Text Size

২০২৩০৬২৫ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

25 Jun 2023|Duration: 00:49:38|Bengali|Question and Answer Session|Kolkata, India

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

জয়পতাকা স্বামী:- গতরাতে আমরা ভক্তিশাস্ত্রী সার্টিফিকেট দিয়েছি, এর মানে সেই ভক্তরা ভগবদগীতা, ঈষোপনিশদ, ভক্তিরসামৃতসিন্ধু এবং উপদেশামৃত অধ্যয়ন করেছে। এমন অনেক কোর্স আছে যা শ্রীল প্রভুপাদ ইসকনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভক্তিশাস্ত্রী হচ্ছে প্রথম স্তর, ভক্তি বৈভব হচ্ছে শ্রীমদ্ভাগবতমের প্রথম ৬টি স্কন্ধ, ভক্তিবেদান্ত হচ্ছে শেষ ৬টি স্কন্ধ। সেক্ষেত্রে শ্রীমদ্ভাগবতমে শ্রীল প্রভুপাদের অনুবাদ ও তাৎপর্য অধ্যয়ন করা হয়। ভক্তিসার্বভৌম হচ্ছে চৈতন্য-চরিতামৃতের অধ্যয়ন। আমি আশা করি তোমরা সকলে এই সব ডিগ্রি লাভ করবে। হরে কৃষ্ণ! 

প্রশ্ন:- কখনো কখনো এমন হয় যে আমরা যখন কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করি, তখন আমাদের অভিভাবকেরা ভীত হয় যে আমরা হয়ত সবকিছু ত্যাগ করে দেব এবং তাই তারা আমাদেরকে এই পথে অগ্রসর হতে দিতে চায় না, সেই পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের বাবা-মায়ের সাথে কিভাবে বোঝাপড়া করব

জয়পতাকা স্বামী:- প্রত্যেক অভিভাবক আলাদা হন। আমি ভেবেছিলাম আমার অভিভাবক খুব আনন্দিত হবেন যে আমি কৃষ্ণভাবনামৃতে এসেছি। কিন্তু আমার মা ও বাবা আনন্দিত হননি। আমার বাবা বলেছিলেন, “তোমার এই কৃষ্ণভাবনামৃত সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা উচিত, নয়ত আমি তোমাকে ভিয়েতনামে পাঠিয়ে দেব সেখানে মৃত্যু হওয়ার জন্য।” কিন্তু আমি ভেবেছিলাম আমার বাবা খুব খুশি হবেন, তবে তিনি খুবই উগ্র ছিলেন। আমার মা এসে আমার সাথে কথা বলেছিলেন, আমার মা দুইবার ভারতে এসেছিলেন। যাইহোক আমি শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, “আমার বাবা আমাকে ভিয়েতনামে পাঠাতে চায় আমেরিকান সেনাবাহিনীতে সেবা করার জন্য, আমার কি করা উচিত?” শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, “ভালো হবে তুমি কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে যুক্ত হও।” তাই আমি এখনো কৃষ্ণের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য। আট বছর পর আমার বাবা পরিবর্তিত হয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন “ছেলে ছেলেই হয়! আর বাবা বাবা-ই হয়!” তার মৃত্যুশয্যায় তিনি ধর্মযাজকদের সাথে কথা বলছিলেন এবং তিনি আমার সম্পর্কে বলছিলেন, তাই এটা খুব একটা কঠিন নয়। আমার মনে হয় ভারতীয় পিতা-মাতারা তাদের সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহ পরায়ণ, তাই বিভিন্ন কিছু আছে যা তুমি করতে পার। একবার আমার মা আমি যা করেছি তার জন্য আমার প্রশংসা করছিলেন, তিনি গিয়ে অন্যান্য অভিভাবকদের সাথে কথা বলেছিলেন যে, “যদি তোমাদের সন্তানেরা হরে কৃষ্ণ আন্দোলনের অংশ হয়, তাহলে তা এমন কিছু বাজে নয়!” বাবা-মায়েরা সন্তানদের থেকে শুনতে পছন্দ করেন না, তাই তোমার তাদের সমবয়সী কিছু ব্যক্তিদের আনা উচিত, যারা তাদের সাথে কথা বলবেন। 

প্রশ্ন:- শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সবথেকে শ্রেষ্ঠ উপায় কি?  

জয়পতাকা স্বামী:- তাঁর গ্রন্থ অধ্যয়ন করা ও তাঁর নির্দেশাবলী পালন করা। তিনি তোমাকে মায়ার বন্ধন থেকে মুক্ত করতে চান এবং ভগবদ্ধামে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান।

প্রশ্ন:- আমরা বলিষ্ঠ ভক্তদের মধ্যে ভিন্নতা এবং তাদের পরস্পর বিরোধী নির্দেশাবলী কিভাবে বুঝব

জয়পতাকা স্বামী:- এই কারণে আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুদেব আছেন, তিনি হচ্ছেন সর্বশেষ কর্তৃপক্ষ, আমরা তার মতামত গ্রহণ করি। যখন বিভিন্ন মতামত পাওয়া হয়, তখন আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুদেবের মতামত ও শাস্ত্রের মতামত গ্রহণ করি।

প্রশ্ন:- শ্রীল প্রভুপাদের উদ্ধৃতি তুলে আপনি অনেকবার উল্লেখ করেছেন যে আপনার সকল শীষ্যদের পরমহংস হওয়া উচিত। কিভাবে একজন বদ্ধজীব পরমহংস স্তর লাভ করতে পারবে এবং এর প্রক্রিয়াটি কি?

জয়পতাকা স্বামী:- হংস দুধ এবং জলের মিশ্রণকে আলাদা করতে পারে, সে জল রেখে দুধ পান করে এবং পরমহংস মানে যিনি জড়জাগতিক বস্তুকে রেখে আধ্যাত্মিক বস্তুকে গ্রহণ করতে সক্ষম। স্বামী এবং স্ত্রী তাদের একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত যে কিভাবে তারা কৃষ্ণের প্রীতিবিধান করতে পারবে। সাধারণত জড়জাগতিক দম্পতিরা আলোচনা করে কিভাবে তারা এই জীবনকে উপভোগ করতে পারবে, কিন্তু পরমহংস মানে তারা জড়জাগতিক বিষয় থেকে আধ্যাত্মিক বিষয়কে ভিন্ন করে এবং আধ্যাত্মিক জীবনকে গ্রহণ করে। এটা তখনই সম্ভব হবে যদি কেউ হরে কৃষ্ণ জপ করে ও ভক্তিযোগ অনুশীলন করে। 

প্রশ্ন:- কিভাবে কৃষ্ণভাবনামৃতে অহিংস ও পরিপক্ক হওয়া যাবে

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষাষ্টকমে লিখেছেন, শিক্ষাষ্টকমের তৃতীয় শ্লোকে তিনি বলেছেন ঘাসের মতো বিনম্র হতে, গাছের মতো সহনশীল হতে, অন্যদের পুরো সম্মান দিতে ও নিজের জন্য কোন সম্মান আসা করতে না। মূলত অহিংস হতে হলে, অন্যভাবে বলা যায় যদি তুমি সবসময় চৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ পালন কর, তাহলে তুমি অহিংস হতে পারবে।

প্রশ্ন:- আমরা যখন গুরু পূজা করি, সেই সময় আমাদের কাছে যদি কোন অতিথি আসে, তাহলে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার কি হওয়া উচিত — আধ্যাত্মিক গুরুদেবের পূজা সমাপ্ত করা নাকি সেই ভক্তকে স্বাগত জানান?   

জয়পতাকা স্বামী:- এটা নির্ভর করে যে সেই ভক্ত কে? যদি সেই ভক্ত আধ্যাত্মিক গুরুদেবের গুরু ভ্রাতা হন বা আধ্যাত্মিক গুরুদেবের সমতুল্য হন বা যদি আধ্যাত্মিক গুরুদেবের গুরু হন, তাহলে কোন ব্যক্তির তাকে সম্মান জানানো উচিত। 

প্রশ্ন:- আমি কিভাবে এমনকি মানসিকভাবেও বৈষ্ণব অপরাধ করার প্রবণতা থেকে বের হতে পারব

জয়পতাকা স্বামী:- অন্যদেরকে পূর্ণ সম্মান প্রদানের মাধ্যমে তুমি তোমার প্রথম অপরাধ থেকে বিরত থাকতে পারবে। 

প্রশ্ন:- কিভাবে প্রচারকের মনোভাব গড়ে তোলা যাবে

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত স্বরস্বতী ঠাকুর বলেছেন — “প্রাণ হইতে যার, সেই হেতু প্রচার” তাই তোমার যদি আধ্যাত্মিক জীবন থাকে, তাহলে তুমি স্বাভাবিকভাবেই তোমার আধ্যাত্মিক জীবনের মনোভাব গড়ে তুলবে। 

প্রশ্ন:- কিভাবে কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীলতার মনোভাব গড়ে তোলা যাবে

জয়পতাকা স্বামী:- এই “কিভাবে” প্রশ্নগুলো খুবই কঠিন। কেন এসব “কিভাবে” প্রশ্ন? কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল হও! এই কৃষ্ণভাবনামৃত হচ্ছে ধীর পদ্ধতি, কেউ যখন তা অনুশীলন করে, তখন সে ধীরে ধীরে কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল হয়, তখন তুমি কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল হবে এবং কিভাবে অপরাধ এড়ানো যাবে? কোন অপরাধ কর না! যাইহোক, তুমি অন্যদের মধ্যে ভালো গুণাবলী দেখ। 

প্রশ্ন:- আমি কর্দম মুনি ও দেবহুতির বিবাহের অংশটি পড়ছি এবং আমি তাদের সন্তান উৎপাদনের জন্য মিলনের বিস্তারিত বিবরণ শুনে যৌনভাবে বিচলিত অনুভব করছিলাম। আমি ভাবছিলাম যে শ্রীমদ্ভাগবতম পড়ে আমার যৌন বাসনার ঊর্ধ্বে ওঠার কথা, কিন্তু এখানে তার অন্য হচ্ছে। এমন কেন হচ্ছে এবং আমি কিভাবে এই সমস্যার থেকে বেরোতে পারব?

জয়পতাকা স্বামী:- কিভাবে?! দেখো কলিযুগে সন্ন্যাস গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। বেশিরভাগ মানুষেরা এমনকি যদিও তারা সন্ন্যাস গ্রহণ করে, কিন্তু তারা কর্ম সন্ন্যাস নেয় না। তারা আশ্রমের মধ্যে থাকে, আমরা ভক্তদের সাথে থাকি। পূর্ববর্তী যুগের মত এমন নয় যে সন্ন্যাসীরা যেমন বনে চলে যেতেন তেমন হবে, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষদের ক্ষেত্রে বিবাহিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাহলে ধীরে ধীরে তারা তাদের জড়জাগতিক বাসনা থেকে মুক্ত হতে পারবে। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলেছেন যে কোন ব্যক্তির এমন কাউকে বিবাহ করা উচিত যে আধ্যাত্মিকভাবে আরো উন্নত, কর্দম মুনি তার স্ত্রীকে গৃহস্থ আশ্রমে থাকতে বলেছিলেন এবং তিনি তাকে একটি পুত্র সন্তান দিয়েছিলেন ও তারপর সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। দেবহতি ছিলেন মনুর কন্যা এবং তারা জাগতিক আনন্দ উপভোগ করেছিলেন, কিন্তু তারপর তিনি তার স্বামীকে বলেছিলেন যে, “আপনি আমাকে একজন পুত্র সন্তান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন” এরপর তিনি তাকে পুত্রসন্তান দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার, তিনি এখনো গঙ্গাসাগরে পূজিত হন এবং দেবহুতির স্বামী সন্ন্যাস গ্রহণের পর, তিনি তার পুত্রসন্তানের থেকে নির্দেশ গ্রহণ করেছিলেন। এটি তৃতীয় স্কন্ধে বলা হয়েছে, কপিল মুনির সংখ্য যোগ। 

প্রশ্ন:- কেন নিত্যানন্দ প্রভু শিবানন্দ সেনকে পদাঘাত করেছিলেন ও কোন কারণ ছাড়াই তার পরিবারকে অভিশাপ দিয়েছিলেন? কেন ভগবান তার ভক্ত শ্রীকান্তের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করার মত এইরকম অভাবনীয়ভাবে লীলা করলেন?  

জয়পতাকা স্বামী:- শিবানন্দ সেন তিনি নিত্যানন্দ প্রভুর সেই পদাঘাতের প্রশংসা করেছিলেন। আধ্যাত্মিক গুরু কখনো কখনো ভক্তদের তিরস্কার করেন যে কে তা গ্রহণ করতে পারে এবং একসময় প্রভুপাদ নিউইয়র্ক মন্দিরে এসেছিলেন ও প্রত্যেকে শ্রীবিগ্রহের দিকে পা করে শ্রীল প্রভুপাদকে প্রণাম জানিয়েছিল। তাই শ্রীল প্রভুপাদ তার লাঠি দিয়ে ব্রহ্মানন্দ প্রভুকে আঘাত করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তোমার পা শ্রীবিগ্রহের দিকে দেবে না। প্রথমে ব্রহ্মানন্দ তিনি একটু দুঃখিত হয়েছিলেন কারণ প্রত্যেকেই তাদের পা শ্রীবিগ্রহের দিকে দেখাচ্ছিল, তাহলে সে একা কেন? ঠিক যেমন বাংলায় একটি প্রবাদ আছে — “শাশুড়ি মা তার মেয়েকে তিরস্কার করে তার বৌমাকে শিক্ষা দেয়” ঠিক সেইভাবেই শিবানন্দ সেন তা একটি আশীর্বাদরূপে গ্রহণ করেছিলেন কারণ তিনি প্রসাদের জন্য নিত্যানন্দ প্রভুকে অপেক্ষারত রেখেছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভু তিনি অত্যন্ত হাস্যকৌতুক পূর্ণ, তিনি কোন জিনিস খুব বিশেষভাবে করেন, পানিহাটিতে তিনি রঘুনাথ দাসকে বলেছিলেন যে, “আমি তোমাকে দণ্ড দেব। তা ছিল দই, চিরে এবং ফলের মহাভোজের দণ্ড। আসলে রঘুনাথ দাসের জন্য এটা কোন বড় ব্যাপার ছিল না, তিনি ছিলেন কোটিপতি, সেই সময় চিড়ে বা আম এগুলো অনেক সস্তায় ছিল, তাহলে এটা শাস্তি কি হল? এইভাবে নিত্যানন্দ প্রভু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, নিত্যানন্দ প্রভুর স্বভাব একটু হাস্যকৌতুক পূর্ণ, কিন্তু তিনি অত্যন্ত সহনশীল, অত্যন্ত কৃপালু। যাইহোক, আমি তোমাদের আজ রাতে যেতে দেব। 

প্রশ্ন:- যখন থেকে আমরা জেনেছি যে কেন আমরা জড় জগতে এসেছি, তখন থেকে আমি নিজেকে পতিত এবং অত্যন্ত পাপী বলে মনে করি। এইরকম ভাবা কি ঠিক?  

জয়পতাকা স্বামী:- খুব ভালো! চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যে আমাদের সকলের প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী হওয়া উচিত। নিজেকে অত্যন্ত পাপী, পতিত মনে করা হচ্ছে বিনয়ী মনস্থিতি। কিন্তু সেই বিনয়ী মানসিকতায় কারোর নিজেদের উৎসাহ হারানো উচিত নয়, তাদের উৎসাহী থাকা উচিত। পতিত স্থিতিতে থাকা উচিত নয়, আমাদের ভাবা উচিত নয় যে আমি পাপী এবং তাই আমার কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করা উচিত নয়। যেহেতু আমরা পাপী, তাই আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করি। এইভাবে আমরা আমাদের সমস্যার সমাধান করতে পারব। 

তোমাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ! কালকে আমি চেন্নাইতে আমার ডাক্তারদের সাথে দেখা করতে যাব। আমি তোমাদের সাথে এই পুরো সময়টা খুব ভালোভাবে উপভোগ করেছি! হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 11/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions