মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
শ্রীমদ্ভাগবতম ২/৮/১৪
যস্মিন্ কর্মসমাবায়ো যথা যেনোপগৃহ্যতে।
গুণানাং গুণিনাঞ্চৈব পরিণামমভীপ্সতাম্॥
অনুবাদ:- কিভাবে বিভিন্ন গুণ থেকে উৎপন্ন ফলের এবং জীবের বাসনা অনুসারে জীব দেবতা থেকে অত্যন্ত নগণ্য প্রাণী পর্যন্ত উন্নীত হয় অথবা অধঃপতিত হয়, সেই সম্বন্ধেও আপনি দয়া করে বিশ্লেষণ করুন।
তাৎপর্য:- জড়া প্রকৃতির গুণের সমস্ত কার্যের ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া অনু রূপে অথবা বিরাটরূপে সঞ্চিত হয় এবং সেই অনুপাতে সে কর্মের ফল প্রকাশিত হয়। কিভাবে সেই ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া সংঘটিত হয় তার বিভিন্ন পদ্ধতি, কি অনুপাতে তা ক্রিয়া করে, মহান ব্রাহ্মণ শুকদেব গোস্বামীর কাছে পরীক্ষিৎ মহারাজের প্রশ্নের সেইগুলি হচ্ছে বিষয় বস্তু।
স্বর্গলোক নামক উচ্চতর লোকে অন্তরীক্ষযানের সাহায্যে যাওয়া যায় না (যে-চেষ্টা আজকাল অনভিজ্ঞ বৈজ্ঞানিকেরা করছে)। পক্ষান্তরে সেখানে যাওয়ার প্রকৃত উপায় হচ্ছে সত্ত্বগুণে কর্ম করা।
আমাদের এই গ্রহেও যে সমস্ত দেশগুলি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী, সেখানে বিদেশীদের প্রবেশ করার ব্যাপারে নানারকম প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেমন, অনুন্নত দেশগুলির নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার ব্যাপারে মার্কিন সরকার নানারকম প্রতিবন্ধকতা জারি করেছে। তার কারণ হচ্ছে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেনি, তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীরা সেই দেশের সমৃদ্ধিতে ভাগ বসাতে দিতে চায় না। তেমনই অন্যান্য যে সমস্ত গ্রহে উচ্চতর বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন জীবেরা বাস করে, তাদের মনোভাবও এইরকম। উচ্চতর গ্রহের অধিবাসীরা সত্বগুণের দ্বারা প্রভাবিত এবং চন্দ্র, সূর্য, শুক্র আদি গ্রহে যারা প্রবেশ করতে চায়, তাদের অবশ্যই সত্ত্বগুণে কার্যকলাপ করার মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। মহারাজ পরীক্ষিতের প্রশ্ন সত্ত্বগুণে কর্মের অনুপাতের উপর আধারিত, যার ফলে এই গ্রহের মানুষেরা ব্রহ্মাণ্ডের উচ্চতম প্রদেশে উন্নীত হতে পারে। আমাদের এই জগতেও, সৎ কর্ম করার মাধ্যমে উপযুক্ত যোগ্যতা অর্জন না করলে সমাজে উন্নত পদ লাভ করা যায় না। উপযুক্ত যোগ্যতা অর্জন না করে কেউই জোর করে হাইকোর্টের বিচারপতির পদ লাভ করতে পারে না। তেমনই, এই জীবনে সৎ কর্ম করার মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন না করে কেউই উচ্চতর লোকে প্রবেশ করতে পারে না। যারা রজ এবং তমোগুণের দ্বারা প্রভাবিত, বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চতর লোকে প্রবেশ করার কোন সম্ভাবনা তাদের নেই। শ্রীমদ্ভাগবদগীতার (৯/২৫) বর্ণনা অনুসারে যারা উচ্চতর স্বর্গলোকে উন্নীত হওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করার চেষ্টা করছে, তারা সেখানে যেতে পারে; তেমনই, যারা পিতৃলোকে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তারা পিতৃলোকে যেতে পারে; তেমনই যারা এই পৃথিবীর অবস্থার উন্নতি করার চেষ্টা করছে, তারাও তা করতে পারে; আর যারা তাদের প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে চায়, তারাও সেই ফল লাভ করতে পারে। সত্ত্বগুণে সম্পন্ন বিভিন্ন কার্যকলাপ হচ্ছে ভক্তিযুক্ত পুণ্য কর্ম, ভক্তিযুক্ত জ্ঞানের অনুশীলন, ভক্তিযুক্ত যোগ এবং (চরমে) গুণাতীত শুদ্ধ ভক্তি। এই শুদ্ধ ভক্তি জড়া প্রকৃতির অতীত এবং তাকে বলা হয় পরা-ভক্তি। এই শুদ্ধ ভক্তির দ্বারাই কেবল ভগবানের অপ্রাকৃত ধামে উন্নীত হওয়া যায়। এই ভগবদ্ধাম কাল্পনিক নয়, তা চন্দ্র-সূর্যের মতোই বাস্তব। ভগবান এবং তাঁর ধাম সম্বন্ধে যথাযথভাবে অবগত হতে হলে অবশ্যই অপ্রাকৃত গুণাবলী অর্জন করতে হয়।
***
জয়পতাকা স্বামী:- আমি তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যারা শনিবার প্রবচন দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত ছিল, বিশেষত প্রেমাঞ্জন দাসকে আমাকে প্রবচন দিতে অনুমতি প্রদান করার জন্য। সাধারণত আমি শনিবার প্রবচন দেই, কিন্তু সম্ভবত একজন নতুন ব্যক্তি এখন প্রবচনের দিকগুলি ঠিক করছেন, তাই তিনি জিজ্ঞেস করেননি,তাই আমি বললাম যে আমি তা পরিবর্তন করে রবিবার প্রবচন দেব। কিন্তু আমার সচিবের তাতে সহমত হচ্ছিল না কারণ কালকে আমার থেরাপির জন্য এক বিশেষ ব্যক্তি আসবে। এই শ্লোকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা বিভিন্ন কার্যাবলীর বিভিন্ন ফল পাই। যদি আমরা স্বর্গলোকে যেতে চাই, তাহলে আমাদের সত্ত্বগুণের কার্য করতে হবে। শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করেছেন যে এমনকি এই গ্রহে আমেরিকার মত ধনী দেশ সেখানে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের বাধা প্রদান করে। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সেই নির্দিষ্ট গ্রহতেও আছে, যদি আমরা কোন নির্দিষ্ট স্থানে যেতে চাই, তাহলে তাকে সেই মত কার্য করতে হবে এবং তিনি ব্যাখ্যা করছেন যে যদি তুমি আধ্যাত্মিক জগতে যেতে চাও, তাহলে ভক্তি করতেই হবে। যখন যৌগিক পন্থার সাথে মিশ্রিত ভক্তি কর, তখন তুমি সেই রকম কোনো নির্দিষ্ট স্থানে যেতে পারবে, কিন্তু যদি তুমি ভগবানের দিব্য লীলায় অংশগ্রহণ করতে চাও, তাহলে তোমাকে ভক্তিমূলক সেবা করতে হবে। এই নবদ্বীপ ধাম হচ্ছে আধ্যাত্মিক স্থান, এই স্থান শুদ্ধ ভক্তিমূলক সেবা করার জন্য আদর্শ এবং এখানে আসা ও মঙ্গল আরতিতে অংশগ্রহণ করা, বিভিন্ন আরতিতে অংশগ্রহণ করা, শ্রী বিগ্রহকে দর্শন করা হয়। আমি শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তিনি কিভাবে আমার প্রতি আরো অধিক প্রসন্ন হবেন এবং তিনি বলছিলেন যে যেহেতু আমি মন্দিরের বিভিন্ন সেবায়, বিশেষত মন্দির নির্মাণ সেবায় সকাল ৬টা থেকে রাত্রি ১২টা পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলাম, তাই তিনি বলেছিলেন যে, “তুমি অন্ততপক্ষে গুরু পূজাতে অংশগ্রহণ করো।” তাই শ্রীল প্রভুপাদের গুরু পূজা করা এত গুরুত্বপূর্ণ। এতে আমার স্মরণ হচ্ছে যে কিভাবে আমরা বৈদিক তারামণ্ডলীর ওয়েস্ট উইং এ, MOVP তে প্রদর্শন করতে চাই যে কিভাবে বেদে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বৈজ্ঞানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এখন তারা একটি টেলিস্কোপ পাঠানোর জন্য লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করছে, সেই টেলিস্কোপ মহাকাশে যাবে এবং এটি সমগ্র বিশ্বকে পর্যবেক্ষণ করবে। তাই তারা বলছিল যে এই টেলিস্কোপ সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আরও অধিক বিস্তারিতভাবে ম্যাপ প্রদান করবে, কিন্তু তারা সত্য লোক বা অন্যান্য উর্ধ্ব গ্রহলোকগুলি দেখতে সক্ষম না। এবং তারা এই বিশ্বের বাইরে আর কিছুই দেখতে পারে না, কিন্তু আমরা শ্রীমদ্ভাগবতের মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিবরণ পাই, অসীম ব্রহ্মাণ্ডের বিভিন্ন লোক যেমন শিব লোক, হরি ধাম, গোলক ধাম [শব্দ বিচ্ছেদ] প্রথম হচ্ছে মহেশ ধাম, তারপর দেবী ধাম, হরি ধাম এবং তারপর গোলকধাম।
আমার মনে পড়ছে যে কিভাবে একজন ব্যক্তি প্রত্যাগতির পন্থা (regression) করেছে, যার দ্বারা সে তার পূর্ব জীবন দেখতে পারে। সে তার পূর্ব জীবনে এক পতঙ্গ ছিল, সাধারণত কেউ পতঙ্গ থেকে মনুষ্য জীবন প্রাপ্ত হয় না। তার মাঝে অনেক জন্ম নিতে হয় যেমন জলজ প্রাণী, এরপর গাছপালা, কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ, পাখি, প্রাণী এবং তারপর মানুষ। তাহলে সে কিভাবে পতঙ্গ থেকে মানুষ হল? তারা সেই ব্যক্তিকে প্রত্যাগমন করায় এবং তারা সেই রহস্য খুঁজে পায়। আহা সে ছিল এক উড়ন্ত পতঙ্গ এবং মন্দিরে সেখানে কোন এক মূর্তি ছিল। তারা ওঁনাকে ফল নিবেদন করেছিল এবং সেই পতঙ্গ [শব্দ বিচ্ছেদ]
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।