নিম্নোক্ত প্রবচনটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২ জুলাই, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, চেন্নাই, ভারতে দিয়েছেন
মুকম করোতি বাচালম পংগুম লংঘায়তে গিরিম
য়ত্-কৃপা তম অহম বন্দে শ্রী-গুরুম দিন-তারণম্
পরমানন্দম মাধবম শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম
হরিঃ ওঁ তtসৎ!
জয়পতাকা স্বামী:- হরে কৃষ্ণ! নিতাই-গৌর, রাধাকৃষ্ণ এবং জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা এবং সুদর্শন চক্রের জয়! নিতাই-গৌর কারা? দ্বারকায়, রুক্মিণী ভগবান কৃষ্ণের সাথে আলোচনা করছিলেন। রুক্মিণী কৃষ্ণকে বললেন, “আপনি সবই জানেন! আপনি জানেন ভগবান ব্রহ্মা সত্যলোকে কি করছেন। আপনি জানেন ভগবান শিব কৈলাসে কি করছেন। আপনি জানেন অনন্ত-কোটি-ব্রহ্মাণ্ডে কী চলছে। কিন্তু একটা জিনিস আছে যা আপনি জানেন না।” রুক্মিণী দেবী বললেন, “আমি জানি, রাধারাণী জানেন, কিন্তু আপনি জানেন না।” কৃষ্ণ অবাক হয়ে গেলেন, কেউ তাঁকে বলেনি যে এমন কিছু আছে যা তিনি জানেন না! তাই তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “সেটি কি?” এবং রুক্মিণী বললেন, “আপনার উর্দ্ধে আর কেউ নেই। অতএব, আমি জানি, রাধারাণী জানেন, কিন্তু আপনি জানেন না!” তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “ওটা কি?” তারপর বললেন, “আপনি জানেন না আপনার ভক্তরা আপনাকে কত ভালোবাসে! আপনি জানেন না আমরা আপনাকে কী ভাবে ভালোবাসি।” তাই সেটা জানার একমাত্র পন্থা, একমাত্র উপায় হল কৃষ্ণের ভক্ত হওয়া। তাই কৃষ্ণ তখন জবাব দিয়েছিলেন, “আমি কলিযুগে আমার ভক্ত হয়ে আসব। আমি কলিযুগে আমার ভক্ত হয়ে আসব! আমি আমার ভক্ত হয়ে আসব!” গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, চৈতন্য মহাপ্রভু রূপে এসেছিলেন। তিনি কৃষ্ণ, কিন্তু তিনি তাঁর ভক্ত। তিনি রাধারাণীর হৃদয় ও ভাব গ্রহণ করেছেন। তিনি বাংলায় সংকীর্তন আন্দোলন শুরু করেন। ২৪ বছর গৃহস্থ জীবনের পর, তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং তিনি কৃষ্ণ-ভক্তির এই সারমর্মটি গভীরভাবে অনুক্ষণ করার জন্য জগন্নাথপুরীতে যান। প্রতি বছর বাঙালি ভক্তরা রথযাত্রায় অংশ নিতে এবং বর্ষার চার মাস চৈতন্যে মহাপ্রভুর সঙ্গ লাভ করার জন্য জগন্নাথপুরীতে চলে আসতেন। এরপর তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে আহ্বান করলেন এবং তারা একসাথে আলোচনা করলেন। তোমরা এ বিষয়ে অবগত যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হলেন রাধা এবং কৃষ্ণের মিলিত প্রতিমূর্তি। “বলরাম হইল নিতাই” — নিতাই হলেন বলরাম! ঠিক যেমন আমাদের এখানে আছে, ভগবান জগন্নাথ এবং বলরাম, কৃষ্ণ এবং বলরাম। তাই ভগবান চৈতন্যদেব নিতাইকে বলেছিলেন যে, “আমরা আধ্যাত্মিক জগত থেকে অবতরিত হয়েছি এবং আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে এই অবতারে, আমরা এমন মানুষদের উদ্ধার করব, যারা সাধারণত উদ্ধারের অনুপযুক্ত। আমরা চার ধরনের মানুষকে উদ্ধার করবো – মূর্খ, নীচ, পতিত, দুঃখী।” যারা অনাবশ্যক নীতি ভঙ্গ করে; এবং দুখী, দুস্থ। সাধারণত, ভগবানের অন্য অবতারে ভগবান ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়দের উদ্ধার করেন, কিন্তু এখন তিনি বলেছেন যে আমরা সকল মানুষকে উদ্ধার করব। আপনারা কি এমন কাউকে জানেন যারা নিজেদেরকে তাদের দেহ বলে মনে করে, তারা বোকা? যে এমন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে যেখানে আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি খুব বিশিষ্ট নয়? এমন কেউ যে নিয়মনীতি ভঙ্গ করে, মাংস খায়, নেশা করে, এমন? জাগতিক জীবন দ্বারা ব্যথিত কেউ? তাই এই মানুষেরা, বিশেষ মানুষ, যাদের চৈতন্য মহাপ্রভু উদ্ধার করবেন। অবশ্যই, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, যেভাবেই হোক তারা মুক্তি পায়। তাই, চৈতন্য মহাপ্রভু নিত্যানন্দ প্রভুকে বলেছিলেন যে আমরা বাংলায় প্রচার শুরু করেছিলাম, আমি এখানে এসেগেছি, তাই তুমি ফিরে যাও এবং সেই কার্য শুরু কর। নিতাই গৌরাঙ্গ! তাদের কৃপায় আমরা রাধাকৃষ্ণ, ললিতা, বিশাখার সেবা করার সুযোগ পাই। নিতাই-গৌরের কৃপায় আমরা জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা এবং সুদর্শন চক্রের অর্চনও পাই। তাই নিত্যানন্দ প্রভু প্রায় চল্লিশজন ভক্ত নিয়ে, তিনি পানিহাটিতে দিব্য পদার্পন করেছিলেন। তিনি আদি-সপ্তগ্রামে প্রচার করেছিলেন, যেখানে অনেক ব্যবসায়ী, বৈশ্য, স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন। তারা সাধারণত খুব একটা আধ্যাত্মিক হয়না, কিন্তু তিনি তাদের সবাইকে সংকীর্তনে গ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে তিনি তাদের কৃষ্ণ-প্রেম প্রদান করেছিলেন! অবশেষে, তিনি নবদ্বীপে ফিরে গেলেন এবং শচী মাতা তাকে দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন! আর তাই, তিনি তাঁকে অনুরোধ করলেন, অনুগ্রহ করে কিছু সময়ের জন্য নবদ্বীপে থাক। তাই, প্রতিদিন নিত্যানন্দ প্রভু বাইরে যেতেন এবং হরিনাম সংকীর্তন করতেন। যেহেতু চৈতন্য মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন, তাই তিনি অত্যন্ত কঠোর ও তপস্বী ছিলেন। কিন্তু তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে ঐশ্বর্যশালী থাকতে বলেছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভুর কাছে ছিল হীরার কানের দুল! এবং স্বর্ণ এবং রত্ন খচিত বাজুবন্ধ, তাঁর সমস্ত আঙুলে রত্নযুক্ত আংটি ছিল। তাঁর গলায় তুলসী ছাড়াও একটি মুক্তার মালা ছিল। তাঁর শ্রীচরণ রুপার নূপুর দ্বারা শোভিত ছিল। আপনি এসব গ্রন্থে অধ্যয়ন করতে পারেন! হৃদয় শুদ্ধ করুন! আমি শুনেছি যে এখানে আনন্দের জন্য এবং নিতাই-গৌরকে অনুসরণ করার জন্য তারা সংকীর্তন-যজ্ঞ করছে। হরিবোল! পোঙ্গলের সময়, তারা হরিনাম সংকীর্তন করছে। তাই সাধারণত আপনারা এরপর রথযাত্রা করতেন, কিন্তু এখন আপনারা পুরীর মতো একই সময়ে রথযাত্রা করছেন। তাই, এটা খুবই ভালো যে আপনারা পোঙ্গলের সময়ে কীর্তন করছেন। নিত্যানন্দ প্রভু অত্যন্ত রসিক। এবং তিনি কৃপা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার কৌশল ব্যবহার করেন! ডাকাতরা কঠোর/কঠিন ধরনের ব্যাক্তি। তাই তাঁরা তাদের সাথে কঠিন ক্রিকেট খেলেছে। কঠিন বল, কঠিন ক্রিকেট! আপনি কঠিন বল জানেন? কঠিন বল মানে এটা আপনার মাথার উপর দিয়ে যাবে! এটা একটা আমেরিকান স্ল্যাং! কিন্তু জগাই এবং মাধাই, ভগবান নিত্যানন্দের মাথায় আঘাত করেছিল, কিন্তু তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে তাদের ক্ষমা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। যাইহোক, আপনাদের প্রসাদের সময় হয়েছে, তাই আমি বেশিক্ষণ আর কথা বলতে চাই না! শুধু মনে রাখবেন, নিতাই-গৌরাঙ্গ হচ্ছেন করুণা অবতার!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ