Text Size

২০২৩০৬২৩ প্যান্ডেলে প্রদত্ত সন্ধ্যাকালীন বক্তব্য

23 Jun 2023|Duration: 00:29:59|Bengali|Public Address|Kolkata, India

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী – সুধীবৃন্দ, এখন চৈতন্যদেব আনন্দ করলেন রথযাত্রা অনুষ্ঠানে। এইভাবে ৭ টা সম্প্রদায় কীর্তন করলেন এবং সমস্ত ভক্তবৃন্দ আনন্দে নাচতে লাগলেন। কিন্তু জগন্নাথের রথযাত্রার সঙ্গে চৈতন্যদেব কীর্তন করলেন। এইভাবে বিভিন্ন লীলা বিস্তার করলেন। রথযাত্রা উৎসবে খুব আনন্দ পেয়েছিলেন এবং ওঁনার সঙ্গে সমস্ত ভক্ত আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিল। যখন বাংলা থেকে ভক্তবৃন্দ এসেছিলেন, তাঁরা নরেন্দ্র সরোবরের কাছে পৌঁছেগেলেন। এবং দূর থেকে বাংলার ভক্ত শুনছে কীর্তনের শব্দ। তখন চুল তাদের  দাঁড়িয়ে গেছে। তারপরে চৈতন্যদেব স্বপার্ষদে বেরিয়ে গেছেন, এবং চৈতন্য দেব সমস্ত বাংলা থেকে ভক্তদের দেখলেন। এখন দুজনে, বাংলা থেকে ভক্তদের সঙ্গে একত্র হইলে, আলিঙ্গন করলেন। আলিঙ্গন করা... সম্পর্ক। প্রণাম করলেন, এটা তাদের চৈতন্যদেবের ভক্তদের সাথে কি সম্পর্ক ছিল। .... দূর থেকে চৈতন্যদেবের দর্শন করে কাঁদছেন। যারা পত্নী, স্ত্রীলোক, স্ত্রীলোক এসছে স্বামীর সাথে, সেই জন্য দূর থেকে চৈতন্যদেবের দর্শন করে কাঁদছিল। এইভাবে সকলে আনন্দে অস্থির। বাংলায় কীর্তন হয় — “আনন্দের সীমা নেই! আনন্দের সীমা নেই! আনন্দের সীমা নেই! নিরানন্দ দূরে যাই!” সমস্ত ভক্ত এইভাবে, জগন্নাথ, চৈতন্যদেবের নীলাচলের ভক্তমিলন হয়ে আনন্দের সীমা নাই। 

এখন আমরা এই জগন্নাথের রথযাত্রায় অনেক আনন্দ পাই। কেন আনন্দ পাই? এই জগন্নাথদেবের সেবা করে আনন্দ লাগে। সবাই মনে করে এই জড়জাগতিকভাবে আমরা ইন্দ্রিয়তৃপ্তি দ্বারা সুখী হব। কিন্তু … সেই সত্যিকারের সুখ নেই। অল্প সুখ, কিছু দুখ। কিন্তু এইভাবে জগন্নাথের সেবা করা, এটা অসীম আনন্দ। এখন এই শিক্ষা আমাদের সকলের দরকার। আমরা ভগবানকে সেবা করব, এতে আমরা আনন্দ পাব। এখন এই ইন্দ্রিয় দ্বারা সুখ হয়, এই ইন্দ্রিয়ের দ্বারা দুখ হয়। যেমন এখন পাখা চলছে, গরমকালে পাখা খুব ভালো লাগে, শীতকালে পাখার দরকার নেই। একই পাখার দ্বারা দুঃখ হয়। এইভাবে ইন্দ্রিয়ের সুখ-দুখ, এটা আসলে যা আমরা খুঁজছি তা আনন্দ নয়। এটা অনেক বহিরঙ্গ। আমরা ভগবানের সেবার দ্বারা আনন্দ যে পাই, সেটা সম্পূর্ণ পারমার্থিক। এটা চৈতনদেব বিশেষ শিক্ষা দিলেন। এইভাবে ভগবানের সেবা করা অসীম আনন্দ হয়। 

এখন এই চাঁদ কাজী, বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছে। সবাই চাঁদ কাজীর কাছে অভিযোগ দিয়েছে যে চৈতন্য দেব উচ্চ স্বরে কীর্তন করছেন। এটা অপরাধ! বন্ধ করতে হয়। তাই, চাঁদ কাজী এসে মৃদঙ্গ ভেঙে দিয়েছে এবং বলছে, “তোমরা যদি হরিনাম কর, তোমাদের জাত নেব।” সেই সময় একটু জল ... ছিটিয়ে দিলে… এটা এত সহজ। তারা চৈতন্যদেবের কাছে বিবরণী দিয়েছে, এইভাবে চাঁদ কাজী বলছে কীর্তন করতে নাই। চৈতন্যদেব বললেন, “কেউ হরিনাম সংকীর্তন বন্ধ করতে পারবে না।” একটা সামাজিক আন্দোলন করা, প্রথম চৈতন্যদেব করলেন। এবং সাধারণ লোক, নবদ্বীপের সবদিকে ... কীর্তন করতে করতে চাঁদ কাজীর কাছে গিয়েছেন। একটা দল নেতৃত্ব করলেন অদ্বৈত গোঁসাই, আর একটা দলে হরিদাস ঠাকুর, আর একটা দল শ্রীবাস ঠাকুর আর চতুর্থ দল আছে চৈতন্য দেবের সাথে নিতাই এবং গদাই। যেহেতু চৈতন্য দেব নৃত্য করতে করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পরে যেতেন, এবং গদাধর বা নিতাই তাঁকে তুলতেন। এইভাবে এখন কীর্তন এত শব্দ, এত জোড়ে যে সমস্ত চৌদ্দ ভুবনে, শব্দ বেরিয়ে গেছে। স্বর্গ থেকে ইন্দ্রদেব, বায়ুদেব চলে এসছে। তাঁরা দেখেন চৈতন্য দেব, ভগবান, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, যিনি বিষ্ণু, ভগবান তিনি নৃত্য করছেন। এই দেখে ইন্দ্রদেব, বায়ুদেব অজ্ঞান হয়ে পরলেন, অবাক হয়ে গেলেন। তারপর যখন উঠেছেন, জ্ঞান যখন ফিরে এসছে, মানুষের রূপ ধারণ করে কীর্তনের সঙ্গে যোগদান করলেন। তাদের সাথে ইন্দ্র দেব কীর্তন করলেন। এইভাবে সকলে আনন্দ করছে। কিছু নাস্তিক ছিল। তারা এই ভক্তদের উপহাস করছিল। যখন চৈতন্য দেব এলেন, তখন তারা অবাক হয়ে গেল, … অদ্ভুত! তারা আবার নৃত্য করতে শুরু করলেন, কেউ মাটিতে গড়াগড়ি করছে। এইভাবে সকলে কীর্তনে মগ্ন হলেন। আকাশ থেকে অপ্সরা... শঙ্খ, পুষ্প বৃষ্টি করলেন। আসতে আসতে তাঁরা চাঁদ কাজীর কাছে আসলেন। এবং চাঁদ কাজী দূর থেকে শুনছেন, এটা কি? হিন্দুদের বিয়ে হচ্ছে নাকি? চাঁদ কাজী বলছে, বন্ধ করো! এরম শব্দ চলবে না। যখন মুসলমান সৈনিক, তারা সব দেখছে একটা সমুদ্র লোকজনের। এখন ভয় খেয়েছে। কৃষ্ণ নাম করে নাচছে। কেউ বলছে চাঁদ কাজীর বাড়ি আগুন দাও ইত্যাদি। পাখিগুলো গাছের ওপর থেকে ঝুলে এখন...‘হরিবোল’ ‘হরিবোল’ শুরু করছে। তারপরে চাঁদ কাজী দেখছে... আসছে, “তোমার ঠাকুরদা আমাকে চাচা বলতেন। তাই গ্রামের সম্পর্কে তুমি আমার ভাইপো হয়। চাচার কাছে এসে এত রাগ করে আসছ কেন?” চৈতন্য দেব বললেন, “আমি যদি তোমার ভাইপো হই, তুমি কেন রাস্তাতে রাখো?” এইভাবে চাঁদ কাজী তাঁকে (চৈতন্য মহাপ্রভুকে) নিমন্ত্রণ করে এনে দিয়েছে। এখন অনেক আলোচনা হল। শেষে চাঁদ কাজী বলছেন, “আমি আপনাকে কিছু বলব, কিন্তু এটা অনেক গোপন, তোমার এত লোকের সামনে বলব না।” চৈতন্য দেব বললেন, এই সব লোক বিশিষ্ট, কোনো অসুবিধা নেই, বলতে পারেন।” চাঁদ কাজী বললেন যে, “কালকে রাত্রিবেলা একটা অর্ধেক মানুষ অর্ধেক সিংহ আমার কাছে এসেছে। উনি বললেন আমার কীর্তন বন্ধ করেছ? তুমি আবার যদি করো, তোমাকে শেষ করে দেব। তখন তাঁর নখ দিয়ে আমার বুকে টেনে দিয়েছেন।” এখন জামা খুলে দেখালো, যে এখনও সেই দাগ রয়ে গেল বুকে। জয় নৃসিংহ দেব কি জয়! হরিবোল! এইভাবে চৈতন্য দেব বিভিন্ন লীলা করলেন। আমরা ভাগ্যবান হয়, আমাদের বাংলাতে চৈতন্য দেব নিত্য লীলা করলেন, এবং দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত আসছেন এই বিভিন্ন চৈতন্যদেবের লীলাভূমি দেখার জন্য। এখন চৈতন্যদেব এই রথযাত্রায় যোগদান করেছিলেন, আপনারাও করছেন, তার জন্য আপনাদের জীবন ধন্য। হরিবোল! আশা করি আপনার সকলেই চৈতন্যদেবের অনুগামী হয়ে চৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যাই প্রভুর কীর্তন প্রচার করবেন। হরে কৃষ্ণ! চৈতন্য দেব বলেছেন যে —

ভারত ভূমিতে হইল মানুষ্য জন্ম যার।
জন্ম স্বার্থক করি' কর পর উপকার।।
(চৈতন্য চরিতামৃত আদি ১.৪১)

এখন অনেকে ভারতীয় বিভিন্ন দেশে চলে গেলেন। এখন সেখানে যাতে কৃষ্ণ নাম করে প্রচার করে সেটা দরকার। এবং এই ভারতবর্ষতে আপনারা এইভাবে চৈতন্য দেবের ভক্ত বা চৈতন্য দেবের অনুগামী হয়ে প্রচার করুণ। হরে কৃষ্ণ!

আপনারা জানেন যে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তী ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ, তিনি নিজে পৃথিবীতে ১৪ বার ঘুরলেন এবং এই ১০৮ মন্দির স্থাপন করলেন। একজন ভারতীয় এত কল্যাণ করতে পেরেছে। এবং আশা করি আপনারাও এইভাবে হরে কৃষ্ণ নাম দিয়ে প্রচার করবেন। হরিবোল!

এখন আমি এখানে সমাপ্ত করছি। জগন্নাথের দর্শন করব, তারপর প্রশ্ন-উত্তর নেব।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by উদ্ধারিণী সুরাধুনী দেবী দাসী 18.6.2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions