মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
শ্রীমদ্ভাগবতম ২/৮/২১
শ্লোক ২১
সংপ্লবঃ সর্বভূতানাং বিক্রমঃ প্রতিসংক্রমঃ।
ইষ্টাপূর্তস্য কাম্যানাং ত্রিবর্গস্য চ যো বিধিঃ॥
অনুবাদ:- দয়া করে আপনি বলুন জীবের উৎপত্তি কিভাবে হয়, কিভাবে তাদের পালন হয় এবং কিভাবে তাদের সংহার হয়। ভগবদ্ভক্তির অনুকূল ও প্রতিকূল বিষয় কি কি। বৈদিক বিধি এবং বেদের অনুগামী শাস্ত্রসমূহের নির্দেশ কি, এবং ধর্ম, অর্থ এবং কাম এই ত্রিবর্গের সাধনের বিধি কি?
তাৎপর্য:- সংপ্লবঃ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘পূর্ণ সাধনা’ এবং এই শব্দটি ভগবদ্ভক্তির বিষয়ে প্রয়োগ করা হয়, আর প্রতিসংপ্লবঃ শব্দটি তার ঠিক বিপরীত, অর্থাৎ যা ভগবদ্ভক্তির প্রতিবন্ধক। যিনি দৃঢ়ভাবে ভগদ্ভক্তির মার্গে অবস্থিত, তিনি অনায়াসে জীবনের কার্যসমূহ সম্পাদন করতে পারেন। বদ্ধ জীবনের অবস্থা একটি ক্ষুদ্র নৌকা নিয়ে বিশাল সমুদ্রে পাড়ি দেবার মতো। মানুষকে তখন সম্পূর্ণরূপে সমুদ্রের কৃপার উপর নির্ভর করতে হয়, এবং যে কোন মুহূর্তে সমুদ্র স্বল্প বিক্ষেপের ফলে নিমজ্জিত হওয়ার সম্তাবনা থাকে। আবহাওয়া যদি ভাল থাকে তা হলে নৌকাটি নির্বিঘ্নে চলতে থাকে, কিন্তু যদি ঝড়-বঞ্ঝা, কুয়াশা, বায়ু, অথবা বর্ষার প্রাদুর্ভাব ঘটলে সমুদ্র গর্ভে নৌকাটি ডুবে যেতে পারে। মানুষ যতই শক্তিশালী হোক এবং জড়জাগতিক দিক দিয়ে যতই সুসজ্জিত হোক সমুদ্রের তরঙ্গকে সে কখনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। যারা জাহাজে করে সমুদ্র-পাড়ি দিয়েছে, সমুদ্রের কৃপার উপর যে কিভাবে নির্ভর করতে হয় সে অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। আর এই সংসারী সমুদ্র যদিও দুস্তর, কিন্তু ভগবানের কৃপার প্রভাবে তা অনায়াসে উত্তীর্ণ হওয়া যায়। তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ভগবানের ইচ্ছার উপর। যদি বদ্ধ জীবনে কোন দুর্ভাগ্যজনক বিপদ দেখা দেয়, তখন কেউই সাহায্য করতে পারে না। ভগবদ্ভক্তেরা কিন্তু অনায়াসে এই ভব-সমুদ্র পার হন, কেননা ভগবান সর্বদা শুদ্ধ ভক্তকে রক্ষা করেন (ভঃ গীঃ ৯/১৩)। ভগবান তাঁর ভক্তের বদ্ধ জীবনের কার্যকলাপের প্রতিও বিশেষভাবে লক্ষ্য করেন (ভঃ গীঃ ৯/২৯)। তাই সকলেরই কর্তব্য হচ্ছে ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় গ্রহণ করে সর্বতোভাবে তাঁর শুদ্ধ ভক্ত হওয়া।
তাই পরীক্ষিৎ মহারাজ তাঁর গুরুদেব শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর কাছে যেভাবে প্রশ্ন করেছিলেন, সেইভাবে সকলেরই কর্তব্য হচ্ছে সদগুরুর কাছে ভক্তির অনুকূল এবং প্রতিকূল বিষয় সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা। ভগবদ্ভক্তির বিজ্ঞান ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে জীবন ধারণের অতিরিক্ত আহার করা উচিত নয়। মানুষের দেহ ধারণের জন্য শাকসব্জি এবং দুধই যথেষ্ট, তাই জিহ্বার তৃপ্তি সাধনের জন্য অন্য কোন কিছু আহার করার প্রয়োজন নেই। জড় জগতে গর্বোদ্ধত হওয়ার জন্য ধন সঞ্চয়েরও কোন প্রয়োজন নেই। সৎ উপায়ে এবং সরলভাবে জীবিকা উপার্জন করা উচিত, কেননা অসৎ উপায়ে সমাজে ধনী হওয়ার থেকে সৎভাবে জীবন যাপনকারী কুলী হওয়াও শ্রেয়। সৎ উপায়ে কেউ যদি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী হয় তাতে কোন ক্ষতি নেই, কিন্ত কখনই ধনসম্পদ সংগ্রহের জন্য সততা ত্যাগ করা উচিত নয়। ভগবদ্ভক্তির ক্ষেত্রে এই প্রকার প্রয়াস অত্যন্ত ক্ষতিকারক। বাজে কথা বলা উচিত নয় বা প্রজল্প করা উচিত নয়।
ভক্তের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে ভগবানের কৃপালাভ করা। তাই ভগবানের অতি অদ্ভুত সৃষ্টিতে ভক্তের কর্তব্য হচ্ছে সর্বদা ভগবানের মহিমা কীর্তন করা। ভগবানের সৃষ্টিকে মিথ্যা বলে অস্বীকার করার মাধ্যমে ভগবানের অবমাননা করা ভক্তের পক্ষে কখনোই উচিত নয়। এই জগৎ মিথ্যা নয়। প্রকৃতপক্ষে আমাদের জীবন ধারণের জন্য এই জগৎ থেকে কত কিছু গ্রহণ করতে হয়, তা হলে কিভাবে আমরা বলতে পারি যে এই জগৎ মিথ্যা? তেমনই, আমরা কিভাবে মনে করতে পারি যে ভগবান নিরাকার? যিনি পূর্ণ চেতন এবং পূর্ণ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, তাঁর পক্ষে নিরাকার হওয়া কিভাবে সম্ভব?
এইভাবে শুদ্ধ ভক্তের জানার অনেক কিছু রয়েছে, এবং শুকদেব গোস্বামীর মত সদ্গুরুর কাছ থেকে যথাযথভাবে সেগুলি জানা উচিত।
ভক্তির অনুকূল অবস্থা হচ্ছে ভগবানের সেবার বিষয়ে অত্যন্ত উৎসাহী হওয়া। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভূরূপে ভগবান চেয়েছেন যে ভগবদ্ভক্তি যেন পৃথিবীর সর্বত্র, প্রতিটি প্রান্তে প্রচারিত হয়, এবং তাই শুদ্ধ ভক্তের কর্তব্য হচ্ছে ভগবানের এই নির্দেশ যতদূর সম্ভব পালন করা। কেবল ভগবদ্ভক্তির দৈনন্দিন বিধি অনুশীলনের ব্যাপারেই ভক্তের উৎসাহ থাকা উচিত নয়, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভগবদ্ভক্তির প্রচার করাও তাদের প্রথম কর্তব্য। তার সেই প্রচেষ্টায় তিনি যদি আপাতদৃষ্টিতে সফল নাও হন, তবুও সেই কর্তব্য থেকে তার বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়। ভগবানের শুদ্ধ ভক্ত সাফল্য এবং নৈরাশ্য উভয় ক্ষেত্রেই উদাসীন, কেননা তিনি হচ্ছেন রণক্ষেত্রের সৈনিক। ভগবদ্ভক্তি প্রচার জড় জীবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার মতো। বিভিন্ন প্রকার জড়বাদী রয়েছে, যেমন সকাম কর্মী, মনোধর্মী জ্ঞানী, সিদ্ধিকামী যোগী ইত্যাদি। তারা সকলেই ভগবদ্বিদ্বেষী। তারা ঘোষণা করে যে তারাই হচ্ছে ভগবান, যদিও জীবনের প্রতি পদক্ষেপে এবং প্রতিটি কার্যকলাপেই তারা ভগবানের কৃপার উপর নির্ভরশীল। তাই ভগবানের শুদ্ধভক্ত এই সমস্ত নাস্তিকদের সঙ্গে সঙ্গ করেন না। নিষ্ঠাবান ভগবদ্ভক্ত কখনও এই প্রকার অভক্ত নাস্তিকদের প্রচারের দ্বারা বিভ্রান্ত হন না। কনিষ্ঠ ভক্তদের তাদের সম্বন্ধে অত্যন্ত সাবধান থাকা উচিত। ভক্তের কর্তব্য কেবল আচার-অনুষ্ঠানের অনুকরণ না করে সদ্গুরুর পরিচালনায় ভগবদ্ভক্তি সম্পাদন করা। সর্বদা দেখা উচিত সদ্গুরুর নির্দেশে কতখানি ভক্তি সম্পাদন হচ্ছে, আচার-অনুষ্ঠান নয়।
ভক্তের কখনো কোন কিছুর আকাঙ্ক্ষা না করে ভগবানের কৃপায় স্বাভাবিকভাবে যা লাভ হয় তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। সেটিই ভগবদ্ভক্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, এবং শুকদেব গোস্বামীর মতো সদ্গুরুর পরিচালনায় সেই উদ্দেশ্যগুলি সম্বন্ধে সহজেই অবগত হওয়া যায়। মহারাজ পরীক্ষিৎ শুকদেব গোস্বামীর কাছে সেই সম্বন্ধে যথাযথভাবে অনুসন্ধান করেছিলেন, এবং সকলেরই তার সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা উচিত।
মহারাজ পরীক্ষিৎ জড় জগতের সৃষ্টি, স্থিতি এবং প্রলয় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং বৈদিক অনুষ্ঠানের বিধি এবং পুরাণ ও মহাভারত আদি বেদানুগ শাস্ত্রের বর্ণনা অনুসারে পুণ্যকর্ম সম্পাদনের বিধি সন্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলেন। পূর্বে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে মহাভারত হচ্ছে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস, এবং পুরাণসমূহও তাই। বেদানুগ শাস্ত্রে (স্মৃতিতে) পুণ্য কর্মসমূহ অনুষ্ঠান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সম্বন্ধে বিশেষ নির্দেশগুলি হল জনসাধারণের জল সরবরাহের জন্য পুষ্করিণী অথবা কূপ খনন করা, রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ করা, ভগবানের মন্দির নির্মাণ করা, দরিদ্রদের খাদ্য সরবরাহ করার জন্য দানছত্র স্থাপন করা ইত্যাদি এবং এই ধরনের কর্মগুলিকে বলা হয় পূর্ত।
তেমনই মহারাজ পরীক্ষিৎ সকলের লাভের জন্য ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধনে স্বাভাবিক প্রবণতা চরিতার্থ করার পন্থা সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছেন।
***
জয়পতাকা স্বামী:- এটি এক অত্যন্ত দীর্ঘ তাৎপর্য। শ্রীল প্রভুপাদ তিনি বিভিন্ন কিছু বলেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে কিভাবে সমুদ্রের মধ্যে পার করা যায় এবং কিভাবে যদি সামান্যতম কোন বিশৃঙ্খলা হয়, তাহলে সেই জাহাজ ডুবে যেতে পারে এবং আমরাও ডুবে যেতে পারি। শ্রীল প্রভুপাদের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে যেহেতু তিনি জাহাজ করে সমুদ্র পার করেছিলেন এবং তাঁর দুবার হার্ট অ্যাটাকের হয়েছিল এবং তিনি আমেরিকা পৌঁছে যাবেন কিনা এটা নিয়ে অনেক প্রার্থনা করেছিলেন এবং কৃষ্ণের কৃপায় তিনি আমেরিকায় পৌঁছান। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে কিভাবে শুদ্ধভক্ত সবসময় কৃষ্ণ দ্বারা রক্ষিত হন। তিনি বলেছিলেন যে একজন ভক্তের ক্ষেত্রে কোন লাভ ক্ষতি নেই কারণ তিনি কেবল কৃষ্ণের জন্য সেবা করছেন তিনি রাশিয়ায় গেলেন, সেখানে একজন ভক্ত দীক্ষা নিয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে বিরাট একটা আন্দোলন শুরু হল। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে রাশিয়ার মানুষেরা প্রকৃতপক্ষে আধ্যাত্মিক দিকে ইচ্ছুক এবং কৃত্রিমভাবে তাদেরকে পিছনে রাখা হয়েছে, সেই তাৎপর্যে তিনি এটিও বলেছেন যে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা হচ্ছে জড়জাগতিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার মত, তাই আমাদেরকে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। আমার পূর্বাশ্রমের বাবা, আমি যখন তাকে বলেছিলাম যে আমি কৃষ্ণভক্তিতে এসেছি, আমি ভেবেছিলাম যে খুশি হবেন, কিন্তু ওনার মনোভাব ছিল জাতি, ধর্মের উপরে। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, “আমি তোমার নাম আমেরিকান আর্মিতে দেব, এবং তুমি ভিয়েতনাম যুদ্ধে মারা যাবে।” তাই আমি শ্রীল প্রভুপাদকে বললাম যে আমার বাবা এটি বলেছে এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে আমার কি করা উচিত? কিন্তু তিনি বলেছিলেন যে, “তোমার কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে যুক্ত হওয়া ভালো।” তাই আমার কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার ব্যক্তিগত উপলব্ধি আছে এবং আমি এখনও সেই সেনাবাহিনীতে আছি। আমি যুদ্ধ মধ্যে কিছুটা আঘাত হয়েছে।
গোরখপুরে তাদের ব্রিটিশদের দ্বারা এক নেপালি সেনানায়কের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, একটি যুদ্ধ হয়েছিল এবং সেই ব্যক্তি, তার পেট কেটে দিয়েছে এবং তার নাড়ি-ভুড়ি সব বেরিয়ে গেছিল, নেপালি সেনারা তাদের মাথার পিছনে একটি পট্টিকা বহন করে, তাই তখন তিনি সেই পট্টিকা নিয়ে তার অন্ত্র আধৃত করে লড়াই করতে থাকে এবং ব্রিটিশরা তার এই বীরত্ব দেখে প্রভাবিত হয়ে সেই সেনানায়কের মূর্তি স্থাপন করে। এই কারণে ব্রিটিশরা নেপালিদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করে দেয় এবং এর পরিবর্তে গোরক্ষীয়রা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়।
যাইহোক, আমরা কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে আছি, পুরুষ মহিলা সবাই। দেখো আমি অমৃতেশ কৃষ্ণ দাসকে দেখেছি, তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে প্রচার করছে। সেখানে স্বামী-স্ত্রী দীক্ষা গ্রহণ করেছে, স্বামী হচ্ছে বিমান বাহিনীর বিমান চালক এবং স্ত্রীও একজন ফাইটার জেট বিমান চালক। যাইহোক, আমরা এক ভিন্ন যুদ্ধে লড়াই করছি। আমরা মানুষদের ভক্তিযোগে অনুপ্রাণিত করছি। তাই এই শ্লোকে বলা হয়েছে যে এটি প্রয়োজনীয় যে মানুষেরা যাতে ভগবদগীতা, শ্রীমদ্ভাগবত ইত্যাদি জানে। এইভাবে তাদের প্রচার করা উচিত ও মানুষদের বিশ্বাসী করানো উচিত যে তারা কৃষ্ণের নিত্য সেবক। এইভাবে আমাদের মহিলা ও পুরুষ প্রত্যেকের ভক্তিমূলক সেবায় সুপ্রশিক্ষিত হওয়া উচিত। এখন আমাদের সকাল বেলা এবং রাত্রে বাংলা প্রবচন দেওয়া হয় এবং মহিলাদের দ্বারা ইংরেজি প্রবচন সপ্তাহে একবার দেওয়া হয়। আমি সেই সম্পর্কে ব্রজ বিলাস দাসের সাথে কথা বলতে চাই যে আমাদের বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরে বড় কক্ষ আছে, তাই মহিলারা যদি মহিলাদের প্রবচন দিতে পারে তা সম্ভব কিনা। আমরা চাই যে প্রত্যেকের প্রত্যয়জনকভাবে প্রবচন প্রদান করা উচিত এবং এইভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা উচিত। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি, মানে আমরা সবাই সেনা, তাই আমরা কিভাবে বুঝব যে মানুষেরা যথাযথভাবে প্রবচন দিতে পারবে কিনা? সেই জন্য আমরা টেপ রেকর্ডিং রাখতে পারি এবং আমরা তা শ্রবণ করতে পারি। এইভাবে আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত এক অত্যন্ত বিশ্বাসজনকভাবে উপস্থাপন করতে চাই।
একটি কাহিনী আছে যে যমরাজ এক বালকরূপে এসেছিলেন এবং সেখানে রানীরা ছিলেন যারা তাদের মৃত স্বামীর জন্য বিলাপ করছিলেন, যিনি রাজা ছিলেন। সেখানে শ্রীল প্রভুপাদ তার তাৎপর্যে বলেছেন যে সাধারণত ছোট সন্তান বা মহিলারা তত্ত্ব কথা বা কৃষ্ণভাবনামৃত সেই রকমভাবে বলে না কিন্তু যখন তারা তা বলে, তখন মানুষেরা তাদের শব্দের দ্বারা আকর্ষিত হয়। তাই আমরা আমাদের ভক্তদের কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের বিষয়ে নিপুণ দেখতে চাই।
পরীক্ষিত মহারাজ তিনি শুকদেব গোস্বামীকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করছিলেন এবং সেইসবের উত্তর প্রদান করা হয়েছে। এইভাবে সাধারণ মানুষেরা ইন্দ্রিয় তৃপ্তিকে তাদের জীবনের লক্ষ্য বলে মনে করে। গতকাল আমরা পড়েছি যে চৈতন্য মহাপ্রভু কৃষ্ণভাবনামৃত এক আনন্দময়ভাবে প্রচার করতে এসেছিলেন, তাই অদ্বৈত আচার্য তিনি বলেছেন যে, “তুমি এক উন্মাদ ব্যক্তির মতো এসেছো! এবং এখন সব মানুষেরা উন্মাদ হবে, তারা সকলেও ভগবত প্রেম চায়। হরিবোল! তারা জাগতিক জীবনের প্রতি কম আগ্রহী। তাই, তিনি কিছু ভজন লিখেছিলেন যা বোধগম্য হওয়া কঠিন। তাই অদ্বৈত আচার্য এটি বলছিলেন যে এখন এই হাট প্লাবিত হবে, সব মানুষেরা তাদের বস্তু ক্রয় করবে, তাই আর কোন চাহিদা থাকবে না। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পাই যে এটি পাঁচশো বছর আগের কথা, এখন তোমরা বিক্রয় করতে পারবে। সেই যুগের মানুষেরা প্রত্যেকে ভগবদ্ধামে ফিরে গেছেন, কারণ তারা চৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গ প্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং এখন আমাদের কাছে নতুন জনগণ আছে এবং আমরা তাদেরকে কৃষ্ণ প্রেম প্রদান করতে চাই। তাই আমাদের অনেক সৈনিক প্রয়োজন এবং আমাদের এই সমস্ত মানুষদের কৃপা বিতরণ করতেই হবে।
“আগে ঘর তারপরে পর”। তাই প্রথমে আমাদের প্রয়োজন যে আমাদের নিজেদের ভক্তরা যাতে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। তাই সহপরিচালকগণ এই আলোচনা করছিলেন যে কিভাবে ভক্তদের শক্তি বৃদ্ধি করা যাবে, তাই পরের মাসে বা এইরকম কিছু সময়ে ভিন্ন কার্যকলাপ সম্পর্কে শুনে আশ্চর্যিত হয়ও না। আমি দেখছি যে কেশবী দাসী এখানে আছে এবং সে জাপানিদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচার করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা মায়াপুরে থাকতে পারি এবং আমরা দূরদূরান্তে প্রচার করতে পারি। রাশিয়ান, চাইনিজ আমাদের বিভিন্ন ভক্তরা আছে, তারা প্রচার করতে পারে এবং আমরা চাই যে এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর এই বাণী সর্বত্র প্রচারিত হোক। আমরা সকলকে সম্মান করতে চাই কিন্তু আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রচার করতে চাই। তাই, এই পবিত্র ধামে থাকা হচ্ছে এক মহান সুযোগ এবং শ্রীল প্রভুপাদ এত ঝুঁকি নিয়ে জাহাজে করে মহাসাগর পার করেছিলেন। কিন্তু তিনি গিয়েছিলেন এবং কৃষ্ণভাবনামৃত সমগ্র জগতে প্রচার করেছিলেন। এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ এই প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনিও বলেছেন যে, “যদি তুমি আমার প্রতি কৃতজ্ঞ অনুভব কর, তাহলে এই বাণী গ্রহণ কর এবং এই গ্রন্থ নিয়ে সমগ্র বিশ্বে তা প্রচার কর।”
মায়াপুর হচ্ছে গ্রন্থ বিতরণে প্রথম স্থানাধিকারী, কিন্তু আমরা আমাদের ক্ষমতাশালী স্থানে এখনো পৌঁছাতে পারিনি এবং আমরা এর থেকেও আরো আরো অধিক কিছু করতে পারি, যেমন বৈশেষিকা প্রভু একটি গান আছে — মনে কর এটা হতে পারে! তিনি অনেকগুলি চৈতন্যচরিতামৃত এবং শ্রীমদ্ভাগবতের সেট বিতরণ করতে চান এবং তার লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেক বছর ১০ লক্ষ ভগবদগীতা বিতরণ করা হবে এবং তিনি বলেছেন যে — মনে কর এটা হতে পারে! যাইহোক, গ্রন্থ হোক বা অনুষ্ঠান হোক, আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী সর্বত্র উপস্থাপন করতে চাই। এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর এই বাণী প্রচার করার অনেক সুযোগ রয়েছে। বাংলাতেও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি তাদের অনেক আগ্রহ আছে। যেমন চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন যে কারও অপ্রয়োজনীয় গ্রাম্য কথা শোনা উচিত না এবং সেই সব কথা আলোচনা করা উচিত নয়। তাই লোকেদের অনেক বিকল্প আছে, মায়াপুর টিভি এবং অন্যান্য সম্প্রচারের মাধ্যমে আমরা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর বাণী প্রদান করতে চাই। মন্দিরে সোশ্যাল মিডিয়াতে পাঁচ লক্ষ দর্শক আছে। আমার দু লক্ষ আছে। আমি জানিনা মায়াপুরের কত আছে। আমার জানকি রামচন্দ্র দাস এবং তার স্ত্রী আছে যারা প্রত্যেক দিন ভিডিও তৈরি করছে, তাই এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হচ্ছে, কিন্তু সম্ভাবনা আরও কত বিশাল।
যাইহোক, শ্রীল প্রভুপাদ এই তাৎপর্যে বলছিলেন যে আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত উপস্থাপন করতে চাই এবং আমরা তা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে করি। এখন তোমাদের সকালের প্রসাদের সময়। কোন প্রশ্ন আছে কি? কমলাপতি কোথায়? সে হচ্ছে আমাদের একজন উৎসাহী গ্রন্থ বিতরক!
কমলাপতি দাস:- এখন সবকিছু আপনার কৃপায় হচ্ছে। পুরুষোত্তম মাস আসার মুখে এবং মানুষেরা গ্রন্থ নিচ্ছে, তাই আপনি যদি পুরুষোত্তম মাসের মহিমা সম্পর্কে কিছু বলেন।
জয়পতাকা স্বামী:- পুরুষোত্তম মাসের ক্ষেত্রে তারা বলে যে এটি জাগতিক কর্মের জন্য ভালো না। কিন্তু রাধা কৃষ্ণ তাঁরা বলেছেন যে, “ঠিক আছে আমরা তোমাকে আমাদের মাস হিসেবে গ্রহণ করছি।” তাই এই পুরুষোত্তম মাস বিশেষত ভক্তি যোগের জন্য, যা ভক্তি তুমি পুরুষোত্তম মাসে করবে, তা হাজার গুন হবে। দামোদর মাসে শতগুণ হয়, কিন্তু পুরুষোত্তম মাসে সহস্র গুণ হয়। এখানে মায়াপুরে যাইহোক এটি সহস্র গুন, তাই ১০০০ কে ১০০০ দিয়ে গুন করলে কত হয়? ১০ লক্ষ। তাই তোমরা কিসের জন্য অপেক্ষা করছ? ১৮ই জুলাই থেকে পুরুষোত্তম মাস শুরু হচ্ছে!
তোমাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ! মানুষদের বল যে রাধা কৃষ্ণের জন্য এই মাসে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ! হরিবোল!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন