Text Size

২০২৩০৯২৪ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

24 Sep 2023|Duration: 00:38:26|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

প্রশ্ন:- আপনি কি আমাদেরকে রাধাষ্টমীর সময় আপনার সন্ন্যাস গ্রহণ এবং প্রত্যেক রাধাষ্টমীতে আপনার মায়াপুর থাকার সম্পর্কে আরো কিছু বিস্তারিত বলতে পারবেন— আপনার তুচ্ছ সেবক, ললিতাঙ্গি রাধা দেবী দাসী 

জয়পতাকা স্বামী:- [শব্দ বিচ্ছেদ] তিনি আমাকে কলকাতায় সন্ন্যাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে আমি হচ্ছি ১১তম সন্ন্যাসী এবং অন্য ১০জন সন্ন্যাসী আমার পূর্বে ছিলেন। তাঁর বলার বিষয়টি ছিল যে — “তুমি হচ্ছ ১১তম জন।” আসলে শ্রীমদ্ভাগবতমে পঞ্চম স্কন্ধে বলা হয়েছে যে যদি কোন ব্যক্তির কেবল তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক থাকে, তাহলে সেটিকেও ব্রহ্মচর্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। শ্রীল প্রভুপাদকে ডাকা হয়েছিল শ্রীপাদ বলে এবং আমি শুনলাম শ্রীল প্রভুপাদ জোড় গলায় বললেন। আমি ভাবলাম তিনি নিশ্চয়ই সন্ন্যাস দেবেন না, কেন শ্রীল প্রভুপাদ জোড় গলায় কিছু বললেন? আমি শুনতে পারছিলাম না যে প্রভুপাদ কি বলছেন, তারপর উনি আমাকে ডাকলেন, এটি ছিল রাধাষ্টমীর আগের দিন। তিনি আমাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন কিন্তু আমি সেগুলোর উত্তর জানতাম না। শ্রীল প্রভুপাদ তার সচিবের দিকে ফিরে বললেন, “সে জানেনা।পরের দিন তিনি বললেন আমি হচ্ছি ১১তম সন্ন্যাসী! আমি তখন খুবই তরুণ ছিলাম এবং আমি জানতাম না যে সন্ন্যাস বিষয়টা আসলে কি! কিন্তু যেহেতু শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে আমি তা গ্রহণ করতে চাই কিনা, তাই আমি ভাবলাম এটা নিশ্চয়ই অত্যন্ত মহিমান্বিত কিছু হবে। কিন্তু আসলে তা খুব কঠিন এক দৃঢ় ব্রত এবং কুড়ি বছর বয়স থেকে আমি সন্ন্যাস জীবন অনুশীলন করছি ও আমার মনে পড়ে যে আমি মায়াপুরে এসেছিলাম আর মায়াপুরের ভূমি দেখে ভেবেছিলাম যে চৈতন্য মহাপ্রভু এই ভূমিতে আসতেন, তাই আমি সেই পবিত্র ভূমিকে প্রণাম করেছিলাম।  

পারুলের প্রশ্ন:- সাম্প্রতিক আমি একজন বরিষ্ঠ ভক্তকে বলতে শুনলাম যে আমাদের শ্রীমতি রাধারানীর সম্পর্কিত কোন ভজন গাওয়া উচিত নয়, যেহেতু তা খুবই অপরাধজনক। আপনি কি দয়া করে আমাকে এই বিষয়ে কিছু নির্দেশিকা দিতে পারবেন?

জয়পতাকা স্বামী:- সাধারণত তাঁদের আবির্ভাব তিথি ছাড়া আমরা কোন নির্দিষ্ট পার্ষদ সম্পর্কিত কোন ভজন কীর্তন করি না। তাই আমরা রাম লীলা বা রাধা লীলা বিশেষত তাঁদের আবির্ভাব তিথিতে কীর্তন করি। 

প্রশ্ন:- মঙ্গল আরতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?  

জয়পতাকা স্বামী:- আমাদের প্রত্যেকদিন মঙ্গল আরতিতে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করা উচিত। মঙ্গল আরতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? — এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা খুবই ভালো। আমরা দেখি যে মায়াপুরে কত ভক্তরা মঙ্গল আরতিতে অংশগ্রহণ করে, আমি জানিনা তারা আজকে সমাধি মন্দিরের মঙ্গল আরতি দেখায়নি কেন। 

কিরণের প্রশ্ন:- আমার বাড়িতে পঞ্চতত্ত্বের শ্রীবিগ্রহ আছে, আমার কোন মনোভাব নিয়ে তাঁদের পূজা করা উচিত

জয়পতাকা স্বামী:- পঞ্চতত্ত্ব অত্যন্ত কৃপালু। তাই তুমি পঞ্চতত্ত্বকে করুণ মনোভাব নিয়ে পূজা করতে পার। চৈতন্য মহাপ্রভু পঞ্চতত্ত্ব রূপে প্রকাশিত হয়েছেন এবং তাঁর সাথে আছেন নিত্যানন্দ প্রভু, অদ্বৈত, গদাধর এবং শ্রীবাস। আমরা তাদেরকে ভগবানের পাঁচটি রূপ হিসেবে পূজা করি।

জেন এরডাকব্যর প্রশ্ন:- আপনি আপনার শিষ্যদেরকে মূল কি বার্তা দিতে চান? খুব শীঘ্রই আমি আপনার থেকে দীক্ষা পাব। 

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা চাই সকল শিষ্যদের যাতে শ্রীল প্রভুপাদের মনোভাব থাকে, শ্রীল প্রভুপাদ তিনি ভক্তদের সাহায্য করতে চাইতেন, তার শ্রীবিগ্রহ সেবা করার মনোভাব ছিল, তিনি মানুষদের পবিত্র ধামের প্রশংসা করার আর ভক্তদের ও পবিত্র ধামের প্রতি অপরাধ এড়িয়ে চলার বিষয়ে সাহায্য করতেন। এবং আরো মানুষদের কৃষ্ণের নিকটে নিয়ে আসার চেষ্টা কর। হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল!

রবির প্রশ্ন:- ৭-৮ ঘন্টা অফিসে থাকার পরও কিভাবে কৃষ্ণভাবনামায় থাকব?

জয়পতাকা স্বামী:- তো তুমি তোমার অফিসেও কৃষ্ণভাবনামায় থাকতে চাও! এই ভক্ত রবি সম্ভবত তার অফিসে ৭-৮ ঘন্টা কাজ করে, তাই সে এমনকি অফিসে থাকাকালীনও কৃষ্ণভাবনায় থাকতে চায়। আমরা সবাইও তাই করতে চাই! আমরাও আমাদের অফিসে কৃষ্ণভাবনাময় থাকতে চাই। তাই আমরা যদি ভাবি যে আমি যে কাজ করছি, তা প্রকৃতপক্ষে কৃষ্ণের জন্য করছি, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা কৃষ্ণভাবনাময় থাকতে পারব। হরে কৃষ্ণ!

বাংলা প্রশ্ন:- আমি অম্বুজাক্ষ কৃষ্ণ দাস, বাংলাদেশ থেকে। কিভাবে আমি নাম অপরাধের স্তর থেকে শুদ্ধ নামের স্তরে প্রগতি করতে পারব? কৃপা করে আমাকে আশীর্বাদ দিন। 

জয়পতাকা স্বামী:- দয়া করে আমাকে আশীর্বাদ দিন! নাম অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়ার পথটি হচ্ছে কোন অপরাধ না করা। আজকে সকাল বেলা তারা নাম অপরাধগুলি উল্লেখ করেছিল, সাধারণত প্রত্যেক দীক্ষার সময় তাদের এই নাম অপরাধ বলে। তাই যদি তুমি ভালোভাবে শোনো, তাহলে তুমি বুঝতে পারবে যে নাম অপরাধ কি কি এবং সেগুলি না করার ক্ষেত্রে তোমার অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত। নাম অপরাধ খুবই হানিকর, তাই কালকেও আমরা দশবিধ নাম অপরাধ উল্লেখ করাব, খুব সতর্কতার সাথে শুনবে এবং আবারও সেগুলো শুনবে। 

বাংলা প্রশ্ন:- হরে কৃষ্ণ গুরুমহারাজ, আমার দণ্ডবৎ প্রণতি গ্রহণ করুন। গুরু মহারাজ ভক্তি জীবন দীক্ষাগুরু ও মন্দির কর্তৃপক্ষ দুজনের আদেশ ও নির্দেশ মেনে করতে হয়, কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষের সাথে যদি কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়, যা মানসিক উদ্বেগের কারণ হয়ে ভক্তি জীবনকে প্রভাবিত করে, তখন সেই পরিস্থিতিতে কিভাবে মন্দির কর্তৃপক্ষের সাথে যথাযথ সম্পর্ক বজায় রাখবো আবার নিজের ভক্তি জীবনকেও সঠিক রাখব? কৃপা করে দিকনির্দেশনা করুন হে করুণাময় গুরুদেব।

জয়পতাকা স্বামী:- এখন বলতে গেলে মন্দিরে যদি থাকি, তাহলে দীক্ষাগুরু ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিভাবে সমানভাবে ব্যবহার করব। গুরুদেব আপনি দয়াময়! আমাকে দিকনির্দেশনা দেন কিভাবে চলবে। আমরা সকল ভক্তকে সম্মান করার চেষ্টা করি, এইভাবে সকল ভক্তের প্রতি অত্যন্ত সদয় থাকো এবং ভালোভাবে থাকো। এবং তারাও তোমার প্রতি করুণ ও ভালো থাকবে।  

হেমাঙ্গী গোপী দেবী দাসী, পুনে:- গৌরাঙ্গ অত্যন্ত করুণাময় কিন্তু অনেক লীলায় তিনি অত্যন্ত দৃঢ়, আমরা এটাকে সঠিকভাবে কিভাবে বুঝব

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা ভগবানের কৃপাকে প্রদত্ত বলে ধরে নেই না। আমাদের খুবই সতর্ক হওয়া উচিত যে আমরা অন্যান্য বৈষ্ণবদের সাথে কেমন আচরন করি। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু কখনো কখনো নিজে দৃঢ় থেকে আমাদেরকে সাহায্য করেন এবং তাই আমাদের কোন বৈষ্ণব অপরাধ না করার প্রতি অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। হরিবোল!  

হেমাঙ্গ হলধর দাস:- চৈতন্য মহাপ্রভু যখন দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে গিয়েছিলেন, তখন সেই সব মন্দির পরিদর্শনের সময় ওঁনার মনোভাব কেমন ছিল? সেটা কি প্রচার করার জন্য ছিল, নাকি আশীর্বাদ প্রদানের জন্য ছিল

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু দেবতাদের বৈষ্ণব রূপে সম্মান করতেন এবং বৈষ্ণবরাও ভগবানের ভক্ত। তাই চৈতন্য মহাপ্রভু দেবতাদের ভক্তরূপে দেখতেন। এখন নিয়ম হচ্ছে তুমি দেবতাদের ডান দিক থেকে প্রণাম করবে এবং ভগবানকে তোমার বাঁদিকে রেখে প্রণাম করবে। হরে কৃষ্ণ!  

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 7/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions