মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- হরে কৃষ্ণ! আজকে বাংলা এবং ইংরেজি পাঠ করবো। আজ হচ্ছে রাধাষ্টমীর পবিত্র দিন। আজকে রাধারানী আবির্ভূত হয়েছিলেন। কৃষ্ণ যখন আসেন, তারপরেই রাধারানী আসেন। রাধারানী হচ্ছেন কৃষ্ণের সবথেকে প্রধান শক্তি। প্রকৃতপক্ষে বৃষভানু এবং তার স্ত্রী, তারা অনেক তপস্যা করেছিলেন। তারা তিন জন্ম ধরে, বহু লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তপস্যা করেছিলেন। তারা চেয়েছিলেন ভগবানের শক্তি সন্তান রূপে পাওয়ার জন্য। এটা সস্তা জিনিস নয়! এটা অত্যন্ত দুর্লভ বস্তু। মহান ঋষি এবং জ্যোতিষবিদ গর্গমুনি, তিনি দেখেছিলেন যে রাধারানী হচ্ছেন বিশেষ। রাধারানী শ্রীকৃষ্ণের সর্বাপেক্ষা প্রিয়তম এবং তাঁর সঙ্গিনী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।
আমি যখন আসছি, তখন শুনছি একটা স্থান, যেখানে একটা লীলা হয়েছিল। সেখানে ব্রহ্মাদেব নিম্নে এসেছিলেন বিবাহ অনুষ্ঠান করানোর জন্য, তিনি বলেছিলেন যে, “রাধা এবং কৃষ্ণ নিত্য রূপে তাঁরা এক, কিন্তু কেবল এই পার্থিব রীতি অনুসারে আমি বিবাহ অনুষ্ঠান করাব।” তবে তাঁরা ইতিমধ্যেই বিবাহিত, তারপর তিনি সেই বিবাহ অনুষ্ঠান করেছিলেন এবং তখন কৃষ্ণ এবং রাধারানী তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে তিনি দক্ষিণা হিসেবে কি চান? উনি বলছিলেন, ব্রহ্মাদেব বলছিলেন যে, “যাতে আমি তোমার চরণে শুদ্ধ ভক্তি থাকে, এটা দক্ষিণা চাই!” হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল! ব্রহ্মাদেব তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মের সেবা করতেন এবং তিনি রাধা কৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মের সেবা করতেন। আমি এটা শুনেছিলাম যে কিভাবে তিনি ভাণ্ডীরবন এসেছিলেন। যখন আমি আসছিলাম, তখন তারা আমাকে এই লীলা বিষয়ে স্মরন করায়।
রাধারানীর সম্পূর্ণ অভীষ্ট হচ্ছে কৃষ্ণের প্রীতিবিধান করা। তিনি যখন এই নবদ্বীপ ধামে ছিলেন, তখন কৃষ্ণ ছিল একটা সখীর সাথে, তারপর রাধারানী এই নবদ্বীপ ধাম সৃষ্টি করেছিলেন এবং তিনি বংশীবাদন করছিলেন। কৃষ্ণ শুনছেন, “এই এত সুন্দর বাঁশি কে বাজাচ্ছে?” তখন কৃষ্ণ তাতে আকৃষ্ট হন এবং নবদ্বীপ ধামে আসেন। আর তিনি দেখেন যে রাধারানী সেই বংশীবাদন করছিলেন। রাধারানী বললেন, “এই সুন্দর ধাম তোমার জন্য তৈরি করেছি।” কৃষ্ণ বললেন, “তুমি আমার জন্য এত সুন্দর ধাম তৈরি করেছ! এই ধামে নটি দ্বীপ আছে, এই ধাম বৃন্দাবনের থেকে অভিন্ন হবে আমি এখানে বৃন্দাবনের যাতে পবিত্র স্থান থাকে, এই নবদ্বীপ ধামে বিভিন্ন তীর্থ থাকবে।” এইভাবে শ্রীমতি রাধারানীর কৃপায় নবদ্বীপ ধাম প্রকাশিত হয়েছিল।
কৃষ্ণ এবং রাধারানী ছোট শিশু ছিলেন। নন্দ মহারাজ এবং বৃষভানু মহারাজের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান হয়েছিল। তার আগে নারদ মুনি, তিনি জানতেন যে যেখানেই কৃষ্ণ আবির্ভূত হন, সেখানে তাঁর পরম শক্তিও আবির্ভূত হন। তাই, তিনি সেই পরম শক্তিকে অন্বেষণ করার জন্য গৃহে গৃহে যাচ্ছিলেন। তারপর তিনি বৃষভানু মহারাজ আর কীর্তিদার প্রাসাদে গিয়েছিলেন, এবং তিনি তার কোন সন্তান হলো কিনা সেটা জিজ্ঞেস করলেন। নারদ মুনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কোন কন্যা নেই?” তারা বললেন, “আমরা তাকে দেখাইনি কারণ আমাদের একজন অন্ধ কন্যা আছে।” নারদ মুনি বললেন, “আমাকে দেখতে দিন!” তখন তারা রাধারানী, যিনি ছিলেন অন্ধ, তাঁকে তার হাতে দেন। তাকে নারদ মুনির হাতে দেওয়া হলে সেই সময় তিনি অপূর্ব অষ্টসাত্ত্বিক ভাব পূর্ণ হইলেন। তিনি এত সুন্দর শিশু কখনও দেখেননি! সেই জন্য তিনি কিছু বলতে পারছিলেন না, তার চক্ষু থেকে কেবল অশ্রু ঝড়ছিল। বৃষভানু মহারাজ এবং কীর্তিদা এটা বুঝতে পারেনা যে কেন নারদ মুনি এইভাবে কাঁদছে। কিছু সময় পর তারা তার কাছ থেকে সেই শিশুকে নিয়ে নেন, তখন যেমন তিনি নন্দ মহারাজ ও যশোদাকে বলেছিলেন যে তাদের নিজেদের শিশু পুত্রের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত, তেমনই অনুরূপ কথা বৃষভানু ও কীর্তিদাকে বলেছিলেন যে এই মেয়ে অত্যন্ত যত্ন করে, স্নেহ করে লালন পালন করবেন। রাধারানী বলেছিলেন যে তিনি প্রথম কৃষ্ণকে দর্শন করার জন্য তাঁর চক্ষু উন্মীলিত করতে চান। সেই দুজন শিশুকে দোলনার মধ্যে রাখা হয়। যখন কৃষ্ণ হামাগুড়ি দিয়ে রাধারানীর দিকে গিয়ে তাঁর দিকে তাঁকান, তিনি ঠিক রাধারানীর উপরে ছিলেন এবং রাধারানী কৃষ্ণের ঘ্রাণ পাচ্ছিলেন, এবং তখন রাধারানী চোখ খুলেছেন! হরিবোল! কৃষ্ণকে দেখার জন্য! হরিবোল!
আমরা এখানে মায়াপুরে থেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান। আমাদের রাধারানী, মাধব এবং অষ্টসখী আছেন। মায়াপুরে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাদের তিন শ্রীবিগ্রহের মুখ্য সিংহাসন থাকা উচিত। বাঁদিকে গুরু-পরম্পরা, মাঝখানে পঞ্চতত্ত্ব এবং ডানদিকে রাধামাধব ও অষ্টসখীবৃন্দ। এখন আমাদের বিশেষ পার্শ্বস্থানীয় সিংহাসন আছে, সেখানে আমাদের নরসিংহদেবের শ্রীবিগ্রহ আছে, সেই শ্রীবিগ্রহ পরবর্তী গৌর পূর্ণিমাতে খোলা হবে। কিন্তু শ্রীবিগ্রহগণকে ভবিষ্যতে সেখানে স্থানান্তরিত করা হবে। রাধা নামের অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে এবং সেখানে প্রতি অক্ষরের একটি বিশেষ অর্থ আছে। শ্রীকৃষ্ণ রাধারানীকে বলেছিলেন যে, “সবকিছু আমার উপর আশ্রয় করে আছে এবং আমি তোমার উপর আশ্রয় করে আছি। তোমাকে লজ্জিত হতে হবে না, তুমি তা জোরালোভাবে বলতে পারো, কারণ সবকিছু আশ্রয় করে আছে এবং আমি তোমাকে আশ্রয় করে আছি।” শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করছিলেন যে যদি রাধারানী বলেন যে, “ইনি হচ্ছেন এক ভালো ভক্ত!” এইভাবে কৃষ্ণ তাকে কৃপা করবেন। এইভাবে রাধা মাধব সন্তুষ্ট করতে হয়।
তাই, এটি অত্যন্ত বিশেষ এবং আমরা এই অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে অত্যন্ত ভাগ্যবান। রাধাষ্টমী তিথিতে শ্রীল প্রভুপাদ বিশেষ অনুষ্ঠান করলেন, সেইসময় আমাদের কলকাতায় কোন মন্দির ছিল না, কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি সন্ন্যাস প্রদানের অনুষ্ঠান করেছিলেন। রাধাষ্টমীর দিন এবং তিনি আগে কিছু সন্ন্যাস দীক্ষা প্রদান করেছিলেন ও তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমি হচ্ছি ১১তম সন্ন্যাসী। হয়ত এই কারণে আমার প্রিয় দিন হচ্ছে একাদশী! যাইহোক, আমাদের আজকের দিন পালন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত। এই রাধাষ্টমী এত শক্তিশালী যে রাধাষ্টমী উদযাপন করা মানে, আমি ভুলে গেছি, তা প্রায় লক্ষ লক্ষ একাদশী পালনের মত। কিন্তু যদি কেউ রাধাষ্টমী পালন না করে, এটা কঠিন পাপ হয়। কেউ একজন শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, “কৃষ্ণ আমাদেরকে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত উপবাস করান, তাহলে রাধারানীর কেন কেবল দুপুর পর্যন্ত উপবাস করান?” এবং তিনি বললেন, “রাধারানী দয়ালু বেশি!”
যাইহোক, আজকে হচ্ছে রাধাষ্টমী। কৃষ্ণ যখন আসেন, রাধারানী আসেন রাধা রূপে । যখন কৃষ্ণ রামচন্দ্র রূপে আসেন, রাধারানী সীতা রূপে আসেন। যখন কৃষ্ণ বৈকুন্ঠের হরি হিসেবে আসেন, রাধারানী লক্ষ্মী হিসেবে আসেন। সব শক্তি প্রকৃতপক্ষে রাধারানীর থেকে আসছে — দ্বারকার মহিষীগণ, বৃন্দাবনের সকল গোপীগণ এবং সকল লক্ষীগণ। তাই, আজ হচ্ছে অত্যন্ত বিশেষ দিন। হরিবোল!
রাধে শ্যাম! এখন আমরা দর্শনের জন্য যাব!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ