Text Size

২০২৩০৯০৮ শ্রীল প্রভুপাদ ব্যাস পূজা শ্রদ্ধাঞ্জলি

8 Sep 2023|Duration: 00:18:02|Bengali|Prabhupāda Kathā

আজকে আমরা শ্রীল প্রভুপাদের ব্যাস পূজা উদযাপন করছি। প্রভুপাদ, তিনি শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের থেকে তাঁর নির্দেশ গ্রহণ করেছিলেন এবং কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন সমগ্র বিশ্বে প্রসারিত করেছিলেন। তাই, ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য হিসেবে ইসকনের প্রত্যেক ভক্তের সাথে তার এক বিশেষ সম্পর্ক আছে। এক কথায় বলতে, প্রত্যেকেই ভক্ত হয়েছে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের কৃপায় এবং যেমন আমরা প্রত্যেকদিন গুরু পূজা করি ও আমরা আমাদের সকল সেবা রাধামাধব, পঞ্চতত্ত্ব ও ভগবানকে নিবেদন করি শ্রীল প্রভুপাদ এবং গুরু পরম্পরার মাধ্যমে।

১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে আমি শ্রীল প্রভুপাদের জন্য ব্যাস পূজা শ্রদ্ধাঞ্জলি লিখেছিলাম যে যাঁর বাণী সবকিছুর থেকেও অধিক জরুরি, এটি বিশেষত সেইসব ভক্তদের জন্য যারা প্রতিষ্ঠাতা আচার্যের সরাসরি শিষ্য নয়। শ্রীল প্রভুপাদের সাথে তাঁর সকল অনুসারীদের মূল সম্পর্ক বর্ণনা করার জন্য আমি শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের হরিনাম চিন্তামনি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলাম। এই হচ্ছে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে শ্রদ্ধাঞ্জলিতে বলা আমার প্রিয় অংশ:

হরিনাম চিন্তামনিতে শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর পরম্পরার আদি গুরু বা পরম্পরায় প্রতিষ্ঠাতা আচার্যের পদ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। যদিও ইসকন হচ্ছে পুরাতন শিষ্য পরম্পরার এক শাখা, তবে যেহেতু শ্রীল প্রভুপাদ হচ্ছেন এই শাখার আদি গুরু বা প্রতিষ্ঠাতা আচার্য এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শক্তিধর প্রতিনিধি, তাই চৈতন্য মহাপ্রভুর সেইসব ভক্তদের জন্য শ্রীল প্রভুপাদকে আদি গুরু হিসেবে শ্রদ্ধা, আনুগত্য ও ভক্তি করা যথোচিত। যেমন নিন্মে বর্ণনা করা হয়েছে প্রভুপাদের অনুসারীরা তাঁর প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করেন, তা পরম্পরার অন্যান্য গুরুবর্গের প্রতি প্রদর্শনের ন্যায় অনন্য হওয়া উচিত। 

(হরিনাম চিন্তামণি ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, শ্লোক ২২-২৩) “বৈষ্ণব শিষ্য পরম্পরায় পূর্ববর্তী আচার্যরা সেই সম্প্রদায়ে সম্মানিতভাবে শিক্ষাগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তবে যাইহোক, প্রতিষ্ঠাতা আচার্য বা গুরু শিষ্য সম্প্রদায়ের আদি গুরু যথাযথভাবে পূজনীয় এবং গুরুবর্গের সর্বশ্রেষ্ঠ চুরামণি হিসেবে সম্মানিত। তাঁর নিঁখুত তত্ত্বসম্বন্ধীয় সিদ্ধান্ত সকল সম্প্রদায়ের দ্বারা অনুসৃত; অন্য কোন পরস্পর বিরোধী নির্দেশ গ্রহণযোগ্য নয়।” (হরিনাম চিন্তামণি ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, শ্লোক ২২-২৩)। 

যেমন আমরা প্রভুপাদকে আমাদের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য হিসেবে গ্রহণ করি, তিনি সব ভক্তদের জন্য শিক্ষাগুরু। আপনারা বলতে পারেন তিনি হচ্ছেন আদি শিক্ষাগুরু এবং আমরা প্রভুপাদের নির্দেশাবলীও পালন করি, আমরা তাঁর গ্রন্থ অধ্যয়ন করি যা তিনি অনুবাদ করেছেন এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হই, তাই এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা যাতে বুঝতে পারি যে কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদের প্রত্যেক এবং সব ভক্তের সাথে এক অন্তরঙ্গ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। তাই, ইসকনের প্রত্যেক ভক্তের প্রতিদিন প্রভুপাদের গুরুপূজায় অংশগ্রহণ করা উচিত, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা উচিত ও শ্রীল প্রভুপাদের ব্যাস পূজাতেও অংশগ্রহণ করা উচিত। এমন নয় যে কেবল আমাদের দীক্ষাগুরুই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের মাধ্যমে গুরু পরম্পরার কৃপা লাভ করি।

যেমন, আপনাদের মধ্যে বেশিরভাগই জানেন যে আমিও দক্ষিণ আমেরিকাতে প্রচার করছিলাম, যেখানে শ্রীল প্রভুপাদ ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে কেবল একবার গিয়েছিলেন কারাকাশ, ভেনেজুয়েলাতে। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে শ্রীল প্রভুপাদ পাঠ দিয়েছিলেন, তাঁর অতিথীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং সেই সমগ্র মহাদেশকে কৃষ্ণভাবনাময় হতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। আমি নিজেও অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম, যখন শ্রীল প্রভুপাদ ২১ ফেব্রুয়ারিতে শ্রীমদ্ভাগবতের ১.১.১ শ্লোকের পাঠে বলছিলেন যে কিভাবে শ্রীল ব্যাসদেব সৃষ্টির উৎসকে জীবিত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং তারপর শ্রীল প্রভুপাদ এক খুব সুন্দর উপমা প্রদান করেছিলেন। এখানে এটি বলা হয়েছে যে জীবন হচ্ছে উৎস, কারণ এখানে এটি বলা হয়েছে — “যতোহন্বয়াদিতরতশ্চার্থেষ্বভিজ্ঞঃ স্বরাট্‌” যেমন যদি আমাকে এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের উত্স হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তাহলে এর মানে হচ্ছে আমি এই আন্দোলন সম্পর্কিত সব কিছু সম্পর্কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জানি। যদি আমি এই আন্দোলনের সবকিছু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে না জানি, তাহলে আমাকে প্রতিষ্ঠাতা আচার্য বলা যাবে না। এবং যখনই উৎস একজন জ্ঞাতা হন, তখন তিনি হচ্ছেন জীবন্ত।

সেই জন্য আমাদের কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের সাথে নিজেদের বিশেষ সম্বন্ধ অনুধাবন করা উচিত, তিনি আমাদেরকে ভক্তির বীজ প্রদান করেছেন, যা গুরুপরম্পরার মাধ্যমে এখন প্রদান করা হচ্ছে। অন্যভাবে বলতে গেলে, যেমন কৃষ্ণ হচ্ছেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান, তিনি হচ্ছেন সমগ্র সৃষ্টির উৎস এবং জ্ঞাতা। তাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি হচ্ছেন ইসকনের উৎস এবং জ্ঞাতা। এবং তিনি হচ্ছেন প্রতি প্রজন্মে তাঁর অনুসারীদের জীবন ও প্রাণ। 

অধিকন্তু, যেই শিক্ষা বা দীক্ষাগুরুরা শ্রীল প্রভুপাদের অনুসারী “প্রভুপাদানুগগণ” রূপে আমাদের সাথে যুক্ত হন তারাও মহিমান্বিত। আমাদের সহযোগিতা আরো গভীরতর করার মাধ্যমে শ্রীল প্রভুপাদ ও চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনকে এই পৃথিবীর প্রতি নগর ও গ্রামে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সেই জন্য, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে প্রত্যেক ভক্ত যাতে এটা দেখে যে কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদের সাথে তাদের মূল শিক্ষাগুরুর সম্পর্ক আছে, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটাই হচ্ছে পুরো বছরের সবথেকে বড় অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি। তাই প্রত্যেক ভক্ত এটি প্রকাশ করতে চায় যে আমরা এটার কত প্রশংসা করি যে শ্রীল প্রভুপাদ আমাদের জন্য কি করেছেন। অবশ্য তিনি সমগ্র বিশ্বে অনেকবার গেছেন ও কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করেছেন, এবং তিনি মায়াপুর এসেছেন। তিনি বছরে দুইবার আসতেন ও এখানে থাকতেন। তিনি মায়াপুরকে এক বিশেষ মন্দির, সমগ্র পারমার্থিক জগতে ইসকনের সদর দপ্তর হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। 

শ্রীল প্রভুপাদের সাথে প্রত্যেকের মুখ্য পরিচয় এবং মূল সম্পর্ক আরো গভীর করে তোলার জন্য ইসকন মায়াপুর “প্রভুপাদ উপলব্ধি”-এর মাধ্যমে এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এই বছর মায়াপুরের তিনটে বিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ভক্তিবেদান্ত একাডেমি এবং ভক্তিবেদান্ত ন্যাশনাল স্কুল শ্রীল প্রভুপাদের সংক্ষিপ্ত জীবনীর প্রথম অধ্যায় “তোমার নিত্য শুভাকাঙ্ক্ষী” অধ্যায়ন করার পর এক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল, প্রায় ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সী ২০০ জন ছাত্রছাত্রী তালিকাভুক্ত হয়েছিল। ভবিষ্যতে গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের জন্য এইরকম প্রতিযোগিতার পরিকল্পন করা হচ্ছে। আর অন্যান্য অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে যে শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্যবৃন্দকে এনে তাঁদের প্রভুপাদের সাথে যে উপলব্ধি তা ভাগ করে নেওয়া হবে। সর্বাঙ্গীণভাবে বলা যায় যে, এই পরিকল্পনাটি হচ্ছে আমাদের শ্রীল প্রভুপাদের স্মৃতিতে নিমগ্নতা বৃদ্ধি করা এবং “প্রভুপাদ উপলব্ধি” যে অনুপ্রেরণা এনেছে সেই উৎসাহের সাথে কৃষ্ণভাবনাময়ভাবে জীবনযাপন করা এবং বাইরের জগতের সকলকেও শ্রীল প্রভুপাদের জীবনের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করার বিষয়ে সাহায্য করা। 

আমরা আশা করি যে মায়াপুরের ভক্তরা সবথেকে বেশি কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার এই বিশেষ প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করবে, সমগ্র বিশ্বের সর্বত্র প্রভুপাদ ভাবণামৃত ছড়িয়ে দেবে। আমরা সেটা অন্তত চাই, কিন্তু আমরা আশা করি যে এই পৃথিবীর সকলেই সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণভাবনাময় ও প্রভুপাদ ভাবনাময় হবে। প্রত্যেক ভক্তের নিজস্ব বিশেষ উপলব্ধি আছে এবং আমরা চাই যে ভক্তরা তাদের উপলব্ধি ভাগ করে নেবে এবং এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের ভক্তগণ কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ও সকল পূর্ব আচার্যদের প্রশংসা করবে। এইভাবে আমরা কৃষ্ণভাবনামৃতে অক্ষুন্ন থাকব। হরে কৃষ্ণ! আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ!

আমি আমার সকল শিষ্যদের এবং এই গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের এতে অংশগ্রহণ করতে ও সাহায্য করতে অনুরোধ করি। আমি আশা করি যে শিষ্যরা ও এই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের ভক্তরা তাদের স্থানীয় কেন্দ্রেও এমন উদ্যোগ গ্রহণ করবে। 

শ্রীল প্রভুপাদের সেবায় আপনাদের,

জয়পতাকা স্বামী

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 2024/03/02
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions