৫৩তম সন্ন্যাস বার্ষিকী উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল প্রভুপাদ চেয়েছিলেন যে আমার সহায়তা করা উচিত যাতে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন প্রসারিত হতে পারে ও মানুষেরা কৃষ্ণের শরণ গ্রহণ করতে পারে। তাই তিনি আমাকে সন্ন্যাস আশ্রম প্রদান করেছিলেন, তখন আমি অত্যন্ত তরুণ ছিলাম এবং আমার সমগ্র বিশ্বে অনেকবার ভ্রমণ করার সুযোগ হয়েছিল। আমরা দেখেছি যে জগন্নাথদেব বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত, আমরা দেখেছি মানুষেরা পবিত্র নাম জপ করে, তাই আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে তারা কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করছে। চৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষা দিয়েছেন যে কেউ তাকে গৃহস্থ হিসেবে অথবা বৈরাগী হিসেবে অনুসরণ করতে পারে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এই দেখে যে সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষেরা চৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা গ্রহণ করেছে। আমরা এত মানুষদের দেখে আনন্দিত, তরুণ এবং বয়স্ক, পশ্চিম এবং পূর্বে সকলেই এটি গ্রহণ করছে। চৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষা দিয়েছেন যে সমগ্র বিশ্বের প্রতি নগর ও গ্রামে তাঁর বার্তা প্রচারিত হবে।
পৃথিবীতে আছে যত নগর আদি গ্রাম
সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম
(চৈ. ভা. অন্ত খন্ড ৪.১২৬)
আমরা দেখছি যে আর্য দেশ এবং বিদেশের মানুষেরা হরে কৃষ্ণ জপ-কীর্তন করছে। তাই প্রচার করা এবং বন্ধুদের কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণে উৎসাহিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে শ্রীল প্রভুপাদ, তাঁর দূরদর্শিতা হচ্ছে সবাইকে গ্রহণ করা। এবং প্রভুপাদ চেয়েছেন জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা সব জায়গাতে রথযাত্রা হোক। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে জগন্নাথ, তিনি জগতের নাথ, তিনি কেবল উড়িষ্যানাথ নয়, তিনি সমগ্র বিশ্বের নাথ। হরিবোল! আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে কিছু সেবা করতে পেরেছি এবং আমরা চাই সকল ভক্তরা যাতে পবিত্র নাম প্রচারের সেবা গ্রহণ করে। চৈতন্য মহাপ্রভু, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভবিষ্যৎবাণী করেছেন যে এটি স্বর্ণযুগ ও এখানে সর্বত্র হরিনাম প্রচারিত হবে। আমি অত্যন্ত খুশি যে আপনারা অনেকে শ্রীমদ্ভাগবত নিয়েছেন এবং তা আপনাদের গৃহে রাখছেন। চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি তা পড়তেন, শ্রীমদ্ভাগবতের সাথে নিদ্রা যেতেন এবং তা এখন সমগ্র বিশ্বে সম্ভব হয়েছে। চৈতন্য মহাপ্রভু ভগবদগীতা, শ্রীমদ্ভাগবতের প্রচার করেছেন এবং তিনি চাইতেন যে তাঁর অনুসারীরাও যাতে বেদের এই বন্যায় নিমজ্জিত হন। তিনি ষড় গোস্বামীদের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যায়নও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু ভগবদগীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতম প্রচারিত করেছিলেন যাতে আপনাদের কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণের সুযোগ থাকে। হরিনাম সংকীর্তনে নিযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে, আমরা আধ্যাত্মিক আনন্দ পাই এবং সেবা করার, এটি হচ্ছে জগন্নাথদেবের সেবা, এটি অত্যন্ত বিশেষ কৃপা।
আমি জানিনা কত কিন্তু আমার মনে হচ্ছে সেখানে জগন্নাথদেবের একশত মন্দির আছে। আজকে রাধাষ্টমীর এই বিশেষ দিনে তিনি আমাদেরকে দেখাচ্ছেন যে কিভাবে প্রকৃত আনন্দ হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি থাকা। এবং কিছু কিছু মানুষেরা ভগবানকে ঐশ্বর্যের দ্বারা আরাধনা করেন, কিছু কিছু মানুষেরা ভগবানকে মাধুর্য রসে আরাধনা করেন।
নীলাচল চন্দ্র আমার প্রভু জগন্নাথ,
জয় জগন্নাথ জয় জগন্নাথ!
নীলাচল চন্দ্র আমার প্রভু জগন্নাথ,
জয় জগন্নাথ জয় জগন্নাথ!
কৃষ্ণ এত মধুর, এত সুন্দর, তিনি গুণ্ডিচা মন্দিরে যান এবং সেখানে তাঁর জন্য বিশেষ সেবা করা হয়। চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি সমুদ্রের ধারে যেতেন এবং তিনি তা যমুনা ভাবতেন। তিনি যমুনা ভেবে সেই সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে পড়তেন, চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি সবসময় এই মাধুর্য রসে পূর্ণ ছিলেন।
আমরা সকল ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে সকল ভক্তরা এখানে রাধাষ্টমীর জন্য এসেছেন। আমি আনন্দিত যে আপনারা শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামীর থেকে শ্রীমদ্ভাগবত সেট নিয়েছেন। আসলে ভাগবত মাহাত্ম্যতে এটি বলা আছে যে, যদি আমরা অধ্যয়ন করি, যদি আমরা শ্রীমদ্ভাগবতের কিছু অমৃত আস্বাদন করি, তাহলে সেখানে যে কত অমৃত আছে তার কোন সীমা নেই। আনন্দের সীমা নাই! আনন্দের সীমা নাই! নিরানন্দ দূরে যায়! হরিবোল! তাই আমরা চাই যে প্রত্যেক গৃহে, গ্রামে, শহরে আপনারা যেখানেই থাকুন না কেন, কৃষ্ণের নাম গ্রহণ করুন এবং এই অসীম আনন্দ লাভ করুন। হরিবোল! অনেক অনুষ্ঠান আছে, তাই এখন আমি গায়ত্রী, দ্বিতীয় দীক্ষা প্রদান করব। এই প্রভু, যাদবাচার্য প্রভু, তার ভ্রাতা ছিলেন রসপরায়ণ প্রভু। যখন আমাদের এখানে বন্যা হয়েছিল, আমরা একসাথে যেতাম ও গ্রামে প্রসাদ বিতরণ করতাম। প্রসাদ, সেটি হচ্ছে ভগবানের কৃপা। আপনি কি কিছু বলতে চান?
যাদবাচার্য প্রভু (ACBSP):- মহারাজ যেমন শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন চৈতন্য মহাপ্রভুর বৃক্ষের অংশের কথা, তিনি এক দৃষ্টান্ত যে তা কি এবং আধ্যাত্মিক গুরুদেবের নির্দেশের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত হওয়ার অর্থ কি হয়। আপনার বাকি জীবন তাঁর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করুন এবং আপনাদের জীবন তাহলে সুসম্পন্ন এবং সার্থক হবে। জয় মহারাজ! জয় মহারাজ! তিনি ইতিমধ্যেই আপনাদের সকলকে তাঁর আশীর্বাদ প্রদান করেছেন, তাই বাইরে বের হন এবং এই জগতের সর্বত্র গিয়ে জীবাত্মাদের রক্ষা করুন। এটিই হচ্ছে মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য এবং এটাই শ্রীল প্রভুপাদ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এটাই তিনিও আপনাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ