Text Size

২০২৩১০০৬ সান্ধ্যকালীন ভাষণ

6 Oct 2023|Duration: 00:54:41|Bengali|Public Address

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
   যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
   পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
   হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি উপকূল দিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অঞ্চল দিয়ে গিয়েছিলেন, তারপর তিনি তামিলনাড়ুর উপকূল অঞ্চল ধরে যান ও এরপর কেরালার উপকূলবর্তী অঞ্চল দিয়ে যান এবং তিনি কর্নাটকের উপকূল দিয়ে যান ও যাত্রা পথে উরুপী দিয়ে যান। যেহেতু তিনি এক সন্ন্যাসীর মত অভিনয় করছিলেন, তাই বিভিন্ন স্থানের মানুষেরা তাঁকে চিনতে পারছিলেন এবং তিনি উরুপিতে নৃত্য ও সংকীর্তন করছিলেন।

তারপর তিনি তত্ত্ববাদীদের আচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। যখন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, জীবনের উদ্দেশ্য কি? তখন সেই তত্ত্ববাদীরা বলেছিলেন যে, জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে পাঁচ ধরনের মুক্তি, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন যে তা জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিবিধানের জন্য নববিধা ভক্তিসেবা সম্পাদন করা।  শ্রবণং, কীর্তনং, বন্দনং, এইভাবে নয় ধরনের ভক্তিমূলক সেবা আছে। নবদ্বীপ এই নয় ধরনের ভক্তিমূলক সেবা দ্বারা গঠিত হয়েছে। তাই সবকিছু কৃষ্ণের সেবায় ব্যবহার করা, শ্রীবিগ্রহ অর্চন করা, এছাড়া সবকিছুকে ভিন্নভাবে কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত করা, এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু বলছিলেন যে আপনারা আমাকে প্রতারণা করছেন! আপনারা আমাকে ভুল পন্থা দিচ্ছেন! তখন সেই তত্ত্ববাদীরা বলেছিলেন যে, “আপনি যা বলছেন তা সত্য, আমাদের নববিধা ভক্তি অনুশীলন করা উচিত। কিন্তু কখনও কখনও মাধ্বাচার্য এইরকম বলতেন, তাই তাঁর পন্থার প্রতি অনুগত থাকতে আমরাও এইরকম বলি।

তাই, চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি শিক্ষা দিয়েছিলেন যে কিভাবে পবিত্র নাম জপ করা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণী শ্রবণ করা হচ্ছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চৈতন্য মহাপ্রভুর তত্ত্ববাদীদের সঙ্গে এক সুন্দর কথোপকথন হয়েছিল। এইভাবে নববিধা ভক্তি সম্পর্কে আলোচনা হয়েছিল। তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা যাতে আমাদের সকল ইন্দ্রিয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত করি। ভক্তরা মুক্তি বা মোক্ষকে খুব বেশি একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না, তারা তাদের সকল ইন্দ্রিয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত করতে চান এবং তাতে স্বাভাবিকভাবেই কেউ মুক্তি লাভ করে। চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি সকল ভক্তদের সারবস্তু শিক্ষা দিয়েছেন এবং চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ্যের থেকে দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। মাধবেন্দ্রপুরী হচ্ছে মাধ্বা সম্প্রদায়ের। এবং পেজাবর স্বামী, তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুকে মাধ্বা সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি তাঁর সকল অনুসারীদের ভগবদগীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করতে বলেছিলেন এবং এটা প্রত্যেকেই অনুসরণ করেছিলেন। আর এছাড়াও চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি প্রত্যেককে ভগবদগীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করতে উৎসাহিত করেছিলেন। ভগবদগীতা সহ অন্যান্য গোস্বামীগণ দ্বারা লিখিত গ্রন্থাবলী বৃন্দাবন থেকে বাংলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেগুলি ছিল চৈতন্য চরিতামৃত এবং অন্যান্য গ্রন্থের আসল পান্ডুলিপি। সেখানে একজন রাজা ছিল, যার নিজের সৈনিকেরা ছিল, যারা বাইরে যেত ও চুরি করত। তার জ্যোতিষী তাকে বলেছিল যে তিনজন ব্যক্তি যাত্রা করছে এবং তাদের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ ধন আছে। তখন তিনি তার সৈন্যদলের প্রধান কে বলেন যে সেই বাক্সের দিকে তাকাবে না, কেবল আমার কাছে নিয়ে এসো। কারণ তিনি ভীত ছিলেন যে যদি তারা সব থেকে মূল্যবান ধন দেখে নেয়, তাহলে তারা তা তার থেকে চুরি করে নেবে! চোরেদের মধ্যে এইরকম সততা ছিল! তখন তারা দেখল যে তিনজন সাধু ঘুমাচ্ছেন, তাদের কাছে এটা খুব সহজ হল এবং তারা সেই গ্রন্থের বাক্স নিয়ে বীরহাম্বীরা বিক্রম রাজাকে দিয়ে দিল। তিনি সেই বাক্স খোলেন, “এটা কি? গ্রন্থ! সব গ্রন্থ!” তারপর একদম উপরে দেখলেন যে তা ছিল চৈতন্য-চরিতামৃত এবং বাকি সব গ্রন্থ গুলি ষড় গোস্বামীদের। তখন তিনি বললেন, “এগুলো কি? এগুলি সব শাস্ত্র গ্রন্থ! এইসব হচ্ছে গ্রন্থসম্পদ। এখন আমি শেষ! আমি কিছু সাধুদের থেকে গ্রন্থ চুরি করলাম।” তখন তিনি সেই চোরদের ডাকলেন, তিনি তাদেরকে এই গ্রন্থ গুলি ফিরিয়ে দিতে বললেন, এগুলি গ্রন্থের ধন খুঁজে বার করো, এগুলি কার এবং তাদেরকে ফিরিয়ে দাও।” এরই মধ্যে তিনজন সাধু — শ্রীল নরত্তম দাস ঠাকুর, শ্রীনিবাস আচার্য এবং শ্যামানন্দ পণ্ডিতের মধ্যে শ্রীনিবাস আচার্য ছিলেন একজন যাকে শ্রীবিগ্রহ গ্রন্থগুলির ফিরিয়ে নিতে বলেছিলেন। তিনি অত্যন্ত সুন্দর ভাগবত প্রবচনের দেন বলে সুবিখ্যাত ছিলেন। তিনি কোনোভাবে সেই রাজার সেই জায়গায় যান, সেখানে প্রত্যেকদিন সন্ধ্যায় তিনি শ্রীমদ্ভাগবত শুনতেন। রাজগুরু যখন তিনি ভাগবত প্রবচন দিচ্ছিলেন, শ্রীনিবাস আচার্য তিনি বিভিন্ন ধরনের মুখভঙ্গি করেছিলেন। তখন রাজা জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার কি এই প্রবচন ভালো লাগছে না? আপনি বিভিন্ন মুখভঙ্গি করছেন! যদি আপনি এর থেকে ভালো প্রবচন না দিতে পারেন, তাহলে দণ্ড স্বরূপ আপনাকে নিজের জীবন হারাতে হবে।” তাই তখন তাকে বসার স্থান দেওয়া হলো এবং প্রবচন দিতে বলা হল। আপনারা যেই পাঠ দিন, যদি সেই পাঠ খুব একটা ভালো না হয়, তাহলে আপনাকে কি মেরে ফেলা উচিত? তবে তিনি ভীত ছিলেন না, তিনি এক অপূর্ব সুন্দর প্রবচন দিলেন। হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল! প্রত্যেকে হাততালি দিচ্ছিল এবং এর দ্বারা প্রত্যেকে অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিল। তখন রাজা ভাবছিলেন যে হয়ত এই সেই ব্যক্তি, যার এইসব গ্রন্থগুলি। তাই তিনি তাকে নিয়ে এলেন এবং বললেন, “আমার সাথে আসুন!” তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কে?” তখন তিনি ওনাকে ইতিহাস বললেন যে কিভাবে তাকে শ্রীবিগ্রহকে বাংলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং সেই রাজা তখন উপলব্ধি করেছিলেন যে ইনি হচ্ছেন প্রকৃত মালিক। তিনি তার শ্রীচরণে পতিত হন এবং বললেন, “আমার কাছে এই বইগুলি আছে, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। দয়া করে আমাকে আপনার শিষ্য হওয়ার অনুমতি প্রদান করুন।” শ্রীনিবাস আচার্য, তিনি সেই গ্রন্থগুলি দেখতে চাইছিলেন, তিনি আসেন ও সেই ট্রাঙ্কটি দেখেন, তখন সেটা খোলেন ও দেখেন যে গ্রন্থ আর গ্রন্থ! তিনি তার জীবন ফিরে পান! সব থেকে উপরে গ্রন্থটি ছিল চৈতন্য-চরিতামৃত। হরিবোল! আপনাদের মধ্যে কতজন চৈতন্য-চরিতামৃত পড়েছেন? দেখুন, চৈতন্য-চরিতামৃত, এখন আমাদের কাছে বাংলায় চৈতন্য-চরিতামৃত আছে। আমাদের কান্নাডা ভাষায় তা চাই, এবং টুলু ভাষাতেও চাই!

রুক্মিণী দেবী, তিনি কৃষ্ণকে বললেন, “আপনি সবকিছু জানেন, আপনি জানেন যে ব্রহ্মাদেব ব্রহ্মলোকে কি করছেন, আপনি জানেন মহাদেব শিব কৈলাসে কি করছেন, আপনি জানেন অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডে কি হচ্ছে, কিন্তু একটি বিষয় আছে যা আপনি জানেন না। আপনি তা জানেন না।” তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন, কেউ কখনো তাঁকে এমন বলেনি যে এমন কিছু আছে যা তিনি জানেন না। তিনি বললেন, “দেখুন আপনার ভক্তরা আপনাকে কত ভালোবাসে, কিন্তু আপনি জানেন না যে তাঁরা আপনাকে কত ভালোবাসে। আপনার ভক্তরা আপনাকে এক বিশেষভাবে ভালবাসে, কিন্তু আপনি জানেন না আপনার ভক্তরা আপনাকে কিভাবে ভালোবাসে। আমি জানি, রাধারানী জানেন, কিন্তু আপনি জানেন না, কারণ কেউই আপনার ঊর্ধ্বে নয়। আপনার ভক্তরা জানে কারণ আপনি তাঁদের ঊর্ধ্বে আছেন।” তখন ভগবান কৃষ্ণ তিনি বললেন, “ঠিক আছে! কলিযুগে আমি আমার ভক্তরূপে আসব।” তিনি তা একবার বলেননি, তিনি তিনবার বললেন যে, “আমি আমার ভক্তরূপে আসবো! আমি আমার ভক্তরূপে আসবো! আমি আমার ভক্তরূপে আসবো! তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু রাধারানীর অঙ্গকান্তি এবং রাধারানীর ভাব গ্রহণ করেছিলেন, তিনি অবাধে কৃষ্ণ প্রেম প্রদান করেছিলেন! তাই আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুসারী হতে পেরে অত্যন্ত ভাগ্যবান।

শ্রীনিবাস আচার্য, তিনি গঙ্গার পার্শ্ববর্তী স্থানে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এবং দুই পাশেই তিনি দৃশ্যমান ছিলেন। যখন আমরা নৌকা করে গিয়েছিলাম, তখন সেই স্থান দর্শন করেছিলাম। এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তরাও অত্যন্ত বিশেষ।

শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ!

হরিবোল! শ্রীনিবাস আচার্যকে সেই রাজা কর্তৃক অনুরোধ করা হয়েছিল যে তিনি যাতে সেই রাজাকে তার শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। রাজার গুরু হওয়া এক অনেক বড় দায়িত্ব, তাই তিনি তার বরিষ্ঠ বৈষ্ণবদের, চৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদবর্গকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তার সেই দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত কিনা। তার ব্রহ্মচারী হওয়ার কোন অভিপ্রায় ছিল না, তবে রাজার গুরু হতে গেলে তাকে গৃহস্থ হতে হবে, কারণ রাজা তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অন্যান্য সবাইকে জিজ্ঞেস করবেন না, তবে তার রাজগুরুকেই জিজ্ঞেস করতে হবে। তাই রাজার গুরু হতে গেলে কাউকে গৃহস্থ হতে হবে, তবে চৈতন্য মহাপ্রভুর ঘনিষ্ঠ পার্ষদবৃন্দ কর্তৃক তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে তার এটি গ্রহণ করা উচিত। সেই সময় এটি অনুমোদিত ছিল, তাই তিনি বিবাহ করেছিলেন এবং তার দুজন স্ত্রী ছিল। তারা দুজনেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুদ্ধভক্ত ছিলেন। আমি আপনাদেরকে তার সম্পর্কে আরো কিছু বলতে পারতাম, কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। যাইহোক, চৈতন্য মহাপ্রভুর বেশিরভাগ পার্ষদগণ গৃহস্থ ছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু ২৪ বছর বয়স পর্যন্ত গৃহস্থ ছিলেন এবং ২৪ বছর সন্ন্যাসী ছিলেন। তাই চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুসারী হওয়া এক দারুন ব্যাপার! কোন প্রশ্ন আছে?

জয়চরণ:- যখন আপনি শ্রীল প্রভুপাদের সঙ্গে প্রথমবার সাক্ষাৎ করেন, তখন আপনার কেমন উপলব্ধি হয়েছিল?

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন আমার উপলব্ধি তাঁর সাথে প্রথম সাক্ষাতের আগে থেকেই হয়েছিল। ওঁনার সচিব আমাকে একটি মালা দিয়েছিল, আমি তখন বাগানে গিয়ে জপ করছিলাম। আমি প্রায় ২৬ মালা জপ করেছিলাম। একটানা! আমি এত আনন্দ অনুভব করছিলাম, আমি এর আগে কখনও এমন অনুভব করিনি। সেই সময় আমি সানফ্রান্সিসকোতে ছিলাম এবং শ্রীল প্রভুপাদ ছিলেন মন্ট্রিলে। আমি যখন মন্দিরে ফিরে আসি, তখন শ্রীল প্রভুপাদের সচিব আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কাছে কি সেই মালা আছে?” আমি বললাম, “হ্যাঁ! অবশ্যই।” তিনি বললেন, “আমার এটা তোমাকে দেওয়ার কথা ছিল না, এটা শ্রীল প্রভুপাদের মালা।” তাই আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, অন্যান্য মালা এইরকম অনুরূপ নয়। তাই, এমনকি শ্রীল প্রভুপাদের সাথে প্রথমবার সাক্ষাৎ হওয়ার আগেই, আমার তাঁর সাথে পরিচিতি হয়েছিল।

জয়বন্ত:- যখন আপনি এই মুহূর্তে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ সম্পর্কে ভাবেন, তখন সেই কোন নির্দেশ বা ঘটনা বা কার্য আপনার কেবল স্মরণ হয়? আমি নিশ্চিত যে অনেক কিছুই আছে, কারণ আপনি ছিলেন তাঁর প্রিয় ভক্ত।

জয়পতাকা স্বামী:- যখন আমি শ্রীল প্রভুপাতকে দর্শন করেছিলাম, আমি আনন্দে অভিভূত হয়েছিলাম। কখনো কখনো তিনি আমাকে রাতে ডাকতেন, কখনো কখনো তিনি আমাকে দিনের বেলা ডাকতেন। কখনো কখনো তিনি আমার পূর্বাশ্রমের মায়ের সাথে কথা বলতেন এবং তিনি তাকে বলতেন যে আমরা হচ্ছি এই শরীরের মধ্যে থাকা জীবনী শক্তি এবং তিনি তাকে গোলাপের তোড়া দিয়েছিলেন ও তখন উনি তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতেন ও সেটির প্রশংসা করতেন এবং সেই গোলাপ স্বীকার করতেন। শ্রীল প্রভুপাদের সাথে সম্পর্কিত সব কিছুই অত্যন্ত অপূর্ব। একসময় কেউ একজন আমাকে বলেছিলেন যে তিনি শ্রীল প্রভুপাদের সামনে মাথা নত করে প্রণাম করতেন এবং তিনি আমাকে বলেছিলেন যে যখন আমি প্রণাম করব, তখন আমার শ্রীল প্রভুপাদের প্রশংসা করা উচিত, আমার নিজেকে বিনয়ী করা উচিত ও তারপর প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা উচিত এবং যখন আমি কোন প্রশ্ন করতাম, বলতাম, “শ্রীল প্রভুপাদ আমি মূর্খ!” তিনি আমার দিকে তাকাতেন এবং বলতেন, “হ্যাঁ!” আমরা কোন কিছু বলে প্রভুপাদের থেকে দূরে যেতে পারতাম না, তিনি তৎক্ষণাৎ তার উত্তর দিতেন।

প্রশ্ন:- কিছু কিছু স্থানে যেখানে আমাদের ইসকন মন্দির আছে, সেখানে আরেকটি ভক্তদের দলও আছে, যাদের নিজেদের কেন্দ্র আছে, এমনকি যদিও ইসকন মন্দির খুব কাছে তবুও। তাই এক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কি?

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন আমি যখন নতুন ভক্ত ছিলাম, আমি ইসকনের প্রত্যেক মন্দিরে গিয়েছিলাম — সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক এবং মন্ট্রিয়াল। তিনটেতে এবং তখন সেখানে অন্যান্য কোন ভক্তরা এইসব মন্দিরে কাছাকাছি ছিলেন না। কিন্তু এখন আমাদের প্রায় কমবেশি ৮০০ মন্দির আছে এবং একটি মন্দির আছে যে আমি জানি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেখানে কোন ভক্তরা নেই। ভারতে আমাদের একটি স্থানে কিছু মন্দির আছে, কিন্তু অন্যান্য দেশে তা আপনি দেখবেন না। অবশ্য কোন কোন জায়গায় সেখানে গৌড়ীয় মঠ ও অন্যান্য ভক্তরা আছে। তা ঠিক আছে, তারা এই বিশ্বে ভক্ত তৈরি করছে, যা ভালো। তবে তা অতি বিরল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইসকনের ভক্তরাই আছে। হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 24/1/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions