Text Size

২০২৩১০০৭ দীক্ষানুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্য

7 Oct 2023|Duration: 00:20:11|Bengali|Initiation Address

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
   যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
   পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
   হরি ওঁ তৎ সৎ

নিন্মোক্ত দীক্ষা প্রবচনটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ৭ অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ইসকন শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির, কুলাই, ব্যাঙ্গালোর, ভারতে প্রদান করেছেন।

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা বুঝি যে যারা দীক্ষাগ্রহণের জন্য এগিয়ে আছে, তারা সকলেই শিক্ষক। ভক্তিযোগ এমন এক পন্থা অনুশীলন করতে চাই। এবং প্রত্যেকেই তাদের প্রত্যেকদিনের সাধনা হিসেবে ভক্তিযোগ অনুশীলন করতে পারে, এইভাবে তারা সবসময় দিব্য থাকতে পারবে। এখানে আমরা যা প্রচার করি তাই অনুশীলন করি। এটি এক পবিত্র স্থান। চৈতন্য মহাপ্রভু এখানে এসেছিলেন, কৃষ্ণ এবং বলরামের শ্রীবিগ্রহ এখানে আছে।

কৃষ্ণকে রুক্মিণী দেবীর দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছিল। রুক্মিণী দেবী বললেন, “কৃষ্ণ আপনি সবকিছু জানেন, আপনি জানেন ব্রহ্মা সত্যলোকে কি করছেন, আপনি জানেন মহাদেব শিব কৈলাসে কি করছেন, আপনি জানেন এই অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ডে কি হচ্ছে, কিন্তু একটি বিষয় আছে যা আপনি জানেন না। রাধারানী তিনি জানেন, আমি জানি, কিন্তু আপনি জানেন না।” তখন কৃষ্ণ অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, কারণ কেউ কখনও তাকে এর আগে বলেননি যে এমন কিছু আছে যা তিনি জানেন না। তাই তিনি তা অন্বেষণ করার চেষ্টা করলেন, অবশেষে রুক্মিণী সহমত হলেন, তিনি বললেন, “দেখুন যে বিষয়টি আপনি জানেন না, তা হচ্ছে, আপনি জানেন না আপনার ভক্তরা আপনাকে কত ভালোবাসে, তারা আপনাকে কিভাবে ভালোবাসে। রাধারানী জানেন, আমি জানি, কিন্তু আপনি জানেন না।” তারপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তিনি তিনবার বললেন, “আমি কলিযুগে আমার ভক্তরূপে আসবো!” হরিবোল!

তাই, এই হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি হচ্ছেন কৃষ্ণ, যিনি ভক্তরূপে এসেছিলেন। এখানে এই মন্দিরে আমি শুনলাম যে তারা রাধাকৃষ্ণ এবং চৈতন্য মহাপ্রভুকে রাখতে চান। আজকে আপনারা সকলে দীক্ষা নিতে চলেছেন এবং চৈতন্য মহাপ্রভু যেমনভাবে বলেছেন রাধা কৃষ্ণকে তেমনভাবে পূজার্চনা করবেন। তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণত কেউ রাধা কৃষ্ণকে পূজা করার মত ভাগ্যবান নয়, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় আপনারা সেই সুযোগ পাচ্ছেন। তাই আপনাদের রাধা এবং কৃষ্ণের পূজা করার এই সুযোগ গ্রহণ করতে হবে এবং যথাযথ আচরণ বজায় রাখতে হবে। দেখুন সাধারনত রাধা কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি লাভ করা অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় আপনি তা পেতে পারেন এবং তারপর হরে কৃষ্ণ জপ করার মাধ্যমে আপনি কৃষ্ণ প্রেম পেতে পারেন। এই কৃষ্ণ প্রেম এক বিশেষ কৃপা হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে।

নিত্য সিদ্ধ কৃষ্ণ প্রেম ‘সাধ্য’ কভু নয়।
শ্রবণাদি-শুদ্ধচিত্তে করয়ে উদয়।। 
(চৈ চ মধ্য ২২.১০৭)

পবিত্র হরে কৃষ্ণ নাম জপ করার মাধ্যমে আপনার রাধা কৃষ্ণের প্রতি প্রেম জাগরিত হবে, তাই আমরা সকলকে ১৬ মালায় ১০৮ বার মন্ত্র জপ করার পরামর্শ দেয়। চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি এই স্থানে এসেছিলেন, সকলের কাছে হরে কৃষ্ণ জপ-কীর্তনের এই পন্থা প্রসারিত করার জন্য। আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীচরণচিহ্নের অভিষেক করছি, যাতে প্রত্যেকে কৃপা পেতে পারে এবং কৃষ্ণ ও তাঁর নামের মধ্যে কোন ভিন্নতা নেই, কারণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরম সত্য, সেই জন্য তাঁর পবিত্র নাম হচ্ছে অভিন্ন। হরে কৃষ্ণ!

এই দীক্ষা গ্রহণের পর তোমরা আমার সাথে সংযুক্ত হবে এবং পবিত্র নামের সাথে যুক্ত হবে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 24/1/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions