণ চিহ্ন রাখা উচিত। শ্যাম রসিক এখানে কাছাকাছি কোথায় তুমি চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীচরণ চিহ্ন রাখতে চাও?

শ্যাম রসিক দাস:- গুরুমহারাজ ইতিমধ্যেই উরুপি মন্দিরে, উরুপিতে যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু এসেছিলেন শ্রীচরণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা মাধ্বাচার্যের আবির্ভাব স্থানে চরণচিহ্ন প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করছি।

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু কি সেই স্থানে গিয়েছিলেন? সেই স্থানটি কি – যেখানে সেই বিগ্রহের গাভীর কান আছে, গোকর্ণ? তিনি কি গোকর্ণতে গিয়েছিলেন? তুমি কি সেখানে গেছো?

শ্যাম রসিক দাস:- আমাদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।  

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু যেখানেই গিয়েছিলেন, আমরা সেখানে তাঁর চরণ চিহ্ন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যদি আপনি সাহায্য করতে চান — মানুষেরা জিজ্ঞেস করে যে আমি আপনার জন্য কি করতে পারি? এই একটি জায়গা আছে যেটিতে আপনি সাহায্য করতে পারেন।

এছাড়াও, আমি এই মন্দির অনেক বছর পরে দেখছি এবং এটা ইতিমধ্যেই ভরে গেছে! এই কারণে আমাদের আরো মন্দির এবং বড় মন্দির দরকার। যাইহোক, আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই এবং আমি আশা করি যে আপনারা সকলে অত্যন্ত অনুপ্রেরণার সাথে হরে কৃষ্ণ জপ করবেন। আমি শুনেছি যে এখানে কেউ একজন খুব সুন্দরভাবে কীর্তন করছিলেন। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ! হরে কৃষ্ণ! হরিবোল!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 24/1/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions